সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 জাতীয়জাতীয়

অতিরিক্ত লবণ-চিনি-চর্বি বাড়াচ্ছে প্রাণঘাতী রোগের ঝুঁকি

দেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭০ শতাংশই প্রতিরোধযোগ্য অসংক্রামক রোগে। বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাস্থ্যকর খাদ্য বাছাই সহজ করতে প্যাকেটজাত খাবারের সামনের অংশে স্পষ্ট সতর্কতামূলক লেবেল চালু করা জরুরি।

তারেক শাফিন
তারেক শাফিন
অতিরিক্ত লবণ-চিনি-চর্বি বাড়াচ্ছে প্রাণঘাতী রোগের ঝুঁকি
ছবি -সংগৃহীত

বাংলাদেশে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, কিডনি রোগ ও স্থূলতার মতো অসংক্রামক রোগ দ্রুত বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রক্রিয়াজাত খাদ্যে অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও ক্ষতিকর ট্রান্সফ্যাটের ব্যবহার এই সংকটকে আরও তীব্র করে তুলছে। তাই ভোক্তাদের সচেতন সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তার জন্য প্যাকেটজাত খাদ্যের সামনের অংশে সহজবোধ্য ও বাধ্যতামূলক ফ্রন্ট অব প্যাক লেবেলিং (এফওপিএল) চালুর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেক্টরের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশে প্যাকেটজাত খাদ্যের সামনের অংশে লেবেলিং (এফওপিএল) বিষয়ক গণমাধ্যম প্রচারাভিযান’ শীর্ষক কর্মশালায় বক্তারা এ আহ্বান জানান।

কর্মশালায় জানানো হয়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭০ শতাংশই প্রতিরোধযোগ্য অসংক্রামক রোগের কারণে ঘটে। অথচ বর্তমানে অধিকাংশ প্যাকেটজাত খাদ্যের পেছনে ছোট অক্ষরে লেখা পুষ্টি-তথ্য সাধারণ ভোক্তার জন্য সহজে বোঝা সম্ভব হয় না। ফলে স্বাস্থ্যকর খাদ্য নির্বাচনেও মানুষ বিভ্রান্ত হন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, প্যাকেটের সামনের অংশে স্পষ্ট ও সহজ সতর্কতামূলক লেবেল থাকলে ক্রেতারা মুহূর্তেই বুঝতে পারবেন কোনো খাদ্যে অতিরিক্ত লবণ, চিনি বা চর্বি রয়েছে কি না। এতে স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে সচেতন সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হবে।

ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য সেক্টরের পরিচালক ইকবাল মাসুদ স্বাগত বক্তব্যে বলেন, অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও চর্বিযুক্ত খাবার নীরবে মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে। বিশেষ করে শিশু ও তরুণদের প্রক্রিয়াজাত খাবারের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করতে এফওপিএল নীতিমালা কার্যকর করার বিকল্প নেই। তিনি জানান, সরকার এ বিষয়ে প্রবিধান তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে এবং এতে সহযোগী হিসেবে কাজ করছে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন। পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের কান্ট্রি লিড মুহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস বলেন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে বাংলাদেশে সহজ ও বাধ্যতামূলক এফওপিএল নীতিমালা প্রণয়নের কাজ এগিয়ে চলছে।

বারডেম জেনারেল হাসপাতালের প্রধান পুষ্টিবিদ সামসুন নাহার মহুয়া বলেন, শিশু-কিশোরদের মধ্যে প্রক্রিয়াজাত খাবারের প্রতি নির্ভরশীলতা বাড়ছে। এর ফলে অল্প বয়সেই স্থূলতা, হৃদরোগসহ বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। প্যাকেটের সামনের স্পষ্ট সতর্ক সংকেত স্বাস্থ্যকর ও অস্বাস্থ্যকর খাবার দ্রুত শনাক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

কর্মশালায় আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি প্রতিক ইজাজ, বাংলাভিশনের সিনিয়র নিউজ এডিটর আবু রুশদ মো. রুহুল আমিন এবং ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেলসহ অন্যরা।

বিষয় : খাদ্য_নিরাপত্তা

কাল মহাকাল

মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬


অতিরিক্ত লবণ-চিনি-চর্বি বাড়াচ্ছে প্রাণঘাতী রোগের ঝুঁকি

প্রকাশের তারিখ : ২৮ জুলাই ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, কিডনি রোগ ও স্থূলতার মতো অসংক্রামক রোগ দ্রুত বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রক্রিয়াজাত খাদ্যে অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও ক্ষতিকর ট্রান্সফ্যাটের ব্যবহার এই সংকটকে আরও তীব্র করে তুলছে। তাই ভোক্তাদের সচেতন সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তার জন্য প্যাকেটজাত খাদ্যের সামনের অংশে সহজবোধ্য ও বাধ্যতামূলক ফ্রন্ট অব প্যাক লেবেলিং (এফওপিএল) চালুর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেক্টরের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশে প্যাকেটজাত খাদ্যের সামনের অংশে লেবেলিং (এফওপিএল) বিষয়ক গণমাধ্যম প্রচারাভিযান’ শীর্ষক কর্মশালায় বক্তারা এ আহ্বান জানান।

কর্মশালায় জানানো হয়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭০ শতাংশই প্রতিরোধযোগ্য অসংক্রামক রোগের কারণে ঘটে। অথচ বর্তমানে অধিকাংশ প্যাকেটজাত খাদ্যের পেছনে ছোট অক্ষরে লেখা পুষ্টি-তথ্য সাধারণ ভোক্তার জন্য সহজে বোঝা সম্ভব হয় না। ফলে স্বাস্থ্যকর খাদ্য নির্বাচনেও মানুষ বিভ্রান্ত হন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, প্যাকেটের সামনের অংশে স্পষ্ট ও সহজ সতর্কতামূলক লেবেল থাকলে ক্রেতারা মুহূর্তেই বুঝতে পারবেন কোনো খাদ্যে অতিরিক্ত লবণ, চিনি বা চর্বি রয়েছে কি না। এতে স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে সচেতন সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হবে।

ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য সেক্টরের পরিচালক ইকবাল মাসুদ স্বাগত বক্তব্যে বলেন, অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও চর্বিযুক্ত খাবার নীরবে মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে। বিশেষ করে শিশু ও তরুণদের প্রক্রিয়াজাত খাবারের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করতে এফওপিএল নীতিমালা কার্যকর করার বিকল্প নেই। তিনি জানান, সরকার এ বিষয়ে প্রবিধান তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে এবং এতে সহযোগী হিসেবে কাজ করছে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন। পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের কান্ট্রি লিড মুহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস বলেন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে বাংলাদেশে সহজ ও বাধ্যতামূলক এফওপিএল নীতিমালা প্রণয়নের কাজ এগিয়ে চলছে।

বারডেম জেনারেল হাসপাতালের প্রধান পুষ্টিবিদ সামসুন নাহার মহুয়া বলেন, শিশু-কিশোরদের মধ্যে প্রক্রিয়াজাত খাবারের প্রতি নির্ভরশীলতা বাড়ছে। এর ফলে অল্প বয়সেই স্থূলতা, হৃদরোগসহ বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। প্যাকেটের সামনের স্পষ্ট সতর্ক সংকেত স্বাস্থ্যকর ও অস্বাস্থ্যকর খাবার দ্রুত শনাক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

কর্মশালায় আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি প্রতিক ইজাজ, বাংলাভিশনের সিনিয়র নিউজ এডিটর আবু রুশদ মো. রুহুল আমিন এবং ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেলসহ অন্যরা।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত