রাজনীতি
বাংলাদেশের রাজনীতিতে স্পষ্টভাষী হলেও বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য সবচেয়ে বেশি আলোচিত নেতাদের একজন ছিলেন সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। বিশেষ করে ২০১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে দেওয়া কয়েকটি বক্তব্য তাকে জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসে। ওই ঘটনার পরপরই মন্ত্রিসভা থেকে তাকে অপসারণ করা হয়, পরে আওয়ামী লীগ থেকেও বহিষ্কার করা হয়।
পরবর্তীকালে ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও সেই মেয়াদ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতন এবং সংসদ বিলুপ্ত হওয়ার মাধ্যমে তার সংসদ সদস্যপদেরও অবসান ঘটে।
২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় লতিফ সিদ্দিকী হজ ও তাবলিগ জামাত সম্পর্কে একাধিক মন্তব্য করেন, যা দেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়। সে সময় তিনি বলেন, হজ পালনে বিপুল জনশক্তি ও অর্থ ব্যয় হলেও এর উৎপাদনশীল কোনো অবদান নেই। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক মানুষ সৌদি আরবে গিয়ে কর্মঘণ্টা হারাচ্ছেন এবং দেশের অর্থ ব্যয় করছেন।
বাংলাদেশ থেকে হজযাত্রীদের ব্যয়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, গড়ে এক লাখ মানুষ হজে গেলে প্রত্যেকে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ব্যয় করেন, ফলে মোট ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৫০০ কোটি টাকা।
একই অনুষ্ঠানে তাবলিগ জামাত নিয়েও কঠোর সমালোচনা করেন তিনি। তার অভিযোগ ছিল, প্রতিবছর বড় জমায়েতের কারণে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয় এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ে।
শুধু ধর্মীয় বিষয় নয়, ওই অনুষ্ঠানে তথ্যপ্রযুক্তি খাত নিয়েও আলোচনার সময় সজীব ওয়াজেদ জয়কে নিয়ে করা এক প্রশ্নে বিরক্তি প্রকাশ করেন লতিফ সিদ্দিকী। তিনি বলেন, সরকার পরিচালনার দায়িত্ব মন্ত্রীদের, তাই সরকারি সিদ্ধান্তের সঙ্গে জয়ের নাম বারবার যুক্ত করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।
টেলিভিশনের টক শো নিয়েও কটাক্ষ করতে দেখা যায় তাকে। টক শোতে অংশ নেওয়া বিশ্লেষকদের উদ্দেশে তিনি অবমাননাকর মন্তব্য করেন এবং দাবি করেন, তাদের বাস্তব কোনো কাজ নেই, শুধু ক্যামেরার সামনে আলোচনা করাই তাদের কাজ।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গেও একাধিকবার উত্তেজিত আচরণ করেন সাবেক এই মন্ত্রী। প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে তিনি একজন সাংবাদিককে ধমক দিয়ে বলেন, তিনি নিজের মতো করেই কথা বলবেন এবং সাংবাদিককে সেখানে আসার কারণ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্দেশেও তিনি বিতর্কিত মন্তব্য করেন। বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হওয়ার প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই অনুষ্ঠানে টাঙ্গাইলের মুক্তিযোদ্ধা ও যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ড. নুরুন্নবীর কাছ থেকে নির্বাচনী অনুদান নেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে তিনি রসাত্মক ভঙ্গিতে বলেন, তিনি এক লাখ টাকার কম চাঁদা নেন না।
হজসংক্রান্ত বক্তব্য প্রকাশের পর দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে আওয়ামী লীগ সরকার। পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে মন্ত্রিসভা থেকে অপসারণ করা হয়। পরে আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকেও তাকে বহিষ্কার করা হয়। রাজনৈতিক চাপের মুখে তিনি সংসদ সদস্যপদও ছেড়ে দেন। এরপর দীর্ঘ সময় মূলধারার দলীয় রাজনীতির বাইরে থাকলেও ২০২৪ সালের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আবার সংসদে ফেরেন। তবে ওই বছরের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তার সেই সংসদীয় অধ্যায়েরও সমাপ্তি ঘটে।
2.png)
বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ জুলাই ২০২৬
বাংলাদেশের রাজনীতিতে স্পষ্টভাষী হলেও বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য সবচেয়ে বেশি আলোচিত নেতাদের একজন ছিলেন সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। বিশেষ করে ২০১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে দেওয়া কয়েকটি বক্তব্য তাকে জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসে। ওই ঘটনার পরপরই মন্ত্রিসভা থেকে তাকে অপসারণ করা হয়, পরে আওয়ামী লীগ থেকেও বহিষ্কার করা হয়।
পরবর্তীকালে ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও সেই মেয়াদ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতন এবং সংসদ বিলুপ্ত হওয়ার মাধ্যমে তার সংসদ সদস্যপদেরও অবসান ঘটে।
২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় লতিফ সিদ্দিকী হজ ও তাবলিগ জামাত সম্পর্কে একাধিক মন্তব্য করেন, যা দেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়। সে সময় তিনি বলেন, হজ পালনে বিপুল জনশক্তি ও অর্থ ব্যয় হলেও এর উৎপাদনশীল কোনো অবদান নেই। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক মানুষ সৌদি আরবে গিয়ে কর্মঘণ্টা হারাচ্ছেন এবং দেশের অর্থ ব্যয় করছেন।
বাংলাদেশ থেকে হজযাত্রীদের ব্যয়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, গড়ে এক লাখ মানুষ হজে গেলে প্রত্যেকে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ব্যয় করেন, ফলে মোট ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৫০০ কোটি টাকা।
একই অনুষ্ঠানে তাবলিগ জামাত নিয়েও কঠোর সমালোচনা করেন তিনি। তার অভিযোগ ছিল, প্রতিবছর বড় জমায়েতের কারণে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয় এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ে।
শুধু ধর্মীয় বিষয় নয়, ওই অনুষ্ঠানে তথ্যপ্রযুক্তি খাত নিয়েও আলোচনার সময় সজীব ওয়াজেদ জয়কে নিয়ে করা এক প্রশ্নে বিরক্তি প্রকাশ করেন লতিফ সিদ্দিকী। তিনি বলেন, সরকার পরিচালনার দায়িত্ব মন্ত্রীদের, তাই সরকারি সিদ্ধান্তের সঙ্গে জয়ের নাম বারবার যুক্ত করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।
টেলিভিশনের টক শো নিয়েও কটাক্ষ করতে দেখা যায় তাকে। টক শোতে অংশ নেওয়া বিশ্লেষকদের উদ্দেশে তিনি অবমাননাকর মন্তব্য করেন এবং দাবি করেন, তাদের বাস্তব কোনো কাজ নেই, শুধু ক্যামেরার সামনে আলোচনা করাই তাদের কাজ।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গেও একাধিকবার উত্তেজিত আচরণ করেন সাবেক এই মন্ত্রী। প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে তিনি একজন সাংবাদিককে ধমক দিয়ে বলেন, তিনি নিজের মতো করেই কথা বলবেন এবং সাংবাদিককে সেখানে আসার কারণ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্দেশেও তিনি বিতর্কিত মন্তব্য করেন। বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হওয়ার প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই অনুষ্ঠানে টাঙ্গাইলের মুক্তিযোদ্ধা ও যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ড. নুরুন্নবীর কাছ থেকে নির্বাচনী অনুদান নেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে তিনি রসাত্মক ভঙ্গিতে বলেন, তিনি এক লাখ টাকার কম চাঁদা নেন না।
হজসংক্রান্ত বক্তব্য প্রকাশের পর দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে আওয়ামী লীগ সরকার। পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে মন্ত্রিসভা থেকে অপসারণ করা হয়। পরে আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকেও তাকে বহিষ্কার করা হয়। রাজনৈতিক চাপের মুখে তিনি সংসদ সদস্যপদও ছেড়ে দেন। এরপর দীর্ঘ সময় মূলধারার দলীয় রাজনীতির বাইরে থাকলেও ২০২৪ সালের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আবার সংসদে ফেরেন। তবে ওই বছরের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তার সেই সংসদীয় অধ্যায়েরও সমাপ্তি ঘটে।
2.png)