লোকাল ফোকাসলোকাল ফোকাস

চট্টগ্রামে আর থাকছেনা প্যাডেল রিকশা, আসছে লিথিয়াম ই-রিকশা

চট্টগ্রাম নগরীর পরিবহন ব্যবস্থা আধুনিক ও সুশৃঙ্খল করতে ধাপে ধাপে প্যাডেলচালিত রিকশার পরিবর্তে লিথিয়াম ব্যাটারিচালিত ই-রিকশা চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিটি করপোরেশন। তবে সুবিধা মিলবে শুধু নিবন্ধিত ও লাইসেন্স নবায়ন করা রিকশার মালিকদের।

চট্টগ্রামে আর থাকছেনা প্যাডেল রিকশা, আসছে লিথিয়াম ই-রিকশা
ছবি -সংগৃহীত

চট্টগ্রাম নগরীতে প্যাডেলচালিত রিকশার পরিবর্তে ধাপে ধাপে পরিবেশবান্ধব লিথিয়াম ব্যাটারিচালিত ই-রিকশা চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। ট্রাফিক ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আনা, যানজট কমানো এবং রিকশাচালকদের শারীরিক পরিশ্রম হ্রাস করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সোমবার (৩ আগস্ট) নগর ভবনের সম্মেলন কক্ষে চট্টগ্রাম মহানগর রিকশাচালক-মালিক ঐক্য পরিষদের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ ঘোষণা দেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

মেয়র জানান, নতুন ই-রিকশার লাইসেন্স কেবল সেই সব মালিক পাবেন, যাদের প্যাডেলচালিত রিকশা নিবন্ধিত এবং নিয়মিত লাইসেন্স নবায়ন করা রয়েছে। যাদের নিবন্ধন বা নবায়ন এখনো সম্পন্ন হয়নি, তাদের দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ করার আহ্বান জানান তিনি। অনিবন্ধিত রিকশা এই সুবিধার আওতায় আসবে না বলেও স্পষ্ট করেন মেয়র।

তার ভাষ্য, নগরীতে বর্তমানে প্রায় ৭০ হাজার রিকশার লাইসেন্স থাকলেও এর মধ্যে মাত্র ২৫ হাজারের মতো লাইসেন্স নবায়ন করা হয়েছে। বাকি প্রায় ৪৫ হাজার রিকশার মালিক এখনও নবায়ন করেননি। তারা দ্রুত নবায়ন করলে ভবিষ্যতে ই-রিকশার লাইসেন্স পাওয়ার সুযোগের পাশাপাশি সিটি করপোরেশনের রাজস্বও বাড়বে।

সভায় জানানো হয়, লেড-অ্যাসিড ব্যাটারির তুলনায় লিথিয়াম ব্যাটারি বেশি টেকসই, হালকা এবং দ্রুত চার্জ হয়। এসব ই-রিকশায় সাধারণত ব্যাটারির আয়ুষ্কাল ৪ থেকে ৭ বছর, একবার চার্জে তুলনামূলক বেশি পথ চলা যায় এবং রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ও কম।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, শুধু নতুন যানবাহন চালু করাই লক্ষ্য নয়; পুরো রিকশা ব্যবস্থাকে একটি সুশৃঙ্খল কাঠামোর আওতায় আনা হবে। নিবন্ধিত রিকশার তথ্যভান্ডার হালনাগাদ হলে নগরীর যানবাহন ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে। একই সঙ্গে চালকদের শ্রম কমবে, যাত্রীসেবার মান উন্নত হবে এবং পরিবেশের ওপরও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

তিনি আরও জানান, নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী দুটি প্যাডেলচালিত রিকশার পরিবর্তে একটি লিথিয়াম ব্যাটারিচালিত ই-রিকশার লাইসেন্স দেওয়া হবে। এতে রিকশার সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে থাকবে, যানজট কমবে এবং অবৈধ ও অনিয়ন্ত্রিত ব্যাটারিচালিত যানবাহনের ব্যবহারও ধীরে ধীরে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। পাশাপাশি নগরীর পরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং সিটি করপোরেশনের রাজস্ব আয় বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে।

মতবিনিময় সভায় চট্টগ্রাম মহানগর রিকশাচালক-মালিক ঐক্য পরিষদের সভাপতি আবদুল কাদের মজুমদার, সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান, সহসভাপতি খোরশেদ আলম, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান মোস্তফা, সাংগঠনিক সম্পাদক সালাউদ্দীন সোহাগ, মহিলা সম্পাদক সালমা আকতার শিউলীসহ সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বিষয় : চট্টগ্রাম প্যাডেল চালিত রিক্সা

কাল মহাকাল

মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬


চট্টগ্রামে আর থাকছেনা প্যাডেল রিকশা, আসছে লিথিয়াম ই-রিকশা

প্রকাশের তারিখ : ০৪ আগস্ট ২০২৬

featured Image

চট্টগ্রাম নগরীতে প্যাডেলচালিত রিকশার পরিবর্তে ধাপে ধাপে পরিবেশবান্ধব লিথিয়াম ব্যাটারিচালিত ই-রিকশা চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। ট্রাফিক ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আনা, যানজট কমানো এবং রিকশাচালকদের শারীরিক পরিশ্রম হ্রাস করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সোমবার (৩ আগস্ট) নগর ভবনের সম্মেলন কক্ষে চট্টগ্রাম মহানগর রিকশাচালক-মালিক ঐক্য পরিষদের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ ঘোষণা দেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

মেয়র জানান, নতুন ই-রিকশার লাইসেন্স কেবল সেই সব মালিক পাবেন, যাদের প্যাডেলচালিত রিকশা নিবন্ধিত এবং নিয়মিত লাইসেন্স নবায়ন করা রয়েছে। যাদের নিবন্ধন বা নবায়ন এখনো সম্পন্ন হয়নি, তাদের দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ করার আহ্বান জানান তিনি। অনিবন্ধিত রিকশা এই সুবিধার আওতায় আসবে না বলেও স্পষ্ট করেন মেয়র।

তার ভাষ্য, নগরীতে বর্তমানে প্রায় ৭০ হাজার রিকশার লাইসেন্স থাকলেও এর মধ্যে মাত্র ২৫ হাজারের মতো লাইসেন্স নবায়ন করা হয়েছে। বাকি প্রায় ৪৫ হাজার রিকশার মালিক এখনও নবায়ন করেননি। তারা দ্রুত নবায়ন করলে ভবিষ্যতে ই-রিকশার লাইসেন্স পাওয়ার সুযোগের পাশাপাশি সিটি করপোরেশনের রাজস্বও বাড়বে।

সভায় জানানো হয়, লেড-অ্যাসিড ব্যাটারির তুলনায় লিথিয়াম ব্যাটারি বেশি টেকসই, হালকা এবং দ্রুত চার্জ হয়। এসব ই-রিকশায় সাধারণত ব্যাটারির আয়ুষ্কাল ৪ থেকে ৭ বছর, একবার চার্জে তুলনামূলক বেশি পথ চলা যায় এবং রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ও কম।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, শুধু নতুন যানবাহন চালু করাই লক্ষ্য নয়; পুরো রিকশা ব্যবস্থাকে একটি সুশৃঙ্খল কাঠামোর আওতায় আনা হবে। নিবন্ধিত রিকশার তথ্যভান্ডার হালনাগাদ হলে নগরীর যানবাহন ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে। একই সঙ্গে চালকদের শ্রম কমবে, যাত্রীসেবার মান উন্নত হবে এবং পরিবেশের ওপরও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

তিনি আরও জানান, নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী দুটি প্যাডেলচালিত রিকশার পরিবর্তে একটি লিথিয়াম ব্যাটারিচালিত ই-রিকশার লাইসেন্স দেওয়া হবে। এতে রিকশার সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে থাকবে, যানজট কমবে এবং অবৈধ ও অনিয়ন্ত্রিত ব্যাটারিচালিত যানবাহনের ব্যবহারও ধীরে ধীরে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। পাশাপাশি নগরীর পরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং সিটি করপোরেশনের রাজস্ব আয় বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে।

মতবিনিময় সভায় চট্টগ্রাম মহানগর রিকশাচালক-মালিক ঐক্য পরিষদের সভাপতি আবদুল কাদের মজুমদার, সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান, সহসভাপতি খোরশেদ আলম, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান মোস্তফা, সাংগঠনিক সম্পাদক সালাউদ্দীন সোহাগ, মহিলা সম্পাদক সালমা আকতার শিউলীসহ সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 

কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত