রাজনীতি
হবিগঞ্জে কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহরে হামলার ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার (৩০ জুলাই) সারা দেশে বিক্ষোভ সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। মঙ্গলবার রাতে দলের পক্ষ থেকে জারি করা জরুরি সাংগঠনিক নির্দেশনায় মহানগর, জেলা, উপজেলা ও থানা পর্যায়ের সব সাংগঠনিক ইউনিটকে নিজ নিজ এলাকায় প্রতিবাদ কর্মসূচি আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দলের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, হবিগঞ্জে অনুষ্ঠিত শান্তিপূর্ণ ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি শেষে মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম এবং মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর গাড়িবহরে হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব ইউনিটকে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নিতে এবং নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেলে হবিগঞ্জ শহরে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সারজিস আলমসহ অন্যরা অংশ নেন। সমাবেশ শেষে নেতাদের গাড়িবহর সার্কিট হাউসের দিকে রওনা দিলে স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় তাদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হামলার মুখে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর গাড়ি দ্রুত সার্কিট হাউসে পৌঁছে যায়। পরে পেছনে থাকা সারজিস আলমের গাড়িও ধাওয়ার মুখে পড়ে। একপর্যায়ে তাঁর গাড়ি শহরের সোনালী ব্যাংক ভবনের সামনে আশ্রয় নেয়। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে রাতের দিকে তাঁকে নিরাপদে সার্কিট হাউসে নিয়ে যান।
এনসিপির অভিযোগ, হামলার জন্য ক্ষমতাসীন বিএনপির নেতা-কর্মীরা দায়ী। দলের দাবি, পুলিশের উপস্থিতিতেই তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এমনকি মিডিয়া টিম বহনকারী একটি মাইক্রোবাসে ভাঙচুর, সাংবাদিকদের ক্যামেরা ও মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটে।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করেন, হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের একদল নেতা-কর্মী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে পুলিশ ও র্যাবের সদস্যরা উপস্থিত থাকলেও হামলা ঠেকাতে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এতে দলের মিডিয়া টিমের সদস্য, চালক এবং স্থানীয় কয়েকজন নেতা-কর্মী গুরুতর আহত হন; কারও কারও হাত-পা ভেঙে যাওয়ারও দাবি করেন তিনি।
হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শহরে এনসিপি ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১৫ জন আহত হন এবং কিছু সময়ের জন্য শহরের প্রধান সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
অন্যদিকে হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এনসিপির সমাবেশে দেওয়া উসকানিমূলক বক্তব্যের কারণে নেতা-কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। সেই পরিস্থিতি থেকেই অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় বলে তাঁর দাবি।
2.png)
বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ জুলাই ২০২৬
হবিগঞ্জে কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহরে হামলার ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার (৩০ জুলাই) সারা দেশে বিক্ষোভ সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। মঙ্গলবার রাতে দলের পক্ষ থেকে জারি করা জরুরি সাংগঠনিক নির্দেশনায় মহানগর, জেলা, উপজেলা ও থানা পর্যায়ের সব সাংগঠনিক ইউনিটকে নিজ নিজ এলাকায় প্রতিবাদ কর্মসূচি আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দলের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, হবিগঞ্জে অনুষ্ঠিত শান্তিপূর্ণ ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি শেষে মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম এবং মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর গাড়িবহরে হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব ইউনিটকে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নিতে এবং নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেলে হবিগঞ্জ শহরে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সারজিস আলমসহ অন্যরা অংশ নেন। সমাবেশ শেষে নেতাদের গাড়িবহর সার্কিট হাউসের দিকে রওনা দিলে স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় তাদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হামলার মুখে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর গাড়ি দ্রুত সার্কিট হাউসে পৌঁছে যায়। পরে পেছনে থাকা সারজিস আলমের গাড়িও ধাওয়ার মুখে পড়ে। একপর্যায়ে তাঁর গাড়ি শহরের সোনালী ব্যাংক ভবনের সামনে আশ্রয় নেয়। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে রাতের দিকে তাঁকে নিরাপদে সার্কিট হাউসে নিয়ে যান।
এনসিপির অভিযোগ, হামলার জন্য ক্ষমতাসীন বিএনপির নেতা-কর্মীরা দায়ী। দলের দাবি, পুলিশের উপস্থিতিতেই তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এমনকি মিডিয়া টিম বহনকারী একটি মাইক্রোবাসে ভাঙচুর, সাংবাদিকদের ক্যামেরা ও মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটে।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করেন, হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের একদল নেতা-কর্মী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে পুলিশ ও র্যাবের সদস্যরা উপস্থিত থাকলেও হামলা ঠেকাতে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এতে দলের মিডিয়া টিমের সদস্য, চালক এবং স্থানীয় কয়েকজন নেতা-কর্মী গুরুতর আহত হন; কারও কারও হাত-পা ভেঙে যাওয়ারও দাবি করেন তিনি।
হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শহরে এনসিপি ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১৫ জন আহত হন এবং কিছু সময়ের জন্য শহরের প্রধান সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
অন্যদিকে হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এনসিপির সমাবেশে দেওয়া উসকানিমূলক বক্তব্যের কারণে নেতা-কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। সেই পরিস্থিতি থেকেই অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় বলে তাঁর দাবি।
2.png)