ঢাকা
রাত আটটার পর কমলাপুর থেকে মতিঝিলের দিকে হাঁটতে গিয়ে এজিবি কলোনির সামনে ছিনতাইকারীদের হামলার মুখে পড়ছেন অনেক পথচারী। স্থানীয়দের ভাষ্য, ছিনতাইয়ের পর অভিযুক্তরা দ্রুত কলোনির ভেতরে ঢুকে পড়ায় তাদের শনাক্ত বা গ্রেপ্তার করা কঠিন হয়ে পড়ে।
সরেজমিন পর্যবেক্ষণ, বাসিন্দাদের বক্তব্য এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, রাজধানীর এজিবি ও আজিমপুর সরকারি কলোনির বহু পুরনো ও জরাজীর্ণ ভবন, পরিত্যক্ত স্থাপনা এবং নির্জন এলাকা দীর্ঘদিন ধরে অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে। এসব জায়গা ব্যবহার করে ছিনতাইকারী, মাদক ও অস্ত্র কারবারি এবং সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর প্রভাব পড়ছে মতিঝিল, নিউমার্কেটসহ আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায়।
সম্প্রতি মতিঝিল এলাকায় বিভিন্ন অপরাধে আলোচনায় আসা তানিম রেজা ওরফে বাপ্পীকে ১৭ জুলাই গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অভিযোগ রয়েছে, পশুর হাটের ইজারা কেন্দ্রিক বিরোধ, চাঁদাবাজি ও গোলাগুলির মতো ঘটনায় তার নাম উঠে এসেছিল। স্থানীয়দের দাবি, এজিবি কলোনিতেই তার বেড়ে ওঠা এবং কিশোর গ্যাংয়ের সূচনা। মতিঝিলে ছিনতাই বা ডাকাতির পর সে ও তার সহযোগীরা প্রায়ই কলোনির ভেতরে আশ্রয় নিত। বিশাল এলাকা, অসংখ্য জরাজীর্ণ ভবন এবং নির্জন স্থানের কারণে সেখানে কাউকে খুঁজে পাওয়া কঠিন। একই সঙ্গে এসব স্থানে অস্ত্র লুকিয়ে রাখা এবং অপরাধীদের অবস্থান করাও সহজ। বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রায়ই রাতে ফাঁকা গুলির শব্দ শোনা যায়।
দেশভাগের পর সরকারি চাকরিজীবীদের আবাসনের জন্য প্রায় ২৮৪ বিঘা জমির ওপর মতিঝিলে নির্মিত হয় এজিবি কলোনি। অডিটর জেনারেলের কার্যালয়ের নাম অনুসারে এর নামকরণ করা হয়। কলোনিতে রয়েছে ১৬৫টি চারতলা ভবন, তিনটি ২০ তলা ভবন এবং হাসপাতাল, আল হেলাল ও আইডিয়াল—এই তিনটি জোন। এছাড়া রয়েছে নয়টি স্কুল, দুটি মাদরাসা ও দুটি কলেজ।
সম্প্রতি কলোনিতে গিয়ে দেখা যায়, প্রবেশপথে গেট থাকলেও সেটি সব সময় খোলা। সেখানে কোনো নিরাপত্তাকর্মীর উপস্থিতি ছিল না। প্রায় ৭৬ বছরের পুরনো সড়কগুলো ভাঙাচোরা, অনেক জায়গায় পানি জমে আছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থাও নাজুক। বহু ভবন বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। খোলা জায়গা ও ঝোপঝাড়ে কিশোরদের বিভিন্ন গ্রুপের আড্ডা চোখে পড়ে, যাদের অনেককে স্থানীয়রা কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য বলে দাবি করেন।
কলোনির প্রবীণ বাসিন্দা রহমত আলী বলেন, দিনের পাশাপাশি রাতেও বহিরাগত কিশোরদের আনাগোনা বাড়ে। তাদের অনেকেই মাদক সেবন, চাঁদাবাজি এবং অস্ত্রের কারবারের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আরেক বাসিন্দা জানান, প্রায় দুই দশক ধরে কলোনিতে বসবাস করলেও বহিরাগতদের অবাধ যাতায়াত বন্ধ হয়নি। তাদের প্রভাবে অনেক স্থানীয় তরুণ-তরুণীও বিপথে গেছে বলে তার অভিযোগ।
মতিঝিলের বিভিন্ন সড়ক সিসিটিভির আওতায় থাকলেও এজিবি কলোনিতে সেই সুবিধা নেই। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে অপরাধীরা নির্বিঘ্নে অবস্থান করে বলে অভিযোগ ব্যবসায়ীদের। মতিঝিলের এক রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী নাজমুল হাসান বলেন, চাঁদাবাজরা দিনের বেলায় কলোনিতে অবস্থান নেয়, রাতে বিভিন্ন এলাকায় অপরাধ সংঘটনের পর আবার সেখানেই ফিরে যায়। পুলিশ অভিযান চালালেও পরে তাদের খুঁজে পাওয়া যায় না।
ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ বলেন, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকার পাশে এত বড় পরিত্যক্ত স্থাপনা নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তবে পুলিশ নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। তার মতে, জরাজীর্ণ ভবনের পরিবর্তে আধুনিক বহুতল ভবন নির্মাণ করা গেলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে। তিনি মিরপুরের পুনর্বিকাশ প্রকল্পের উদাহরণও তুলে ধরেন।
একই ধরনের পরিস্থিতি রয়েছে আজিমপুর সরকারি কলোনিতেও। ১৯৪৭ সালের পর সরকারি কর্মচারীদের আবাসনের জন্য নির্মিত এ কলোনির আয়তন প্রায় ৮৫ একর। এখানে মোট ১৪৯টি ভবন নির্মিত হয়েছিল। পরে কিছু পুরনো ভবন ভেঙে ২০ তলা আবাসিক ভবন নির্মাণ করা হলেও এখনো বেশ কয়েকটি পুরনো ও ফাঁকা ভবন অপরাধীদের আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে বাসিন্দারা জানান।
বাসিন্দাদের অভিযোগ, কলোনির বিভিন্ন নির্জন স্থানে বহিরাগত কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা নিয়মিত আড্ডা দেয়, মাদক সেবন করে এবং ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করে। এসব কারণে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন অনেক বাসিন্দা।
চাকরির প্রস্তুতির জন্য গত বছর আজিমপুর সরকারি কলোনিতে সাবলেট থাকতেন নুসরাত শাওন। তিনি জানান, বাসার গলিতে প্রায়ই বহিরাগত যুবকদের আড্ডা বসত। চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটেছে। নিরাপত্তাহীনতার কারণেই চলতি বছরের শুরুতে তিনি বাসা ছেড়ে দেন।
সাবেক আইজিপি আব্দুল কাইয়ুমের মতে, এজিবি কলোনির ভৌগোলিক অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চারপাশে মতিঝিলের ব্যাংকপাড়া, রাজারবাগ, গুলিস্তান ও কমলাপুর থাকায় অপরাধীরা সহজেই এসব এলাকায় অপরাধ করে কলোনির ভেতরে আত্মগোপন করতে পারে। তার ভাষায়, পুরনো সরকারি কলোনিগুলো এখন রাজধানীর নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
তিনি বলেন, শুধু অভিযান চালিয়ে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব নয়। স্থায়ী নজরদারি, গোয়েন্দা তৎপরতা, নিয়মিত টহল এবং কমিউনিটি পুলিশিং জোরদার করতে হবে, যাতে অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করা যায়।
এজিবি ও আজিমপুর সরকারি কলোনির অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী জানান, ১৯৫০-এর দশকে নির্মিত ভবনগুলোর কার্যকর আয়ুষ্কাল অনেক আগেই শেষ হয়েছে। ফলে বহু স্থাপনা এখন পরিত্যক্ত। তিনি বলেন, এজিবি কলোনির আল হেলাল ও আইডিয়াল জোনে নতুন আবাসন প্রকল্পের প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে রয়েছে। পাশাপাশি আজিমপুর সরকারি কলোনির পুরনো ভবন ভেঙে নতুন ২০ তলা ভবন নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এলাকার পরিবেশ ও নিরাপত্তা—দুই ক্ষেত্রেই ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ ওসমান গনি বলেন, প্রতিটি স্থাপনারই নির্দিষ্ট আয়ুষ্কাল রয়েছে। সময় পেরিয়ে গেলে সেগুলো পরিত্যক্ত হয়ে নানা ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি সৃষ্টি করে। তিনি জানান, পুরনো সরকারি কলোনিগুলোর পুনর্গঠন নিয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তর কাজ করছে এবং দ্রুতই এ সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিষয় : এজিবি কলোনি
2.png)
শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩১ জুলাই ২০২৬
রাত আটটার পর কমলাপুর থেকে মতিঝিলের দিকে হাঁটতে গিয়ে এজিবি কলোনির সামনে ছিনতাইকারীদের হামলার মুখে পড়ছেন অনেক পথচারী। স্থানীয়দের ভাষ্য, ছিনতাইয়ের পর অভিযুক্তরা দ্রুত কলোনির ভেতরে ঢুকে পড়ায় তাদের শনাক্ত বা গ্রেপ্তার করা কঠিন হয়ে পড়ে।
সরেজমিন পর্যবেক্ষণ, বাসিন্দাদের বক্তব্য এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, রাজধানীর এজিবি ও আজিমপুর সরকারি কলোনির বহু পুরনো ও জরাজীর্ণ ভবন, পরিত্যক্ত স্থাপনা এবং নির্জন এলাকা দীর্ঘদিন ধরে অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে। এসব জায়গা ব্যবহার করে ছিনতাইকারী, মাদক ও অস্ত্র কারবারি এবং সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর প্রভাব পড়ছে মতিঝিল, নিউমার্কেটসহ আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায়।
সম্প্রতি মতিঝিল এলাকায় বিভিন্ন অপরাধে আলোচনায় আসা তানিম রেজা ওরফে বাপ্পীকে ১৭ জুলাই গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অভিযোগ রয়েছে, পশুর হাটের ইজারা কেন্দ্রিক বিরোধ, চাঁদাবাজি ও গোলাগুলির মতো ঘটনায় তার নাম উঠে এসেছিল। স্থানীয়দের দাবি, এজিবি কলোনিতেই তার বেড়ে ওঠা এবং কিশোর গ্যাংয়ের সূচনা। মতিঝিলে ছিনতাই বা ডাকাতির পর সে ও তার সহযোগীরা প্রায়ই কলোনির ভেতরে আশ্রয় নিত। বিশাল এলাকা, অসংখ্য জরাজীর্ণ ভবন এবং নির্জন স্থানের কারণে সেখানে কাউকে খুঁজে পাওয়া কঠিন। একই সঙ্গে এসব স্থানে অস্ত্র লুকিয়ে রাখা এবং অপরাধীদের অবস্থান করাও সহজ। বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রায়ই রাতে ফাঁকা গুলির শব্দ শোনা যায়।
দেশভাগের পর সরকারি চাকরিজীবীদের আবাসনের জন্য প্রায় ২৮৪ বিঘা জমির ওপর মতিঝিলে নির্মিত হয় এজিবি কলোনি। অডিটর জেনারেলের কার্যালয়ের নাম অনুসারে এর নামকরণ করা হয়। কলোনিতে রয়েছে ১৬৫টি চারতলা ভবন, তিনটি ২০ তলা ভবন এবং হাসপাতাল, আল হেলাল ও আইডিয়াল—এই তিনটি জোন। এছাড়া রয়েছে নয়টি স্কুল, দুটি মাদরাসা ও দুটি কলেজ।
সম্প্রতি কলোনিতে গিয়ে দেখা যায়, প্রবেশপথে গেট থাকলেও সেটি সব সময় খোলা। সেখানে কোনো নিরাপত্তাকর্মীর উপস্থিতি ছিল না। প্রায় ৭৬ বছরের পুরনো সড়কগুলো ভাঙাচোরা, অনেক জায়গায় পানি জমে আছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থাও নাজুক। বহু ভবন বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। খোলা জায়গা ও ঝোপঝাড়ে কিশোরদের বিভিন্ন গ্রুপের আড্ডা চোখে পড়ে, যাদের অনেককে স্থানীয়রা কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য বলে দাবি করেন।
কলোনির প্রবীণ বাসিন্দা রহমত আলী বলেন, দিনের পাশাপাশি রাতেও বহিরাগত কিশোরদের আনাগোনা বাড়ে। তাদের অনেকেই মাদক সেবন, চাঁদাবাজি এবং অস্ত্রের কারবারের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আরেক বাসিন্দা জানান, প্রায় দুই দশক ধরে কলোনিতে বসবাস করলেও বহিরাগতদের অবাধ যাতায়াত বন্ধ হয়নি। তাদের প্রভাবে অনেক স্থানীয় তরুণ-তরুণীও বিপথে গেছে বলে তার অভিযোগ।
মতিঝিলের বিভিন্ন সড়ক সিসিটিভির আওতায় থাকলেও এজিবি কলোনিতে সেই সুবিধা নেই। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে অপরাধীরা নির্বিঘ্নে অবস্থান করে বলে অভিযোগ ব্যবসায়ীদের। মতিঝিলের এক রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী নাজমুল হাসান বলেন, চাঁদাবাজরা দিনের বেলায় কলোনিতে অবস্থান নেয়, রাতে বিভিন্ন এলাকায় অপরাধ সংঘটনের পর আবার সেখানেই ফিরে যায়। পুলিশ অভিযান চালালেও পরে তাদের খুঁজে পাওয়া যায় না।
ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ বলেন, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকার পাশে এত বড় পরিত্যক্ত স্থাপনা নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তবে পুলিশ নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। তার মতে, জরাজীর্ণ ভবনের পরিবর্তে আধুনিক বহুতল ভবন নির্মাণ করা গেলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে। তিনি মিরপুরের পুনর্বিকাশ প্রকল্পের উদাহরণও তুলে ধরেন।
একই ধরনের পরিস্থিতি রয়েছে আজিমপুর সরকারি কলোনিতেও। ১৯৪৭ সালের পর সরকারি কর্মচারীদের আবাসনের জন্য নির্মিত এ কলোনির আয়তন প্রায় ৮৫ একর। এখানে মোট ১৪৯টি ভবন নির্মিত হয়েছিল। পরে কিছু পুরনো ভবন ভেঙে ২০ তলা আবাসিক ভবন নির্মাণ করা হলেও এখনো বেশ কয়েকটি পুরনো ও ফাঁকা ভবন অপরাধীদের আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে বাসিন্দারা জানান।
বাসিন্দাদের অভিযোগ, কলোনির বিভিন্ন নির্জন স্থানে বহিরাগত কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা নিয়মিত আড্ডা দেয়, মাদক সেবন করে এবং ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করে। এসব কারণে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন অনেক বাসিন্দা।
চাকরির প্রস্তুতির জন্য গত বছর আজিমপুর সরকারি কলোনিতে সাবলেট থাকতেন নুসরাত শাওন। তিনি জানান, বাসার গলিতে প্রায়ই বহিরাগত যুবকদের আড্ডা বসত। চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটেছে। নিরাপত্তাহীনতার কারণেই চলতি বছরের শুরুতে তিনি বাসা ছেড়ে দেন।
সাবেক আইজিপি আব্দুল কাইয়ুমের মতে, এজিবি কলোনির ভৌগোলিক অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চারপাশে মতিঝিলের ব্যাংকপাড়া, রাজারবাগ, গুলিস্তান ও কমলাপুর থাকায় অপরাধীরা সহজেই এসব এলাকায় অপরাধ করে কলোনির ভেতরে আত্মগোপন করতে পারে। তার ভাষায়, পুরনো সরকারি কলোনিগুলো এখন রাজধানীর নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
তিনি বলেন, শুধু অভিযান চালিয়ে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব নয়। স্থায়ী নজরদারি, গোয়েন্দা তৎপরতা, নিয়মিত টহল এবং কমিউনিটি পুলিশিং জোরদার করতে হবে, যাতে অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করা যায়।
এজিবি ও আজিমপুর সরকারি কলোনির অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী জানান, ১৯৫০-এর দশকে নির্মিত ভবনগুলোর কার্যকর আয়ুষ্কাল অনেক আগেই শেষ হয়েছে। ফলে বহু স্থাপনা এখন পরিত্যক্ত। তিনি বলেন, এজিবি কলোনির আল হেলাল ও আইডিয়াল জোনে নতুন আবাসন প্রকল্পের প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে রয়েছে। পাশাপাশি আজিমপুর সরকারি কলোনির পুরনো ভবন ভেঙে নতুন ২০ তলা ভবন নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এলাকার পরিবেশ ও নিরাপত্তা—দুই ক্ষেত্রেই ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ ওসমান গনি বলেন, প্রতিটি স্থাপনারই নির্দিষ্ট আয়ুষ্কাল রয়েছে। সময় পেরিয়ে গেলে সেগুলো পরিত্যক্ত হয়ে নানা ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি সৃষ্টি করে। তিনি জানান, পুরনো সরকারি কলোনিগুলোর পুনর্গঠন নিয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তর কাজ করছে এবং দ্রুতই এ সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
2.png)