সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 খেলাখেলা

কুকুরেয়ার কোঁকড়ানো চুলের পেছনে যে ভালোবাসার গল্প

মার্ক কুকুরেয়ার লম্বা চুলের গল্প স্টাইল নয়, আবেগের।

স্পোর্টস ডেস্ক
স্পোর্টস ডেস্ক
কুকুরেয়ার কোঁকড়ানো চুলের পেছনে যে ভালোবাসার গল্প
ছবি -সংগৃহীত

মার্ক কুকুরেয়াকে একবার দেখলেই চোখে পড়ে তাঁর লম্বা, কোঁকড়ানো চুল। অনেকেই ভাবেন, এটা হয়তো তাঁর স্টাইল বা আলাদা পরিচয় তৈরি করার উপায়। কিন্তু সত্যিটা অনেক বেশি সুন্দর, অনেক বেশি আবেগের।

এই চুলের সঙ্গে জড়িয়ে আছে তাঁর বড় ছেলে মাতেওর গল্প।

মাতেও অটিজমে আক্রান্ত। তাই ভিড়, প্রচণ্ড শব্দ কিংবা বিশাল স্টেডিয়ামের পরিবেশ তার জন্য সহজ নয়। একসঙ্গে ২২ জন খেলোয়াড় মাঠে ছুটে বেড়ালে বাবাকে আলাদা করে চিনে নেওয়াও তার জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।

সেই কারণেই কুকুরেয়া মাঠে নামার সময় চুল বেঁধে রাখেন না। বাতাসে উড়তে থাকা তাঁর পরিচিত কোঁকড়ানো চুলই ছেলের জন্য সবচেয়ে সহজ পরিচয়। গ্যালারিতে কিংবা টেলিভিশনের পর্দায় চোখ রাখলেই মাতেও বুঝে যায়, "ওই যে, আমার বাবা!"

এক সাক্ষাৎকারে কুকুরেয়া ও তাঁর সঙ্গী বলেছিলেন, ছেলের অটিজম ধরা পড়ার পর তাঁদের জীবন একেবারে বদলে যায়। শুরুতে ছিল দুশ্চিন্তা, অনিশ্চয়তা আর অনেক প্রশ্ন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে তাঁরা শিখেছেন, সন্তানের ছোট ছোট প্রয়োজনই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়।

চুল না বাঁধার সিদ্ধান্তটাও এসেছে সেই ভাবনা থেকেই। বিষয়টি হয়তো অনেকের কাছে খুব ছোট মনে হতে পারে। কিন্তু একজন সন্তানের জন্য এটি অনেক বড় স্বস্তি। মাঠে যতই উত্তেজনা থাকুক, বাবাকে খুঁজে পেতে তাকে আর কষ্ট করতে হয় না।

ফুটবলে কুকুরেয়া অনেক ম্যাচ জিতেছেন, শিরোপাও জিতেছেন। কিন্তু তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় জয় হয়তো অন্য জায়গায়। একজন বাবা হিসেবে সন্তানের জীবনটাকে একটু সহজ করে দেওয়ার চেষ্টা।

তাই কুকুরেয়ার সেই উড়তে থাকা কোঁকড়ানো চুল শুধু তাঁর পরিচয়ের অংশ নয়। এটি একজন বাবার নিঃস্বার্থ ভালোবাসার প্রতীক, যা হাজারো মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যায়।

বিষয় : স্পেন মার্ক কুকুরেয়া লম্বাচুল

কাল মহাকাল

শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬


কুকুরেয়ার কোঁকড়ানো চুলের পেছনে যে ভালোবাসার গল্প

প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুলাই ২০২৬

featured Image

মার্ক কুকুরেয়াকে একবার দেখলেই চোখে পড়ে তাঁর লম্বা, কোঁকড়ানো চুল। অনেকেই ভাবেন, এটা হয়তো তাঁর স্টাইল বা আলাদা পরিচয় তৈরি করার উপায়। কিন্তু সত্যিটা অনেক বেশি সুন্দর, অনেক বেশি আবেগের।

এই চুলের সঙ্গে জড়িয়ে আছে তাঁর বড় ছেলে মাতেওর গল্প।

মাতেও অটিজমে আক্রান্ত। তাই ভিড়, প্রচণ্ড শব্দ কিংবা বিশাল স্টেডিয়ামের পরিবেশ তার জন্য সহজ নয়। একসঙ্গে ২২ জন খেলোয়াড় মাঠে ছুটে বেড়ালে বাবাকে আলাদা করে চিনে নেওয়াও তার জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।

সেই কারণেই কুকুরেয়া মাঠে নামার সময় চুল বেঁধে রাখেন না। বাতাসে উড়তে থাকা তাঁর পরিচিত কোঁকড়ানো চুলই ছেলের জন্য সবচেয়ে সহজ পরিচয়। গ্যালারিতে কিংবা টেলিভিশনের পর্দায় চোখ রাখলেই মাতেও বুঝে যায়, "ওই যে, আমার বাবা!"

এক সাক্ষাৎকারে কুকুরেয়া ও তাঁর সঙ্গী বলেছিলেন, ছেলের অটিজম ধরা পড়ার পর তাঁদের জীবন একেবারে বদলে যায়। শুরুতে ছিল দুশ্চিন্তা, অনিশ্চয়তা আর অনেক প্রশ্ন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে তাঁরা শিখেছেন, সন্তানের ছোট ছোট প্রয়োজনই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়।

চুল না বাঁধার সিদ্ধান্তটাও এসেছে সেই ভাবনা থেকেই। বিষয়টি হয়তো অনেকের কাছে খুব ছোট মনে হতে পারে। কিন্তু একজন সন্তানের জন্য এটি অনেক বড় স্বস্তি। মাঠে যতই উত্তেজনা থাকুক, বাবাকে খুঁজে পেতে তাকে আর কষ্ট করতে হয় না।

ফুটবলে কুকুরেয়া অনেক ম্যাচ জিতেছেন, শিরোপাও জিতেছেন। কিন্তু তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় জয় হয়তো অন্য জায়গায়। একজন বাবা হিসেবে সন্তানের জীবনটাকে একটু সহজ করে দেওয়ার চেষ্টা।

তাই কুকুরেয়ার সেই উড়তে থাকা কোঁকড়ানো চুল শুধু তাঁর পরিচয়ের অংশ নয়। এটি একজন বাবার নিঃস্বার্থ ভালোবাসার প্রতীক, যা হাজারো মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যায়।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত