রাজনীতি
রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে আস্থাহীন বা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত কোনো ব্যক্তি যাতে না থাকেন, সে লক্ষ্যেই নতুন করে প্রশাসনিক মূল্যায়ন শুরু করেছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার। সরকারের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রের দাবি, ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রাথমিক পর্যায়ে পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখার কৌশল নেওয়া হলেও এখন প্রশাসন ও রাষ্ট্রযন্ত্রে আরও সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, ভবিষ্যতে এমন কোনো কর্মকর্তা বা ব্যক্তি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকবেন না, যাদের নিয়ে সরকারের আস্থার সংকট রয়েছে বা যাদের কর্মকাণ্ড রাষ্ট্রের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হয়। বিশেষ করে সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ ও পদায়নের ক্ষেত্রে অতীত ভূমিকা, নিরপেক্ষতা এবং বিশ্বাসযোগ্যতাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সরকারের অভ্যন্তরীণ পর্যবেক্ষণে আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ থাকা বা পূর্ববর্তী সরকারের সুবিধাভোগী হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিদের কর্মকাণ্ডও নজরদারির আওতায় রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে প্রতিটি বিষয় যাচাই-বাছাই ও তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ইতোমধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। এর আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ও সচিব, জেলা প্রশাসক, চুক্তিভিত্তিক কর্মকর্তা এবং পুলিশ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।
সরকারি সূত্রের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগও এই বৃহত্তর মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। একই সঙ্গে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সম্ভাব্য রাজনৈতিক তৎপরতা এবং রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের আশঙ্কাও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো।
নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেও অতীত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার কথা বলছেন সরকারের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা। বিএনপির আগের শাসনামলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে যে রাজনৈতিক জটিলতা সৃষ্টি হয়েছিল, তা বিবেচনায় রেখে এবার অভিজ্ঞ, বিচক্ষণ এবং দলের নীতি-আদর্শের প্রতি আস্থাশীল কাউকে মনোনয়নের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।
সরকারের নজর কেবল দেশের অভ্যন্তরেই সীমাবদ্ধ নয়। সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের বিভিন্ন মন্তব্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিশ্লেষণ এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনের আলোচনা নিয়েও পর্যবেক্ষণ চলছে।
একই সময়ে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে দেওয়া বক্তব্য, আগস্ট মাসকে ঘিরে সম্ভাব্য রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং সাম্প্রতিক নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলোও সরকারের নজরদারির মধ্যে রয়েছে। রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের কয়েক ঘণ্টা পর রাজধানীর একটি মেট্রো স্টেশনের নিচ থেকে বিস্ফোরকসদৃশ বস্তু উদ্ধারের ঘটনাসহ বিভিন্ন ঘটনার মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, দল প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। তবে তদন্তে কেউ রাষ্ট্রের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে প্রমাণিত হলে তাকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রাখা হবে না। তার মতে, রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা রক্ষার স্বার্থে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পরিবর্তন একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।
দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক গবেষক আলতাফ পারভেজের মতে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নতুন সরকার সাধারণত নিজেদের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেয়। তার ভাষায়, গণ-অভ্যুত্থান ও নির্বাচন-পরবর্তী বাস্তবতায় পূর্ববর্তী শাসনব্যবস্থার প্রতিনিধিদের একইভাবে গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল রাখা বাস্তবসম্মত নয়। একই সঙ্গে তিনি মনে করেন, রাষ্ট্রপতি পদটি প্রতীকী হলেও রাষ্ট্রের সাংবিধানিক কাঠামোতে এর গুরুত্ব বিবেচনায় সরকার এ পদে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে।
বিষয় : সরকার
2.png)
রোববার, ২৬ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ জুলাই ২০২৬
রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে আস্থাহীন বা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত কোনো ব্যক্তি যাতে না থাকেন, সে লক্ষ্যেই নতুন করে প্রশাসনিক মূল্যায়ন শুরু করেছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার। সরকারের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রের দাবি, ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রাথমিক পর্যায়ে পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখার কৌশল নেওয়া হলেও এখন প্রশাসন ও রাষ্ট্রযন্ত্রে আরও সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, ভবিষ্যতে এমন কোনো কর্মকর্তা বা ব্যক্তি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকবেন না, যাদের নিয়ে সরকারের আস্থার সংকট রয়েছে বা যাদের কর্মকাণ্ড রাষ্ট্রের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হয়। বিশেষ করে সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ ও পদায়নের ক্ষেত্রে অতীত ভূমিকা, নিরপেক্ষতা এবং বিশ্বাসযোগ্যতাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সরকারের অভ্যন্তরীণ পর্যবেক্ষণে আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ থাকা বা পূর্ববর্তী সরকারের সুবিধাভোগী হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিদের কর্মকাণ্ডও নজরদারির আওতায় রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে প্রতিটি বিষয় যাচাই-বাছাই ও তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ইতোমধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। এর আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ও সচিব, জেলা প্রশাসক, চুক্তিভিত্তিক কর্মকর্তা এবং পুলিশ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।
সরকারি সূত্রের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগও এই বৃহত্তর মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। একই সঙ্গে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সম্ভাব্য রাজনৈতিক তৎপরতা এবং রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের আশঙ্কাও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো।
নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেও অতীত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার কথা বলছেন সরকারের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা। বিএনপির আগের শাসনামলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে যে রাজনৈতিক জটিলতা সৃষ্টি হয়েছিল, তা বিবেচনায় রেখে এবার অভিজ্ঞ, বিচক্ষণ এবং দলের নীতি-আদর্শের প্রতি আস্থাশীল কাউকে মনোনয়নের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।
সরকারের নজর কেবল দেশের অভ্যন্তরেই সীমাবদ্ধ নয়। সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের বিভিন্ন মন্তব্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিশ্লেষণ এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনের আলোচনা নিয়েও পর্যবেক্ষণ চলছে।
একই সময়ে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে দেওয়া বক্তব্য, আগস্ট মাসকে ঘিরে সম্ভাব্য রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং সাম্প্রতিক নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলোও সরকারের নজরদারির মধ্যে রয়েছে। রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের কয়েক ঘণ্টা পর রাজধানীর একটি মেট্রো স্টেশনের নিচ থেকে বিস্ফোরকসদৃশ বস্তু উদ্ধারের ঘটনাসহ বিভিন্ন ঘটনার মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, দল প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। তবে তদন্তে কেউ রাষ্ট্রের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে প্রমাণিত হলে তাকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রাখা হবে না। তার মতে, রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা রক্ষার স্বার্থে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পরিবর্তন একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।
দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক গবেষক আলতাফ পারভেজের মতে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নতুন সরকার সাধারণত নিজেদের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেয়। তার ভাষায়, গণ-অভ্যুত্থান ও নির্বাচন-পরবর্তী বাস্তবতায় পূর্ববর্তী শাসনব্যবস্থার প্রতিনিধিদের একইভাবে গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল রাখা বাস্তবসম্মত নয়। একই সঙ্গে তিনি মনে করেন, রাষ্ট্রপতি পদটি প্রতীকী হলেও রাষ্ট্রের সাংবিধানিক কাঠামোতে এর গুরুত্ব বিবেচনায় সরকার এ পদে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে।
2.png)