সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 জাতীয়জাতীয়

চুপ্পুর বিদায়ের আভাসে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন হিসাব

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর সম্ভাব্য পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জল্পনা তুঙ্গে। স্পিকারের আগাম দেশে ফেরা, রয়টার্সের প্রতিবেদন এবং বঙ্গভবনের তৎপরতা আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

চুপ্পুর বিদায়ের আভাসে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন হিসাব
ছবি -সংগৃহীত

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু খুব শিগগিরই পদত্যাগ করতে পারেন—এমন আলোচনা এখন দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের প্রধান আলোচ্য বিষয়ে পরিণত হয়েছে। বঙ্গভবন ও সরকার-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের তথ্য, জাতীয় সংসদের স্পিকারের আগাম দেশে ফেরা এবং আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন—সব মিলিয়ে রাষ্ট্রপতির বিদায়ের সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, বৃহস্পতিবার বঙ্গভবনে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে রাষ্ট্রপতি বিদায়ের প্রস্তুতির বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছেন। একই সময়ে চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডে থাকা জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ নির্ধারিত সময়ের দুই দিন আগেই শুক্রবার দুপুরে দেশে ফিরছেন। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র স্পিকারের কাছেই জমা দিতে হয়। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকারই ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।

বৃহস্পতিবার রাত ১০টা ২৩ মিনিটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে রয়টার্স জানায়, তিনটি পৃথক সূত্রের বরাতে তারা জেনেছে রাষ্ট্রপতি শুক্রবার পদত্যাগ করতে পারেন। তবে বিষয়টির সংবেদনশীলতার কারণে কোনো সূত্রের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

এর আগে বুধবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠক করেন। এই বৈঠকের সঙ্গে রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে ধারাবাহিক ঘটনাপ্রবাহ রাজনৈতিক মহলে নানা ধরনের ব্যাখ্যা ও জল্পনার জন্ম দিয়েছে।

রাষ্ট্রপতির দপ্তরের একাধিক কর্মকর্তার ভাষ্য, মো. সাহাবুদ্দিন মানসিকভাবে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁদের ধারণা, স্পিকার দেশে ফেরার পরই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দিতে পারেন।

সরকার-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে সম্প্রতি বিএনপির উচ্চপর্যায় থেকে বার্তা পৌঁছানো হয়েছে। তবে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে শুক্রবার পর্যন্ত সময় চাওয়া হয়েছে বলেও সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা রয়েছে। এ কারণেই শুক্রবার বিকেল কিংবা শনিবারের মধ্যে পদত্যাগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা আরও জোরদার হয়েছে।

রাষ্ট্রপতির বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল পাঁচ বছরের জন্য দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। বর্তমান মেয়াদ অনুযায়ী তাঁর দায়িত্ব ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা।

সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিতে পারেন। আর ৫৪ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে বা দায়িত্ব পালনে তিনি অসমর্থ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, পদত্যাগ, মৃত্যু বা অপসারণের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে।

রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য উত্তরসূরি নিয়েও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানায়, বিষয়টি অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। দলের জ্যেষ্ঠ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও আবদুল মঈন খানের নাম আলোচনায় থাকলেও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একটি পদে দায়িত্ব পালনকারী একজন জ্যেষ্ঠ সচিব এবং একজন সাবেক সচিবের নামও সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকায় এসেছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। তবে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এদিকে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে সরকারের কোনো পদক্ষেপ নেই। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি সাংবিধানিক বা স্বাস্থ্যগত যেকোনো কারণে পদত্যাগ করতে চাইলে সেই সুযোগ তাঁর রয়েছে। তবে এ বিষয়ে সরকারকে কিছু জানানো হয়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

অন্যদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম জামালপুরে এক কর্মসূচিতে বক্তব্য দিয়ে বলেন, শুধু পদত্যাগ নয়, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা উচিত। একই সঙ্গে তিনি রাষ্ট্রপতি পদে একজন যোগ্য, নিরপেক্ষ ও অভিভাবকসুলভ ব্যক্তিকে নির্বাচনের আহ্বান জানান।

বিষয় : রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ সাহাবুদ্দিন চুপ্পু

কাল মহাকাল

শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬


চুপ্পুর বিদায়ের আভাসে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন হিসাব

প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুলাই ২০২৬

featured Image

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু খুব শিগগিরই পদত্যাগ করতে পারেন—এমন আলোচনা এখন দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের প্রধান আলোচ্য বিষয়ে পরিণত হয়েছে। বঙ্গভবন ও সরকার-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের তথ্য, জাতীয় সংসদের স্পিকারের আগাম দেশে ফেরা এবং আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন—সব মিলিয়ে রাষ্ট্রপতির বিদায়ের সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, বৃহস্পতিবার বঙ্গভবনে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে রাষ্ট্রপতি বিদায়ের প্রস্তুতির বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছেন। একই সময়ে চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডে থাকা জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ নির্ধারিত সময়ের দুই দিন আগেই শুক্রবার দুপুরে দেশে ফিরছেন। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র স্পিকারের কাছেই জমা দিতে হয়। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকারই ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।

বৃহস্পতিবার রাত ১০টা ২৩ মিনিটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে রয়টার্স জানায়, তিনটি পৃথক সূত্রের বরাতে তারা জেনেছে রাষ্ট্রপতি শুক্রবার পদত্যাগ করতে পারেন। তবে বিষয়টির সংবেদনশীলতার কারণে কোনো সূত্রের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

এর আগে বুধবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠক করেন। এই বৈঠকের সঙ্গে রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে ধারাবাহিক ঘটনাপ্রবাহ রাজনৈতিক মহলে নানা ধরনের ব্যাখ্যা ও জল্পনার জন্ম দিয়েছে।

রাষ্ট্রপতির দপ্তরের একাধিক কর্মকর্তার ভাষ্য, মো. সাহাবুদ্দিন মানসিকভাবে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁদের ধারণা, স্পিকার দেশে ফেরার পরই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দিতে পারেন।

সরকার-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে সম্প্রতি বিএনপির উচ্চপর্যায় থেকে বার্তা পৌঁছানো হয়েছে। তবে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে শুক্রবার পর্যন্ত সময় চাওয়া হয়েছে বলেও সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা রয়েছে। এ কারণেই শুক্রবার বিকেল কিংবা শনিবারের মধ্যে পদত্যাগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা আরও জোরদার হয়েছে।

রাষ্ট্রপতির বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল পাঁচ বছরের জন্য দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। বর্তমান মেয়াদ অনুযায়ী তাঁর দায়িত্ব ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা।

সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিতে পারেন। আর ৫৪ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে বা দায়িত্ব পালনে তিনি অসমর্থ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, পদত্যাগ, মৃত্যু বা অপসারণের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে।

রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য উত্তরসূরি নিয়েও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানায়, বিষয়টি অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। দলের জ্যেষ্ঠ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও আবদুল মঈন খানের নাম আলোচনায় থাকলেও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একটি পদে দায়িত্ব পালনকারী একজন জ্যেষ্ঠ সচিব এবং একজন সাবেক সচিবের নামও সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকায় এসেছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। তবে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এদিকে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে সরকারের কোনো পদক্ষেপ নেই। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি সাংবিধানিক বা স্বাস্থ্যগত যেকোনো কারণে পদত্যাগ করতে চাইলে সেই সুযোগ তাঁর রয়েছে। তবে এ বিষয়ে সরকারকে কিছু জানানো হয়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

অন্যদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম জামালপুরে এক কর্মসূচিতে বক্তব্য দিয়ে বলেন, শুধু পদত্যাগ নয়, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা উচিত। একই সঙ্গে তিনি রাষ্ট্রপতি পদে একজন যোগ্য, নিরপেক্ষ ও অভিভাবকসুলভ ব্যক্তিকে নির্বাচনের আহ্বান জানান।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত