জাতীয়জাতীয়

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে সীমান্ত, মাদক দমনে ১২০ দিনের মহাপরিকল্পনায় সরকার

অভিযাননির্ভর পদ্ধতির বাইরে এসে শিক্ষা, প্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য, সীমান্ত নজরদারি ও সামাজিক অংশগ্রহণকে ভিত্তি করে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে সরকার। ১২০ দিনের এই উদ্যোগে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মেন্টর ও কমিটি গঠন থেকে শুরু করে সীমান্তে চেকপোস্ট, বিশেষ অভিযান এবং প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

সুমিত রায়হান
সুমিত রায়হান
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে সীমান্ত, মাদক দমনে ১২০ দিনের মহাপরিকল্পনায় সরকার
ছবি -সংগৃহীত

দেশে মাদকের বিস্তার ঠেকাতে এবং তরুণদের সুরক্ষায় এবার বহুমাত্রিক কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে সরকার। শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান নয়, বরং শিক্ষা, জনসচেতনতা, আধুনিক প্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণকে একসঙ্গে যুক্ত করে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সমন্বিত মাদকবিরোধী কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, ১২০ কর্মদিবসের এই পরিকল্পনায় মাদকের সরবরাহ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে মাদকবিরোধী কার্যক্রমকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে একটি জাতীয় গাইডলাইন তৈরি করা হচ্ছে। এর আওতায় দুই হাজার মেন্টর বা প্রশিক্ষক তৈরি করা হবে। পাশাপাশি ২০০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাদকবিরোধী কমিটি গঠন করা হবে, যারা নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদকবিরোধী সচেতনতা স্থায়ীভাবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

মাদকের প্রবেশপথ বন্ধ করতে সীমান্তবর্তী এলাকায় নজরদারি আরও জোরদার করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে ১০০টি অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপনের প্রস্তাব রয়েছে। একই সঙ্গে দেশজুড়ে ৩৫ হাজার সাধারণ অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি ৬০ দিনের বিশেষ অভিযানে ২০০টি নির্ধারিত টার্গেটে অভিযান চালানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

অভিযানের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে ৩০০টি বডি-ওর্ন ক্যামেরা কেনা হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের একটি ন্যাশনাল টার্গেটিং সেন্টার (এনটিসি) স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে দ্রুত তথ্য বিনিময় ও সমন্বয়ে সহায়ক হবে।

সরকারি নথি অনুযায়ী, জনসচেতনতা বাড়াতে দেশের প্রতিটি বিভাগ ও জেলায় কর্মশালা আয়োজন এবং জনগণের মতামত সংগ্রহে গণশুনানিরও পরিকল্পনা রয়েছে। স্থানীয় জনগণকে মাদক প্রতিরোধ কার্যক্রমে সরাসরি সম্পৃক্ত করাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

এ ছাড়া গোয়েন্দা তথ্যনির্ভর অভিযান পরিচালনার জন্য জেলা, উপজেলা ও মহানগরের থানাভিত্তিক মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা প্রস্তুত ও নিয়মিত হালনাগাদ করা হবে। এতে তদন্ত কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে এবং অপরাধীদের শনাক্ত করা সহজ হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

মাদকের অর্থায়নের উৎস শনাক্ত এবং অর্থপাচার প্রতিরোধে ৫০ জন কর্মকর্তাকে মানি লন্ডারিং বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। একই সঙ্গে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে মাদকমুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রথম ধাপে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট ও বরিশালে স্ক্রিনিং ডোপ টেস্ট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরে এটি ময়মনসিংহ, রংপুর ও খুলনা বিভাগেও সম্প্রসারণ করা হবে।

অভিযানিক সক্ষমতা বাড়াতে ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৩টি নতুন যানবাহন এবং কর্মকর্তাদের নিরাপত্তার জন্য প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে ২০০টি শর্ট রেঞ্জ অস্ত্র সংগ্রহেরও প্রস্তাব রয়েছে।

তরুণদের সম্পৃক্ত করে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে ‘মাদকবিরোধী ব্রিগেড’ গঠনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নযোগ্য এ উদ্যোগে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনকে যুক্ত করা হবে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও গবেষক কর্নেল (অব.) কাজী শরীফ উদ্দিন বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের ওপর নির্ভর করলে কাঙ্ক্ষিত ফল আসবে না। প্রতিরোধমূলক শিক্ষা, গোয়েন্দা তথ্য, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ এবং মাদক চক্রের আর্থিক নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়ার মতো বিষয়গুলোকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। তাঁর মতে, পরিকল্পনাগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে পারলে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে, তবে এজন্য আন্তঃসংস্থার সমন্বয় ও কঠোর তদারকি জরুরি।

গবেষক ও মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ ড. মো. সহিদুজ্জামান বলেন, মাদক শুধু আইনশৃঙ্খলার সমস্যা নয়; এটি জনস্বাস্থ্য, শিক্ষা, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও মানবাধিকার—সব ক্ষেত্রেই প্রভাব ফেলে। তাই পরিবারভিত্তিক সচেতনতা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম এবং তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করাকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক মেন্টর ও কমিটি গঠনের উদ্যোগ যেন কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থাকে, সেজন্য নিয়মিত মনিটরিং প্রয়োজন।

র‍্যাবের সাবেক গোয়েন্দা প্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) খায়রুল ইসলাম বলেন, বর্তমান সময়ে মাদক চক্র প্রযুক্তিনির্ভর ও আন্তঃসীমান্ত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। ফলে গোয়েন্দা তথ্যের আদান-প্রদান, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী করতে হবে। একই সঙ্গে অভিযানের প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গেলে জনগণের আস্থাও বাড়বে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফ বলেন, ১২০ দিনের কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ এগিয়ে চলছে এবং আরও কিছু উদ্যোগ বাস্তবায়নের প্রস্তুতি রয়েছে। তাঁর ভাষ্য, মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। লক্ষ্য শুধু মাদক উদ্ধার নয়, বরং মাদক সিন্ডিকেটের অর্থায়ন ও নেটওয়ার্ক ভেঙে দিয়ে একটি নিরাপদ ও মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা।

তিনি আরও জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক মাদকবিরোধী মেন্টর ও কমিটি গঠন, মাদক ব্যবসায়ীদের হালনাগাদ তথ্যভান্ডার তৈরি এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে তথ্য বিনিময় জোরদারের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে মাদক চোরাচালান ও সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।

বিষয় : মাদক দমন মহাপরিকল্পনায় সরকার

কাল মহাকাল

সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২৬


শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে সীমান্ত, মাদক দমনে ১২০ দিনের মহাপরিকল্পনায় সরকার

প্রকাশের তারিখ : ০৩ আগস্ট ২০২৬

featured Image

দেশে মাদকের বিস্তার ঠেকাতে এবং তরুণদের সুরক্ষায় এবার বহুমাত্রিক কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে সরকার। শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান নয়, বরং শিক্ষা, জনসচেতনতা, আধুনিক প্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণকে একসঙ্গে যুক্ত করে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সমন্বিত মাদকবিরোধী কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, ১২০ কর্মদিবসের এই পরিকল্পনায় মাদকের সরবরাহ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে মাদকবিরোধী কার্যক্রমকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে একটি জাতীয় গাইডলাইন তৈরি করা হচ্ছে। এর আওতায় দুই হাজার মেন্টর বা প্রশিক্ষক তৈরি করা হবে। পাশাপাশি ২০০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাদকবিরোধী কমিটি গঠন করা হবে, যারা নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদকবিরোধী সচেতনতা স্থায়ীভাবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

মাদকের প্রবেশপথ বন্ধ করতে সীমান্তবর্তী এলাকায় নজরদারি আরও জোরদার করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে ১০০টি অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপনের প্রস্তাব রয়েছে। একই সঙ্গে দেশজুড়ে ৩৫ হাজার সাধারণ অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি ৬০ দিনের বিশেষ অভিযানে ২০০টি নির্ধারিত টার্গেটে অভিযান চালানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

অভিযানের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে ৩০০টি বডি-ওর্ন ক্যামেরা কেনা হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের একটি ন্যাশনাল টার্গেটিং সেন্টার (এনটিসি) স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে দ্রুত তথ্য বিনিময় ও সমন্বয়ে সহায়ক হবে।

সরকারি নথি অনুযায়ী, জনসচেতনতা বাড়াতে দেশের প্রতিটি বিভাগ ও জেলায় কর্মশালা আয়োজন এবং জনগণের মতামত সংগ্রহে গণশুনানিরও পরিকল্পনা রয়েছে। স্থানীয় জনগণকে মাদক প্রতিরোধ কার্যক্রমে সরাসরি সম্পৃক্ত করাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

এ ছাড়া গোয়েন্দা তথ্যনির্ভর অভিযান পরিচালনার জন্য জেলা, উপজেলা ও মহানগরের থানাভিত্তিক মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা প্রস্তুত ও নিয়মিত হালনাগাদ করা হবে। এতে তদন্ত কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে এবং অপরাধীদের শনাক্ত করা সহজ হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

মাদকের অর্থায়নের উৎস শনাক্ত এবং অর্থপাচার প্রতিরোধে ৫০ জন কর্মকর্তাকে মানি লন্ডারিং বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। একই সঙ্গে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে মাদকমুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রথম ধাপে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট ও বরিশালে স্ক্রিনিং ডোপ টেস্ট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরে এটি ময়মনসিংহ, রংপুর ও খুলনা বিভাগেও সম্প্রসারণ করা হবে।

অভিযানিক সক্ষমতা বাড়াতে ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৩টি নতুন যানবাহন এবং কর্মকর্তাদের নিরাপত্তার জন্য প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে ২০০টি শর্ট রেঞ্জ অস্ত্র সংগ্রহেরও প্রস্তাব রয়েছে।

তরুণদের সম্পৃক্ত করে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে ‘মাদকবিরোধী ব্রিগেড’ গঠনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নযোগ্য এ উদ্যোগে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনকে যুক্ত করা হবে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও গবেষক কর্নেল (অব.) কাজী শরীফ উদ্দিন বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের ওপর নির্ভর করলে কাঙ্ক্ষিত ফল আসবে না। প্রতিরোধমূলক শিক্ষা, গোয়েন্দা তথ্য, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ এবং মাদক চক্রের আর্থিক নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়ার মতো বিষয়গুলোকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। তাঁর মতে, পরিকল্পনাগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে পারলে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে, তবে এজন্য আন্তঃসংস্থার সমন্বয় ও কঠোর তদারকি জরুরি।

গবেষক ও মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ ড. মো. সহিদুজ্জামান বলেন, মাদক শুধু আইনশৃঙ্খলার সমস্যা নয়; এটি জনস্বাস্থ্য, শিক্ষা, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও মানবাধিকার—সব ক্ষেত্রেই প্রভাব ফেলে। তাই পরিবারভিত্তিক সচেতনতা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম এবং তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করাকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক মেন্টর ও কমিটি গঠনের উদ্যোগ যেন কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থাকে, সেজন্য নিয়মিত মনিটরিং প্রয়োজন।

র‍্যাবের সাবেক গোয়েন্দা প্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) খায়রুল ইসলাম বলেন, বর্তমান সময়ে মাদক চক্র প্রযুক্তিনির্ভর ও আন্তঃসীমান্ত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। ফলে গোয়েন্দা তথ্যের আদান-প্রদান, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী করতে হবে। একই সঙ্গে অভিযানের প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গেলে জনগণের আস্থাও বাড়বে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফ বলেন, ১২০ দিনের কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ এগিয়ে চলছে এবং আরও কিছু উদ্যোগ বাস্তবায়নের প্রস্তুতি রয়েছে। তাঁর ভাষ্য, মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। লক্ষ্য শুধু মাদক উদ্ধার নয়, বরং মাদক সিন্ডিকেটের অর্থায়ন ও নেটওয়ার্ক ভেঙে দিয়ে একটি নিরাপদ ও মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা।

তিনি আরও জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক মাদকবিরোধী মেন্টর ও কমিটি গঠন, মাদক ব্যবসায়ীদের হালনাগাদ তথ্যভান্ডার তৈরি এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে তথ্য বিনিময় জোরদারের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে মাদক চোরাচালান ও সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 

কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত