রাজনীতি
হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে হামলায় গুরুতর আহত জাতীয় ছাত্রশক্তির নবীগঞ্জ উপজেলা কমিটির সংগঠক আলিফ চৌধুরীর ক্ষতিগ্রস্ত চোখে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। তবে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, চোখের মারাত্মক ক্ষতির কারণে ওই চোখে দৃষ্টিশক্তি ফিরে আসার সম্ভাবনা কার্যত নেই।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে তার অস্ত্রোপচার করা হয়।
অস্ত্রোপচারের পর হাসপাতালের ডিউটি চিকিৎসক ডা. সামিয়া নুজহাত জানান, অপারেশনের প্রায় আধা ঘণ্টা পর আলিফের জ্ঞান ফিরে আসে। বর্তমানে তার রক্তচাপ, পালস ও অক্সিজেন স্যাচুরেশনসহ গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক সূচক স্বাভাবিক রয়েছে। অস্ত্রোপচারের পর স্বাভাবিক ব্যথা থাকলেও তা নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, আলিফ নিশ্চিতভাবে বলতে পারেননি কী ধরনের বস্তুর আঘাতে তিনি আহত হয়েছেন। তবে ধারণা করা হচ্ছে, ইট বা পাথরের মতো শক্ত কোনো বস্তু চোখে আঘাত করে। এতে চোখের গোলক ফেটে ভেতরের অংশ বাইরে বেরিয়ে আসে। একই সঙ্গে ওপরের ও নিচের চোখের পাতা এবং চোখের পানি নাকে বহনকারী ল্যাক্রিমাল ডাক্টও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
অস্ত্রোপচারে চোখের গোলক, চোখের পাতা এবং ক্ষতিগ্রস্ত নালী মেরামতের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে চিকিৎসকদের মতে, এত গুরুতর আঘাতের পর চোখের স্বাভাবিক গঠন পুরোপুরি ফিরিয়ে আনা সম্ভব নাও হতে পারে। ক্ষত ভালোভাবে শুকালেও দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ।
এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও ন্যাশনাল হেলথ অ্যালায়েন্সের সদস্যসচিব ডা. আবদুল আহাদ জানান, সিলেটে প্রাথমিক পরীক্ষাতেই আক্রান্ত চোখে 'নো পারসেপশন অব লাইট (এনপিএল)' পাওয়া যায়। অর্থাৎ ওই চোখে আলো অনুভব করার ক্ষমতাও ছিল না। তাই শুরু থেকেই চিকিৎসকদের ধারণা ছিল, দৃষ্টিশক্তি পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে না।
তিনি বলেন, অস্ত্রোপচারের মূল লক্ষ্য ছিল সংক্রমণ যাতে অন্য চোখ বা আশপাশের টিস্যুতে ছড়িয়ে না পড়ে, পাশাপাশি চোখের বাহ্যিক গঠন যতটা সম্ভব অক্ষুণ্ন রাখা।
চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, আলিফের অপর চোখের দৃষ্টিশক্তি বর্তমানে ৬/৯, যেখানে স্বাভাবিক মান ৬/৬। আঘাতের কারণে সাময়িকভাবে কিছুটা ঝাপসা দেখলেও সেটি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ার আশা রয়েছে। তার চিকিৎসার জন্য একটি বিশেষজ্ঞ মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে।
চিকিৎসকেরা আরও জানান, সিটি স্ক্যানে ক্ষতিগ্রস্ত চোখের ভেতরে রক্ত জমাট বাঁধার পাশাপাশি রেটিনা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অংশ সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হওয়ার প্রমাণ মিলেছে। এ ধরনের আঘাতে চিকিৎসার সুযোগ খুবই সীমিত। এমনকি বিদেশে নেওয়া হলেও দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বলেই তাদের মত।
গত মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) হবিগঞ্জ টাউন হলের সামনে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ ও সমাবেশ শেষে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে। এ হামলার জন্য এনসিপি ক্ষমতাসীন বিএনপিকে দায়ী করেছে। পরে শহরে প্রতিবাদ মিছিলকে কেন্দ্র করে আবারও সংঘর্ষ হয়। এতে এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমসহ কয়েকজন আহত হন। গুরুতর আহতদের মধ্যে ছিলেন ছাত্রনেতা আলিফ চৌধুরী।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে আলিফ একজন। তার বাবা দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ এবং মা মানসিক রোগে ভুগছেন। তিনি হবিগঞ্জের একটি স্থানীয় স্কুল অ্যান্ড কলেজে ইন্টারমিডিয়েট দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।
2.png)
শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুলাই ২০২৬
হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে হামলায় গুরুতর আহত জাতীয় ছাত্রশক্তির নবীগঞ্জ উপজেলা কমিটির সংগঠক আলিফ চৌধুরীর ক্ষতিগ্রস্ত চোখে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। তবে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, চোখের মারাত্মক ক্ষতির কারণে ওই চোখে দৃষ্টিশক্তি ফিরে আসার সম্ভাবনা কার্যত নেই।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে তার অস্ত্রোপচার করা হয়।
অস্ত্রোপচারের পর হাসপাতালের ডিউটি চিকিৎসক ডা. সামিয়া নুজহাত জানান, অপারেশনের প্রায় আধা ঘণ্টা পর আলিফের জ্ঞান ফিরে আসে। বর্তমানে তার রক্তচাপ, পালস ও অক্সিজেন স্যাচুরেশনসহ গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক সূচক স্বাভাবিক রয়েছে। অস্ত্রোপচারের পর স্বাভাবিক ব্যথা থাকলেও তা নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, আলিফ নিশ্চিতভাবে বলতে পারেননি কী ধরনের বস্তুর আঘাতে তিনি আহত হয়েছেন। তবে ধারণা করা হচ্ছে, ইট বা পাথরের মতো শক্ত কোনো বস্তু চোখে আঘাত করে। এতে চোখের গোলক ফেটে ভেতরের অংশ বাইরে বেরিয়ে আসে। একই সঙ্গে ওপরের ও নিচের চোখের পাতা এবং চোখের পানি নাকে বহনকারী ল্যাক্রিমাল ডাক্টও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
অস্ত্রোপচারে চোখের গোলক, চোখের পাতা এবং ক্ষতিগ্রস্ত নালী মেরামতের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে চিকিৎসকদের মতে, এত গুরুতর আঘাতের পর চোখের স্বাভাবিক গঠন পুরোপুরি ফিরিয়ে আনা সম্ভব নাও হতে পারে। ক্ষত ভালোভাবে শুকালেও দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ।
এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও ন্যাশনাল হেলথ অ্যালায়েন্সের সদস্যসচিব ডা. আবদুল আহাদ জানান, সিলেটে প্রাথমিক পরীক্ষাতেই আক্রান্ত চোখে 'নো পারসেপশন অব লাইট (এনপিএল)' পাওয়া যায়। অর্থাৎ ওই চোখে আলো অনুভব করার ক্ষমতাও ছিল না। তাই শুরু থেকেই চিকিৎসকদের ধারণা ছিল, দৃষ্টিশক্তি পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে না।
তিনি বলেন, অস্ত্রোপচারের মূল লক্ষ্য ছিল সংক্রমণ যাতে অন্য চোখ বা আশপাশের টিস্যুতে ছড়িয়ে না পড়ে, পাশাপাশি চোখের বাহ্যিক গঠন যতটা সম্ভব অক্ষুণ্ন রাখা।
চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, আলিফের অপর চোখের দৃষ্টিশক্তি বর্তমানে ৬/৯, যেখানে স্বাভাবিক মান ৬/৬। আঘাতের কারণে সাময়িকভাবে কিছুটা ঝাপসা দেখলেও সেটি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ার আশা রয়েছে। তার চিকিৎসার জন্য একটি বিশেষজ্ঞ মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে।
চিকিৎসকেরা আরও জানান, সিটি স্ক্যানে ক্ষতিগ্রস্ত চোখের ভেতরে রক্ত জমাট বাঁধার পাশাপাশি রেটিনা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অংশ সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হওয়ার প্রমাণ মিলেছে। এ ধরনের আঘাতে চিকিৎসার সুযোগ খুবই সীমিত। এমনকি বিদেশে নেওয়া হলেও দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বলেই তাদের মত।
গত মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) হবিগঞ্জ টাউন হলের সামনে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ ও সমাবেশ শেষে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে। এ হামলার জন্য এনসিপি ক্ষমতাসীন বিএনপিকে দায়ী করেছে। পরে শহরে প্রতিবাদ মিছিলকে কেন্দ্র করে আবারও সংঘর্ষ হয়। এতে এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমসহ কয়েকজন আহত হন। গুরুতর আহতদের মধ্যে ছিলেন ছাত্রনেতা আলিফ চৌধুরী।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে আলিফ একজন। তার বাবা দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ এবং মা মানসিক রোগে ভুগছেন। তিনি হবিগঞ্জের একটি স্থানীয় স্কুল অ্যান্ড কলেজে ইন্টারমিডিয়েট দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।
2.png)