সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 ইরান যুদ্ধইরান যুদ্ধ

ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাতভর বিমান হামলা, উত্তেজনা চরমে

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের দাবি, ইরানের সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করেই অভিযান চালানো হয়েছে। বুশেহর, খুজেস্তান ও হরমোজগানসহ বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের খবর মিললেও ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের পূর্ণ চিত্র এখনো স্পষ্ট নয়।

সুবাস সোম
সুবাস সোম
ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাতভর বিমান হামলা, উত্তেজনা চরমে
ছবি -সংগৃহীত

ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনাকে লক্ষ্য করে রাতভর ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানি বাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টার জবাব হিসেবে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। হামলার পর দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের একাধিক প্রদেশ ও দ্বীপে ধারাবাহিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে ইরানি গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আইআরআইবি এবং প্রেস টিভির তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন সময় বুধবার রাত থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে বুশেহর, খুজেস্তান, হরমোজগান ও ফার্স প্রদেশের বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। বিশেষ করে বুশেহর প্রদেশে, যেখানে ইরানের একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র অবস্থিত, সেখানে শক্তিশালী বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। তবে পারমাণবিক স্থাপনাটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না বা কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

খুজেস্তান প্রদেশের স্থানীয় প্রশাসনের বরাতে আইআরআইবি জানিয়েছে, আবাদানের কয়েকটি নির্দিষ্ট স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা হয়েছে। একই সময় আহভাজ শহরের অন্তত সাতটি স্থানে হামলার খবর পাওয়া গেছে। বিস্ফোরণের পর শহরের কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহও ব্যাহত হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। এছাড়া শাদেগান ও আরভান্দকেনার এলাকাতেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

হরমোজগান প্রদেশের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী বান্দর আব্বাস, কেশম, কিশ ও আবু মুসা দ্বীপেও বিস্ফোরণের খবর নিশ্চিত করেছে স্থানীয় গণমাধ্যম। তাসনিম সংবাদ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, কেশম দ্বীপের একটি আবাসিক এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে অন্তত তিনটি বিস্ফোরণ ঘটে। পরে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জানায়, ক্ষতিগ্রস্ত একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে দুজন আটকা পড়েছেন। তাদের উদ্ধারে জরুরি তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে।

অন্যদিকে, কিশ দ্বীপে দুটি বড় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটলেও স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, বিমানবন্দর ও ফেরি চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সচল আছে।

ফার্স প্রদেশের কাজরুন শহরের উপকণ্ঠেও মার্কিন বাহিনীর হামলার তথ্য প্রকাশ করেছে তাসনিম। তবে সেখানে হতাহতের বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, অভিযানে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর কয়েক ডজন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে। এসব লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে সামরিক কমান্ড সেন্টার, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ঘাঁটি, উপকূলীয় নজরদারি ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং সামুদ্রিক সক্ষমতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাও রয়েছে।

সেন্টকমের দাবি, অভিযানের উদ্দেশ্য ছিল মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন বাহিনী, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌপথ এবং উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোর নিরাপত্তার প্রতি ইরান ও তার মিত্র গোষ্ঠীগুলোর সম্ভাব্য হুমকি কমিয়ে আনা।

সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলায় ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের পূর্ণাঙ্গ চিত্র এখনো প্রকাশিত হয়নি। ইরানি কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি মূল্যায়ন করছে এবং বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার ও তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

বিষয় : ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের ভয়াবহ হামলা

কাল মহাকাল

বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬


ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাতভর বিমান হামলা, উত্তেজনা চরমে

প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুলাই ২০২৬

featured Image

ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনাকে লক্ষ্য করে রাতভর ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানি বাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টার জবাব হিসেবে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। হামলার পর দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের একাধিক প্রদেশ ও দ্বীপে ধারাবাহিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে ইরানি গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আইআরআইবি এবং প্রেস টিভির তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন সময় বুধবার রাত থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে বুশেহর, খুজেস্তান, হরমোজগান ও ফার্স প্রদেশের বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। বিশেষ করে বুশেহর প্রদেশে, যেখানে ইরানের একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র অবস্থিত, সেখানে শক্তিশালী বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। তবে পারমাণবিক স্থাপনাটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না বা কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

খুজেস্তান প্রদেশের স্থানীয় প্রশাসনের বরাতে আইআরআইবি জানিয়েছে, আবাদানের কয়েকটি নির্দিষ্ট স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা হয়েছে। একই সময় আহভাজ শহরের অন্তত সাতটি স্থানে হামলার খবর পাওয়া গেছে। বিস্ফোরণের পর শহরের কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহও ব্যাহত হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। এছাড়া শাদেগান ও আরভান্দকেনার এলাকাতেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

হরমোজগান প্রদেশের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী বান্দর আব্বাস, কেশম, কিশ ও আবু মুসা দ্বীপেও বিস্ফোরণের খবর নিশ্চিত করেছে স্থানীয় গণমাধ্যম। তাসনিম সংবাদ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, কেশম দ্বীপের একটি আবাসিক এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে অন্তত তিনটি বিস্ফোরণ ঘটে। পরে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জানায়, ক্ষতিগ্রস্ত একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে দুজন আটকা পড়েছেন। তাদের উদ্ধারে জরুরি তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে।

অন্যদিকে, কিশ দ্বীপে দুটি বড় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটলেও স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, বিমানবন্দর ও ফেরি চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সচল আছে।

ফার্স প্রদেশের কাজরুন শহরের উপকণ্ঠেও মার্কিন বাহিনীর হামলার তথ্য প্রকাশ করেছে তাসনিম। তবে সেখানে হতাহতের বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, অভিযানে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর কয়েক ডজন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে। এসব লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে সামরিক কমান্ড সেন্টার, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ঘাঁটি, উপকূলীয় নজরদারি ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং সামুদ্রিক সক্ষমতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাও রয়েছে।

সেন্টকমের দাবি, অভিযানের উদ্দেশ্য ছিল মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন বাহিনী, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌপথ এবং উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোর নিরাপত্তার প্রতি ইরান ও তার মিত্র গোষ্ঠীগুলোর সম্ভাব্য হুমকি কমিয়ে আনা।

সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলায় ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের পূর্ণাঙ্গ চিত্র এখনো প্রকাশিত হয়নি। ইরানি কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি মূল্যায়ন করছে এবং বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার ও তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত