আন্তর্জাতিকআন্তর্জাতিক

সৌদির সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোটে কেন যোগ দিল বাংলাদেশ

লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব রুটে বাণিজ্য এবং জ্বালানি নিরাপত্তা সুরক্ষায় সৌদির নেতৃত্বাধীন নতুন বহুজাতিক জোটে যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ। রিয়াদের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক জোরদার ও হুতি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলাই এর মূল লক্ষ্য।

 সুমিত দে
সুমিত দে
সৌদির সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোটে কেন যোগ দিল বাংলাদেশ
ছবি -সংগৃহীত

লোহিত সাগর, এডেন উপসাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং জ্বালানি সরবরাহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন একটি বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট গঠন করেছে সৌদি আরব। ‘মাল্টিন্যাশনাল মেরিটাইম ডিফেন্স অ্যালায়েন্স’ নামের এই জোটে বাংলাদেশসহ মোট ১৪টি দেশ অংশ নিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এই জোট গঠনের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়।

সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি, বিশেষ করে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের একের পর এক হামলার মুখে কৌশলগত এই জলপথগুলো চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনার ফলে বৈশ্বিক তেল ও পণ্য সরবরাহ যখন বিঘ্নিত হচ্ছিল, তখন লোহিত সাগর ও সংলগ্ন রুটে বাণিজ্য সচল রাখতেই রিয়াদের এই উদ্যোগ। সৌদি আরব ছাড়া এই জোটে তুরস্ক, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, জর্ডান, মিসর, পাকিস্তান, জিবুতি, সোমালিয়া, ইয়েমেন, সুদান ও কোমোরোস রয়েছে। জোটের সদর দপ্তর সৌদি আরবেই হবে এবং গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, যৌথ পরিকল্পনা ও সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে সামুদ্রিক নিরাপত্তা বজায় রাখা এর লক্ষ্য।

এই জোটে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে তৈরি হওয়া নানা প্রশ্নের জবাব দিতে গত রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। তিনি স্পষ্ট করেন যে, সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক কেবল হজ বা ওমরাহর ধর্মীয় গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না ঢাকা। রিয়াদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে একটি মজবুত ও কার্যকর ‘কৌশলগত’ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার অংশ হিসেবেই এই জোটে যোগ দিয়েছে বাংলাদেশ।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, মুসলিম বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ দেশ হিসেবে সৌদি আরবের নিরাপত্তায় বা সংকটে কোনো সহযোগিতার প্রয়োজন হলে নৈতিক ও আদর্শিক জায়গা থেকে বাংলাদেশ সবসময় পাশে থাকবে। মূলত হুতিদের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং এই রুটে বাণিজ্যের ঝুঁকি কমাতে রিয়াদের এই পদক্ষেপে সংহতি জানানো হয়েছে। তবে এর মানে এই নয় যে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অবস্থানে যাচ্ছে ঢাকা; একই সঙ্গে তেহরানের সঙ্গেও সরকারের কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।

জোটে সহায়তার স্বরূপ কেমন হবে—এমন প্রশ্নে তিনি জানান, হুতিদের কর্মকাণ্ড মোকাবিলা করতে ঠিক যে ধরনের সহায়তার প্রয়োজন হবে, বাংলাদেশের বিদ্যমান সক্ষমতা ও সম্পদ অনুযায়ী সেভাবেই সহায়তা দেওয়া হবে। প্রয়োজনীয় জাতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর অন্য দেশগুলোর জন্যও এই জোটে যুক্ত হওয়ার পথ উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।

বিষয় : বাংলাদেশ সৌদি আরব সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট বাংলাদেশ

কাল মহাকাল

রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬


সৌদির সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোটে কেন যোগ দিল বাংলাদেশ

প্রকাশের তারিখ : ০২ আগস্ট ২০২৬

featured Image

লোহিত সাগর, এডেন উপসাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং জ্বালানি সরবরাহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন একটি বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট গঠন করেছে সৌদি আরব। ‘মাল্টিন্যাশনাল মেরিটাইম ডিফেন্স অ্যালায়েন্স’ নামের এই জোটে বাংলাদেশসহ মোট ১৪টি দেশ অংশ নিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এই জোট গঠনের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়।

সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি, বিশেষ করে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের একের পর এক হামলার মুখে কৌশলগত এই জলপথগুলো চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনার ফলে বৈশ্বিক তেল ও পণ্য সরবরাহ যখন বিঘ্নিত হচ্ছিল, তখন লোহিত সাগর ও সংলগ্ন রুটে বাণিজ্য সচল রাখতেই রিয়াদের এই উদ্যোগ। সৌদি আরব ছাড়া এই জোটে তুরস্ক, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, জর্ডান, মিসর, পাকিস্তান, জিবুতি, সোমালিয়া, ইয়েমেন, সুদান ও কোমোরোস রয়েছে। জোটের সদর দপ্তর সৌদি আরবেই হবে এবং গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, যৌথ পরিকল্পনা ও সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে সামুদ্রিক নিরাপত্তা বজায় রাখা এর লক্ষ্য।

এই জোটে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে তৈরি হওয়া নানা প্রশ্নের জবাব দিতে গত রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। তিনি স্পষ্ট করেন যে, সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক কেবল হজ বা ওমরাহর ধর্মীয় গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না ঢাকা। রিয়াদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে একটি মজবুত ও কার্যকর ‘কৌশলগত’ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার অংশ হিসেবেই এই জোটে যোগ দিয়েছে বাংলাদেশ।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, মুসলিম বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ দেশ হিসেবে সৌদি আরবের নিরাপত্তায় বা সংকটে কোনো সহযোগিতার প্রয়োজন হলে নৈতিক ও আদর্শিক জায়গা থেকে বাংলাদেশ সবসময় পাশে থাকবে। মূলত হুতিদের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং এই রুটে বাণিজ্যের ঝুঁকি কমাতে রিয়াদের এই পদক্ষেপে সংহতি জানানো হয়েছে। তবে এর মানে এই নয় যে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অবস্থানে যাচ্ছে ঢাকা; একই সঙ্গে তেহরানের সঙ্গেও সরকারের কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।

জোটে সহায়তার স্বরূপ কেমন হবে—এমন প্রশ্নে তিনি জানান, হুতিদের কর্মকাণ্ড মোকাবিলা করতে ঠিক যে ধরনের সহায়তার প্রয়োজন হবে, বাংলাদেশের বিদ্যমান সক্ষমতা ও সম্পদ অনুযায়ী সেভাবেই সহায়তা দেওয়া হবে। প্রয়োজনীয় জাতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর অন্য দেশগুলোর জন্যও এই জোটে যুক্ত হওয়ার পথ উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 




কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত