সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 জাতীয়জাতীয়

ভারতীয় পরিচয়পত্র দেখিয়েও বাংলাদেশে পুশইনের অভিযোগ

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা বলে দাবি করা শাহিদা ফকির অভিযোগ করেছেন, পরিচয়পত্র ও ঠিকানার তথ্য থাকা সত্ত্বেও যাচাই ছাড়াই তাকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি সাতক্ষীরার কলারোয়ার একটি পরিবারের আশ্রয়ে রয়েছেন।

জাকারিয়া ইমাম
জাকারিয়া ইমাম
ভারতীয় পরিচয়পত্র দেখিয়েও বাংলাদেশে পুশইনের অভিযোগ
ছবি -সংগৃহীত

প্রয়োজনীয় পরিচয়পত্র ও ভারতীয় ঠিকানার তথ্য থাকা সত্ত্বেও তা যাচাই না করেই এক নারীকে বাংলাদেশে পুশইন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শাহিদা ফকির নামের ওই নারী নিজেকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বাসিন্দা বলে দাবি করেছেন। বর্তমানে তিনি সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার সোনাবাড়িয়া ইউনিয়নের ভাদিয়ালি গ্রামের একটি পরিবারের আশ্রয়ে রয়েছেন।

শাহিদার অভিযোগ, মুম্বাই থেকে তাকে আটক করে প্রথমে একটি ডিটেনশন ক্যাম্পে রাখা হয়। পরে বিমানে করে আসাম সীমান্তে নেওয়ার পর জোরপূর্বক বাংলাদেশে প্রবেশ করিয়ে দেওয়া হয়।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় দুই দশক ধরে তিনি পরিবারের সঙ্গে ভারতের মুম্বাইয়ে বসবাস করছিলেন। গত ১৮ জুলাই রাতে বাজার থেকে সবজি ও রুটি কিনে বাড়ি ফেরার পথে সিআইডি পরিচয়ে ৪ থেকে ৫ জন ব্যক্তি তাকে আটক করেন। এ সময় তার মোবাইল ফোন নিয়ে নেওয়া হয়। তিনি সঙ্গে থাকা ভারতীয় পরিচয়পত্র ও অন্যান্য কাগজপত্র দেখাতে চাইলেও সেগুলো গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন।

শাহিদা জানান, তাকে মুম্বাইয়ের চেম্বুর ডিটেনশন ক্যাম্পে চার দিন রাখা হয়। পরিবারের সদস্যরা প্রয়োজনীয় নথিপত্র নিয়ে সেখানে গেলেও সেগুলো বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। পরে তাকে বিমানে করে আসাম সীমান্তে নেওয়া হয় এবং কয়েকজনের একটি দলের সঙ্গে বাংলাদেশ সীমান্তে ঠেলে দেওয়া হয়। সীমান্ত অতিক্রমের পর দলটি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে তিনি অসুস্থ ও অসহায় অবস্থায় বেনাপোল এলাকায় পৌঁছান।

তিনি আরও জানান, তার স্থায়ী বাড়ি পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বসিরহাট মহকুমার গোবিন্দপুর গ্রামে। এক মাস আগে শ্বশুরের মৃত্যুর খবর পেয়ে তার স্বামী মুম্বাই থেকে নিজ গ্রামে ফিরে যান। বর্তমানে তার ২৩ ও ১৪ বছর বয়সী দুই সন্তান ভারতে রয়েছে।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে শাহিদা বলেন, “আমি ভারতের নাগরিক। গুগলে আমার গ্রামের নাম খুঁজলেই ঠিকানা পাওয়া যাবে। আমার দুই সন্তান ভারতে আছে। আমাকে আমার দেশে ফিরিয়ে দিন।”

ভাদিয়ালি গ্রামের বাসিন্দা আরিফা বেগম জানান, তার স্বামী আবুল বাশার ভারত থেকে চিকিৎসা শেষে ফেরার পথে বেনাপোলে শাহিদাকে অসহায় অবস্থায় দেখতে পান। তার শরীরে কাদা-মাটি লেগে ছিল, জামাকাপড় ছিল ছেঁড়া এবং হাত-পা ফুলে গিয়েছিল। মানবিক বিবেচনায় তারা তাকে বাড়িতে এনে আশ্রয় দেন। গত পাঁচ দিন ধরে তিনি তাদের বাড়িতেই অবস্থান করছেন।

আরিফা বেগম বলেন, ইতোমধ্যে ঢাকা থেকে কয়েকজন সাংবাদিক এসে শাহিদার সঙ্গে কথা বলেছেন। সরকারি ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে ভারতে ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও তারা জানিয়েছেন।

সোনাবাড়িয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ইকবাল হোসেন বলেন, ঘটনাটি সত্য। তবে ওই নারী স্থানীয় সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেননি। ধারণা করা হচ্ছে, অন্য কোনো সীমান্ত এলাকা দিয়ে তাকে পুশইন করা হয়েছে।

সোনাবাড়িয়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নাজমা বেগম বলেন, বিষয়টি আগে তার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ এম শাহীন জানান, সাংবাদিকদের মাধ্যমে তিনি বিষয়টি জেনেছেন। বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


বিষয় : পুশইন শাহিদা সাতক্ষীরার কলারোয়া

কাল মহাকাল

শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬


ভারতীয় পরিচয়পত্র দেখিয়েও বাংলাদেশে পুশইনের অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ৩১ জুলাই ২০২৬

featured Image

প্রয়োজনীয় পরিচয়পত্র ও ভারতীয় ঠিকানার তথ্য থাকা সত্ত্বেও তা যাচাই না করেই এক নারীকে বাংলাদেশে পুশইন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শাহিদা ফকির নামের ওই নারী নিজেকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বাসিন্দা বলে দাবি করেছেন। বর্তমানে তিনি সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার সোনাবাড়িয়া ইউনিয়নের ভাদিয়ালি গ্রামের একটি পরিবারের আশ্রয়ে রয়েছেন।

শাহিদার অভিযোগ, মুম্বাই থেকে তাকে আটক করে প্রথমে একটি ডিটেনশন ক্যাম্পে রাখা হয়। পরে বিমানে করে আসাম সীমান্তে নেওয়ার পর জোরপূর্বক বাংলাদেশে প্রবেশ করিয়ে দেওয়া হয়।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় দুই দশক ধরে তিনি পরিবারের সঙ্গে ভারতের মুম্বাইয়ে বসবাস করছিলেন। গত ১৮ জুলাই রাতে বাজার থেকে সবজি ও রুটি কিনে বাড়ি ফেরার পথে সিআইডি পরিচয়ে ৪ থেকে ৫ জন ব্যক্তি তাকে আটক করেন। এ সময় তার মোবাইল ফোন নিয়ে নেওয়া হয়। তিনি সঙ্গে থাকা ভারতীয় পরিচয়পত্র ও অন্যান্য কাগজপত্র দেখাতে চাইলেও সেগুলো গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন।

শাহিদা জানান, তাকে মুম্বাইয়ের চেম্বুর ডিটেনশন ক্যাম্পে চার দিন রাখা হয়। পরিবারের সদস্যরা প্রয়োজনীয় নথিপত্র নিয়ে সেখানে গেলেও সেগুলো বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। পরে তাকে বিমানে করে আসাম সীমান্তে নেওয়া হয় এবং কয়েকজনের একটি দলের সঙ্গে বাংলাদেশ সীমান্তে ঠেলে দেওয়া হয়। সীমান্ত অতিক্রমের পর দলটি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে তিনি অসুস্থ ও অসহায় অবস্থায় বেনাপোল এলাকায় পৌঁছান।

তিনি আরও জানান, তার স্থায়ী বাড়ি পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বসিরহাট মহকুমার গোবিন্দপুর গ্রামে। এক মাস আগে শ্বশুরের মৃত্যুর খবর পেয়ে তার স্বামী মুম্বাই থেকে নিজ গ্রামে ফিরে যান। বর্তমানে তার ২৩ ও ১৪ বছর বয়সী দুই সন্তান ভারতে রয়েছে।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে শাহিদা বলেন, “আমি ভারতের নাগরিক। গুগলে আমার গ্রামের নাম খুঁজলেই ঠিকানা পাওয়া যাবে। আমার দুই সন্তান ভারতে আছে। আমাকে আমার দেশে ফিরিয়ে দিন।”

ভাদিয়ালি গ্রামের বাসিন্দা আরিফা বেগম জানান, তার স্বামী আবুল বাশার ভারত থেকে চিকিৎসা শেষে ফেরার পথে বেনাপোলে শাহিদাকে অসহায় অবস্থায় দেখতে পান। তার শরীরে কাদা-মাটি লেগে ছিল, জামাকাপড় ছিল ছেঁড়া এবং হাত-পা ফুলে গিয়েছিল। মানবিক বিবেচনায় তারা তাকে বাড়িতে এনে আশ্রয় দেন। গত পাঁচ দিন ধরে তিনি তাদের বাড়িতেই অবস্থান করছেন।

আরিফা বেগম বলেন, ইতোমধ্যে ঢাকা থেকে কয়েকজন সাংবাদিক এসে শাহিদার সঙ্গে কথা বলেছেন। সরকারি ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে ভারতে ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও তারা জানিয়েছেন।

সোনাবাড়িয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ইকবাল হোসেন বলেন, ঘটনাটি সত্য। তবে ওই নারী স্থানীয় সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেননি। ধারণা করা হচ্ছে, অন্য কোনো সীমান্ত এলাকা দিয়ে তাকে পুশইন করা হয়েছে।

সোনাবাড়িয়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নাজমা বেগম বলেন, বিষয়টি আগে তার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ এম শাহীন জানান, সাংবাদিকদের মাধ্যমে তিনি বিষয়টি জেনেছেন। বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত