রাজনীতি
বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন সূত্রের বরাতে দাবি করা হচ্ছে, ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার যোগাযোগের অভিযোগ সরকারের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
একাধিক সূত্রের দাবি, চিকিৎসার উদ্দেশ্যে গত মে মাসে লন্ডনে অবস্থানকালে মো. সাহাবুদ্দিন শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। এছাড়া দেশে ফেরার পরও তাদের মধ্যে একাধিকবার যোগাযোগ হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ভাষ্য, গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এ বিষয়ে কিছু তথ্য সরকারের উচ্চপর্যায়ে জমা দিয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ দৃঢ়ভাবে নাকচ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। বিভিন্ন গণমাধ্যমকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, শেখ হাসিনার সঙ্গে তার ফোনালাপের কোনো প্রমাণ দেখানো গেলে জনগণের যে কোনো সিদ্ধান্ত তিনি মেনে নেবেন। তার দাবি, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে হেয় করার জন্যই এ ধরনের অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে।
সূত্রগুলোর মতে, সাম্প্রতিক সময়ে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে দেওয়া বক্তব্য, সরকারবিরোধী নানা তৎপরতার অভিযোগ এবং রাষ্ট্রের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের গতিবিধি নিয়ে সরকারের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। এই সামগ্রিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রপতির বিষয়ে নতুন করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকেই মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন আন্দোলন চালিয়ে এলেও তা সফল হয়নি। রাজনৈতিক অঙ্গনে এমন আলোচনাও রয়েছে যে, সে সময় রাষ্ট্রপতিকে বহাল রাখার পেছনে নির্বাচন ও সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের কারণে সেই অবস্থান বদলে যায় বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে।
আরও জানা যায়, গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে তথ্য পাওয়ার পর সরকার আর কোনো ঝুঁকি নিতে চায়নি। এরপর বিদেশ সফরে থাকা স্পিকারকে দ্রুত দেশে ফিরতে বলা হয়। একই সময়ে রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগের বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয় বলেও একাধিক সূত্র দাবি করেছে।
শুক্রবার বিকেলে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এএসএম বাহাউদ্দিন বঙ্গভবন থেকে স্বাক্ষরিত পদত্যাগপত্র সংসদ সচিবালয়ে নিয়ে যান। বিকেল ৫টা ১ মিনিটে স্পিকার মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমদ পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন।
এদিকে, শেখ হাসিনার সম্ভাব্য দেশে ফেরা, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মীর কথিত তৎপরতা এবং রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের মধ্যে যোগসূত্র রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র দাবি করলেও, এসব বিষয়ে সরকারের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। পদত্যাগপত্র গ্রহণের পরও স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
2.png)
শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ জুলাই ২০২৬
বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন সূত্রের বরাতে দাবি করা হচ্ছে, ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার যোগাযোগের অভিযোগ সরকারের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
একাধিক সূত্রের দাবি, চিকিৎসার উদ্দেশ্যে গত মে মাসে লন্ডনে অবস্থানকালে মো. সাহাবুদ্দিন শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। এছাড়া দেশে ফেরার পরও তাদের মধ্যে একাধিকবার যোগাযোগ হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ভাষ্য, গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এ বিষয়ে কিছু তথ্য সরকারের উচ্চপর্যায়ে জমা দিয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ দৃঢ়ভাবে নাকচ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। বিভিন্ন গণমাধ্যমকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, শেখ হাসিনার সঙ্গে তার ফোনালাপের কোনো প্রমাণ দেখানো গেলে জনগণের যে কোনো সিদ্ধান্ত তিনি মেনে নেবেন। তার দাবি, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে হেয় করার জন্যই এ ধরনের অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে।
সূত্রগুলোর মতে, সাম্প্রতিক সময়ে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে দেওয়া বক্তব্য, সরকারবিরোধী নানা তৎপরতার অভিযোগ এবং রাষ্ট্রের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের গতিবিধি নিয়ে সরকারের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। এই সামগ্রিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রপতির বিষয়ে নতুন করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকেই মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন আন্দোলন চালিয়ে এলেও তা সফল হয়নি। রাজনৈতিক অঙ্গনে এমন আলোচনাও রয়েছে যে, সে সময় রাষ্ট্রপতিকে বহাল রাখার পেছনে নির্বাচন ও সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের কারণে সেই অবস্থান বদলে যায় বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে।
আরও জানা যায়, গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে তথ্য পাওয়ার পর সরকার আর কোনো ঝুঁকি নিতে চায়নি। এরপর বিদেশ সফরে থাকা স্পিকারকে দ্রুত দেশে ফিরতে বলা হয়। একই সময়ে রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগের বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয় বলেও একাধিক সূত্র দাবি করেছে।
শুক্রবার বিকেলে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এএসএম বাহাউদ্দিন বঙ্গভবন থেকে স্বাক্ষরিত পদত্যাগপত্র সংসদ সচিবালয়ে নিয়ে যান। বিকেল ৫টা ১ মিনিটে স্পিকার মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমদ পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন।
এদিকে, শেখ হাসিনার সম্ভাব্য দেশে ফেরা, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মীর কথিত তৎপরতা এবং রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের মধ্যে যোগসূত্র রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র দাবি করলেও, এসব বিষয়ে সরকারের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। পদত্যাগপত্র গ্রহণের পরও স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
2.png)