আন্তর্জাতিক
ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে চলমান রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ভাষায় আক্রমণ শানিয়েছেন কংগ্রেসের শীর্ষ নেত্রী সোনিয়া গান্ধী। তাঁর অভিযোগ, জবাবদিহি দাবি করা শিক্ষার্থীদের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়ার পরিবর্তে মোদি সরকার তাদের এমনভাবে দেখছে, যেন তারা দেশের প্রতিপক্ষ।
এক বিবৃতিতে সোনিয়া বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা সংকট, পরীক্ষা ব্যবস্থার প্রতি আস্থাহীনতা এবং সরকারের দায় এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতাই শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মূল উৎস। তাঁর ভাষ্য, ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় থাকা তরুণদের উদ্বেগকে গুরুত্ব না দিয়ে প্রশাসনিক কঠোরতা প্রয়োগ করলে সংকট আরও গভীর হবে।
তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধিতা বা প্রতিবাদ দেখা দিলেই বর্তমান সরকার আলোচনার বদলে শক্তি প্রয়োগের পথ বেছে নেয়। কৃষক আন্দোলনসহ সাম্প্রতিক বিভিন্ন গণআন্দোলনের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, একই ধারা এবার শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও অনুসরণ করা হচ্ছে।
সোনিয়া গান্ধীর মতে, যেসব তরুণ আগামী দিনে চিকিৎসক, প্রকৌশলী, শিক্ষক, প্রশাসক কিংবা উদ্যোক্তা হিসেবে দেশের দায়িত্ব নেবে, তাদের প্রতি রাষ্ট্রের আচরণ আরও দায়িত্বশীল ও সহানুভূতিশীল হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু বাস্তবে তাদের দাবির প্রতি সংবেদনশীল হওয়ার পরিবর্তে দমনমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাঁর দাবি, জনগণ এ ধরনের আচরণ সহজে ভুলবে না।
এদিকে রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় চলমান আন্দোলনের মধ্যেই বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেখানে তিনি জানান, শুক্রবার এ বিষয়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ঘোষণা করা হবে।
প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে অল্প সময়ের ব্যবধানে এটি ছিল প্রধানমন্ত্রীর দ্বিতীয় প্রকাশ্য বক্তব্য। এর আগে তিনি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে বিশেষ ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের ঘোষণা দিয়েছিলেন এবং দায়ীদের কঠোর শাস্তির আশ্বাস দেন।
সর্বশেষ ভিডিও বার্তায় মোদি বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস লাখো শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের জীবনে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে এবং সরকার বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। তাঁর দাবি, গত আড়াই মাসে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে এবং দ্রুত নতুন পরীক্ষার আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের একটি শিক্ষাবর্ষ নষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, প্রায় ২২ লাখ পরীক্ষার্থীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সক্ষমতা নিয়ে কাজ করেছে। একই সঙ্গে পরীক্ষা ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা পুনরুদ্ধারে প্রয়োজনীয় সংস্কারমূলক উদ্যোগও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
বিষয় : সোনিয়া গান্ধী মোদি সরকার
2.png)
শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুলাই ২০২৬
ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে চলমান রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ভাষায় আক্রমণ শানিয়েছেন কংগ্রেসের শীর্ষ নেত্রী সোনিয়া গান্ধী। তাঁর অভিযোগ, জবাবদিহি দাবি করা শিক্ষার্থীদের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়ার পরিবর্তে মোদি সরকার তাদের এমনভাবে দেখছে, যেন তারা দেশের প্রতিপক্ষ।
এক বিবৃতিতে সোনিয়া বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা সংকট, পরীক্ষা ব্যবস্থার প্রতি আস্থাহীনতা এবং সরকারের দায় এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতাই শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মূল উৎস। তাঁর ভাষ্য, ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় থাকা তরুণদের উদ্বেগকে গুরুত্ব না দিয়ে প্রশাসনিক কঠোরতা প্রয়োগ করলে সংকট আরও গভীর হবে।
তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধিতা বা প্রতিবাদ দেখা দিলেই বর্তমান সরকার আলোচনার বদলে শক্তি প্রয়োগের পথ বেছে নেয়। কৃষক আন্দোলনসহ সাম্প্রতিক বিভিন্ন গণআন্দোলনের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, একই ধারা এবার শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও অনুসরণ করা হচ্ছে।
সোনিয়া গান্ধীর মতে, যেসব তরুণ আগামী দিনে চিকিৎসক, প্রকৌশলী, শিক্ষক, প্রশাসক কিংবা উদ্যোক্তা হিসেবে দেশের দায়িত্ব নেবে, তাদের প্রতি রাষ্ট্রের আচরণ আরও দায়িত্বশীল ও সহানুভূতিশীল হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু বাস্তবে তাদের দাবির প্রতি সংবেদনশীল হওয়ার পরিবর্তে দমনমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাঁর দাবি, জনগণ এ ধরনের আচরণ সহজে ভুলবে না।
এদিকে রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় চলমান আন্দোলনের মধ্যেই বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেখানে তিনি জানান, শুক্রবার এ বিষয়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ঘোষণা করা হবে।
প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে অল্প সময়ের ব্যবধানে এটি ছিল প্রধানমন্ত্রীর দ্বিতীয় প্রকাশ্য বক্তব্য। এর আগে তিনি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে বিশেষ ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের ঘোষণা দিয়েছিলেন এবং দায়ীদের কঠোর শাস্তির আশ্বাস দেন।
সর্বশেষ ভিডিও বার্তায় মোদি বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস লাখো শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের জীবনে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে এবং সরকার বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। তাঁর দাবি, গত আড়াই মাসে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে এবং দ্রুত নতুন পরীক্ষার আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের একটি শিক্ষাবর্ষ নষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, প্রায় ২২ লাখ পরীক্ষার্থীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সক্ষমতা নিয়ে কাজ করেছে। একই সঙ্গে পরীক্ষা ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা পুনরুদ্ধারে প্রয়োজনীয় সংস্কারমূলক উদ্যোগও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
2.png)