সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 ইরান যুদ্ধইরান যুদ্ধ

ইরানকে ছাড় নয়, আরও হামলার ঘোষণা ট্রাম্পের

ক্যাম্প ডেভিডে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য যুদ্ধ জিতে ইরানের সামরিক সক্ষমতা আরও দুর্বল করা। তবে সাম্প্রতিক হামলা-পালটা হামলায় দুই দেশের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ছে।

রাহাত রাফি
রাহাত রাফি
ইরানকে ছাড় নয়, আরও হামলার ঘোষণা ট্রাম্পের
ছবি -সংগৃহীত

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান আরও জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ওয়াশিংটনের প্রধান লক্ষ্য এই সংঘাতে কৌশলগত বিজয় নিশ্চিত করা এবং কোনো পরিস্থিতিতেই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্রের সক্ষমতা অর্জন করতে না দেওয়া।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের ক্যাম্প ডেভিডে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প এ অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি দাবি করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সংযম বজায় রাখার চেষ্টা করলেও ইরানের সামরিক শক্তি ধারাবাহিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ছে।

ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি। তাঁর ভাষায়, ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, সামরিক চাপ অব্যাহত থাকবে এবং একসময় তেহরান নিজেই তা বহন করতে অক্ষম হবে।

ইরান এখনও শক্ত অবস্থানে রয়েছে—এমন ধারণা প্রত্যাখ্যান করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, দেশটি বর্তমানে গুরুতর সংকটে রয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানো কঠিন, কারণ তাদের ওপর আস্থা রাখা যায় না।

বর্তমান সংঘাতের মূল্যায়ন করতে গিয়ে ট্রাম্প ভিয়েতনাম ও আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘ যুদ্ধের প্রসঙ্গ টানেন। তাঁর দাবি, মাত্র পাঁচ মাসের সামরিক অভিযানে ইরানের উল্লেখযোগ্য সামরিক সক্ষমতা কার্যত ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।

তেহরানের সঙ্গে চলমান যোগাযোগ নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ইরানি নেতৃত্বের প্রতি তাঁর বিশ্বাস ক্রমেই কমছে। এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে যোগাযোগের অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ তাঁকে অবহিত করেন যে, ইরান জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনায় ধারাবাহিক হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে জর্ডানসহ উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালানোর দাবি করেছে তেহরান।

উল্লেখ্য, গত জুনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি কাঠামোগত চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিল। তবে সাম্প্রতিক হামলা ও পাল্টা হামলার ধারাবাহিকতায় সেই সমঝোতার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে এবং দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আবারও তীব্র আকার ধারণ করেছে।

 

বিষয় : ইরান যুদ্ধ ট্রাম্পের হুমকি

কাল মহাকাল

শনিবার, ০১ আগস্ট ২০২৬


ইরানকে ছাড় নয়, আরও হামলার ঘোষণা ট্রাম্পের

প্রকাশের তারিখ : ০১ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান আরও জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ওয়াশিংটনের প্রধান লক্ষ্য এই সংঘাতে কৌশলগত বিজয় নিশ্চিত করা এবং কোনো পরিস্থিতিতেই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্রের সক্ষমতা অর্জন করতে না দেওয়া।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের ক্যাম্প ডেভিডে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প এ অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি দাবি করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সংযম বজায় রাখার চেষ্টা করলেও ইরানের সামরিক শক্তি ধারাবাহিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ছে।

ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি। তাঁর ভাষায়, ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, সামরিক চাপ অব্যাহত থাকবে এবং একসময় তেহরান নিজেই তা বহন করতে অক্ষম হবে।

ইরান এখনও শক্ত অবস্থানে রয়েছে—এমন ধারণা প্রত্যাখ্যান করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, দেশটি বর্তমানে গুরুতর সংকটে রয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানো কঠিন, কারণ তাদের ওপর আস্থা রাখা যায় না।

বর্তমান সংঘাতের মূল্যায়ন করতে গিয়ে ট্রাম্প ভিয়েতনাম ও আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘ যুদ্ধের প্রসঙ্গ টানেন। তাঁর দাবি, মাত্র পাঁচ মাসের সামরিক অভিযানে ইরানের উল্লেখযোগ্য সামরিক সক্ষমতা কার্যত ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।

তেহরানের সঙ্গে চলমান যোগাযোগ নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ইরানি নেতৃত্বের প্রতি তাঁর বিশ্বাস ক্রমেই কমছে। এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে যোগাযোগের অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ তাঁকে অবহিত করেন যে, ইরান জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনায় ধারাবাহিক হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে জর্ডানসহ উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালানোর দাবি করেছে তেহরান।

উল্লেখ্য, গত জুনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি কাঠামোগত চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিল। তবে সাম্প্রতিক হামলা ও পাল্টা হামলার ধারাবাহিকতায় সেই সমঝোতার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে এবং দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আবারও তীব্র আকার ধারণ করেছে।

 


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত