জাতীয়জাতীয়

প্রশাসনে দলীয় নিয়োগ: আমলাতন্ত্রের লাগাম টানতে চাইছে সরকার?

সরকারি সংস্থার শীর্ষ পদে বিএনপি নেতাদের নিয়োগের পর প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে নতুন করে সরব বিশেষজ্ঞরা। দুর্নীতি ও দলীয়করণের জালে আটকে দেশের আমলাতন্ত্র।

সুমন শাহরিয়ার
সুমন শাহরিয়ার
প্রশাসনে দলীয় নিয়োগ: আমলাতন্ত্রের লাগাম টানতে চাইছে সরকার?
ছবি -সংগৃহীত

সরকারের ১২টি সংস্থা, বোর্ড ও করপোরেশনের শীর্ষ পদে সম্প্রতি বিএনপি নেতাদের নিয়োগে প্রশাসনে দলীয়করণ নিয়ে পুরনো বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। একই সঙ্গে জনপ্রশাসনে মার্কিন মডেল প্রয়োগের প্রসঙ্গটি শীর্ষ আলোচনায় উঠে এসেছে। দেশের আমলাতন্ত্রে জেঁকে বসা ঘুস-দুর্নীতি, নীতিমালা বাস্তবায়নে টালবাহানা এবং চাকরি শেষে উন্নত দেশে পাড়ি দেওয়ার প্রবণতার মধ্যেই এ আলোচনা জোরদার হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদের প্রশাসক এবং পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদেও সরকারদলীয় অনুগতদের বসানো হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব, জনপ্রশাসন সচিবসহ চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া সিনিয়র সচিব, সচিব ও সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তার সংখ্যা ২২ জন। এর বাইরে নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিবসহ গ্রেড-২ পদমর্যাদার আরও ১২টি গুরুত্বপূর্ণ পদেও এক বছরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়। ফলে প্রশাসনের শীর্ষ থেকে বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা পর্যন্ত চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

এ পরিস্থিতিতে জনপ্রশাসনে মার্কিন পদ্ধতি প্রয়োগের প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে মুখর হয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। যুক্তরাষ্ট্রের সাভানা স্টেট ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিভাগের অধ্যাপক ড. সিরাজুল আই ভূঁইয়া বলেন, বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশটিতেও রাজনৈতিক নিয়োগ হয়। তবে সেখানে মেধা, যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা প্রাধান্য পায়। নতুন প্রেসিডেন্ট মন্ত্রিসভার বাইরেও প্রায় চার হাজার পদে নিয়োগ দেন। এর মধ্যে ১২০০ পদে সিনেটের অনুমোদন লাগে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রকৃত শক্তিই এসব ব্যক্তি। তারা ব্যক্তিগত জীবনে সৎ, যোগ্য ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন কি না, তা যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়। এসব নিয়োগ কেবল দলীয় আনুগত্যের ভিত্তিতে নয়, বরং জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে করা হয়। তিনি আরও জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্টের নিয়োগ করা বিচারকরা তার গুরুত্বপূর্ণ ডিক্রি ও প্রশাসনিক আদেশের বিপক্ষেও রায় দিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাপ্তাহিক বাংলাদেশের সম্পাদক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ডা. ওয়াজেদ খান বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নতুন প্রেসিডেন্ট ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রশাসনে নীতিনির্ধারণী পদে চার হাজারের বেশি কর্মকর্তা নতুন করে নিয়োগ পান। মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও বিভিন্ন দপ্তরপ্রধানদের নিয়োগ সিনেটের অনুমোদনে হয়। তবে হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাসহ জ্যেষ্ঠ নীতিনির্ধারক ও উপদেষ্টার সাড়ে চারশ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে অনুমোদন লাগে না। তিনি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের আমলাতন্ত্রের তফাত তুলে ধরে বলেন, মার্কিন কর্মকর্তারা দেশের জন্য দায়িত্ব পালন করেন। তাদের বিরুদ্ধে জনগণকে হয়রানি বা ফাইল আটকে ঘুস নেওয়ার একটি অভিযোগও পাওয়া যায় না। অথচ বাংলাদেশে ঘুস ছাড়া কেউ দায়িত্ব পালন করলে সেটি সংবাদ হয়ে যায়। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের সিভিল সার্ভিসসহ বিভিন্ন পদে চাকরি করে এখন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন এমন হাজার হাজার কর্মকর্তা রয়েছেন। যাদের লক্ষ্য অবসরের পর পরিবার নিয়ে উন্নত দেশে থিতু হওয়া, তাদের কাছ থেকে দেশ ও জনগণ কোনো সেবা আশা করার কথা নয়। বাংলাদেশের আমলাতন্ত্রও একই অবস্থার শিকার। তারা কেউ দেশের জন্য নয়, পরিবারের জন্য কাজ করেন। ডা. ওয়াজেদ খান মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা ফাইল আটকে ঘুস খান না, কারণ তাদেরও কোথাও কাউকে ঘুস দিতে হয় না। বাংলাদেশে সরকারি কর্মকর্তারা ঘুস খান আবার নিজের কাজের জন্য ঘুস দিতেও হয়। এমনকি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষককে পেনশনের টাকা তুলতে তারই ছাত্রকে ঘুস দিতে হয়েছে এমন নজিরও রয়েছে।

এ বিষয়ে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারি মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করলেও বলেন, সরকার ফ্যাসিবাদমুক্ত, দক্ষ ও জনবান্ধব প্রশাসন চায়। হাসিনার স্বৈরতান্ত্রিক সাড়ে ১৫ বছরে প্রশাসনকে দলীয়ভাবে ব্যবহারের যে খারাপ নজির স্থাপন হয়েছিল, সেখান থেকে বের করে শক্তিশালী কাঠামোর ওপর দাঁড় করাতে চায় সরকার। তিনি জানান, চুক্তিভিত্তিক যারাই বিভিন্ন সংস্থায় নিয়োগ পেয়েছেন, তারা সবাই ব্যক্তিগতভাবে সৎ ও দক্ষ। তাদের অভিজ্ঞতা ও যোগ্য নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানগুলোতে গতিশীলতা আসবে বলেও তিনি আশাবাদী।

তবে দলীয় নিয়োগ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তাদের মধ্যে। রীতি অনুযায়ী এসব পদে সাধারণত অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের পদায়ন করা হয়। আগেও কোনো কোনো পদে রাজনৈতিক নিয়োগ হয়েছে, তবে এবার একযোগে ১২টি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে দলীয় নিয়োগ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিদের নিয়েও বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বিরূপ মন্তব্য করেছেন। দলের প্রতি তাদের কারো কারো কমিটমেন্ট নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার মনে করেন, যার কাজ তাকে দিয়েই করানো উচিত। জনপ্রশাসনের কর্মকর্তারা যেমন রাজনীতিতে জড়ানো উচিত নয়, তেমনি প্রশাসনের পদেও ঢালাওভাবে রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ ঠিক নয়। এটি প্রশাসনকে আরও বেশি বিতর্কিত করে তুলবে। কারণ এমনিতেই ক্ষমতাসীন দলের দিকে প্রশাসন ঝুঁকে পড়ার প্রবণতা কাজ করে। তাই প্রশাসনকে রাজনীতির বাইরে রেখে সত্যিকারের জনবান্ধব করে গড়ে তোলা আবশ্যক।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ঢালাওভাবে সরকারি সংস্থার শীর্ষপদে দলীয় ব্যক্তিদের নিয়োগ উদ্বেগজনক, তবে অবাক হওয়ার মতো কিছু নয়। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের মতো নজরদারি সংস্থার শীর্ষপদ থেকে শুরু করে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের প্রশাসক, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ বা অপসারণের মাধ্যমে কর্তৃত্বপরায়ণ আমলের মতো দলীয় ক্ষমতার একচ্ছত্র আধিপত্যের সংস্কৃতি অনুসরণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, আওয়ামী সরকারের সময় প্রাতিষ্ঠানিক ও পেশাগত দলীয়করণের কারণে ক্ষমতাসীন দলের অনেক নেতাকর্মীকেও কঠিন মূল্য দিতে হয়েছে। সেই কারণেই বিএনপির ৩১-দফা ও নির্বাচনি ইশতেহারে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতিবিরোধী সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার ছিল। অথচ বাস্তবে তার প্রয়োগে সদিচ্ছার ঘাটতি ও বিপরীতমুখী চর্চা দেখা যাচ্ছে। ড. ইফতেখারুজ্জামান মনে করেন, কর্তৃত্ববাদের পতন হয়েছে, কিন্তু কর্তৃত্ববাদী দলীয়করণের পরিবর্তন হয়নি। হয়েছে শুধু 'উইনার টেকস অল' চর্চার পালাবদল।

রেজিম পাল্টালেও চরিত্র বদলায়নি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। ফাইল আটকে ঘুস আদায়, সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি, দুর্নীতি ও অনিয়ম কোনো অংশেই কমেনি, ক্ষেত্রবিশেষে বেড়েছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), সিটি করপোরেশন কার্যালয়, ভূমি অফিস, বিআরটিএ, পাসপোর্ট অফিস ও পুলিশ স্টেশনসহ সেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলোতে ঘুসের পরিমাণ আগের চেয়ে বেড়েছে বলে অভিযোগ সেবাগ্রহীতাদের। টিআইবিসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিবেদনেও এমন চিত্র উঠে এসেছে। রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ীরা জানান, ঘুস ছাড়া রাজউক থেকে একটি নকশাও অনুমোদন করতে পারেননি তারা। ভূমি অফিস থেকে ঘুস ছাড়া একটি নথি নিষ্পত্তির নজির নেই বলে দাবি এক সেবাগ্রহীতার।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গঠিত প্রশাসনিক সংস্কার কমিশনের সুপারিশ এবং বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সিভিল সোসাইটির সদস্য, শিক্ষাবিদ ও জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞরা প্রশাসনের বিদ্যমান কাঠামো ভেঙে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসও জনপ্রশাসনকে জনবান্ধব করতে কাঠামোগত পরিবর্তনের কথা বলেছেন। তবে অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের রেখে যাওয়া কর্মকর্তাদের স্বপদে বহাল রেখে দক্ষ ও জনবান্ধব প্রশাসনিক কাঠামো তৈরির উদ্যোগে চরমভাবে ব্যর্থ হয় বলে অভিযোগ। সেই ব্যর্থতার দায় এখন নতুন সরকারের কাঁধেও পড়েছে বলে মনে করছেন নীতিনির্ধারকরা।

পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের দুর্নীতি নিয়ে শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির প্রধান ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সংবাদ সম্মেলনে জানান, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ২৩ হাজার ৪০০ কোটি ডলার বা ২৮ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে। এর বড় অংশ পাচারে আমলাতন্ত্রের হাত ছিল, অনেক ক্ষেত্রে তারা সরাসরি জড়িতও ছিলেন।

প্রশাসন নিয়ে ক্ষোভ ও আক্ষেপ রয়েছে বর্তমান সরকারের নীতিনির্ধারকদের মধ্যেও। এক প্রভাবশালী মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী সকাল ৯টার আগেই দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করেন, কিন্তু বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরে এর কোনো প্রভাব নেই। ঢিলেঢালাভাবেই চলছে প্রশাসন। বর্তমান প্রশাসন প্রধানমন্ত্রীর কর্মতৎপরতার সঙ্গে কুলিয়ে উঠতে পারছে না। অন্তর্বর্তী সরকারের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সফলভাবে সামলানো সাবেক আমলা ফাওজুল কবির খান বিদায় নেওয়ার আগে আক্ষেপ করে বলেন, আমলাতন্ত্র একটি জগদ্দল পাথরের মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটি জনগণের বুকে চেপে বসে আছে। কিছুই করা যায় না এখানে। কোনোরকম মানবিক দায়িত্ববোধই এই আমলাতন্ত্রের মধ্যে নেই। সবাই অফিসে আসেন-যান, গাড়িতে চড়েন; কিন্তু মানুষের দৈনন্দিন সমস্যা নিয়ে তাদের কোনো সদিচ্ছা নেই। চিঠি চালাচালি, সভা-সমিতি, লাঞ্চ ও স্ন্যাকস খাওয়া হয়; কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না।

অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক এক উপদেষ্টা জানান, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই সাড়ে ১৪ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারীর সম্পদের হিসাব চেয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়ে যেসব কর্মকর্তার দ্বৈত নাগরিকত্ব রয়েছে বা বিদেশে পরিবার রেখেছেন, তাদের তথ্য চায়। পদায়ন ও পদোন্নতিতে তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শও দেওয়া হয়। এ নির্দেশনার বিরুদ্ধে অঘোষিত বিদ্রোহ করেন কর্মকর্তারা। অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে সচিবালয় ও আশপাশে কমপক্ষে ১৬০০ আন্দোলন হয়। গোয়েন্দা তথ্যে উঠে এসেছে, এসব আন্দোলনের সঙ্গে সরকারের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা যুক্ত ছিলেন।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পাঁচ মাসের মন্ত্রিত্বের অভিজ্ঞতা থেকে বলেছেন, দেশে কিছুই বদলায়নি। একইভাবে যারা ঘুস খেত, তারা এখনো খায়। জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করে রাষ্ট্র ও সমাজে পরিবর্তন আনতে হবে।

বিষয় : প্রশাসন দলীয় নিয়োগ

কাল মহাকাল

রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬


প্রশাসনে দলীয় নিয়োগ: আমলাতন্ত্রের লাগাম টানতে চাইছে সরকার?

প্রকাশের তারিখ : ০২ আগস্ট ২০২৬

featured Image

সরকারের ১২টি সংস্থা, বোর্ড ও করপোরেশনের শীর্ষ পদে সম্প্রতি বিএনপি নেতাদের নিয়োগে প্রশাসনে দলীয়করণ নিয়ে পুরনো বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। একই সঙ্গে জনপ্রশাসনে মার্কিন মডেল প্রয়োগের প্রসঙ্গটি শীর্ষ আলোচনায় উঠে এসেছে। দেশের আমলাতন্ত্রে জেঁকে বসা ঘুস-দুর্নীতি, নীতিমালা বাস্তবায়নে টালবাহানা এবং চাকরি শেষে উন্নত দেশে পাড়ি দেওয়ার প্রবণতার মধ্যেই এ আলোচনা জোরদার হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদের প্রশাসক এবং পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদেও সরকারদলীয় অনুগতদের বসানো হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব, জনপ্রশাসন সচিবসহ চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া সিনিয়র সচিব, সচিব ও সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তার সংখ্যা ২২ জন। এর বাইরে নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিবসহ গ্রেড-২ পদমর্যাদার আরও ১২টি গুরুত্বপূর্ণ পদেও এক বছরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়। ফলে প্রশাসনের শীর্ষ থেকে বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা পর্যন্ত চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

এ পরিস্থিতিতে জনপ্রশাসনে মার্কিন পদ্ধতি প্রয়োগের প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে মুখর হয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। যুক্তরাষ্ট্রের সাভানা স্টেট ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিভাগের অধ্যাপক ড. সিরাজুল আই ভূঁইয়া বলেন, বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশটিতেও রাজনৈতিক নিয়োগ হয়। তবে সেখানে মেধা, যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা প্রাধান্য পায়। নতুন প্রেসিডেন্ট মন্ত্রিসভার বাইরেও প্রায় চার হাজার পদে নিয়োগ দেন। এর মধ্যে ১২০০ পদে সিনেটের অনুমোদন লাগে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রকৃত শক্তিই এসব ব্যক্তি। তারা ব্যক্তিগত জীবনে সৎ, যোগ্য ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন কি না, তা যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়। এসব নিয়োগ কেবল দলীয় আনুগত্যের ভিত্তিতে নয়, বরং জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে করা হয়। তিনি আরও জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্টের নিয়োগ করা বিচারকরা তার গুরুত্বপূর্ণ ডিক্রি ও প্রশাসনিক আদেশের বিপক্ষেও রায় দিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাপ্তাহিক বাংলাদেশের সম্পাদক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ডা. ওয়াজেদ খান বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নতুন প্রেসিডেন্ট ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রশাসনে নীতিনির্ধারণী পদে চার হাজারের বেশি কর্মকর্তা নতুন করে নিয়োগ পান। মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও বিভিন্ন দপ্তরপ্রধানদের নিয়োগ সিনেটের অনুমোদনে হয়। তবে হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাসহ জ্যেষ্ঠ নীতিনির্ধারক ও উপদেষ্টার সাড়ে চারশ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে অনুমোদন লাগে না। তিনি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের আমলাতন্ত্রের তফাত তুলে ধরে বলেন, মার্কিন কর্মকর্তারা দেশের জন্য দায়িত্ব পালন করেন। তাদের বিরুদ্ধে জনগণকে হয়রানি বা ফাইল আটকে ঘুস নেওয়ার একটি অভিযোগও পাওয়া যায় না। অথচ বাংলাদেশে ঘুস ছাড়া কেউ দায়িত্ব পালন করলে সেটি সংবাদ হয়ে যায়। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের সিভিল সার্ভিসসহ বিভিন্ন পদে চাকরি করে এখন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন এমন হাজার হাজার কর্মকর্তা রয়েছেন। যাদের লক্ষ্য অবসরের পর পরিবার নিয়ে উন্নত দেশে থিতু হওয়া, তাদের কাছ থেকে দেশ ও জনগণ কোনো সেবা আশা করার কথা নয়। বাংলাদেশের আমলাতন্ত্রও একই অবস্থার শিকার। তারা কেউ দেশের জন্য নয়, পরিবারের জন্য কাজ করেন। ডা. ওয়াজেদ খান মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা ফাইল আটকে ঘুস খান না, কারণ তাদেরও কোথাও কাউকে ঘুস দিতে হয় না। বাংলাদেশে সরকারি কর্মকর্তারা ঘুস খান আবার নিজের কাজের জন্য ঘুস দিতেও হয়। এমনকি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষককে পেনশনের টাকা তুলতে তারই ছাত্রকে ঘুস দিতে হয়েছে এমন নজিরও রয়েছে।

এ বিষয়ে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারি মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করলেও বলেন, সরকার ফ্যাসিবাদমুক্ত, দক্ষ ও জনবান্ধব প্রশাসন চায়। হাসিনার স্বৈরতান্ত্রিক সাড়ে ১৫ বছরে প্রশাসনকে দলীয়ভাবে ব্যবহারের যে খারাপ নজির স্থাপন হয়েছিল, সেখান থেকে বের করে শক্তিশালী কাঠামোর ওপর দাঁড় করাতে চায় সরকার। তিনি জানান, চুক্তিভিত্তিক যারাই বিভিন্ন সংস্থায় নিয়োগ পেয়েছেন, তারা সবাই ব্যক্তিগতভাবে সৎ ও দক্ষ। তাদের অভিজ্ঞতা ও যোগ্য নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানগুলোতে গতিশীলতা আসবে বলেও তিনি আশাবাদী।

তবে দলীয় নিয়োগ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তাদের মধ্যে। রীতি অনুযায়ী এসব পদে সাধারণত অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের পদায়ন করা হয়। আগেও কোনো কোনো পদে রাজনৈতিক নিয়োগ হয়েছে, তবে এবার একযোগে ১২টি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে দলীয় নিয়োগ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিদের নিয়েও বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বিরূপ মন্তব্য করেছেন। দলের প্রতি তাদের কারো কারো কমিটমেন্ট নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার মনে করেন, যার কাজ তাকে দিয়েই করানো উচিত। জনপ্রশাসনের কর্মকর্তারা যেমন রাজনীতিতে জড়ানো উচিত নয়, তেমনি প্রশাসনের পদেও ঢালাওভাবে রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ ঠিক নয়। এটি প্রশাসনকে আরও বেশি বিতর্কিত করে তুলবে। কারণ এমনিতেই ক্ষমতাসীন দলের দিকে প্রশাসন ঝুঁকে পড়ার প্রবণতা কাজ করে। তাই প্রশাসনকে রাজনীতির বাইরে রেখে সত্যিকারের জনবান্ধব করে গড়ে তোলা আবশ্যক।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ঢালাওভাবে সরকারি সংস্থার শীর্ষপদে দলীয় ব্যক্তিদের নিয়োগ উদ্বেগজনক, তবে অবাক হওয়ার মতো কিছু নয়। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের মতো নজরদারি সংস্থার শীর্ষপদ থেকে শুরু করে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের প্রশাসক, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ বা অপসারণের মাধ্যমে কর্তৃত্বপরায়ণ আমলের মতো দলীয় ক্ষমতার একচ্ছত্র আধিপত্যের সংস্কৃতি অনুসরণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, আওয়ামী সরকারের সময় প্রাতিষ্ঠানিক ও পেশাগত দলীয়করণের কারণে ক্ষমতাসীন দলের অনেক নেতাকর্মীকেও কঠিন মূল্য দিতে হয়েছে। সেই কারণেই বিএনপির ৩১-দফা ও নির্বাচনি ইশতেহারে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতিবিরোধী সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার ছিল। অথচ বাস্তবে তার প্রয়োগে সদিচ্ছার ঘাটতি ও বিপরীতমুখী চর্চা দেখা যাচ্ছে। ড. ইফতেখারুজ্জামান মনে করেন, কর্তৃত্ববাদের পতন হয়েছে, কিন্তু কর্তৃত্ববাদী দলীয়করণের পরিবর্তন হয়নি। হয়েছে শুধু 'উইনার টেকস অল' চর্চার পালাবদল।

রেজিম পাল্টালেও চরিত্র বদলায়নি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। ফাইল আটকে ঘুস আদায়, সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি, দুর্নীতি ও অনিয়ম কোনো অংশেই কমেনি, ক্ষেত্রবিশেষে বেড়েছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), সিটি করপোরেশন কার্যালয়, ভূমি অফিস, বিআরটিএ, পাসপোর্ট অফিস ও পুলিশ স্টেশনসহ সেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলোতে ঘুসের পরিমাণ আগের চেয়ে বেড়েছে বলে অভিযোগ সেবাগ্রহীতাদের। টিআইবিসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিবেদনেও এমন চিত্র উঠে এসেছে। রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ীরা জানান, ঘুস ছাড়া রাজউক থেকে একটি নকশাও অনুমোদন করতে পারেননি তারা। ভূমি অফিস থেকে ঘুস ছাড়া একটি নথি নিষ্পত্তির নজির নেই বলে দাবি এক সেবাগ্রহীতার।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গঠিত প্রশাসনিক সংস্কার কমিশনের সুপারিশ এবং বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সিভিল সোসাইটির সদস্য, শিক্ষাবিদ ও জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞরা প্রশাসনের বিদ্যমান কাঠামো ভেঙে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসও জনপ্রশাসনকে জনবান্ধব করতে কাঠামোগত পরিবর্তনের কথা বলেছেন। তবে অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের রেখে যাওয়া কর্মকর্তাদের স্বপদে বহাল রেখে দক্ষ ও জনবান্ধব প্রশাসনিক কাঠামো তৈরির উদ্যোগে চরমভাবে ব্যর্থ হয় বলে অভিযোগ। সেই ব্যর্থতার দায় এখন নতুন সরকারের কাঁধেও পড়েছে বলে মনে করছেন নীতিনির্ধারকরা।

পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের দুর্নীতি নিয়ে শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির প্রধান ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সংবাদ সম্মেলনে জানান, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ২৩ হাজার ৪০০ কোটি ডলার বা ২৮ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে। এর বড় অংশ পাচারে আমলাতন্ত্রের হাত ছিল, অনেক ক্ষেত্রে তারা সরাসরি জড়িতও ছিলেন।

প্রশাসন নিয়ে ক্ষোভ ও আক্ষেপ রয়েছে বর্তমান সরকারের নীতিনির্ধারকদের মধ্যেও। এক প্রভাবশালী মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী সকাল ৯টার আগেই দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করেন, কিন্তু বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরে এর কোনো প্রভাব নেই। ঢিলেঢালাভাবেই চলছে প্রশাসন। বর্তমান প্রশাসন প্রধানমন্ত্রীর কর্মতৎপরতার সঙ্গে কুলিয়ে উঠতে পারছে না। অন্তর্বর্তী সরকারের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সফলভাবে সামলানো সাবেক আমলা ফাওজুল কবির খান বিদায় নেওয়ার আগে আক্ষেপ করে বলেন, আমলাতন্ত্র একটি জগদ্দল পাথরের মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটি জনগণের বুকে চেপে বসে আছে। কিছুই করা যায় না এখানে। কোনোরকম মানবিক দায়িত্ববোধই এই আমলাতন্ত্রের মধ্যে নেই। সবাই অফিসে আসেন-যান, গাড়িতে চড়েন; কিন্তু মানুষের দৈনন্দিন সমস্যা নিয়ে তাদের কোনো সদিচ্ছা নেই। চিঠি চালাচালি, সভা-সমিতি, লাঞ্চ ও স্ন্যাকস খাওয়া হয়; কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না।

অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক এক উপদেষ্টা জানান, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই সাড়ে ১৪ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারীর সম্পদের হিসাব চেয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়ে যেসব কর্মকর্তার দ্বৈত নাগরিকত্ব রয়েছে বা বিদেশে পরিবার রেখেছেন, তাদের তথ্য চায়। পদায়ন ও পদোন্নতিতে তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শও দেওয়া হয়। এ নির্দেশনার বিরুদ্ধে অঘোষিত বিদ্রোহ করেন কর্মকর্তারা। অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে সচিবালয় ও আশপাশে কমপক্ষে ১৬০০ আন্দোলন হয়। গোয়েন্দা তথ্যে উঠে এসেছে, এসব আন্দোলনের সঙ্গে সরকারের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা যুক্ত ছিলেন।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পাঁচ মাসের মন্ত্রিত্বের অভিজ্ঞতা থেকে বলেছেন, দেশে কিছুই বদলায়নি। একইভাবে যারা ঘুস খেত, তারা এখনো খায়। জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করে রাষ্ট্র ও সমাজে পরিবর্তন আনতে হবে।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত