সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 জাতীয়জাতীয়

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: সিদ্ধান্তে সতর্ক বিএনপি, বৈঠক শনিবার

২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রার্থী নির্ধারণে শনিবার স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বসছে বিএনপি। আলোচনার পর দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমান চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছে দলীয় সূত্র।

সুমিত রায়হান
সুমিত রায়হান
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: সিদ্ধান্তে সতর্ক বিএনপি, বৈঠক শনিবার
ছবি -সংগৃহীত

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রার্থী চূড়ান্ত করতে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় এগোচ্ছে বিএনপি। এ লক্ষ্যে শনিবার দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা শেষে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।

নতুন রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা জল্পনা-কল্পনার মধ্যেই বৈঠকটি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। বিএনপির নেতারা বলছেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক এড়াতে দল অত্যন্ত সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। বৈঠকে স্থায়ী কমিটির সদস্যরা নিজেদের মতামত তুলে ধরবেন, এরপরই মনোনয়ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তবে দলীয় অভ্যন্তরে এ বিষয়ে ভিন্নমতও রয়েছে।

দলটির শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের মতে, অতীতের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, বর্তমান বাস্তবতা এবং দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টিভঙ্গি বিবেচনায় রেখেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে চান তারেক রহমান। এমন একজনকে মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যিনি রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য, সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে সক্ষম এবং বিতর্কমুক্ত ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত।

দলীয় সূত্র আরও জানায়, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি বা অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক সৃষ্টি হোক, তা বিএনপি চায় না। এ কারণে দায়িত্বশীল নেতাদেরও স্পর্শকাতর এ বিষয়ে সংযত বক্তব্য দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সিদ্ধান্ত দলীয় ফোরামে আলোচনার মাধ্যমেই নেওয়া হবে। স্থায়ী কমিটিই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। তিনি বলেন, সংবিধান ও গণতান্ত্রিক ধারার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে দেশের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকেই রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে দেখতে চায় বিএনপি।

একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। বিএনপির নেতাদের ভাষ্য, রাষ্ট্রপতির পদ কেবল আনুষ্ঠানিক নয়; রাজনৈতিক সংকটের সময় এ পদের গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। তাই এমন কাউকে নির্বাচন করা হবে, যার সততা, নিরপেক্ষতা ও সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন থাকবে না এবং যিনি দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে রাষ্ট্রের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেবেন।

দলীয় সূত্র অনুযায়ী, সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়াও স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আব্দুল মঈন খান এবং নজরুল ইসলাম খানের নাম রয়েছে। নতুন করে আলোচনায় এসেছে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের নামও। এছাড়া সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ, একজন সাবেক সচিব এবং রাজনীতির বাইরের কয়েকজন ব্যক্তির নামও বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে।

বিএনপির নেতারা বলছেন, রাষ্ট্রপতি মনোনয়নের ক্ষেত্রে একক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার পথ থেকে সরে থাকতে চায় দল। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এমন কাউকে দায়িত্বে আনার চিন্তা করা হচ্ছে না, যিনি প্রশাসনিক কার্যক্রমে জটিলতা সৃষ্টি করবেন বা বঙ্গভবনের সাংবিধানিক মর্যাদা রক্ষায় ব্যর্থ হবেন।

দলের এক ভাইস চেয়ারম্যানের ভাষ্য, নতুন রাষ্ট্রপতির এমন ব্যক্তিত্ব থাকা প্রয়োজন, যিনি রাজনৈতিক উত্তেজনা প্রশমনে ভূমিকা রাখতে পারবেন এবং রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখবেন। আরেক নেতা বলেন, দলীয় আনুগত্য বিবেচনায় থাকলেও যোগ্যতা, সততা ও জাতীয় গ্রহণযোগ্যতাকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে।

গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতির পদ থেকে মো. সাহাবুদ্দিন সরে দাঁড়ানোর পর জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।

বিএনপি সূত্র জানায়, দলের ৩১ দফা বা ঘোষিত জুলাই সনদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদের উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষের যৌথ ভোটের যে প্রস্তাব ছিল, তা এবার কার্যকর হচ্ছে না। ফলে বিদ্যমান সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের মনোনীত প্রার্থী নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি। সংসদে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত প্রার্থীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাও জোরালো।

বিষয় : বিএনপি রাষ্ট্রপতি নির্বাচন

কাল মহাকাল

শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬


রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: সিদ্ধান্তে সতর্ক বিএনপি, বৈঠক শনিবার

প্রকাশের তারিখ : ৩১ জুলাই ২০২৬

featured Image

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রার্থী চূড়ান্ত করতে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় এগোচ্ছে বিএনপি। এ লক্ষ্যে শনিবার দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা শেষে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।

নতুন রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা জল্পনা-কল্পনার মধ্যেই বৈঠকটি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। বিএনপির নেতারা বলছেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক এড়াতে দল অত্যন্ত সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। বৈঠকে স্থায়ী কমিটির সদস্যরা নিজেদের মতামত তুলে ধরবেন, এরপরই মনোনয়ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তবে দলীয় অভ্যন্তরে এ বিষয়ে ভিন্নমতও রয়েছে।

দলটির শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের মতে, অতীতের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, বর্তমান বাস্তবতা এবং দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টিভঙ্গি বিবেচনায় রেখেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে চান তারেক রহমান। এমন একজনকে মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যিনি রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য, সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে সক্ষম এবং বিতর্কমুক্ত ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত।

দলীয় সূত্র আরও জানায়, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি বা অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক সৃষ্টি হোক, তা বিএনপি চায় না। এ কারণে দায়িত্বশীল নেতাদেরও স্পর্শকাতর এ বিষয়ে সংযত বক্তব্য দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সিদ্ধান্ত দলীয় ফোরামে আলোচনার মাধ্যমেই নেওয়া হবে। স্থায়ী কমিটিই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। তিনি বলেন, সংবিধান ও গণতান্ত্রিক ধারার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে দেশের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকেই রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে দেখতে চায় বিএনপি।

একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। বিএনপির নেতাদের ভাষ্য, রাষ্ট্রপতির পদ কেবল আনুষ্ঠানিক নয়; রাজনৈতিক সংকটের সময় এ পদের গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। তাই এমন কাউকে নির্বাচন করা হবে, যার সততা, নিরপেক্ষতা ও সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন থাকবে না এবং যিনি দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে রাষ্ট্রের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেবেন।

দলীয় সূত্র অনুযায়ী, সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়াও স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আব্দুল মঈন খান এবং নজরুল ইসলাম খানের নাম রয়েছে। নতুন করে আলোচনায় এসেছে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের নামও। এছাড়া সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ, একজন সাবেক সচিব এবং রাজনীতির বাইরের কয়েকজন ব্যক্তির নামও বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে।

বিএনপির নেতারা বলছেন, রাষ্ট্রপতি মনোনয়নের ক্ষেত্রে একক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার পথ থেকে সরে থাকতে চায় দল। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এমন কাউকে দায়িত্বে আনার চিন্তা করা হচ্ছে না, যিনি প্রশাসনিক কার্যক্রমে জটিলতা সৃষ্টি করবেন বা বঙ্গভবনের সাংবিধানিক মর্যাদা রক্ষায় ব্যর্থ হবেন।

দলের এক ভাইস চেয়ারম্যানের ভাষ্য, নতুন রাষ্ট্রপতির এমন ব্যক্তিত্ব থাকা প্রয়োজন, যিনি রাজনৈতিক উত্তেজনা প্রশমনে ভূমিকা রাখতে পারবেন এবং রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখবেন। আরেক নেতা বলেন, দলীয় আনুগত্য বিবেচনায় থাকলেও যোগ্যতা, সততা ও জাতীয় গ্রহণযোগ্যতাকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে।

গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতির পদ থেকে মো. সাহাবুদ্দিন সরে দাঁড়ানোর পর জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।

বিএনপি সূত্র জানায়, দলের ৩১ দফা বা ঘোষিত জুলাই সনদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদের উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষের যৌথ ভোটের যে প্রস্তাব ছিল, তা এবার কার্যকর হচ্ছে না। ফলে বিদ্যমান সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের মনোনীত প্রার্থী নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি। সংসদে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত প্রার্থীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাও জোরালো।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত