সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 অর্থনীতিঅর্থনীতি

বিদেশি বিনিয়োগে গতি, নতুন শিল্পে আসছে শত কোটি ডলার

পোশাক, টেক্সটাইল, ভারী শিল্প, বিমা, খুচরা বিক্রি ও এভিয়েশন খাতে একের পর এক বিদেশি বিনিয়োগ বাস্তবায়নের পথে। বিডার দাবি, ১.৫ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ পাইপলাইনের এক-চতুর্থাংশের বেশি ইতোমধ্যে সিদ্ধান্ত ও বাস্তবায়ন পর্যায়ে পৌঁছেছে।

 বিদেশি বিনিয়োগে গতি, নতুন শিল্পে আসছে শত কোটি ডলার
ছবি -সংগৃহীত

বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের গতি বাড়াতে নেওয়া উদ্যোগের ইতিবাচক ফল মিলতে শুরু করেছে। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) জানিয়েছে, তাদের গড়ে তোলা ১.৫ বিলিয়ন ডলারের সম্ভাব্য বিনিয়োগ পাইপলাইনের মধ্যে ৪০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি প্রকল্প ইতোমধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও বাস্তবায়ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। এসব বিনিয়োগের মাধ্যমে পোশাক, টেক্সটাইল, ভারী শিল্প, বিমা, খুচরা ব্যবসা ও এভিয়েশনসহ বিভিন্ন খাতে নতুন কর্মসংস্থান ও প্রযুক্তি স্থানান্তরের সুযোগ তৈরি হবে।

সবচেয়ে বড় বিনিয়োগগুলোর একটি বাস্তবায়ন করছে চীনের একটি শিল্পগোষ্ঠী। প্রকল্পটি থেকে প্রায় ২৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রথম ধাপে মীরসরাই বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চলে ৮০ মিলিয়ন ডলারের পোশাক কারখানা স্থাপন করা হবে। পরবর্তী ধাপে কেরানীগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চলে ২২০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে সমন্বিত টেক্সটাইল ও পোশাক উৎপাদন কমপ্লেক্স গড়ে তোলা হবে।

চীনের হেনগলি গ্রুপ তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠান লিড বাংলাদেশ টেক্সটাইল টেকনোলজি কোম্পানি লিমিটেডের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে বাংলাদেশ স্পেশাল ইকোনমিক জোনে (বিএসইজেড) প্রায় ৩৫ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে। সেখানে অত্যাধুনিক টেক্সটাইল উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে।

বিডার তথ্য অনুযায়ী, এই প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো উন্নতমানের বস্ত্র উৎপাদন প্রযুক্তি ও আধুনিক স্বয়ংক্রিয় উৎপাদন ব্যবস্থা চালু হবে। এতে দেশীয় বস্ত্রশিল্পের মূল্য সংযোজন বাড়বে, বিদেশ থেকে উচ্চমানের কাপড় ও কাঁচামাল আমদানির ওপর নির্ভরতা কমবে এবং স্থানীয় কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

অন্যদিকে, চীনের চায়না লিসো গ্রুপ চট্টগ্রামের জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে ৩২ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে একটি ভারী শিল্প কারখানা স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থার ওপর ভিত্তি করে সেখানে পিভিসি ও পেক্স পাইপ, সৌর প্যানেল, স্যানিটারি সামগ্রী, রান্নাঘরের সরঞ্জাম, ক্যাবল, আলোকসজ্জা পণ্য এবং বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী উৎপাদন করা হবে।

আর্থিক খাতেও নতুন বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে। শ্রীলঙ্কার সফটলজিক লাইফ ইনস্যুরেন্স প্রায় ১.৯ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে ডায়মন্ড লাইফ ইনস্যুরেন্সের ৬০ শতাংশ শেয়ার কিনে নিয়েছে। বিডার ভাষ্য, এই বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশের বিমা খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ঝুঁকি মূল্যায়ন, ডিজিটাল বিমা সেবা এবং দ্রুত দাবি নিষ্পত্তির আধুনিক প্রযুক্তি চালু হবে।

খুচরা ব্যবসার ক্ষেত্রেও সম্প্রসারণ অব্যাহত রয়েছে। মালয়েশিয়ার এমআর. ডিআইওয়াই বিডা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রক সহায়তায় ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে ১৭টির বেশি মেগা-স্টোর চালু করেছে।

রপ্তানি বহুমুখীকরণের লক্ষ্যেও নতুন বিনিয়োগ এসেছে। বৈশ্বিক এয়ারক্রাফট উপাদান প্রস্তুতকারক মেগারিস বাংলাদেশে বিমান ও লাইফস্টাইল পণ্য উৎপাদনে ১৫ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে। তৈরি পোশাকের বাইরে নতুন রপ্তানি খাত গড়ে তোলার প্রচেষ্টায় এই বিনিয়োগকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

বিডার নির্বাহী সদস্য ও ব্যবসা উন্নয়ন বিভাগের প্রধান নাহিয়ান রহমান রোচি বলেন, বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট সামিট, বিদেশে রোডশো, বিভিন্ন প্রচারণা কার্যক্রম এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগের ফলেই এই বিনিয়োগ পাইপলাইন তৈরি হয়েছে।

তিনি জানান, সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের জন্য জমি নির্বাচন, নীতিগত সহায়তা, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে করসংক্রান্ত ব্যাখ্যা, বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয়ের জন্য বিডা আলাদা রিলেশনশিপ ম্যানেজার নিয়োগ করে থাকে।

রোচির ভাষায়, ১.৫ বিলিয়ন ডলারের সম্ভাব্য বিনিয়োগের মধ্যে ৪০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি ইতোমধ্যে বাস্তবায়নের পথে। এখন অবশিষ্ট ১.১ বিলিয়ন ডলারকে প্রকৃত বিনিয়োগে রূপ দেওয়াই সংস্থাটির প্রধান লক্ষ্য।

বিডা আরও জানিয়েছে, সম্ভাবনাময় খাত ও বিনিয়োগকারীদের চিহ্নিত করতে তারা ডেটাভিত্তিক সেক্টর ম্যাপিং ও স্কোরিং পদ্ধতি ব্যবহার করছে। পাশাপাশি ২০২৬ সালে আরও ১.৫ বিলিয়ন ডলারের নতুন বিনিয়োগ পাইপলাইন তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে বিনিয়োগ আকর্ষণের এ ধারা ধরে রাখতে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। তিনি বলেন, বিডার শুধু বিনিয়োগ প্রচারের সংস্থা না থেকে বিনিয়োগ সহায়তা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের উদ্যোগ ইতিবাচক। ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া সহজ করা, সেবা ডিজিটালাইজেশন এবং বিনিয়োগকারীদের ধারাবাহিক সহায়তা দেওয়ার পদক্ষেপ ভবিষ্যতে আরও ভালো ফল দিতে পারে।

তিনি বিডার লক্ষ্যভিত্তিক বিনিয়োগকারী যোগাযোগ, বিশেষায়িত সেক্টর ডেস্ক এবং রিলেশনশিপ ম্যানেজমেন্ট ব্যবস্থাকে উৎসাহব্যঞ্জক উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।

তবে তার মতে, ভবিষ্যতে বিডা, বেজা, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে একীভূত করে "ইনভেস্ট বাংলাদেশ" কাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনার সফলতা নির্ভর করবে সব সংস্থা একই মানের ওয়ান-স্টপ সার্ভিস দিতে পারে কি না, তার ওপর।

ড. মোয়াজ্জেম আরও বলেন, বিডা মূলত নীতি, প্রক্রিয়া ও বিনিয়োগকারী সেবার মতো সফট ইনফ্রাস্ট্রাকচার উন্নয়নে কাজ করতে পারে। কিন্তু গ্যাস ও বিদ্যুতের ঘাটতি, বৈদেশিক মুদ্রার সংকট এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মুনাফা নিজ দেশে পাঠানোর জটিলতার মতো বড় বাধাগুলো তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। তাই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে হলে সফট ও হার্ড—উভয় ধরনের অবকাঠামোর সমন্বিত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে।

বিষয় : বিদেশি বিনিয়োগ বিডা

কাল মহাকাল

শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬


বিদেশি বিনিয়োগে গতি, নতুন শিল্পে আসছে শত কোটি ডলার

প্রকাশের তারিখ : ২৫ জুলাই ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের গতি বাড়াতে নেওয়া উদ্যোগের ইতিবাচক ফল মিলতে শুরু করেছে। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) জানিয়েছে, তাদের গড়ে তোলা ১.৫ বিলিয়ন ডলারের সম্ভাব্য বিনিয়োগ পাইপলাইনের মধ্যে ৪০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি প্রকল্প ইতোমধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও বাস্তবায়ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। এসব বিনিয়োগের মাধ্যমে পোশাক, টেক্সটাইল, ভারী শিল্প, বিমা, খুচরা ব্যবসা ও এভিয়েশনসহ বিভিন্ন খাতে নতুন কর্মসংস্থান ও প্রযুক্তি স্থানান্তরের সুযোগ তৈরি হবে।

সবচেয়ে বড় বিনিয়োগগুলোর একটি বাস্তবায়ন করছে চীনের একটি শিল্পগোষ্ঠী। প্রকল্পটি থেকে প্রায় ২৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রথম ধাপে মীরসরাই বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চলে ৮০ মিলিয়ন ডলারের পোশাক কারখানা স্থাপন করা হবে। পরবর্তী ধাপে কেরানীগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চলে ২২০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে সমন্বিত টেক্সটাইল ও পোশাক উৎপাদন কমপ্লেক্স গড়ে তোলা হবে।

চীনের হেনগলি গ্রুপ তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠান লিড বাংলাদেশ টেক্সটাইল টেকনোলজি কোম্পানি লিমিটেডের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে বাংলাদেশ স্পেশাল ইকোনমিক জোনে (বিএসইজেড) প্রায় ৩৫ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে। সেখানে অত্যাধুনিক টেক্সটাইল উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে।

বিডার তথ্য অনুযায়ী, এই প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো উন্নতমানের বস্ত্র উৎপাদন প্রযুক্তি ও আধুনিক স্বয়ংক্রিয় উৎপাদন ব্যবস্থা চালু হবে। এতে দেশীয় বস্ত্রশিল্পের মূল্য সংযোজন বাড়বে, বিদেশ থেকে উচ্চমানের কাপড় ও কাঁচামাল আমদানির ওপর নির্ভরতা কমবে এবং স্থানীয় কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

অন্যদিকে, চীনের চায়না লিসো গ্রুপ চট্টগ্রামের জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে ৩২ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে একটি ভারী শিল্প কারখানা স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থার ওপর ভিত্তি করে সেখানে পিভিসি ও পেক্স পাইপ, সৌর প্যানেল, স্যানিটারি সামগ্রী, রান্নাঘরের সরঞ্জাম, ক্যাবল, আলোকসজ্জা পণ্য এবং বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী উৎপাদন করা হবে।

আর্থিক খাতেও নতুন বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে। শ্রীলঙ্কার সফটলজিক লাইফ ইনস্যুরেন্স প্রায় ১.৯ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে ডায়মন্ড লাইফ ইনস্যুরেন্সের ৬০ শতাংশ শেয়ার কিনে নিয়েছে। বিডার ভাষ্য, এই বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশের বিমা খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ঝুঁকি মূল্যায়ন, ডিজিটাল বিমা সেবা এবং দ্রুত দাবি নিষ্পত্তির আধুনিক প্রযুক্তি চালু হবে।

খুচরা ব্যবসার ক্ষেত্রেও সম্প্রসারণ অব্যাহত রয়েছে। মালয়েশিয়ার এমআর. ডিআইওয়াই বিডা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রক সহায়তায় ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে ১৭টির বেশি মেগা-স্টোর চালু করেছে।

রপ্তানি বহুমুখীকরণের লক্ষ্যেও নতুন বিনিয়োগ এসেছে। বৈশ্বিক এয়ারক্রাফট উপাদান প্রস্তুতকারক মেগারিস বাংলাদেশে বিমান ও লাইফস্টাইল পণ্য উৎপাদনে ১৫ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে। তৈরি পোশাকের বাইরে নতুন রপ্তানি খাত গড়ে তোলার প্রচেষ্টায় এই বিনিয়োগকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

বিডার নির্বাহী সদস্য ও ব্যবসা উন্নয়ন বিভাগের প্রধান নাহিয়ান রহমান রোচি বলেন, বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট সামিট, বিদেশে রোডশো, বিভিন্ন প্রচারণা কার্যক্রম এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগের ফলেই এই বিনিয়োগ পাইপলাইন তৈরি হয়েছে।

তিনি জানান, সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের জন্য জমি নির্বাচন, নীতিগত সহায়তা, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে করসংক্রান্ত ব্যাখ্যা, বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয়ের জন্য বিডা আলাদা রিলেশনশিপ ম্যানেজার নিয়োগ করে থাকে।

রোচির ভাষায়, ১.৫ বিলিয়ন ডলারের সম্ভাব্য বিনিয়োগের মধ্যে ৪০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি ইতোমধ্যে বাস্তবায়নের পথে। এখন অবশিষ্ট ১.১ বিলিয়ন ডলারকে প্রকৃত বিনিয়োগে রূপ দেওয়াই সংস্থাটির প্রধান লক্ষ্য।

বিডা আরও জানিয়েছে, সম্ভাবনাময় খাত ও বিনিয়োগকারীদের চিহ্নিত করতে তারা ডেটাভিত্তিক সেক্টর ম্যাপিং ও স্কোরিং পদ্ধতি ব্যবহার করছে। পাশাপাশি ২০২৬ সালে আরও ১.৫ বিলিয়ন ডলারের নতুন বিনিয়োগ পাইপলাইন তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে বিনিয়োগ আকর্ষণের এ ধারা ধরে রাখতে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। তিনি বলেন, বিডার শুধু বিনিয়োগ প্রচারের সংস্থা না থেকে বিনিয়োগ সহায়তা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের উদ্যোগ ইতিবাচক। ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া সহজ করা, সেবা ডিজিটালাইজেশন এবং বিনিয়োগকারীদের ধারাবাহিক সহায়তা দেওয়ার পদক্ষেপ ভবিষ্যতে আরও ভালো ফল দিতে পারে।

তিনি বিডার লক্ষ্যভিত্তিক বিনিয়োগকারী যোগাযোগ, বিশেষায়িত সেক্টর ডেস্ক এবং রিলেশনশিপ ম্যানেজমেন্ট ব্যবস্থাকে উৎসাহব্যঞ্জক উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।

তবে তার মতে, ভবিষ্যতে বিডা, বেজা, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে একীভূত করে "ইনভেস্ট বাংলাদেশ" কাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনার সফলতা নির্ভর করবে সব সংস্থা একই মানের ওয়ান-স্টপ সার্ভিস দিতে পারে কি না, তার ওপর।

ড. মোয়াজ্জেম আরও বলেন, বিডা মূলত নীতি, প্রক্রিয়া ও বিনিয়োগকারী সেবার মতো সফট ইনফ্রাস্ট্রাকচার উন্নয়নে কাজ করতে পারে। কিন্তু গ্যাস ও বিদ্যুতের ঘাটতি, বৈদেশিক মুদ্রার সংকট এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মুনাফা নিজ দেশে পাঠানোর জটিলতার মতো বড় বাধাগুলো তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। তাই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে হলে সফট ও হার্ড—উভয় ধরনের অবকাঠামোর সমন্বিত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত