সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 জাতীয়জাতীয়

রাষ্ট্রপতি পদে কে আসছেন? সংক্ষিপ্ত হচ্ছে সম্ভাব্যদের তালিকা

মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মধ্য থেকেই উত্তরসূরি বেছে নেওয়ার সম্ভাবনা জোরালো হলেও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।

রাষ্ট্রপতি পদে কে আসছেন? সংক্ষিপ্ত হচ্ছে সম্ভাব্যদের তালিকা
ছবি -সংগৃহীত

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি কে হবেন—এ প্রশ্ন এখন রাজনীতির কেন্দ্রীয় আলোচনার বিষয়। শুক্রবার বিকেল পাঁচটায় তাঁর পদত্যাগ কার্যকর হওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক মহল, প্রশাসন এবং বিভিন্ন মহলে সম্ভাব্য উত্তরসূরিকে ঘিরে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে। যদিও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্রগুলোর দাবি, সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা এখন আগের তুলনায় অনেকটাই ছোট হয়ে এসেছে।

সরকার গঠনের পর থেকেই রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম আলোচনায় ছিল। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে সেই তালিকায় নতুন কিছু নাম যুক্ত হলেও শেষ পর্যন্ত দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্ষদ—জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মধ্য থেকেই একজনকে রাষ্ট্রপতি করা হতে পারে বলে বিএনপির নীতিনির্ধারণে সংশ্লিষ্ট একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে। যদিও এ বিষয়ে এখনো দলীয় কোনো আনুষ্ঠানিক বৈঠক বা সিদ্ধান্ত হয়নি।

দলীয় সূত্রগুলোর ভাষ্য, সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের উত্তরসূরি নির্বাচন নিয়ে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ে সতর্কতার সঙ্গে প্রস্তুতি চলছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়ে নানা দিক বিবেচনা করে মূল্যায়ন করা হচ্ছে।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকেই রাষ্ট্রপতি পদে দলের জ্যেষ্ঠ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান ও নজরুল ইসলাম খানের নাম আলোচনায় আসে। পরবর্তী সময়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি এবং একজন সাবেক প্রধান বিচারপতির নামও সম্ভাব্যদের তালিকায় যুক্ত হয়।

তবে বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, শারীরিক সক্ষমতা ও সামগ্রিক রাজনৈতিক বাস্তবতাসহ বিভিন্ন কারণে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা এখন আলোচনায় কিছুটা পিছিয়ে পড়েছেন। বরং গত দুই দিনে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলামের নাম। দলের একটি প্রভাবশালী অংশ তাঁকে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে দেখতে আগ্রহী বলেও জানা গেছে।

রাজনীতির বাইরেও মির্জা ফখরুল ইসলামের পক্ষে সমর্থনের কথা প্রকাশ্যে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তি তাঁকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে উপযুক্ত বলে মত দিয়েছেন।

অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুলও ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত প্রার্থী বলে মন্তব্য করেন। তাঁর ভাষ্য, দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, দলের কঠিন সময়ে নেতৃত্ব, ব্যক্তিগত ত্যাগ এবং সংযত রাজনৈতিক আচরণের কারণে মির্জা ফখরুল অন্যদের তুলনায় এগিয়ে রয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপিতে আরও যোগ্য নেতা থাকলেও সামগ্রিক বিবেচনায় মির্জা ফখরুলই সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য হতে পারেন।

এর আগে ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহও পৃথক এক ফেসবুক পোস্টে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিবেচনার পক্ষে নিজের মতামত তুলে ধরেন।

এদিকে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ায় সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে শপথ নেওয়া পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করবেন।

সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ পদত্যাগ, মৃত্যু বা অপসারণের কারণে শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। বর্তমান সংসদে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত প্রার্থীর নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি।

তবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন হতে এখনো কিছুটা সময় রয়েছে। এই সময়ে রাজনৈতিক সমীকরণ পরিবর্তিত হতে পারে। ফলে বর্তমানে যাঁদের নাম আলোচনায় রয়েছে, শেষ পর্যন্ত তাঁদের মধ্য থেকেই রাষ্ট্রপতি হবেন—এমন নিশ্চয়তা এখনই দেওয়া যাচ্ছে না।

এসব বাস্তবতায় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা এবং দলীয় মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ও জল্পনা অব্যাহত থাকবে।

বিষয় : রাষ্ট্রপতি পদ

কাল মহাকাল

শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬


রাষ্ট্রপতি পদে কে আসছেন? সংক্ষিপ্ত হচ্ছে সম্ভাব্যদের তালিকা

প্রকাশের তারিখ : ২৫ জুলাই ২০২৬

featured Image

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি কে হবেন—এ প্রশ্ন এখন রাজনীতির কেন্দ্রীয় আলোচনার বিষয়। শুক্রবার বিকেল পাঁচটায় তাঁর পদত্যাগ কার্যকর হওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক মহল, প্রশাসন এবং বিভিন্ন মহলে সম্ভাব্য উত্তরসূরিকে ঘিরে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে। যদিও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্রগুলোর দাবি, সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা এখন আগের তুলনায় অনেকটাই ছোট হয়ে এসেছে।

সরকার গঠনের পর থেকেই রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম আলোচনায় ছিল। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে সেই তালিকায় নতুন কিছু নাম যুক্ত হলেও শেষ পর্যন্ত দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্ষদ—জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মধ্য থেকেই একজনকে রাষ্ট্রপতি করা হতে পারে বলে বিএনপির নীতিনির্ধারণে সংশ্লিষ্ট একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে। যদিও এ বিষয়ে এখনো দলীয় কোনো আনুষ্ঠানিক বৈঠক বা সিদ্ধান্ত হয়নি।

দলীয় সূত্রগুলোর ভাষ্য, সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের উত্তরসূরি নির্বাচন নিয়ে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ে সতর্কতার সঙ্গে প্রস্তুতি চলছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়ে নানা দিক বিবেচনা করে মূল্যায়ন করা হচ্ছে।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকেই রাষ্ট্রপতি পদে দলের জ্যেষ্ঠ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান ও নজরুল ইসলাম খানের নাম আলোচনায় আসে। পরবর্তী সময়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি এবং একজন সাবেক প্রধান বিচারপতির নামও সম্ভাব্যদের তালিকায় যুক্ত হয়।

তবে বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, শারীরিক সক্ষমতা ও সামগ্রিক রাজনৈতিক বাস্তবতাসহ বিভিন্ন কারণে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা এখন আলোচনায় কিছুটা পিছিয়ে পড়েছেন। বরং গত দুই দিনে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলামের নাম। দলের একটি প্রভাবশালী অংশ তাঁকে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে দেখতে আগ্রহী বলেও জানা গেছে।

রাজনীতির বাইরেও মির্জা ফখরুল ইসলামের পক্ষে সমর্থনের কথা প্রকাশ্যে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তি তাঁকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে উপযুক্ত বলে মত দিয়েছেন।

অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুলও ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত প্রার্থী বলে মন্তব্য করেন। তাঁর ভাষ্য, দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, দলের কঠিন সময়ে নেতৃত্ব, ব্যক্তিগত ত্যাগ এবং সংযত রাজনৈতিক আচরণের কারণে মির্জা ফখরুল অন্যদের তুলনায় এগিয়ে রয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপিতে আরও যোগ্য নেতা থাকলেও সামগ্রিক বিবেচনায় মির্জা ফখরুলই সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য হতে পারেন।

এর আগে ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহও পৃথক এক ফেসবুক পোস্টে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিবেচনার পক্ষে নিজের মতামত তুলে ধরেন।

এদিকে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ায় সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে শপথ নেওয়া পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করবেন।

সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ পদত্যাগ, মৃত্যু বা অপসারণের কারণে শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। বর্তমান সংসদে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত প্রার্থীর নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি।

তবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন হতে এখনো কিছুটা সময় রয়েছে। এই সময়ে রাজনৈতিক সমীকরণ পরিবর্তিত হতে পারে। ফলে বর্তমানে যাঁদের নাম আলোচনায় রয়েছে, শেষ পর্যন্ত তাঁদের মধ্য থেকেই রাষ্ট্রপতি হবেন—এমন নিশ্চয়তা এখনই দেওয়া যাচ্ছে না।

এসব বাস্তবতায় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা এবং দলীয় মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ও জল্পনা অব্যাহত থাকবে।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত