সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 অর্থনীতিঅর্থনীতি

বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে ট্রাম্পের নতুন শুল্ক

জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ ৬০টি বাণিজ্য অংশীদারের পণ্যে ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ নতুন শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার থেকেই এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হচ্ছে।

বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে ট্রাম্পের নতুন শুল্ক
ছবি -সংগৃহীত

বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৬০টি বাণিজ্য অংশীদার দেশের পণ্যের ওপর নতুন আমদানি শুল্ক কার্যকর করছে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না নেওয়ায় এসব দেশের পণ্যের ওপর ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) থেকে নতুন এ ব্যবস্থা কার্যকর হচ্ছে।

একই সঙ্গে ফেব্রুয়ারিতে অস্থায়ীভাবে আরোপ করা বৈশ্বিক ১০ শতাংশ শুল্কের মেয়াদও শেষ হচ্ছে। ফলে সেই ব্যবস্থার পরিবর্তে নতুন শুল্ক কাঠামো কার্যকর হবে।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টারের এক নোটিশে নতুন শুল্কের বিস্তারিত জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি হওয়া প্রায় ৯৯ দশমিক ৪ শতাংশ পণ্য এই সিদ্ধান্তের আওতায় পড়বে। তবে তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, সার এবং কিছু খাদ্যপণ্যসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পণ্যকে এ শুল্ক থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

নতুন শুল্ক আরোপে ব্যবহার করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের সেকশন ৩০১। ট্রাম্প প্রশাসনের মতে, এ আইনি ভিত্তির কারণে সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক রায়ের পরও অধিকাংশ আমদানিকৃত পণ্যের ওপর ন্যূনতম শুল্ক বহাল রাখা সম্ভব হবে। অতীতে সেকশন ৩০১-এর আওতায় নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ আদালতের পরীক্ষায় টিকে থাকায় এবারের সিদ্ধান্তও তুলনামূলকভাবে বেশি আইনি ভিত্তিসম্পন্ন বলে মনে করা হচ্ছে।

গত বছর জাতীয় জরুরি আইনের আওতায় বিভিন্ন দেশের পণ্যে ১০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত তথাকথিত ‘পারস্পরিক’ শুল্ক আরোপ করেছিলেন ট্রাম্প। তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট সেই ব্যবস্থা বাতিল করে দেয়। এরপর নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রায় সব আমদানিকৃত পণ্যের ওপর নতুনভাবে শুল্ক আরোপের পথ খুঁজতে থাকে হোয়াইট হাউস।

ফেব্রুয়ারিতে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর ১৫০ দিনের জন্য ১০ শতাংশ অস্থায়ী শুল্ক কার্যকর করা হয়েছিল। সেই মেয়াদ শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় রাত ১২টা ১ মিনিটে শেষ হবে এবং একই সময় থেকে নতুন শুল্ক কার্যকর হবে।

তবে যেসব পণ্য ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পথে রয়েছে, সেগুলো ২৮ জুলাই স্থানীয় সময় রাত ১২টা ১ মিনিট পর্যন্ত নতুন শুল্ক থেকে অব্যাহতি পাবে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার এক বিবৃতিতে বলেন, প্রায় এক শতাব্দী ধরে যুক্তরাষ্ট্রে জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে এবং ওয়াশিংটন তা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করে আসছে। তার ভাষ্য, বিশ্বের অন্যান্য বাণিজ্য অংশীদারদেরও একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার সময় অনেক আগেই এসেছে।

তিনি আরও বলেন, নতুন এই ব্যবস্থা মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বিকৃতি সৃষ্টি করা চর্চার বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ হিসেবে কাজ করবে। একই সঙ্গে এটি বিশ্বজুড়ে শ্রমিকদের অধিকার ও কল্যাণ রক্ষায়ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

চূড়ান্ত তালিকা অনুযায়ী বাংলাদেশ, ভারত, আর্জেন্টিনা, যুক্তরাজ্য, কম্বোডিয়া, কানাডা, ইকুয়েডর, এল সালভাদর, গুয়াতেমালা, হন্ডুরাস, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডান, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা এবং ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।

অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান ও সুইজারল্যান্ডের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ‘মোস্ট ফেভার্ড নেশন’ (এমএফএন) শুল্কহারের সঙ্গে নতুন হার যোগ করে মোট শুল্ক ১০ অথবা ১২ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া আরও ৩৮টি দেশের পণ্যের ওপর ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক ধার্য করা হয়েছে। এই তালিকায় চীনও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, চীনে উইঘুর সংখ্যালঘুদের জোরপূর্বক শ্রমশিবিরে কাজ করানো হয়। যদিও বেইজিং দীর্ঘদিন ধরে এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২০২৫ সালের নভেম্বরে প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের সঙ্গে হওয়া বাণিজ্য সমঝোতায় নির্ধারিত ২০ শতাংশ শুল্কহার আবারও চীনা পণ্যের ক্ষেত্রে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এ হার ২০ শতাংশের বেশি বাড়ানো হবে না বলেও জানানো হয়েছে।

এর আগে শুক্রবারের নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকরের আগে চীনা পণ্যের ওপর শুল্ক ১০ শতাংশে নেমে এসেছিল। তবে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে শিল্পপণ্যের ওপর আরোপিত ২৫ শতাংশ শুল্ক আগের মতোই বহাল রয়েছে।

বিষয় : ট্রাম্পের নতুন শুল্ক

কাল মহাকাল

শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬


বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে ট্রাম্পের নতুন শুল্ক

প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুলাই ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৬০টি বাণিজ্য অংশীদার দেশের পণ্যের ওপর নতুন আমদানি শুল্ক কার্যকর করছে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না নেওয়ায় এসব দেশের পণ্যের ওপর ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) থেকে নতুন এ ব্যবস্থা কার্যকর হচ্ছে।

একই সঙ্গে ফেব্রুয়ারিতে অস্থায়ীভাবে আরোপ করা বৈশ্বিক ১০ শতাংশ শুল্কের মেয়াদও শেষ হচ্ছে। ফলে সেই ব্যবস্থার পরিবর্তে নতুন শুল্ক কাঠামো কার্যকর হবে।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টারের এক নোটিশে নতুন শুল্কের বিস্তারিত জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি হওয়া প্রায় ৯৯ দশমিক ৪ শতাংশ পণ্য এই সিদ্ধান্তের আওতায় পড়বে। তবে তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, সার এবং কিছু খাদ্যপণ্যসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পণ্যকে এ শুল্ক থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

নতুন শুল্ক আরোপে ব্যবহার করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের সেকশন ৩০১। ট্রাম্প প্রশাসনের মতে, এ আইনি ভিত্তির কারণে সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক রায়ের পরও অধিকাংশ আমদানিকৃত পণ্যের ওপর ন্যূনতম শুল্ক বহাল রাখা সম্ভব হবে। অতীতে সেকশন ৩০১-এর আওতায় নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ আদালতের পরীক্ষায় টিকে থাকায় এবারের সিদ্ধান্তও তুলনামূলকভাবে বেশি আইনি ভিত্তিসম্পন্ন বলে মনে করা হচ্ছে।

গত বছর জাতীয় জরুরি আইনের আওতায় বিভিন্ন দেশের পণ্যে ১০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত তথাকথিত ‘পারস্পরিক’ শুল্ক আরোপ করেছিলেন ট্রাম্প। তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট সেই ব্যবস্থা বাতিল করে দেয়। এরপর নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রায় সব আমদানিকৃত পণ্যের ওপর নতুনভাবে শুল্ক আরোপের পথ খুঁজতে থাকে হোয়াইট হাউস।

ফেব্রুয়ারিতে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর ১৫০ দিনের জন্য ১০ শতাংশ অস্থায়ী শুল্ক কার্যকর করা হয়েছিল। সেই মেয়াদ শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় রাত ১২টা ১ মিনিটে শেষ হবে এবং একই সময় থেকে নতুন শুল্ক কার্যকর হবে।

তবে যেসব পণ্য ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পথে রয়েছে, সেগুলো ২৮ জুলাই স্থানীয় সময় রাত ১২টা ১ মিনিট পর্যন্ত নতুন শুল্ক থেকে অব্যাহতি পাবে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার এক বিবৃতিতে বলেন, প্রায় এক শতাব্দী ধরে যুক্তরাষ্ট্রে জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে এবং ওয়াশিংটন তা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করে আসছে। তার ভাষ্য, বিশ্বের অন্যান্য বাণিজ্য অংশীদারদেরও একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার সময় অনেক আগেই এসেছে।

তিনি আরও বলেন, নতুন এই ব্যবস্থা মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বিকৃতি সৃষ্টি করা চর্চার বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ হিসেবে কাজ করবে। একই সঙ্গে এটি বিশ্বজুড়ে শ্রমিকদের অধিকার ও কল্যাণ রক্ষায়ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

চূড়ান্ত তালিকা অনুযায়ী বাংলাদেশ, ভারত, আর্জেন্টিনা, যুক্তরাজ্য, কম্বোডিয়া, কানাডা, ইকুয়েডর, এল সালভাদর, গুয়াতেমালা, হন্ডুরাস, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডান, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা এবং ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।

অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান ও সুইজারল্যান্ডের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ‘মোস্ট ফেভার্ড নেশন’ (এমএফএন) শুল্কহারের সঙ্গে নতুন হার যোগ করে মোট শুল্ক ১০ অথবা ১২ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া আরও ৩৮টি দেশের পণ্যের ওপর ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক ধার্য করা হয়েছে। এই তালিকায় চীনও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, চীনে উইঘুর সংখ্যালঘুদের জোরপূর্বক শ্রমশিবিরে কাজ করানো হয়। যদিও বেইজিং দীর্ঘদিন ধরে এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২০২৫ সালের নভেম্বরে প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের সঙ্গে হওয়া বাণিজ্য সমঝোতায় নির্ধারিত ২০ শতাংশ শুল্কহার আবারও চীনা পণ্যের ক্ষেত্রে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এ হার ২০ শতাংশের বেশি বাড়ানো হবে না বলেও জানানো হয়েছে।

এর আগে শুক্রবারের নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকরের আগে চীনা পণ্যের ওপর শুল্ক ১০ শতাংশে নেমে এসেছিল। তবে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে শিল্পপণ্যের ওপর আরোপিত ২৫ শতাংশ শুল্ক আগের মতোই বহাল রয়েছে।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত