সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 জাতীয়জাতীয়

চিকিৎসকদের বিশ্রামের পরামর্শ, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ জল্পনা আরো ঘনীভূত

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সাম্প্রতিক স্বাস্থ্য পরীক্ষায় হৃদ্‌রোগের পাশাপাশি স্নায়বিক জটিলতার তথ্য পাওয়ার দাবি করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। তবে পদত্যাগের বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।

চিকিৎসকদের বিশ্রামের পরামর্শ, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ জল্পনা আরো ঘনীভূত
ছবি -সংগৃহীত

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর শারীরিক অবস্থা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বঙ্গভবনের দায়িত্বশীল সূত্রের দাবি, সাম্প্রতিক স্বাস্থ্য পরীক্ষায় তাঁর হৃদ্‌রোগের পাশাপাশি স্নায়বিক সমস্যারও লক্ষণ ধরা পড়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা তাঁকে উন্নত চিকিৎসা গ্রহণ এবং পূর্ণ বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।

সূত্র জানায়, গত কয়েক দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতির একাধিক শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। সিটি স্ক্যান ও এমআরআইসহ বিভিন্ন পরীক্ষার ফল পর্যালোচনা করে চিকিৎসকেরা তাঁর শারীরিক অবস্থার বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।

জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি দীর্ঘদিন ধরেই হৃদ্‌রোগে ভুগছেন। এর আগে সিঙ্গাপুরে তাঁর বাইপাস সার্জারি হয়। পরবর্তীতে শরীরের দুর্বলতা, কোমর ও পিঠের ব্যথা বেড়ে যাওয়ায় তিনি যুক্তরাজ্যেও স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান।

সম্প্রতি শারীরিক জটিলতা বাড়লে আবারও চিকিৎসকদের শরণাপন্ন হন তিনি। এদিকে বৃহস্পতিবারও রাষ্ট্রপতি নিয়মিত দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন করেছেন। সকালে বঙ্গভবনে নিজ কার্যালয়ে এসে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ফাইলে স্বাক্ষর করেন এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও কুশল বিনিময় করেন।

এর মধ্যেই বিভিন্ন গণমাধ্যমে তাঁর সম্ভাব্য পদত্যাগের খবর প্রকাশিত হওয়ায় বঙ্গভবনের ভেতরে কৌতূহল ও নানা আলোচনা শুরু হয়। রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের এক কর্মীর ভাষ্য, অনেকেই ধারণা করেছিলেন, বৃহস্পতিবারই হয়তো রাষ্ট্রপতির শেষ কর্মদিবস হতে পারে। সেই কারণে বঙ্গভবনের পরিবেশেও এক ধরনের বিদায়ের আবহ তৈরি হয়েছিল।

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, রাষ্ট্রপতির শারীরিক অসুস্থতার কারণে সবাই উদ্বিগ্ন। দীর্ঘ সময় একসঙ্গে দায়িত্ব পালন করায় সহকর্মীদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই আবেগের সৃষ্টি হয়েছে। গণমাধ্যমে পদত্যাগের খবর প্রকাশের পর রাষ্ট্রপতিকেও কিছুটা বিষণ্ন মনে হয়েছে বলে তাঁর পর্যবেক্ষণ।

এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আমার দেশ-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সম্মানজনকভাবে দায়িত্ব থেকে বিদায় নেওয়ার ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন। তখন তিনি বলেছিলেন, সাংবিধানিক সীমার মধ্যে থেকে রাষ্ট্র ও জনগণের কল্যাণে দায়িত্ব পালনের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন এবং সংবিধানের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই বিদায় নিতে চান।

বঙ্গভবনের কয়েকজন কর্মীর দাবি, চিকিৎসকদের পরামর্শ এবং পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনদের সঙ্গে আলোচনা করেই রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত বঙ্গভবন, সরকার বা রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। তাই পদত্যাগের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি।

বিষয় : রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন চুপ্পু

কাল মহাকাল

শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬


চিকিৎসকদের বিশ্রামের পরামর্শ, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ জল্পনা আরো ঘনীভূত

প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুলাই ২০২৬

featured Image

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর শারীরিক অবস্থা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বঙ্গভবনের দায়িত্বশীল সূত্রের দাবি, সাম্প্রতিক স্বাস্থ্য পরীক্ষায় তাঁর হৃদ্‌রোগের পাশাপাশি স্নায়বিক সমস্যারও লক্ষণ ধরা পড়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা তাঁকে উন্নত চিকিৎসা গ্রহণ এবং পূর্ণ বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।

সূত্র জানায়, গত কয়েক দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতির একাধিক শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। সিটি স্ক্যান ও এমআরআইসহ বিভিন্ন পরীক্ষার ফল পর্যালোচনা করে চিকিৎসকেরা তাঁর শারীরিক অবস্থার বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।

জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি দীর্ঘদিন ধরেই হৃদ্‌রোগে ভুগছেন। এর আগে সিঙ্গাপুরে তাঁর বাইপাস সার্জারি হয়। পরবর্তীতে শরীরের দুর্বলতা, কোমর ও পিঠের ব্যথা বেড়ে যাওয়ায় তিনি যুক্তরাজ্যেও স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান।

সম্প্রতি শারীরিক জটিলতা বাড়লে আবারও চিকিৎসকদের শরণাপন্ন হন তিনি। এদিকে বৃহস্পতিবারও রাষ্ট্রপতি নিয়মিত দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন করেছেন। সকালে বঙ্গভবনে নিজ কার্যালয়ে এসে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ফাইলে স্বাক্ষর করেন এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও কুশল বিনিময় করেন।

এর মধ্যেই বিভিন্ন গণমাধ্যমে তাঁর সম্ভাব্য পদত্যাগের খবর প্রকাশিত হওয়ায় বঙ্গভবনের ভেতরে কৌতূহল ও নানা আলোচনা শুরু হয়। রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের এক কর্মীর ভাষ্য, অনেকেই ধারণা করেছিলেন, বৃহস্পতিবারই হয়তো রাষ্ট্রপতির শেষ কর্মদিবস হতে পারে। সেই কারণে বঙ্গভবনের পরিবেশেও এক ধরনের বিদায়ের আবহ তৈরি হয়েছিল।

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, রাষ্ট্রপতির শারীরিক অসুস্থতার কারণে সবাই উদ্বিগ্ন। দীর্ঘ সময় একসঙ্গে দায়িত্ব পালন করায় সহকর্মীদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই আবেগের সৃষ্টি হয়েছে। গণমাধ্যমে পদত্যাগের খবর প্রকাশের পর রাষ্ট্রপতিকেও কিছুটা বিষণ্ন মনে হয়েছে বলে তাঁর পর্যবেক্ষণ।

এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আমার দেশ-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সম্মানজনকভাবে দায়িত্ব থেকে বিদায় নেওয়ার ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন। তখন তিনি বলেছিলেন, সাংবিধানিক সীমার মধ্যে থেকে রাষ্ট্র ও জনগণের কল্যাণে দায়িত্ব পালনের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন এবং সংবিধানের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই বিদায় নিতে চান।

বঙ্গভবনের কয়েকজন কর্মীর দাবি, চিকিৎসকদের পরামর্শ এবং পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনদের সঙ্গে আলোচনা করেই রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত বঙ্গভবন, সরকার বা রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। তাই পদত্যাগের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত