ঢাকাঢাকা

হামলার পর কারখানার রাস্তা কাটল ডিএনসিসি, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

ডিএনসিসির প্রশাসক ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের ওপর হামলার ঘটনার একদিন পর উত্তরখানের একটি কারখানার সামনে রাস্তা কেটে নালা নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। সিটি করপোরেশন বলছে এটি পূর্বপরিকল্পিত কাজ, আর কারখানার কর্মীদের অভিযোগ—এটি মালিকপক্ষকে চাপে ফেলতেই করা হয়েছে।

সুবাস সোম
সুবাস সোম
হামলার পর কারখানার রাস্তা কাটল ডিএনসিসি, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
ছবি -সংগৃহীত

রাজধানীর উত্তরখানে ডিএনসিসির প্রশাসক ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের ওপর হামলার ঘটনার পরদিনই একটি রপ্তানিমুখী শিল্পকারখানার একমাত্র প্রবেশপথ কেটে নালা নির্মাণের কাজ শুরু করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। এ ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

সোমবার সরেজমিনে দেখা যায়, উত্তরখানের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকায় অবস্থিত নেপচুন অ্যাকসেসরিজ সলিউশন কারখানার সামনের সড়ক খনন করা হয়েছে। কাটা মাটি রাস্তার পাশে স্তূপ করে রাখা হয়েছে। আগের দিনের সংঘর্ষের পর থেকে কারখানাটি বন্ধ রয়েছে।

ডিএনসিসির অঞ্চল-৮-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা আ ন ম বদরুদ্দোজা জানান, ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই পানি নিষ্কাশনের জন্য একটি নালা নির্মাণের প্রয়োজন ছিল। তাঁর দাবি, কারখানা কর্তৃপক্ষের আপত্তির কারণে এতদিন কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। গতকালের ঘটনার পর সুযোগ তৈরি হওয়ায় নালা নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে এবং এক সপ্তাহের মধ্যে রাস্তা পুনর্নির্মাণ করা হবে।

তবে কারখানার কয়েকজন কর্মী ভিন্ন অভিযোগ তুলেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা বলেন, মালিকপক্ষকে ভোগান্তিতে ফেলতেই কারখানার সামনে রাস্তা কেটে দেওয়া হয়েছে।

নেপচুন অ্যাকসেসরিজ সলিউশনের সামনে ২০২৩ সালে ডিএনসিসির একটি অস্থায়ী বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্র (এসটিএস) স্থাপন করা হয়। কারখানায় যাতায়াতের একমাত্র সড়কটি ওই এসটিএসের পাশ দিয়ে গেছে।

কারখানার কর্মীদের ভাষ্য, এসটিএসে জমে থাকা ময়লার দুর্গন্ধে কাজের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছিল। বিদেশি ক্রেতারাও এ নিয়ে আপত্তি জানান। পরে আদালতে গিয়ে এসটিএসে বর্জ্য রাখার ওপর নিষেধাজ্ঞা আনেন কারখানা কর্তৃপক্ষ।

কর্মীদের অভিযোগ, আদালতের আদেশের পর এসটিএসের ভেতরে ময়লা না রেখে সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা কারখানার সামনের সড়কেই বর্জ্য ফেলতে শুরু করেন। এতে দুর্গন্ধের পাশাপাশি কারখানায় যাতায়াতও ব্যাহত হচ্ছিল।

সোমবার দুপুরেও দেখা যায়, কারখানার প্রবেশপথের সামনের সড়কে বর্জ্যের স্তূপ জমা করা হচ্ছে। এ সময় আরও কয়েকটি পিকআপ ও ভটভটি থেকে সেখানে ময়লা ফেলা হয়, ফলে প্রবেশপথ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।

এসটিএসের কর্মী হাসমত আলী বলেন, আদালতের নির্দেশের কারণে কেন্দ্রের ভেতরে বর্জ্য রাখা যাচ্ছে না। তাই আপাতত সরকারি সড়কের অংশে ময়লা রাখা হচ্ছে। পরে রাতের বেলায় সেগুলো ডাম্প ট্রাকে করে আমিনবাজার ল্যান্ডফিলে নেওয়া হয়।

ডিএনসিসি, পুলিশ ও কারখানা সূত্র জানায়, রোববার সকালে কারখানার এক ব্যবস্থাপক সড়কে ময়লা ফেলার ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গেলে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সঙ্গে তাঁর বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি, হাতাহাতি এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।

পরে বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান ডিএনসিসির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান ও ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন। এ সময়ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

কারখানার কর্মীদের দাবি, মালিককে হেনস্তা করা হচ্ছিল বলে শ্রমিকরা তাঁকে রক্ষায় এগিয়ে আসেন। অন্যদিকে ডিএনসিসির অভিযোগ, প্রশাসক ও সংসদ সদস্যের ওপর পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে এবং এতে মালিকপক্ষের ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা জড়িত ছিল।

উত্তরখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান জানান, এ ঘটনায় ডিএনসিসির করা মামলায় এখন পর্যন্ত ২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, হামলার ঘটনার পর রোববার গভীর রাতে এক্সক্যাভেটর দিয়ে কারখানার সামনের রাস্তা কেটে ফেলা হয়।

এদিকে নগর পরিকল্পনাবিদ আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, রাজধানীতে অনেক এসটিএস পরিকল্পনা অনুযায়ী স্থাপন করা হয়নি। ফলে বিভিন্ন এলাকায় জনভোগান্তি ও বিরোধ তৈরি হচ্ছে। তাঁর মতে, রাজউকের মাস্টারপ্ল্যানের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় প্রভাব মূল্যায়নের ভিত্তিতে এসটিএস স্থাপন করা উচিত। প্রয়োজনে ভূমি অধিগ্রহণ করে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় এসব স্থাপনা নির্মাণ করলে এ ধরনের সংকট অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।

বিষয় : ডিএনসিসি নেপচুন অ্যাকসেসরিজ সলিউশন সড়ক খনন

কাল মহাকাল

সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২৬


হামলার পর কারখানার রাস্তা কাটল ডিএনসিসি, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ০৩ আগস্ট ২০২৬

featured Image

রাজধানীর উত্তরখানে ডিএনসিসির প্রশাসক ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের ওপর হামলার ঘটনার পরদিনই একটি রপ্তানিমুখী শিল্পকারখানার একমাত্র প্রবেশপথ কেটে নালা নির্মাণের কাজ শুরু করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। এ ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

সোমবার সরেজমিনে দেখা যায়, উত্তরখানের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকায় অবস্থিত নেপচুন অ্যাকসেসরিজ সলিউশন কারখানার সামনের সড়ক খনন করা হয়েছে। কাটা মাটি রাস্তার পাশে স্তূপ করে রাখা হয়েছে। আগের দিনের সংঘর্ষের পর থেকে কারখানাটি বন্ধ রয়েছে।

ডিএনসিসির অঞ্চল-৮-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা আ ন ম বদরুদ্দোজা জানান, ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই পানি নিষ্কাশনের জন্য একটি নালা নির্মাণের প্রয়োজন ছিল। তাঁর দাবি, কারখানা কর্তৃপক্ষের আপত্তির কারণে এতদিন কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। গতকালের ঘটনার পর সুযোগ তৈরি হওয়ায় নালা নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে এবং এক সপ্তাহের মধ্যে রাস্তা পুনর্নির্মাণ করা হবে।

তবে কারখানার কয়েকজন কর্মী ভিন্ন অভিযোগ তুলেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা বলেন, মালিকপক্ষকে ভোগান্তিতে ফেলতেই কারখানার সামনে রাস্তা কেটে দেওয়া হয়েছে।

নেপচুন অ্যাকসেসরিজ সলিউশনের সামনে ২০২৩ সালে ডিএনসিসির একটি অস্থায়ী বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্র (এসটিএস) স্থাপন করা হয়। কারখানায় যাতায়াতের একমাত্র সড়কটি ওই এসটিএসের পাশ দিয়ে গেছে।

কারখানার কর্মীদের ভাষ্য, এসটিএসে জমে থাকা ময়লার দুর্গন্ধে কাজের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছিল। বিদেশি ক্রেতারাও এ নিয়ে আপত্তি জানান। পরে আদালতে গিয়ে এসটিএসে বর্জ্য রাখার ওপর নিষেধাজ্ঞা আনেন কারখানা কর্তৃপক্ষ।

কর্মীদের অভিযোগ, আদালতের আদেশের পর এসটিএসের ভেতরে ময়লা না রেখে সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা কারখানার সামনের সড়কেই বর্জ্য ফেলতে শুরু করেন। এতে দুর্গন্ধের পাশাপাশি কারখানায় যাতায়াতও ব্যাহত হচ্ছিল।

সোমবার দুপুরেও দেখা যায়, কারখানার প্রবেশপথের সামনের সড়কে বর্জ্যের স্তূপ জমা করা হচ্ছে। এ সময় আরও কয়েকটি পিকআপ ও ভটভটি থেকে সেখানে ময়লা ফেলা হয়, ফলে প্রবেশপথ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।

এসটিএসের কর্মী হাসমত আলী বলেন, আদালতের নির্দেশের কারণে কেন্দ্রের ভেতরে বর্জ্য রাখা যাচ্ছে না। তাই আপাতত সরকারি সড়কের অংশে ময়লা রাখা হচ্ছে। পরে রাতের বেলায় সেগুলো ডাম্প ট্রাকে করে আমিনবাজার ল্যান্ডফিলে নেওয়া হয়।

ডিএনসিসি, পুলিশ ও কারখানা সূত্র জানায়, রোববার সকালে কারখানার এক ব্যবস্থাপক সড়কে ময়লা ফেলার ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গেলে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সঙ্গে তাঁর বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি, হাতাহাতি এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।

পরে বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান ডিএনসিসির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান ও ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন। এ সময়ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

কারখানার কর্মীদের দাবি, মালিককে হেনস্তা করা হচ্ছিল বলে শ্রমিকরা তাঁকে রক্ষায় এগিয়ে আসেন। অন্যদিকে ডিএনসিসির অভিযোগ, প্রশাসক ও সংসদ সদস্যের ওপর পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে এবং এতে মালিকপক্ষের ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা জড়িত ছিল।

উত্তরখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান জানান, এ ঘটনায় ডিএনসিসির করা মামলায় এখন পর্যন্ত ২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, হামলার ঘটনার পর রোববার গভীর রাতে এক্সক্যাভেটর দিয়ে কারখানার সামনের রাস্তা কেটে ফেলা হয়।

এদিকে নগর পরিকল্পনাবিদ আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, রাজধানীতে অনেক এসটিএস পরিকল্পনা অনুযায়ী স্থাপন করা হয়নি। ফলে বিভিন্ন এলাকায় জনভোগান্তি ও বিরোধ তৈরি হচ্ছে। তাঁর মতে, রাজউকের মাস্টারপ্ল্যানের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় প্রভাব মূল্যায়নের ভিত্তিতে এসটিএস স্থাপন করা উচিত। প্রয়োজনে ভূমি অধিগ্রহণ করে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় এসব স্থাপনা নির্মাণ করলে এ ধরনের সংকট অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।



কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 

কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত