আন্তর্জাতিক
সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে শিবসাগর জেলায়। সেখানে প্রায় ৩ লাখ ৯২ হাজার মানুষ বন্যাকবলিত। চরাইদেও জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা এক লাখ ১০ হাজার ৭৫৫, জোরহাটে ৯৭ হাজার ৬৯০ এবং ডিব্রুগড়ে ১৩ হাজার ৩৯০ জন। একই সঙ্গে রাজ্যজুড়ে প্রায় ২৪ হাজার ৮৯৭ হেক্টর কৃষিজমি পানির নিচে চলে যাওয়ায় কৃষি উৎপাদন নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় বন্যাসংক্রান্ত ঘটনায় আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে চলতি মৌসুমে বন্যায় প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৪৭ জনে পৌঁছেছে।
দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসন ব্যাপক ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বর্তমানে রাজ্যজুড়ে ১০৬টি ত্রাণশিবির এবং ৩৮১টি ত্রাণ বিতরণকেন্দ্র চালু রয়েছে। এসব কেন্দ্রের মাধ্যমে মোট ৪৮৭টি স্থানে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে ২৪ হাজার ৪১৮ জন মানুষ ত্রাণশিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন এবং প্রায় দুই লাখ ৯০ হাজার ৮২৬ জন নিয়মিত ত্রাণসামগ্রী পাচ্ছেন।
বন্যার প্রভাব শুধু মানুষের জীবনেই সীমাবদ্ধ নেই। গবাদিপশুও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। সরকারি হিসাবে, এখন পর্যন্ত এক লাখ ৩৮ হাজার ৯৬৫টি পশু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি পানির প্রবল স্রোতে ৫৪০টি প্রাণী ভেসে গেছে, যার মধ্যে প্রায় ৫০০টি হাঁস-মুরগি রয়েছে।
এদিকে বুরহিদিহিং, দিখৌ, ধানসিরি (দক্ষিণ) ও কুশিয়ারা নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ডিসাং নদীর পানি সর্বোচ্চ বন্যাসীমাও অতিক্রম করেছে, যা নতুন করে প্লাবনের ঝুঁকি বাড়িয়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় উদ্ধার ও চিকিৎসা কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ১১১টি মেডিকেল দল, ৫৬টি উদ্ধার নৌকা এবং ভারতীয় বিমানবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার মোতায়েন রয়েছে। এখন পর্যন্ত আট হাজার ৪০৯ জন মানুষ এবং ৩৫টি প্রাণীকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পানি না কমা পর্যন্ত উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বিষয় : আসাম বন্যা
2.png)
শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুলাই ২০২৬
সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে শিবসাগর জেলায়। সেখানে প্রায় ৩ লাখ ৯২ হাজার মানুষ বন্যাকবলিত। চরাইদেও জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা এক লাখ ১০ হাজার ৭৫৫, জোরহাটে ৯৭ হাজার ৬৯০ এবং ডিব্রুগড়ে ১৩ হাজার ৩৯০ জন। একই সঙ্গে রাজ্যজুড়ে প্রায় ২৪ হাজার ৮৯৭ হেক্টর কৃষিজমি পানির নিচে চলে যাওয়ায় কৃষি উৎপাদন নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় বন্যাসংক্রান্ত ঘটনায় আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে চলতি মৌসুমে বন্যায় প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৪৭ জনে পৌঁছেছে।
দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসন ব্যাপক ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বর্তমানে রাজ্যজুড়ে ১০৬টি ত্রাণশিবির এবং ৩৮১টি ত্রাণ বিতরণকেন্দ্র চালু রয়েছে। এসব কেন্দ্রের মাধ্যমে মোট ৪৮৭টি স্থানে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে ২৪ হাজার ৪১৮ জন মানুষ ত্রাণশিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন এবং প্রায় দুই লাখ ৯০ হাজার ৮২৬ জন নিয়মিত ত্রাণসামগ্রী পাচ্ছেন।
বন্যার প্রভাব শুধু মানুষের জীবনেই সীমাবদ্ধ নেই। গবাদিপশুও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। সরকারি হিসাবে, এখন পর্যন্ত এক লাখ ৩৮ হাজার ৯৬৫টি পশু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি পানির প্রবল স্রোতে ৫৪০টি প্রাণী ভেসে গেছে, যার মধ্যে প্রায় ৫০০টি হাঁস-মুরগি রয়েছে।
এদিকে বুরহিদিহিং, দিখৌ, ধানসিরি (দক্ষিণ) ও কুশিয়ারা নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ডিসাং নদীর পানি সর্বোচ্চ বন্যাসীমাও অতিক্রম করেছে, যা নতুন করে প্লাবনের ঝুঁকি বাড়িয়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় উদ্ধার ও চিকিৎসা কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ১১১টি মেডিকেল দল, ৫৬টি উদ্ধার নৌকা এবং ভারতীয় বিমানবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার মোতায়েন রয়েছে। এখন পর্যন্ত আট হাজার ৪০৯ জন মানুষ এবং ৩৫টি প্রাণীকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পানি না কমা পর্যন্ত উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
2.png)