লোকাল ফোকাস
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির এক কৃষক পরিবারের ছেলে মোবারক হোসেন, যিনি ক্রিকেট অঙ্গনে ‘ডেভিড ইমন’ নামে পরিচিত ছিলেন, একসময় জাতীয় দলে খেলার স্বপ্ন দেখতেন। বাঁ-হাতি ‘চায়নাম্যান’ বোলার হিসেবে সম্ভাবনাময় এই ক্রিকেটারের পথচলা শেষ পর্যন্ত গড়িয়েছে চট্টগ্রামের অপরাধজগতে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তিনি নগরীর অন্যতম শীর্ষ সন্ত্রাসী এবং বিদেশে পলাতক সাজ্জাদ চক্রের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।
অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটার ডেভিড ওয়ার্নারের ভক্ত হওয়ায় নিজের নামের সঙ্গে ‘ডেভিড’ যুক্ত করেন ইমন। ক্রিকেটে ক্যারিয়ার গড়ার আশায় ২০১৭ সালের দিকে গ্রামের বাড়ি ছেড়ে চট্টগ্রামে এসে ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্রিকেট একাডেমিতে অনুশীলন শুরু করেন। বাঁ-হাতি রিস্ট স্পিনার হওয়ায় চট্টগ্রামে সফরে আসা দেশি-বিদেশি দলগুলোর নেট বোলার হিসেবেও সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি।
চট্টগ্রাম ব্রাদার্স ইউনিয়নের কোচ ও ঘরোয়া ক্রিকেটের পরিচিত মুখ মাসুম উদ দৌলা জানান, ইমন ছিলেন প্রতিভাবান অলরাউন্ডার। করোনা মহামারির আগে পর্যন্ত নিয়মিত অনুশীলন করলেও ২০২০ সালের পর হঠাৎ করেই ক্রিকেট অঙ্গন থেকে হারিয়ে যান।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, করোনা-পরবর্তী সময়ে তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। এরপর ধীরে ধীরে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আত্মগোপনে গিয়ে বায়েজীদ বোস্তামী এলাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসী ছোট সাজ্জাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তোলেন। পরে বিদেশে অবস্থানরত সাজ্জাদ আলী ওরফে শিবির সাজ্জাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে অপরাধচক্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে উঠে আসেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এই চক্র তিন স্তরের একটি অপরাধ কাঠামো গড়ে তোলে। বিদেশে থাকা গডফাদার অনলাইনে চাঁদাবাজি ও হামলার পরিকল্পনা দেন। দ্বিতীয় স্তরে থাকা সদস্যরা ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন সূত্র ব্যবহার করে ভুক্তভোগীদের তথ্য সংগ্রহ করেন। আর তৃতীয় স্তরে থাকা কিশোর গ্যাং ও ভাড়াটে সদস্যরা স্বল্প টাকার বিনিময়ে গুলি ছোড়া বা ভাঙচুর চালিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
২০২৫ সালের ৩০ মার্চ বাকলিয়া এলাকার জোড়া হত্যাকাণ্ডের পর ডেভিড ইমনের নাম আলোচনায় আসে। এরপর সরোয়ার বাবলা ও ঢাকাইয়া আকবর হত্যাসহ মোট সাতটি হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে হত্যা ও অস্ত্রসহ মোট ১৩টি মামলা রয়েছে। পুলিশের দাবি, তার কাছে ১৫ থেকে ২০টি ভারী আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে এবং অস্ত্র ব্যবহারে তিনি অত্যন্ত দক্ষ।
চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, ডেভিড ইমন চট্টগ্রামের দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসীদের একজন। বিদেশে পলাতক সাজ্জাদের অনুপস্থিতিতে তিনিই বাহিনীর নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। তাকে গ্রেপ্তারের পর বাহিনীর অন্য সদস্যদেরও আইনের আওতায় আনতে অভিযান চলছে।
এদিকে যশোর থেকে আটক হওয়ার পর ডেভিড ইমনকে চট্টগ্রামের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সায়মা আফরিনের আদালতে হাজির করা হয়। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে তিনটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ। আগামী সপ্তাহে এ বিষয়ে শুনানি হতে পারে।
সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী জানান, তিন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর পর আদালত তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন। অন্যদিকে ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আলম খান বলেন, একটি হত্যা মামলা ও দুটি অস্ত্র মামলায় ইমনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
বিষয় : ডেভিড ঈমন শীর্ষ সন্ত্রাসী
2.png)
শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩১ জুলাই ২০২৬
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির এক কৃষক পরিবারের ছেলে মোবারক হোসেন, যিনি ক্রিকেট অঙ্গনে ‘ডেভিড ইমন’ নামে পরিচিত ছিলেন, একসময় জাতীয় দলে খেলার স্বপ্ন দেখতেন। বাঁ-হাতি ‘চায়নাম্যান’ বোলার হিসেবে সম্ভাবনাময় এই ক্রিকেটারের পথচলা শেষ পর্যন্ত গড়িয়েছে চট্টগ্রামের অপরাধজগতে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তিনি নগরীর অন্যতম শীর্ষ সন্ত্রাসী এবং বিদেশে পলাতক সাজ্জাদ চক্রের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।
অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটার ডেভিড ওয়ার্নারের ভক্ত হওয়ায় নিজের নামের সঙ্গে ‘ডেভিড’ যুক্ত করেন ইমন। ক্রিকেটে ক্যারিয়ার গড়ার আশায় ২০১৭ সালের দিকে গ্রামের বাড়ি ছেড়ে চট্টগ্রামে এসে ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্রিকেট একাডেমিতে অনুশীলন শুরু করেন। বাঁ-হাতি রিস্ট স্পিনার হওয়ায় চট্টগ্রামে সফরে আসা দেশি-বিদেশি দলগুলোর নেট বোলার হিসেবেও সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি।
চট্টগ্রাম ব্রাদার্স ইউনিয়নের কোচ ও ঘরোয়া ক্রিকেটের পরিচিত মুখ মাসুম উদ দৌলা জানান, ইমন ছিলেন প্রতিভাবান অলরাউন্ডার। করোনা মহামারির আগে পর্যন্ত নিয়মিত অনুশীলন করলেও ২০২০ সালের পর হঠাৎ করেই ক্রিকেট অঙ্গন থেকে হারিয়ে যান।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, করোনা-পরবর্তী সময়ে তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। এরপর ধীরে ধীরে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আত্মগোপনে গিয়ে বায়েজীদ বোস্তামী এলাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসী ছোট সাজ্জাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তোলেন। পরে বিদেশে অবস্থানরত সাজ্জাদ আলী ওরফে শিবির সাজ্জাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে অপরাধচক্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে উঠে আসেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এই চক্র তিন স্তরের একটি অপরাধ কাঠামো গড়ে তোলে। বিদেশে থাকা গডফাদার অনলাইনে চাঁদাবাজি ও হামলার পরিকল্পনা দেন। দ্বিতীয় স্তরে থাকা সদস্যরা ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন সূত্র ব্যবহার করে ভুক্তভোগীদের তথ্য সংগ্রহ করেন। আর তৃতীয় স্তরে থাকা কিশোর গ্যাং ও ভাড়াটে সদস্যরা স্বল্প টাকার বিনিময়ে গুলি ছোড়া বা ভাঙচুর চালিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
২০২৫ সালের ৩০ মার্চ বাকলিয়া এলাকার জোড়া হত্যাকাণ্ডের পর ডেভিড ইমনের নাম আলোচনায় আসে। এরপর সরোয়ার বাবলা ও ঢাকাইয়া আকবর হত্যাসহ মোট সাতটি হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে হত্যা ও অস্ত্রসহ মোট ১৩টি মামলা রয়েছে। পুলিশের দাবি, তার কাছে ১৫ থেকে ২০টি ভারী আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে এবং অস্ত্র ব্যবহারে তিনি অত্যন্ত দক্ষ।
চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, ডেভিড ইমন চট্টগ্রামের দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসীদের একজন। বিদেশে পলাতক সাজ্জাদের অনুপস্থিতিতে তিনিই বাহিনীর নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। তাকে গ্রেপ্তারের পর বাহিনীর অন্য সদস্যদেরও আইনের আওতায় আনতে অভিযান চলছে।
এদিকে যশোর থেকে আটক হওয়ার পর ডেভিড ইমনকে চট্টগ্রামের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সায়মা আফরিনের আদালতে হাজির করা হয়। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে তিনটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ। আগামী সপ্তাহে এ বিষয়ে শুনানি হতে পারে।
সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী জানান, তিন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর পর আদালত তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন। অন্যদিকে ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আলম খান বলেন, একটি হত্যা মামলা ও দুটি অস্ত্র মামলায় ইমনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
2.png)