রাত গভীর। শহরের কোলাহল অনেক আগেই থেমে গেছে। কিন্তু একটি ঘরে এখনও আলো জ্বলছে। একজন বাবা বিছানার কিনারায় বসে হিসাব মিলানোর চেষ্টা করছেন। মাসের শেষ, হাতে টাকার পরিমাণ কমে এসেছে। বাড়ি ভাড়া, সন্তানের স্কুলের বেতন, বৃদ্ধ বাবার ওষুধ, নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজার—সব মিলিয়ে মনে হচ্ছে যেন কোনো পথই খোলা নেই। তিনি ভাবছেন, "আরেকটা কাজ করলে হয়তো চলবে। আরেকটু আয় হলে হয়তো সব ঠিক হয়ে যাবে।"
এই দৃশ্য আজ অসংখ্য মানুষের জীবনের প্রতিচ্ছবি। রিজিকের চিন্তা মানুষের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তাগুলোর একটি। কিন্তু এই উদ্বেগের মাঝেই কুরআন আমাদের এমন একটি সত্য শোনায়, যা শুধু আশা নয়, একটি নিশ্চিত প্রতিশ্রুতিও বহন করে।
আল্লাহ তা'আলা বলেন,
وَمَن يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَل لَّهُ مَخْرَجًا ۞ وَيَرْزُقْهُ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ ۚ وَمَن يَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ فَهُوَ حَسْبُهُ
উচ্চারণ: ওয়া মাই ইয়াত্তাকিল্লাহা ইয়াজআল লাহু মাখরাজা। ওয়া ইয়ারযুকহু মিন হাইসু লা ইয়াহতাসিব। ওয়া মাই ইয়াতাওয়াক্কাল আলাল্লাহি ফাহুয়া হাসবুহ।
অর্থ: "যে আল্লাহকে ভয় করে (তাকওয়া অবলম্বন করে), আল্লাহ তার জন্য উত্তরণের পথ বের করে দেন। এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দেন, যা সে কল্পনাও করেনি। আর যে আল্লাহর ওপর ভরসা করে, তার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট।"
(সূরা আত-তালাক: ২–৩)
এই দুই আয়াতে আল্লাহ দুটি শর্তের বিনিময়ে তিনটি অসাধারণ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
তাকওয়া শুধু আল্লাহকে ভয় করার নাম নয়। বরং এমন জীবনযাপন, যেখানে প্রতিটি সিদ্ধান্তে একজন মানুষ ভাবেন—"এতে কি আমার রব সন্তুষ্ট হবেন?"
তাকওয়া মানে—
অনেক সময় হারাম উপায়ে সাময়িক লাভ দেখা যায়। তখন মনে হয়, "এটা না করলে তো সংসার চলবে না।" কিন্তু তাকওয়া ঠিক সেই মুহূর্তে আল্লাহর সন্তুষ্টিকে নিজের লাভের চেয়ে বড় করে দেখার শিক্ষা দেয়।
আল্লাহ বলেন,
"يَجْعَل لَّهُ مَخْرَجًا"
অর্থাৎ তিনি তার জন্য বেরিয়ে আসার পথ তৈরি করে দেন।
"মাখরাজ" শব্দের অর্থ হলো বের হওয়ার রাস্তা বা মুক্তির দরজা।
জীবনে এমন অনেক পরিস্থিতি আসে, যখন মনে হয় চারদিকে শুধু অন্ধকার। চাকরি নেই, ব্যবসায় লোকসান, ঋণের চাপ, পারিবারিক সংকট—কোনো সমাধান চোখে পড়ে না।
কিন্তু আল্লাহ বলছেন, তাকওয়াবান মানুষের জন্য তিনি এমন একটি পথ খুলে দেন, যা মানুষ আগে দেখতেই পারেনি।
অনেকেই নিজের জীবনে এমন অভিজ্ঞতার কথা বলেন—একটি সুযোগ হঠাৎ সামনে এসেছে, অপ্রত্যাশিত একজন মানুষ সাহায্যের হাত বাড়িয়েছেন, বহুদিনের আটকে থাকা পাওনা ফিরে এসেছে, কিংবা এমন একটি কাজের ব্যবস্থা হয়েছে, যা আগে কল্পনাতেও ছিল না।
মুমিন এসব ঘটনাকে শুধু "ভাগ্য" বলে না। সে জানে, এগুলো তার রবের পরিকল্পনার অংশ।
আল্লাহ বলেন,
"وَيَرْزُقْهُ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ"
অর্থাৎ তিনি এমন উৎস থেকে রিজিক দেন, যা মানুষের কল্পনাতেও ছিল না।
আমরা সাধারণত মনে করি, রিজিকের উৎস কয়েকটিই—চাকরি, ব্যবসা, কৃষি, বেতন বা সঞ্চয়।
কিন্তু আল্লাহর ভাণ্ডার মানুষের কল্পনার চেয়ে অনেক বিস্তৃত।
কখনো নতুন একটি সুযোগ, কখনো এমন একজন মানুষের সহায়তা, কখনো অপ্রত্যাশিত একটি কাজ, কখনো এমন একটি রাস্তা—যার কথা মানুষ কখনো ভাবেওনি।
তবে এই আয়াতের অর্থ এই নয় যে, প্রত্যেক তাকওয়াবান মানুষ ধনী হয়ে যাবেন। ইসলামে রিজিক শুধু অর্থ নয়; সুস্থতা, সন্তুষ্টি, বরকত, নিরাপত্তা, উত্তম পরিবার, উপকারী জ্ঞান—সবই রিজিকের অন্তর্ভুক্ত।
অনেক সময় কম আয়েও এমন বরকত আসে, যা অনেক বেশি আয়ের মধ্যেও পাওয়া যায় না।
তাওয়াক্কুল মানে অলস হয়ে বসে থাকা নয়।
বরং সর্বোচ্চ চেষ্টা করার পর ফলাফল আল্লাহর হাতে সঁপে দেওয়া।
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
"তোমরা যদি আল্লাহর ওপর যথাযথভাবে ভরসা করতে, তবে তিনি তোমাদের এমনভাবে রিজিক দিতেন, যেমন তিনি পাখিদের রিজিক দেন। তারা সকালে খালি পেটে বের হয় এবং সন্ধ্যায় ভরা পেটে ফিরে আসে।" (জামে তিরমিজি, হাদিস: ২৩৪৪)
খেয়াল করুন, পাখি বাসায় বসে থাকে না। সে সকালে বের হয়, খাদ্যের সন্ধান করে। চেষ্টা করে। তারপর আল্লাহ তাকে রিজিক দেন।
এটাই তাওয়াক্কুল।
আল্লাহ বলেন,
"وَمَن يَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ فَهُوَ حَسْبُهُ"
অর্থাৎ যে আল্লাহর ওপর ভরসা করে, আল্লাহই তার জন্য যথেষ্ট।
এটি শুধু একটি বাক্য নয়; একজন মুমিনের মানসিক শক্তির ভিত্তি।
যদি মানুষ শুধু চাকরির ওপর ভরসা করে, চাকরি হারালে সে ভেঙে পড়বে।
যদি ব্যবসার ওপর ভরসা করে, লোকসানে সে হতাশ হয়ে যাবে।
যদি মানুষের ওপর ভরসা করে, মানুষ মুখ ফিরিয়ে নিলে সে অসহায় হয়ে যাবে।
কিন্তু যার ভরসা আল্লাহ, সে জানে—একটি দরজা বন্ধ হলে আরেকটি দরজা খোলার ক্ষমতা শুধু তাঁরই আছে।
অনেক সময় মানুষ কঠোর পরিশ্রম করেও শান্তি পায় না।
এর কারণ শুধু আয়ের পরিমাণ নয়; বরকতের অভাবও হতে পারে।
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
"পবিত্র ও হালাল উপার্জনই সর্বোত্তম উপার্জন।" (অর্থগতভাবে সহিহ হাদিসসমূহের শিক্ষার সারাংশ)
হারাম উপার্জনে হয়তো অর্থ বাড়ে, কিন্তু শান্তি, তৃপ্তি ও বরকত কমে যায়।
অন্যদিকে হালাল উপার্জন অল্প হলেও আল্লাহ তাতে বরকত দান করেন।
এই আয়াত আমাদের অলস হওয়ার শিক্ষা দেয় না। বরং চারটি কাজ শেখায়—
যখনই রিজিকের দুশ্চিন্তা গ্রাস করবে, সূরা আত-তালাকের এই দুই আয়াত পড়ুন। নিজেকে প্রশ্ন করুন—
রিজিকের মালিক চাকরি নয়, ব্যবসা নয়, মানুষও নয়। রিজিকের মালিক একমাত্র আল্লাহ।
তাই রিজিকের প্রকৃত সমীকরণ হলো—তাকওয়া, আন্তরিক চেষ্টা এবং তাওয়াক্কুল।
যখন একজন বান্দা আল্লাহকে সন্তুষ্ট রাখার চেষ্টা করে, হালালকে আঁকড়ে ধরে এবং সব প্রচেষ্টার পর নিজের হৃদয় আল্লাহর ওপর সঁপে দেয়, তখন আল্লাহ তাঁর জন্য এমন সব পথ খুলে দেন, যা মানুষের হিসাবের বাইরে। হয়তো সেই পথ অর্থের মাধ্যমে আসে, হয়তো বরকতের মাধ্যমে, হয়তো কোনো অপ্রত্যাশিত সুযোগের মাধ্যমে। কিন্তু একটি বিষয় নিশ্চিত—আল্লাহ তাঁর প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন না।
হয়তো আজই নিজের জীবনের দিকে নতুন করে তাকানোর সময়। কারণ কখনও কখনও রিজিক বাড়ানোর সবচেয়ে বড় উপায় আরও বেশি দৌড়ানো নয়; বরং আল্লাহর দিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাওয়া।
বিষয় : রিজিক বৃদ্ধি
2.png)
রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ আগস্ট ২০২৬
রাত গভীর। শহরের কোলাহল অনেক আগেই থেমে গেছে। কিন্তু একটি ঘরে এখনও আলো জ্বলছে। একজন বাবা বিছানার কিনারায় বসে হিসাব মিলানোর চেষ্টা করছেন। মাসের শেষ, হাতে টাকার পরিমাণ কমে এসেছে। বাড়ি ভাড়া, সন্তানের স্কুলের বেতন, বৃদ্ধ বাবার ওষুধ, নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজার—সব মিলিয়ে মনে হচ্ছে যেন কোনো পথই খোলা নেই। তিনি ভাবছেন, "আরেকটা কাজ করলে হয়তো চলবে। আরেকটু আয় হলে হয়তো সব ঠিক হয়ে যাবে।"
এই দৃশ্য আজ অসংখ্য মানুষের জীবনের প্রতিচ্ছবি। রিজিকের চিন্তা মানুষের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তাগুলোর একটি। কিন্তু এই উদ্বেগের মাঝেই কুরআন আমাদের এমন একটি সত্য শোনায়, যা শুধু আশা নয়, একটি নিশ্চিত প্রতিশ্রুতিও বহন করে।
আল্লাহ তা'আলা বলেন,
وَمَن يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَل لَّهُ مَخْرَجًا ۞ وَيَرْزُقْهُ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ ۚ وَمَن يَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ فَهُوَ حَسْبُهُ
উচ্চারণ: ওয়া মাই ইয়াত্তাকিল্লাহা ইয়াজআল লাহু মাখরাজা। ওয়া ইয়ারযুকহু মিন হাইসু লা ইয়াহতাসিব। ওয়া মাই ইয়াতাওয়াক্কাল আলাল্লাহি ফাহুয়া হাসবুহ।
অর্থ: "যে আল্লাহকে ভয় করে (তাকওয়া অবলম্বন করে), আল্লাহ তার জন্য উত্তরণের পথ বের করে দেন। এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দেন, যা সে কল্পনাও করেনি। আর যে আল্লাহর ওপর ভরসা করে, তার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট।"
(সূরা আত-তালাক: ২–৩)
এই দুই আয়াতে আল্লাহ দুটি শর্তের বিনিময়ে তিনটি অসাধারণ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
তাকওয়া শুধু আল্লাহকে ভয় করার নাম নয়। বরং এমন জীবনযাপন, যেখানে প্রতিটি সিদ্ধান্তে একজন মানুষ ভাবেন—"এতে কি আমার রব সন্তুষ্ট হবেন?"
তাকওয়া মানে—
অনেক সময় হারাম উপায়ে সাময়িক লাভ দেখা যায়। তখন মনে হয়, "এটা না করলে তো সংসার চলবে না।" কিন্তু তাকওয়া ঠিক সেই মুহূর্তে আল্লাহর সন্তুষ্টিকে নিজের লাভের চেয়ে বড় করে দেখার শিক্ষা দেয়।
আল্লাহ বলেন,
"يَجْعَل لَّهُ مَخْرَجًا"
অর্থাৎ তিনি তার জন্য বেরিয়ে আসার পথ তৈরি করে দেন।
"মাখরাজ" শব্দের অর্থ হলো বের হওয়ার রাস্তা বা মুক্তির দরজা।
জীবনে এমন অনেক পরিস্থিতি আসে, যখন মনে হয় চারদিকে শুধু অন্ধকার। চাকরি নেই, ব্যবসায় লোকসান, ঋণের চাপ, পারিবারিক সংকট—কোনো সমাধান চোখে পড়ে না।
কিন্তু আল্লাহ বলছেন, তাকওয়াবান মানুষের জন্য তিনি এমন একটি পথ খুলে দেন, যা মানুষ আগে দেখতেই পারেনি।
অনেকেই নিজের জীবনে এমন অভিজ্ঞতার কথা বলেন—একটি সুযোগ হঠাৎ সামনে এসেছে, অপ্রত্যাশিত একজন মানুষ সাহায্যের হাত বাড়িয়েছেন, বহুদিনের আটকে থাকা পাওনা ফিরে এসেছে, কিংবা এমন একটি কাজের ব্যবস্থা হয়েছে, যা আগে কল্পনাতেও ছিল না।
মুমিন এসব ঘটনাকে শুধু "ভাগ্য" বলে না। সে জানে, এগুলো তার রবের পরিকল্পনার অংশ।
আল্লাহ বলেন,
"وَيَرْزُقْهُ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ"
অর্থাৎ তিনি এমন উৎস থেকে রিজিক দেন, যা মানুষের কল্পনাতেও ছিল না।
আমরা সাধারণত মনে করি, রিজিকের উৎস কয়েকটিই—চাকরি, ব্যবসা, কৃষি, বেতন বা সঞ্চয়।
কিন্তু আল্লাহর ভাণ্ডার মানুষের কল্পনার চেয়ে অনেক বিস্তৃত।
কখনো নতুন একটি সুযোগ, কখনো এমন একজন মানুষের সহায়তা, কখনো অপ্রত্যাশিত একটি কাজ, কখনো এমন একটি রাস্তা—যার কথা মানুষ কখনো ভাবেওনি।
তবে এই আয়াতের অর্থ এই নয় যে, প্রত্যেক তাকওয়াবান মানুষ ধনী হয়ে যাবেন। ইসলামে রিজিক শুধু অর্থ নয়; সুস্থতা, সন্তুষ্টি, বরকত, নিরাপত্তা, উত্তম পরিবার, উপকারী জ্ঞান—সবই রিজিকের অন্তর্ভুক্ত।
অনেক সময় কম আয়েও এমন বরকত আসে, যা অনেক বেশি আয়ের মধ্যেও পাওয়া যায় না।
তাওয়াক্কুল মানে অলস হয়ে বসে থাকা নয়।
বরং সর্বোচ্চ চেষ্টা করার পর ফলাফল আল্লাহর হাতে সঁপে দেওয়া।
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
"তোমরা যদি আল্লাহর ওপর যথাযথভাবে ভরসা করতে, তবে তিনি তোমাদের এমনভাবে রিজিক দিতেন, যেমন তিনি পাখিদের রিজিক দেন। তারা সকালে খালি পেটে বের হয় এবং সন্ধ্যায় ভরা পেটে ফিরে আসে।" (জামে তিরমিজি, হাদিস: ২৩৪৪)
খেয়াল করুন, পাখি বাসায় বসে থাকে না। সে সকালে বের হয়, খাদ্যের সন্ধান করে। চেষ্টা করে। তারপর আল্লাহ তাকে রিজিক দেন।
এটাই তাওয়াক্কুল।
আল্লাহ বলেন,
"وَمَن يَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ فَهُوَ حَسْبُهُ"
অর্থাৎ যে আল্লাহর ওপর ভরসা করে, আল্লাহই তার জন্য যথেষ্ট।
এটি শুধু একটি বাক্য নয়; একজন মুমিনের মানসিক শক্তির ভিত্তি।
যদি মানুষ শুধু চাকরির ওপর ভরসা করে, চাকরি হারালে সে ভেঙে পড়বে।
যদি ব্যবসার ওপর ভরসা করে, লোকসানে সে হতাশ হয়ে যাবে।
যদি মানুষের ওপর ভরসা করে, মানুষ মুখ ফিরিয়ে নিলে সে অসহায় হয়ে যাবে।
কিন্তু যার ভরসা আল্লাহ, সে জানে—একটি দরজা বন্ধ হলে আরেকটি দরজা খোলার ক্ষমতা শুধু তাঁরই আছে।
অনেক সময় মানুষ কঠোর পরিশ্রম করেও শান্তি পায় না।
এর কারণ শুধু আয়ের পরিমাণ নয়; বরকতের অভাবও হতে পারে।
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
"পবিত্র ও হালাল উপার্জনই সর্বোত্তম উপার্জন।" (অর্থগতভাবে সহিহ হাদিসসমূহের শিক্ষার সারাংশ)
হারাম উপার্জনে হয়তো অর্থ বাড়ে, কিন্তু শান্তি, তৃপ্তি ও বরকত কমে যায়।
অন্যদিকে হালাল উপার্জন অল্প হলেও আল্লাহ তাতে বরকত দান করেন।
এই আয়াত আমাদের অলস হওয়ার শিক্ষা দেয় না। বরং চারটি কাজ শেখায়—
যখনই রিজিকের দুশ্চিন্তা গ্রাস করবে, সূরা আত-তালাকের এই দুই আয়াত পড়ুন। নিজেকে প্রশ্ন করুন—
রিজিকের মালিক চাকরি নয়, ব্যবসা নয়, মানুষও নয়। রিজিকের মালিক একমাত্র আল্লাহ।
তাই রিজিকের প্রকৃত সমীকরণ হলো—তাকওয়া, আন্তরিক চেষ্টা এবং তাওয়াক্কুল।
যখন একজন বান্দা আল্লাহকে সন্তুষ্ট রাখার চেষ্টা করে, হালালকে আঁকড়ে ধরে এবং সব প্রচেষ্টার পর নিজের হৃদয় আল্লাহর ওপর সঁপে দেয়, তখন আল্লাহ তাঁর জন্য এমন সব পথ খুলে দেন, যা মানুষের হিসাবের বাইরে। হয়তো সেই পথ অর্থের মাধ্যমে আসে, হয়তো বরকতের মাধ্যমে, হয়তো কোনো অপ্রত্যাশিত সুযোগের মাধ্যমে। কিন্তু একটি বিষয় নিশ্চিত—আল্লাহ তাঁর প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন না।
হয়তো আজই নিজের জীবনের দিকে নতুন করে তাকানোর সময়। কারণ কখনও কখনও রিজিক বাড়ানোর সবচেয়ে বড় উপায় আরও বেশি দৌড়ানো নয়; বরং আল্লাহর দিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাওয়া।
2.png)