বানিজ্য
যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় একক রপ্তানি বাজার। পাল্টা শুল্ক আরোপের পরও সদ্য সমাপ্ত ২০২৫–২৬ অর্থবছরে দেশটিতে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি বেড়েছে। এ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে ৯০৪ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের ৮৬৯ কোটি ডলারের তুলনায় প্রায় ৪ শতাংশ বেশি।
বাংলাদেশের যুক্তরাষ্ট্রমুখী রপ্তানির প্রায় ৮৫ শতাংশই তৈরি পোশাক। এই বাজারে দেশের প্রধান প্রতিযোগী ভিয়েতনাম, চীন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, কম্বোডিয়া, মেক্সিকো, পাকিস্তান ও হন্ডুরাস।
মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর (ইউএসটিআর) জানিয়েছে, বাংলাদেশসহ ১৭টি দেশের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ আমদানি শুল্ক বহাল থাকবে। এই তালিকায় রয়েছে ভারত, কম্বোডিয়া, কানাডা, ইন্দোনেশিয়া, মেক্সিকো, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, যুক্তরাজ্য, আর্জেন্টিনা, মালয়েশিয়া, জর্ডান, হন্ডুরাস, এল সালভাদর, গুয়াতেমালা, ইকুয়েডর এবং ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগো।
অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, তাইওয়ান, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও সুইজারল্যান্ড থেকে আমদানি করা পণ্যের ক্ষেত্রে ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া চীন, ভিয়েতনাম, তুরস্ক, ব্রাজিল ও মিসরসহ আরও ৩৮টি দেশের পণ্যের ওপর ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
রপ্তানিকারকদের মতে, বাংলাদেশের জন্য আপাতত স্বস্তির বিষয় হলো—প্রধান প্রতিযোগী দেশগুলোর ওপরও বাড়তি শুল্ক আরোপ করা হচ্ছে। ফলে প্রতিযোগিতার ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তনের আশঙ্কা কম।
বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের মূল প্রতিযোগী দেশগুলোর ওপরও প্রায় একই ধরনের অতিরিক্ত শুল্ক কার্যকর থাকায় রপ্তানিতে নতুন করে বড় কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তিনি মনে করেন না। তবে পাল্টা শুল্ক কার্যকরের পর গত বছর বাজারটিতে পোশাকের চাহিদা কিছুটা কমে গিয়েছিল। শুল্ক তুলে নেওয়া হলে চাহিদা বাড়বে বলে আশা করা হয়েছিল, কিন্তু আপাতত সেই সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা যথাযথভাবে কার্যকর না করার অভিযোগে বাংলাদেশের ওপর এই শুল্ক আরোপকে তারা অন্যায্য ও অযৌক্তিক মনে করেন। ইউএসটিআরের তদন্ত শুরুর পর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় শিল্পমালিকদের সঙ্গে আলোচনা করলেও শেষ পর্যন্ত শুনানির অগ্রগতি বা ফলাফল সম্পর্কে তাদের কিছু জানানো হয়নি।
এদিকে শুল্কসংক্রান্ত অনিশ্চয়তা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। গত ১২ মার্চ ইউএসটিআর বাংলাদেশসহ ৬০টি দেশের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে, যেখানে পণ্য উৎপাদনে জোরপূর্বক শ্রম বন্ধে দেশগুলো পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিয়েছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে।
এর আগে উৎপাদন খাতে অতিরিক্ত সক্ষমতা ও অতিরিক্ত উৎপাদনের অভিযোগ তদন্তে বাংলাদেশসহ ১৬টি দেশের বিরুদ্ধে পৃথক অনুসন্ধান শুরু করে সংস্থাটি। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে তৈরি পোশাক ও সিমেন্ট শিল্পের উৎপাদন সক্ষমতা নিয়ে তদন্ত চলছে। সংশ্লিষ্ট শুনানি ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে এবং শিগগিরই এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ হতে পারে।
বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, শেষ পর্যন্ত প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের ওপর যদি বেশি শুল্ক আরোপ করা হয়, তাহলে রপ্তানিকারকেরা বড় চ্যালেঞ্জে পড়বেন। তবে শুল্কহার সমান থাকলে উদ্বেগের তেমন কারণ নেই। তিনি জানান, পাল্টা শুল্ক কার্যকর না থাকলেও মার্কিন ক্রেতারা এখনো সেই সম্ভাব্য শুল্কের হিসাব ধরেই পোশাকের দাম নিয়ে দর-কষাকষি করছেন। কারণ, তাদের ধারণা ছিল, অন্য কোনো নীতির মাধ্যমে একই ধরনের শুল্ক আরোপ করা হতে পারে।
2.png)
শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ জুলাই ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় একক রপ্তানি বাজার। পাল্টা শুল্ক আরোপের পরও সদ্য সমাপ্ত ২০২৫–২৬ অর্থবছরে দেশটিতে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি বেড়েছে। এ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে ৯০৪ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের ৮৬৯ কোটি ডলারের তুলনায় প্রায় ৪ শতাংশ বেশি।
বাংলাদেশের যুক্তরাষ্ট্রমুখী রপ্তানির প্রায় ৮৫ শতাংশই তৈরি পোশাক। এই বাজারে দেশের প্রধান প্রতিযোগী ভিয়েতনাম, চীন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, কম্বোডিয়া, মেক্সিকো, পাকিস্তান ও হন্ডুরাস।
মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর (ইউএসটিআর) জানিয়েছে, বাংলাদেশসহ ১৭টি দেশের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ আমদানি শুল্ক বহাল থাকবে। এই তালিকায় রয়েছে ভারত, কম্বোডিয়া, কানাডা, ইন্দোনেশিয়া, মেক্সিকো, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, যুক্তরাজ্য, আর্জেন্টিনা, মালয়েশিয়া, জর্ডান, হন্ডুরাস, এল সালভাদর, গুয়াতেমালা, ইকুয়েডর এবং ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগো।
অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, তাইওয়ান, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও সুইজারল্যান্ড থেকে আমদানি করা পণ্যের ক্ষেত্রে ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া চীন, ভিয়েতনাম, তুরস্ক, ব্রাজিল ও মিসরসহ আরও ৩৮টি দেশের পণ্যের ওপর ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
রপ্তানিকারকদের মতে, বাংলাদেশের জন্য আপাতত স্বস্তির বিষয় হলো—প্রধান প্রতিযোগী দেশগুলোর ওপরও বাড়তি শুল্ক আরোপ করা হচ্ছে। ফলে প্রতিযোগিতার ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তনের আশঙ্কা কম।
বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের মূল প্রতিযোগী দেশগুলোর ওপরও প্রায় একই ধরনের অতিরিক্ত শুল্ক কার্যকর থাকায় রপ্তানিতে নতুন করে বড় কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তিনি মনে করেন না। তবে পাল্টা শুল্ক কার্যকরের পর গত বছর বাজারটিতে পোশাকের চাহিদা কিছুটা কমে গিয়েছিল। শুল্ক তুলে নেওয়া হলে চাহিদা বাড়বে বলে আশা করা হয়েছিল, কিন্তু আপাতত সেই সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা যথাযথভাবে কার্যকর না করার অভিযোগে বাংলাদেশের ওপর এই শুল্ক আরোপকে তারা অন্যায্য ও অযৌক্তিক মনে করেন। ইউএসটিআরের তদন্ত শুরুর পর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় শিল্পমালিকদের সঙ্গে আলোচনা করলেও শেষ পর্যন্ত শুনানির অগ্রগতি বা ফলাফল সম্পর্কে তাদের কিছু জানানো হয়নি।
এদিকে শুল্কসংক্রান্ত অনিশ্চয়তা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। গত ১২ মার্চ ইউএসটিআর বাংলাদেশসহ ৬০টি দেশের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে, যেখানে পণ্য উৎপাদনে জোরপূর্বক শ্রম বন্ধে দেশগুলো পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিয়েছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে।
এর আগে উৎপাদন খাতে অতিরিক্ত সক্ষমতা ও অতিরিক্ত উৎপাদনের অভিযোগ তদন্তে বাংলাদেশসহ ১৬টি দেশের বিরুদ্ধে পৃথক অনুসন্ধান শুরু করে সংস্থাটি। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে তৈরি পোশাক ও সিমেন্ট শিল্পের উৎপাদন সক্ষমতা নিয়ে তদন্ত চলছে। সংশ্লিষ্ট শুনানি ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে এবং শিগগিরই এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ হতে পারে।
বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, শেষ পর্যন্ত প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের ওপর যদি বেশি শুল্ক আরোপ করা হয়, তাহলে রপ্তানিকারকেরা বড় চ্যালেঞ্জে পড়বেন। তবে শুল্কহার সমান থাকলে উদ্বেগের তেমন কারণ নেই। তিনি জানান, পাল্টা শুল্ক কার্যকর না থাকলেও মার্কিন ক্রেতারা এখনো সেই সম্ভাব্য শুল্কের হিসাব ধরেই পোশাকের দাম নিয়ে দর-কষাকষি করছেন। কারণ, তাদের ধারণা ছিল, অন্য কোনো নীতির মাধ্যমে একই ধরনের শুল্ক আরোপ করা হতে পারে।
2.png)