সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 রাজনীতিরাজনীতি

কে হচ্ছেন বিএনপির নতুন মহাসচিব? জল্পনায় পাঁচ নেতা

দীর্ঘ এক দশক পর জাতীয় কাউন্সিলের প্রস্তুতি ঘিরে বিএনপিতে শুরু হয়েছে নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা। মহাসচিব পদে একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতার নাম ঘুরে বেড়ালেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে এখনো নীরব দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব।

কে হচ্ছেন বিএনপির নতুন মহাসচিব? জল্পনায় পাঁচ নেতা
ছবি -সংগৃহীত

দীর্ঘদিন পর জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি। কাউন্সিল যত ঘনিয়ে আসছে, ততই দলটির পরবর্তী মহাসচিব কে হচ্ছেন—সে প্রশ্ন রাজনৈতিক অঙ্গন ও দলীয় অভ্যন্তরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।

বিএনপির সর্বশেষ জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ। দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি তিন বছর পরপর কাউন্সিল হওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘ সময় সরকারবিরোধী আন্দোলন, রাজনৈতিক বাস্তবতা ও সাংগঠনিক ব্যস্ততার কারণে তা সম্ভব হয়নি।

সরকার গঠনের পর এটিই হবে বিএনপির প্রথম জাতীয় কাউন্সিল। ফলে শুধু নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন নয়, সরকার ও দলের মধ্যে নেতৃত্বের ভারসাম্য কীভাবে রক্ষা করা হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় এসেছে। দলটির একাধিক নীতিনির্ধারক, স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সম্ভাব্য নেতৃত্ব নিয়ে উচ্চপর্যায়ে নীরব আলোচনা চলছে। তবে প্রকাশ্যে এ বিষয়ে কেউই মন্তব্য করতে রাজি নন।

দলীয় সূত্রগুলোর ভাষ্য, বিএনপির সাংগঠনিক সংস্কৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে মনোনয়নের সিদ্ধান্ত শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত গোপন রাখার প্রবণতা রয়েছে। এবারও সেই ধারা অব্যাহত থাকতে পারে।

দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্ব নিয়ে দলের ভেতরে কোনো প্রশ্ন নেই। তবে সরকার পরিচালনার পাশাপাশি দলকে সক্রিয় রাখা, সরকারের সঙ্গে সাংগঠনিক সমন্বয়, নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ, জোট রাজনীতি এবং তৃণমূলের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখতে মহাসচিবের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দলীয় সূত্র বলছে, এবার মহাসচিব নির্বাচনের ক্ষেত্রে শুধু জ্যেষ্ঠতা নয়; সাংগঠনিক দক্ষতা, প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, সরকার ও দলের মধ্যে সমন্বয় করার সক্ষমতা এবং শীর্ষ নেতৃত্বের আস্থার বিষয়গুলোও গুরুত্ব পাবে।

সম্ভাব্যদের তালিকায় রয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব, দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং তৃণমূলের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ তাকে আলোচনার সামনের সারিতে রেখেছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদের নামও আলোচনায় রয়েছে। দলীয় সূত্রের দাবি, সরকার ও দলের মধ্যে সমন্বয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হলে তার সম্ভাবনা বাড়তে পারে।

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকেও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও নীতিনির্ধারণী বিষয়ে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা তার পক্ষে কাজ করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ ছাড়া যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের নামও দলীয় আলোচনায় রয়েছে। মাঠপর্যায়ের রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা এবং প্রশাসনিক সক্ষমতার কারণে তাদের নামও সম্ভাব্যদের তালিকায় উঠে এসেছে।

দলীয় সূত্রগুলো বলছে, নেতৃত্ব নির্বাচনে দুটি বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রথমত, সরকার ও দলের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা। দ্বিতীয়ত, সরকার ও দলের দায়িত্ব পৃথক রেখে পূর্ণসময়ের একজন সাংগঠনিক নেতাকে মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়া।

বর্তমান মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এখনো দায়িত্ব পালন করছেন। তবে জাতীয় কাউন্সিল সামনে রেখে তার উত্তরসূরি কে হবেন—সে আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে। একই সময়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়েও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতির তালিকায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নামও শোনা যাচ্ছে।

দলীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আসন্ন কাউন্সিলে শুধু মহাসচিব পদ নয়; স্থায়ী কমিটি, ভাইস চেয়ারম্যান, যুগ্ম মহাসচিব, সাংগঠনিক সম্পাদকসহ আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদে পরিবর্তন আসতে পারে। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বকে সামনে আনার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

পরবর্তী মহাসচিব প্রসঙ্গে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট রফিক শিকদার বলেন, “কারা আলোচনায় আছেন, সেটি এখনো জানি না। তবে নিশ্চয়ই দলের প্রয়োজন ও যোগ্যতা বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ১৬ মার্চ তৎকালীন মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পান। পরে জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে তিনি স্থায়ীভাবে মহাসচিব নির্বাচিত হন।

এদিকে, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সম্প্রতি বলেছেন, দলের জাতীয় কাউন্সিল দ্রুতই অনুষ্ঠিত হবে বলে তারা আশা করছেন। তবে এখনো কাউন্সিলের নির্দিষ্ট তারিখ চূড়ান্ত হয়নি।

বিষয় : বিএনপি জাতীয় কাউন্সিল মহাসচিব

কাল মহাকাল

রোববার, ২৬ জুলাই ২০২৬


কে হচ্ছেন বিএনপির নতুন মহাসচিব? জল্পনায় পাঁচ নেতা

প্রকাশের তারিখ : ২৬ জুলাই ২০২৬

featured Image

দীর্ঘদিন পর জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি। কাউন্সিল যত ঘনিয়ে আসছে, ততই দলটির পরবর্তী মহাসচিব কে হচ্ছেন—সে প্রশ্ন রাজনৈতিক অঙ্গন ও দলীয় অভ্যন্তরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।

বিএনপির সর্বশেষ জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ। দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি তিন বছর পরপর কাউন্সিল হওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘ সময় সরকারবিরোধী আন্দোলন, রাজনৈতিক বাস্তবতা ও সাংগঠনিক ব্যস্ততার কারণে তা সম্ভব হয়নি।

সরকার গঠনের পর এটিই হবে বিএনপির প্রথম জাতীয় কাউন্সিল। ফলে শুধু নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন নয়, সরকার ও দলের মধ্যে নেতৃত্বের ভারসাম্য কীভাবে রক্ষা করা হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় এসেছে। দলটির একাধিক নীতিনির্ধারক, স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সম্ভাব্য নেতৃত্ব নিয়ে উচ্চপর্যায়ে নীরব আলোচনা চলছে। তবে প্রকাশ্যে এ বিষয়ে কেউই মন্তব্য করতে রাজি নন।

দলীয় সূত্রগুলোর ভাষ্য, বিএনপির সাংগঠনিক সংস্কৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে মনোনয়নের সিদ্ধান্ত শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত গোপন রাখার প্রবণতা রয়েছে। এবারও সেই ধারা অব্যাহত থাকতে পারে।

দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্ব নিয়ে দলের ভেতরে কোনো প্রশ্ন নেই। তবে সরকার পরিচালনার পাশাপাশি দলকে সক্রিয় রাখা, সরকারের সঙ্গে সাংগঠনিক সমন্বয়, নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ, জোট রাজনীতি এবং তৃণমূলের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখতে মহাসচিবের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দলীয় সূত্র বলছে, এবার মহাসচিব নির্বাচনের ক্ষেত্রে শুধু জ্যেষ্ঠতা নয়; সাংগঠনিক দক্ষতা, প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, সরকার ও দলের মধ্যে সমন্বয় করার সক্ষমতা এবং শীর্ষ নেতৃত্বের আস্থার বিষয়গুলোও গুরুত্ব পাবে।

সম্ভাব্যদের তালিকায় রয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব, দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং তৃণমূলের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ তাকে আলোচনার সামনের সারিতে রেখেছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদের নামও আলোচনায় রয়েছে। দলীয় সূত্রের দাবি, সরকার ও দলের মধ্যে সমন্বয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হলে তার সম্ভাবনা বাড়তে পারে।

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকেও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও নীতিনির্ধারণী বিষয়ে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা তার পক্ষে কাজ করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ ছাড়া যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের নামও দলীয় আলোচনায় রয়েছে। মাঠপর্যায়ের রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা এবং প্রশাসনিক সক্ষমতার কারণে তাদের নামও সম্ভাব্যদের তালিকায় উঠে এসেছে।

দলীয় সূত্রগুলো বলছে, নেতৃত্ব নির্বাচনে দুটি বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রথমত, সরকার ও দলের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা। দ্বিতীয়ত, সরকার ও দলের দায়িত্ব পৃথক রেখে পূর্ণসময়ের একজন সাংগঠনিক নেতাকে মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়া।

বর্তমান মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এখনো দায়িত্ব পালন করছেন। তবে জাতীয় কাউন্সিল সামনে রেখে তার উত্তরসূরি কে হবেন—সে আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে। একই সময়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়েও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতির তালিকায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নামও শোনা যাচ্ছে।

দলীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আসন্ন কাউন্সিলে শুধু মহাসচিব পদ নয়; স্থায়ী কমিটি, ভাইস চেয়ারম্যান, যুগ্ম মহাসচিব, সাংগঠনিক সম্পাদকসহ আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদে পরিবর্তন আসতে পারে। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বকে সামনে আনার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

পরবর্তী মহাসচিব প্রসঙ্গে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট রফিক শিকদার বলেন, “কারা আলোচনায় আছেন, সেটি এখনো জানি না। তবে নিশ্চয়ই দলের প্রয়োজন ও যোগ্যতা বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ১৬ মার্চ তৎকালীন মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পান। পরে জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে তিনি স্থায়ীভাবে মহাসচিব নির্বাচিত হন।

এদিকে, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সম্প্রতি বলেছেন, দলের জাতীয় কাউন্সিল দ্রুতই অনুষ্ঠিত হবে বলে তারা আশা করছেন। তবে এখনো কাউন্সিলের নির্দিষ্ট তারিখ চূড়ান্ত হয়নি।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত