রাজনীতিরাজনীতি

বিএনপির স্থানীয় কমিটিতে আসছে নতুন মুখ

জাতীয় কাউন্সিল ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত সাংগঠনিক পুনর্গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। স্থায়ী কমিটির শূন্য পদে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ ও সক্রিয় নেতার নাম এখন আলোচনায় রয়েছে।

ফারহান আবিদ
ফারহান আবিদ
বিএনপির স্থানীয় কমিটিতে আসছে নতুন মুখ
ছবি -সংগৃহীত

জাতীয় কাউন্সিল ও আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে সাংগঠনিক কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তুতি শুরু করেছে বিএনপি। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব থেকে শুরু করে জেলা, মহানগর ও উপজেলা পর্যায়ের কমিটি পুনর্গঠনের পাশাপাশি দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটিতেও নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির আলোচনা জোরালো হয়েছে।

দলীয় সূত্র বলছে, দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ক্রিয় হয়ে থাকা নেতাদের পরিবর্তে মাঠপর্যায়ে সক্রিয়, ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতৃত্বকে সামনে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে অভিজ্ঞ নেতাদেরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়ে দলকে আরও কার্যকর ও সংগঠিত করার কৌশল নেওয়া হয়েছে।

বিএনপির নীতিনির্ধারকদের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগে শক্তিশালী সাংগঠনিক ভিত্তি গড়ে তোলা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। দুর্বল সাংগঠনিক অবস্থায় নির্বাচনে গেলে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলগুলো সুবিধা নিতে পারে বলেও মনে করছেন তারা।

দলীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় এক দশক পর চলতি বছরের ডিসেম্বরে জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সরকার গঠনের পর এখন দলের সাংগঠনিক পুনর্গঠনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। কাউন্সিলের আগেই স্থায়ী কমিটির শূন্য পদগুলো পূরণের সম্ভাবনাও রয়েছে।

এ বিষয়ে দলের অভ্যন্তরে আলোচনা রয়েছে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন কিংবা ড. আব্দুল মঈন খান রাষ্ট্রপতি বা সংসদের গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক দায়িত্বে গেলে স্থায়ী কমিটিতে নতুন শূন্যতা সৃষ্টি হতে পারে।

অন্যদিকে বয়স ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে কয়েকজন প্রবীণ সদস্য দীর্ঘদিন ধরেই দলীয় কার্যক্রমে সক্রিয় নন। ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া ও লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান অসুস্থ থাকায় নিয়মিত সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না। এছাড়া স্পিকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ দলীয় সাংগঠনিক পদে না থাকায় নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী এই ফোরামে সাধারণত দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও দলের প্রতি অবদানের ভিত্তিতে সদস্য নির্বাচন করা হয়। দলীয় নীতি নির্ধারণ, নির্বাচন কৌশল প্রণয়ন এবং গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে এই কমিটির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বর্তমানে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাউদ্দিন আহমদ, বেগম সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

দলীয় একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শূন্য পদগুলোতে নতুন সদস্য হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম মনি, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ এবং অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। এছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু ও চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুকের নামও সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান বলেন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নানা বাস্তবতার কারণে গত এক দশকে দলীয় কাউন্সিল আয়োজন সম্ভব হয়নি। তবে এ সময়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম থেমে ছিল না এবং দল পুনর্গঠনের কাজ ধারাবাহিকভাবে চলেছে। তবে নতুন নেতৃত্ব কিংবা কাউন্সিলের সময়সূচি সম্পর্কে তিনি নির্দিষ্ট কোনো মন্তব্য করেননি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকার পরিচালনার পাশাপাশি দলীয় সংগঠনকে সক্রিয় রাখা যে কোনো রাজনৈতিক দলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। সে বিবেচনায় বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে নতুন ও রাজপথে পরীক্ষিত নেতৃত্বকে অন্তর্ভুক্ত করা হলে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে তারা মনে করছেন।

বিষয় : বিএনপি বিএনপি স্থায়ী কমিটি নতুন মুখ

কাল মহাকাল

রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬


বিএনপির স্থানীয় কমিটিতে আসছে নতুন মুখ

প্রকাশের তারিখ : ০২ আগস্ট ২০২৬

featured Image

জাতীয় কাউন্সিল ও আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে সাংগঠনিক কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তুতি শুরু করেছে বিএনপি। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব থেকে শুরু করে জেলা, মহানগর ও উপজেলা পর্যায়ের কমিটি পুনর্গঠনের পাশাপাশি দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটিতেও নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির আলোচনা জোরালো হয়েছে।

দলীয় সূত্র বলছে, দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ক্রিয় হয়ে থাকা নেতাদের পরিবর্তে মাঠপর্যায়ে সক্রিয়, ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতৃত্বকে সামনে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে অভিজ্ঞ নেতাদেরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়ে দলকে আরও কার্যকর ও সংগঠিত করার কৌশল নেওয়া হয়েছে।

বিএনপির নীতিনির্ধারকদের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগে শক্তিশালী সাংগঠনিক ভিত্তি গড়ে তোলা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। দুর্বল সাংগঠনিক অবস্থায় নির্বাচনে গেলে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলগুলো সুবিধা নিতে পারে বলেও মনে করছেন তারা।

দলীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় এক দশক পর চলতি বছরের ডিসেম্বরে জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সরকার গঠনের পর এখন দলের সাংগঠনিক পুনর্গঠনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। কাউন্সিলের আগেই স্থায়ী কমিটির শূন্য পদগুলো পূরণের সম্ভাবনাও রয়েছে।

এ বিষয়ে দলের অভ্যন্তরে আলোচনা রয়েছে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন কিংবা ড. আব্দুল মঈন খান রাষ্ট্রপতি বা সংসদের গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক দায়িত্বে গেলে স্থায়ী কমিটিতে নতুন শূন্যতা সৃষ্টি হতে পারে।

অন্যদিকে বয়স ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে কয়েকজন প্রবীণ সদস্য দীর্ঘদিন ধরেই দলীয় কার্যক্রমে সক্রিয় নন। ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া ও লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান অসুস্থ থাকায় নিয়মিত সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না। এছাড়া স্পিকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ দলীয় সাংগঠনিক পদে না থাকায় নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী এই ফোরামে সাধারণত দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও দলের প্রতি অবদানের ভিত্তিতে সদস্য নির্বাচন করা হয়। দলীয় নীতি নির্ধারণ, নির্বাচন কৌশল প্রণয়ন এবং গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে এই কমিটির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বর্তমানে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাউদ্দিন আহমদ, বেগম সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

দলীয় একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শূন্য পদগুলোতে নতুন সদস্য হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম মনি, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ এবং অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। এছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু ও চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুকের নামও সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান বলেন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নানা বাস্তবতার কারণে গত এক দশকে দলীয় কাউন্সিল আয়োজন সম্ভব হয়নি। তবে এ সময়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম থেমে ছিল না এবং দল পুনর্গঠনের কাজ ধারাবাহিকভাবে চলেছে। তবে নতুন নেতৃত্ব কিংবা কাউন্সিলের সময়সূচি সম্পর্কে তিনি নির্দিষ্ট কোনো মন্তব্য করেননি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকার পরিচালনার পাশাপাশি দলীয় সংগঠনকে সক্রিয় রাখা যে কোনো রাজনৈতিক দলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। সে বিবেচনায় বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে নতুন ও রাজপথে পরীক্ষিত নেতৃত্বকে অন্তর্ভুক্ত করা হলে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে তারা মনে করছেন।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত