সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 আন্তর্জাতিকআন্তর্জাতিক

গাজায় হামাসকে নিরস্ত্রীকরণে সমঝোতার দাবী ট্রাম্পের, নতুন শান্তি উদ্যোগ

ট্রাম্পের দাবি, তাঁর উদ্যোগে হামাসসহ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ধাপে ধাপে নিরস্ত্রীকরণে সমঝোতা হয়েছে। তবে হামাস বলছে, ইসরায়েল প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করলে চুক্তির কোনো ধাপ কার্যকর হবে না।

গাজায় হামাসকে নিরস্ত্রীকরণে সমঝোতার দাবী ট্রাম্পের, নতুন শান্তি উদ্যোগ
ছবি -সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তাঁর উদ্যোগে গঠিত 'বোর্ড অব পিস' গাজায় হামাস এবং অন্যান্য ফিলিস্তিনি সশস্ত্র সংগঠনকে ধাপে ধাপে নিরস্ত্র করার বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতায় পৌঁছেছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এই উদ্যোগ শুধু নিরাপত্তা পরিস্থিতির পরিবর্তনই নয়, গাজার প্রশাসনিক কাঠামোতেও বড় ধরনের রূপান্তরের পথ খুলে দেবে।

বৃহস্পতিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, সমঝোতার ফলে গাজায় একটি নতুন ফিলিস্তিনি সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে। এই সরকার বোর্ড অব পিসের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে এবং একই সঙ্গে ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। তাঁর দাবি, ভবিষ্যতে গাজা আর কোনো সশস্ত্র হামলার ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হবে না।

যদিও হামাস এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কোনো বিবৃতি দেয়নি, আল জাজিরার হাতে পৌঁছানো একটি খসড়ায় হামাস ও অন্যান্য ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীর নীতিগত সম্মতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

হামাসের আলোচক দলের সদস্য গাজি হামাদ আল জাজিরাকে বলেন, ইসরায়েল যদি যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত বাস্তবায়ন না করে, তাহলে হামাসও সমঝোতার কোনো ধাপ কার্যকর করবে না। তাঁর মতে, নিরস্ত্রীকরণের প্রশ্নটি সরাসরি গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং পুনর্গঠন কার্যক্রমের অগ্রগতির সঙ্গে যুক্ত।

ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, এই নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া গত অক্টোবরে তাঁর মধ্যস্থতায় সম্পন্ন হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তিরই ধারাবাহিকতা। তিনি দাবি করেন, ওই চুক্তির মাধ্যমে গাজায় দীর্ঘদিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটে। তবে বাস্তবতা ভিন্ন চিত্রও তুলে ধরছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রের অভিযোগ, যুদ্ধবিরতির পরও ইসরায়েল একাধিকবার চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। নতুন করে শত শত ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, গাজার আরও এলাকা দখলে নেওয়া হয়েছে এবং মানবিক সহায়তা ও পণ্য পরিবহনের ওপর কড়াকড়ি বহাল রয়েছে। বৃহস্পতিবারের হামলাতেও দুই শিশুসহ অন্তত ছয় ফিলিস্তিনির প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, নিরস্ত্রীকরণ সম্পন্ন হলে ইসরায়েল গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে। এরপর সেখানে একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী মোতায়েন করা হবে, যারা নতুনভাবে গঠিত ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্ব পালন করবে।

ট্রাম্প আরও বলেন, চূড়ান্ত লক্ষ্য হচ্ছে গাজার প্রশাসনিক দায়িত্ব এমন একটি নতুন ফিলিস্তিনি সরকারের হাতে তুলে দেওয়া, যারা রাজনৈতিক সংঘাতের পরিবর্তে জনগণের সেবা ও পুনর্গঠনকে অগ্রাধিকার দেবে।

এদিকে গত সপ্তাহের শেষ দিক থেকে হামাসের শীর্ষ নেতারা কায়রোতে অবস্থান করছেন। সেখানে মিসর, কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি এবং পরবর্তী রাজনৈতিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে ধারাবাহিক আলোচনা চলছে। হামাসের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে এবং বেশ কয়েকটি বিষয়ে দুই পক্ষ কাছাকাছি অবস্থানে এসেছে।

এর আগে ৬ জুলাই হামাস গাজায় নিজেদের নেতৃত্বাধীন প্রশাসনিক সংস্থা বিলুপ্ত করার ঘোষণা দেয়। এর মাধ্যমে প্রায় দুই দশক ধরে চলা তাদের প্রশাসনিক শাসনের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে এবং নতুন রাজনৈতিক কাঠামো গঠনের পথ উন্মুক্ত হয়।

গাজি হামাদ স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, হামাসকে নিরস্ত্র করার প্রক্রিয়ায় ইসরায়েলের কোনো ভূমিকা থাকবে না। একটি জাতীয় কমিটি পুরো প্রক্রিয়ার তদারকি করবে। তিনি দাবি করেন, দীর্ঘ ও জটিল আলোচনার পরও ফিলিস্তিনি জনগণের জাতীয় অধিকার ও রাজনৈতিক অবস্থান থেকে হামাস কোনোভাবেই সরে আসেনি।

ওয়াশিংটন থেকে আল জাজিরার প্রতিনিধি অ্যালান ফিশারের তথ্য অনুযায়ী, পরিকল্পনা অনুসারে গাজার বিভিন্ন এলাকায় ধাপে ধাপে হামাস ও অন্যান্য সশস্ত্র সংগঠনের অস্ত্র জমা নেওয়া হবে। একই সময়ে নতুন ফিলিস্তিনি পুলিশ সদস্য নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও শুরু হবে। এই বাহিনী একটি আন্তর্জাতিক সমন্বয়কারী নিরাপত্তা কাঠামোর অধীনে কাজ করবে।

এই আন্তর্জাতিক বাহিনীতে কোন কোন দেশ থাকবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে আলোচনায় ইন্দোনেশিয়া ও তুরস্কের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনা চলছে। যদিও তুরস্কের ভূমিকা নিয়ে ইসরায়েলের আপত্তির বিষয়টিও কূটনৈতিক মহলে আলোচনায় রয়েছে।

সমঝোতার খসড়া অনুযায়ী, অস্ত্রের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত এবং বাস্তবায়নের সময়সূচি ১৪ দিনের মধ্যে নির্ধারণ করতে হবে। আন্তর্জাতিক যাচাই কমিশনের সম্মতিতে প্রয়োজনে এ সময়সীমা বাড়ানো যাবে।

তবে সব পক্ষকে একই অবস্থানে আনা এখনো সহজ হয়নি। অ্যালান ফিশারের মতে, হামাসকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে—চুক্তিতে সম্মতি না দিলে সংগঠনটির ওপর রাজনৈতিক ও আর্থিক চাপ আরও বাড়বে। তাঁর মূল্যায়ন, এই সমঝোতায় পৌঁছানোর পেছনে হামাসের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বোর্ড অব পিসে তুরস্ক ও কাতারকে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়ে শুরুতে ইসরায়েলের আপত্তি থাকলেও সাম্প্রতিক অগ্রগতি সেই সিদ্ধান্তের কার্যকারিতা প্রমাণ করেছে। তাঁর ভাষায়, নতুন উদ্যোগটি হামাস ও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রচলিত কাঠামোর বাইরে একটি প্রযুক্তিনির্ভর, অরাজনৈতিক প্রশাসনিক ব্যবস্থার ধারণা সামনে এনেছে, যার মূল লক্ষ্য হবে গাজার পুনর্গঠন, প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা এবং সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন।

বিষয় : ডোনাল্ড ট্রাম্প হামাস বোর্ড অব পিস

কাল মহাকাল

শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬


গাজায় হামাসকে নিরস্ত্রীকরণে সমঝোতার দাবী ট্রাম্পের, নতুন শান্তি উদ্যোগ

প্রকাশের তারিখ : ৩১ জুলাই ২০২৬

featured Image

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তাঁর উদ্যোগে গঠিত 'বোর্ড অব পিস' গাজায় হামাস এবং অন্যান্য ফিলিস্তিনি সশস্ত্র সংগঠনকে ধাপে ধাপে নিরস্ত্র করার বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতায় পৌঁছেছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এই উদ্যোগ শুধু নিরাপত্তা পরিস্থিতির পরিবর্তনই নয়, গাজার প্রশাসনিক কাঠামোতেও বড় ধরনের রূপান্তরের পথ খুলে দেবে।

বৃহস্পতিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, সমঝোতার ফলে গাজায় একটি নতুন ফিলিস্তিনি সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে। এই সরকার বোর্ড অব পিসের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে এবং একই সঙ্গে ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। তাঁর দাবি, ভবিষ্যতে গাজা আর কোনো সশস্ত্র হামলার ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হবে না।

যদিও হামাস এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কোনো বিবৃতি দেয়নি, আল জাজিরার হাতে পৌঁছানো একটি খসড়ায় হামাস ও অন্যান্য ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীর নীতিগত সম্মতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

হামাসের আলোচক দলের সদস্য গাজি হামাদ আল জাজিরাকে বলেন, ইসরায়েল যদি যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত বাস্তবায়ন না করে, তাহলে হামাসও সমঝোতার কোনো ধাপ কার্যকর করবে না। তাঁর মতে, নিরস্ত্রীকরণের প্রশ্নটি সরাসরি গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং পুনর্গঠন কার্যক্রমের অগ্রগতির সঙ্গে যুক্ত।

ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, এই নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া গত অক্টোবরে তাঁর মধ্যস্থতায় সম্পন্ন হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তিরই ধারাবাহিকতা। তিনি দাবি করেন, ওই চুক্তির মাধ্যমে গাজায় দীর্ঘদিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটে। তবে বাস্তবতা ভিন্ন চিত্রও তুলে ধরছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রের অভিযোগ, যুদ্ধবিরতির পরও ইসরায়েল একাধিকবার চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। নতুন করে শত শত ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, গাজার আরও এলাকা দখলে নেওয়া হয়েছে এবং মানবিক সহায়তা ও পণ্য পরিবহনের ওপর কড়াকড়ি বহাল রয়েছে। বৃহস্পতিবারের হামলাতেও দুই শিশুসহ অন্তত ছয় ফিলিস্তিনির প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, নিরস্ত্রীকরণ সম্পন্ন হলে ইসরায়েল গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে। এরপর সেখানে একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী মোতায়েন করা হবে, যারা নতুনভাবে গঠিত ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্ব পালন করবে।

ট্রাম্প আরও বলেন, চূড়ান্ত লক্ষ্য হচ্ছে গাজার প্রশাসনিক দায়িত্ব এমন একটি নতুন ফিলিস্তিনি সরকারের হাতে তুলে দেওয়া, যারা রাজনৈতিক সংঘাতের পরিবর্তে জনগণের সেবা ও পুনর্গঠনকে অগ্রাধিকার দেবে।

এদিকে গত সপ্তাহের শেষ দিক থেকে হামাসের শীর্ষ নেতারা কায়রোতে অবস্থান করছেন। সেখানে মিসর, কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি এবং পরবর্তী রাজনৈতিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে ধারাবাহিক আলোচনা চলছে। হামাসের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে এবং বেশ কয়েকটি বিষয়ে দুই পক্ষ কাছাকাছি অবস্থানে এসেছে।

এর আগে ৬ জুলাই হামাস গাজায় নিজেদের নেতৃত্বাধীন প্রশাসনিক সংস্থা বিলুপ্ত করার ঘোষণা দেয়। এর মাধ্যমে প্রায় দুই দশক ধরে চলা তাদের প্রশাসনিক শাসনের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে এবং নতুন রাজনৈতিক কাঠামো গঠনের পথ উন্মুক্ত হয়।

গাজি হামাদ স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, হামাসকে নিরস্ত্র করার প্রক্রিয়ায় ইসরায়েলের কোনো ভূমিকা থাকবে না। একটি জাতীয় কমিটি পুরো প্রক্রিয়ার তদারকি করবে। তিনি দাবি করেন, দীর্ঘ ও জটিল আলোচনার পরও ফিলিস্তিনি জনগণের জাতীয় অধিকার ও রাজনৈতিক অবস্থান থেকে হামাস কোনোভাবেই সরে আসেনি।

ওয়াশিংটন থেকে আল জাজিরার প্রতিনিধি অ্যালান ফিশারের তথ্য অনুযায়ী, পরিকল্পনা অনুসারে গাজার বিভিন্ন এলাকায় ধাপে ধাপে হামাস ও অন্যান্য সশস্ত্র সংগঠনের অস্ত্র জমা নেওয়া হবে। একই সময়ে নতুন ফিলিস্তিনি পুলিশ সদস্য নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও শুরু হবে। এই বাহিনী একটি আন্তর্জাতিক সমন্বয়কারী নিরাপত্তা কাঠামোর অধীনে কাজ করবে।

এই আন্তর্জাতিক বাহিনীতে কোন কোন দেশ থাকবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে আলোচনায় ইন্দোনেশিয়া ও তুরস্কের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনা চলছে। যদিও তুরস্কের ভূমিকা নিয়ে ইসরায়েলের আপত্তির বিষয়টিও কূটনৈতিক মহলে আলোচনায় রয়েছে।

সমঝোতার খসড়া অনুযায়ী, অস্ত্রের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত এবং বাস্তবায়নের সময়সূচি ১৪ দিনের মধ্যে নির্ধারণ করতে হবে। আন্তর্জাতিক যাচাই কমিশনের সম্মতিতে প্রয়োজনে এ সময়সীমা বাড়ানো যাবে।

তবে সব পক্ষকে একই অবস্থানে আনা এখনো সহজ হয়নি। অ্যালান ফিশারের মতে, হামাসকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে—চুক্তিতে সম্মতি না দিলে সংগঠনটির ওপর রাজনৈতিক ও আর্থিক চাপ আরও বাড়বে। তাঁর মূল্যায়ন, এই সমঝোতায় পৌঁছানোর পেছনে হামাসের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বোর্ড অব পিসে তুরস্ক ও কাতারকে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়ে শুরুতে ইসরায়েলের আপত্তি থাকলেও সাম্প্রতিক অগ্রগতি সেই সিদ্ধান্তের কার্যকারিতা প্রমাণ করেছে। তাঁর ভাষায়, নতুন উদ্যোগটি হামাস ও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রচলিত কাঠামোর বাইরে একটি প্রযুক্তিনির্ভর, অরাজনৈতিক প্রশাসনিক ব্যবস্থার ধারণা সামনে এনেছে, যার মূল লক্ষ্য হবে গাজার পুনর্গঠন, প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা এবং সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত