সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 লাইফ স্টাইললাইফ স্টাইল

ঘরের ছোট জিনিসেই শিশুদের জন্য বড় বিপদ, সতর্ক থাকুন

বাড়ির পরিচিত পরিবেশও ছোট শিশুর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছু সাধারণ জিনিস শিশুর হাতের নাগালে থাকলে শ্বাসরোধ, বিষক্রিয়া ও গুরুতর দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ে।

আয়েশা রহমান
আয়েশা রহমান
ঘরের ছোট জিনিসেই  শিশুদের জন্য বড় বিপদ, সতর্ক থাকুন
ছবি -সংগৃহীত

বাড়িকে আমরা নিরাপদ আশ্রয় বলেই মনে করি। কিন্তু ঘরের ভেতরে ছড়িয়ে–ছিটিয়ে থাকা কিছু ছোট জিনিসই মুহূর্তের মধ্যে ছোট শিশুর জন্য ভয়াবহ দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। বিশেষ করে মুখে সবকিছু নেওয়ার অভ্যাস থাকা শিশুদের ক্ষেত্রে এ ঝুঁকি আরও বেশি।

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শিশুবিশেষজ্ঞ ও সহকারী অধ্যাপক ডা. তাসনুভা খানের মতে, কম বয়সী শিশুরা গলার ভেতরের পেশি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। ফলে খাবার বা ছোট কোনো বস্তু সহজেই শ্বাসনালিতে আটকে যেতে পারে। এতে তীব্র শ্বাসকষ্ট, শ্বাসনালি বন্ধ হয়ে যাওয়া, এমনকি মৃত্যুর মতো ঘটনাও ঘটতে পারে। অনেক সময় গলায় কিছু আটকে যাওয়ার পর কয়েক দিন পরও জটিলতা দেখা দিতে পারে।

শুধু খাবার নয়, শিশুর হাতে ধরা যায় এমন যেকোনো ছোট বস্তুই ঝুঁকির কারণ হতে পারে। ফলের বীজ, টবের নুড়িপাথর, পোশাকের পিন কিংবা খেলনার ছোট অংশ—এসবই অসাবধানতাবশত শিশুর মুখে চলে যেতে পারে।

শিশুকে নিরাপদ রাখতে যা করবেন

  •  শিশুর বয়স ও গিলতে পারার সক্ষমতা অনুযায়ী খাবার দিন।
  •  ছয় মাস বয়স থেকে খাবার নরম করে চটকে বা সেদ্ধ করে খাওয়ান।
  •  চিবিয়ে খেতে শিখলেও প্রথম দিকে নরম খাবারই দিন।
  •  দুই বছর বয়সের পর মাংস বা ফল ছোট ছোট নয়, বরং লম্বাটে টুকরায় কেটে দিন, যাতে শিশু হাতে ধরে ধীরে ধীরে খেতে পারে।
  •  পাঁচ বছর বয়সের আগে বাদাম, লজেন্স, ক্যান্ডি বা ললিপপ খাওয়ানো থেকে বিরত থাকুন।
  •  বড় বীজযুক্ত ফল যেমন লিচু, জাম বা বরই কখনোই পুরোটা মুখে দিতে দেবেন না। ছোট বীজযুক্ত ফল খাওয়ানোর সময়ও সতর্ক থাকুন এবং বীজ ফেলে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
  •  শিশুকে কখনো মুখভর্তি করে খাবার খেতে দেবেন না। ছোট ছোট অংশে ভালোভাবে চিবিয়ে খাওয়ার অভ্যাস তৈরি করুন।
  •  খাওয়ার সময় টেলিভিশন, মোবাইল বা অন্য কোনো ডিজিটাল স্ক্রিন থেকে দূরে রাখুন।
  •  মুখে খাবার নিয়ে কথা বলা, হাসা বা কান্না করা থেকে বিরত থাকতে শেখান।

 খেলনা বাছাইয়েও সতর্কতা

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুর বয়সের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ খেলনা ব্যবহার করা উচিত। ভাঙা খেলনা বা ছোট অংশযুক্ত খেলনা শিশুর মুখে চলে যেতে পারে। পরিবারের বড় শিশুদের খেলনার ছোট অংশও ছোটদের নাগালের বাইরে রাখতে হবে।

এ ছাড়া বাড়িতে ছোট শিশু থাকলে টব সাজানোর জন্য মার্বেল বা নুড়িপাথর ব্যবহার না করাই ভালো।

যেসব জিনিস অবশ্যই শিশুর নাগালের বাইরে রাখবেন

  •  মার্বেল
  •  নুড়িপাথর
  •  পিন
  •  ধাতব মুদ্রা
  •  ঘড়ির ছোট ব্যাটারি
  •  ছোট চুম্বক
  •  বোতাম ও বোতামজাতীয় ছোট বস্তু
  •  সব ধরনের ওষুধ
  •  ডিশওয়াশিং লিকুইড
  •  বাথরুম পরিষ্কারক
  •  গ্লাস ক্লিনার
  •  প্রাণিখাদ্য

শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবারের সদস্যদের সচেতনতার বিকল্প নেই। সামান্য অসতর্কতাও বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে, তাই ঘরের প্রতিটি ছোট জিনিস কোথায় রাখা হচ্ছে, সে বিষয়ে বাড়তি নজর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিষয় : শিশুদের জন্য বিপদ শিশুর নিরাপত্তা

কাল মহাকাল

শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬


ঘরের ছোট জিনিসেই শিশুদের জন্য বড় বিপদ, সতর্ক থাকুন

প্রকাশের তারিখ : ৩১ জুলাই ২০২৬

featured Image

বাড়িকে আমরা নিরাপদ আশ্রয় বলেই মনে করি। কিন্তু ঘরের ভেতরে ছড়িয়ে–ছিটিয়ে থাকা কিছু ছোট জিনিসই মুহূর্তের মধ্যে ছোট শিশুর জন্য ভয়াবহ দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। বিশেষ করে মুখে সবকিছু নেওয়ার অভ্যাস থাকা শিশুদের ক্ষেত্রে এ ঝুঁকি আরও বেশি।

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শিশুবিশেষজ্ঞ ও সহকারী অধ্যাপক ডা. তাসনুভা খানের মতে, কম বয়সী শিশুরা গলার ভেতরের পেশি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। ফলে খাবার বা ছোট কোনো বস্তু সহজেই শ্বাসনালিতে আটকে যেতে পারে। এতে তীব্র শ্বাসকষ্ট, শ্বাসনালি বন্ধ হয়ে যাওয়া, এমনকি মৃত্যুর মতো ঘটনাও ঘটতে পারে। অনেক সময় গলায় কিছু আটকে যাওয়ার পর কয়েক দিন পরও জটিলতা দেখা দিতে পারে।

শুধু খাবার নয়, শিশুর হাতে ধরা যায় এমন যেকোনো ছোট বস্তুই ঝুঁকির কারণ হতে পারে। ফলের বীজ, টবের নুড়িপাথর, পোশাকের পিন কিংবা খেলনার ছোট অংশ—এসবই অসাবধানতাবশত শিশুর মুখে চলে যেতে পারে।

শিশুকে নিরাপদ রাখতে যা করবেন

  •  শিশুর বয়স ও গিলতে পারার সক্ষমতা অনুযায়ী খাবার দিন।
  •  ছয় মাস বয়স থেকে খাবার নরম করে চটকে বা সেদ্ধ করে খাওয়ান।
  •  চিবিয়ে খেতে শিখলেও প্রথম দিকে নরম খাবারই দিন।
  •  দুই বছর বয়সের পর মাংস বা ফল ছোট ছোট নয়, বরং লম্বাটে টুকরায় কেটে দিন, যাতে শিশু হাতে ধরে ধীরে ধীরে খেতে পারে।
  •  পাঁচ বছর বয়সের আগে বাদাম, লজেন্স, ক্যান্ডি বা ললিপপ খাওয়ানো থেকে বিরত থাকুন।
  •  বড় বীজযুক্ত ফল যেমন লিচু, জাম বা বরই কখনোই পুরোটা মুখে দিতে দেবেন না। ছোট বীজযুক্ত ফল খাওয়ানোর সময়ও সতর্ক থাকুন এবং বীজ ফেলে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
  •  শিশুকে কখনো মুখভর্তি করে খাবার খেতে দেবেন না। ছোট ছোট অংশে ভালোভাবে চিবিয়ে খাওয়ার অভ্যাস তৈরি করুন।
  •  খাওয়ার সময় টেলিভিশন, মোবাইল বা অন্য কোনো ডিজিটাল স্ক্রিন থেকে দূরে রাখুন।
  •  মুখে খাবার নিয়ে কথা বলা, হাসা বা কান্না করা থেকে বিরত থাকতে শেখান।

 খেলনা বাছাইয়েও সতর্কতা

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুর বয়সের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ খেলনা ব্যবহার করা উচিত। ভাঙা খেলনা বা ছোট অংশযুক্ত খেলনা শিশুর মুখে চলে যেতে পারে। পরিবারের বড় শিশুদের খেলনার ছোট অংশও ছোটদের নাগালের বাইরে রাখতে হবে।

এ ছাড়া বাড়িতে ছোট শিশু থাকলে টব সাজানোর জন্য মার্বেল বা নুড়িপাথর ব্যবহার না করাই ভালো।

যেসব জিনিস অবশ্যই শিশুর নাগালের বাইরে রাখবেন

  •  মার্বেল
  •  নুড়িপাথর
  •  পিন
  •  ধাতব মুদ্রা
  •  ঘড়ির ছোট ব্যাটারি
  •  ছোট চুম্বক
  •  বোতাম ও বোতামজাতীয় ছোট বস্তু
  •  সব ধরনের ওষুধ
  •  ডিশওয়াশিং লিকুইড
  •  বাথরুম পরিষ্কারক
  •  গ্লাস ক্লিনার
  •  প্রাণিখাদ্য

শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবারের সদস্যদের সচেতনতার বিকল্প নেই। সামান্য অসতর্কতাও বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে, তাই ঘরের প্রতিটি ছোট জিনিস কোথায় রাখা হচ্ছে, সে বিষয়ে বাড়তি নজর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।



কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত