বাংলাদেশ
আন্দোলন, সংগ্রাম ও রাজনৈতিক বিতর্কের পর এখন দেশের পুনর্গঠনই সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে দেশবিরোধী যেকোনো ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সতর্ক থাকার এবং জনগণকে সচেতন করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন ও সংগ্রামের পর এখন সময় এসেছে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার। শান্ত ও ধৈর্যশীলভাবে পুনর্গঠনের কাজ চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি যারা অস্থিতিশীলতা বা ষড়যন্ত্রের চেষ্টা করবে, তাদের বিষয়ে জনগণকে সচেতন রাখতে হবে। একই সঙ্গে জনগণের সামনে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
জনগণের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষ এখন রাজনৈতিক বক্তব্যের চেয়ে বাস্তব কাজ দেখতে চায়। তারা নিরাপদ সড়ক, উন্নত শিক্ষা ও চিকিৎসা, কর্মসংস্থান এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে ব্যবসা-বাণিজ্য ও চাকরির সুযোগ প্রত্যাশা করে। পাশাপাশি সময়মতো নিজের রাজনৈতিক অধিকার প্রয়োগের নিশ্চয়তাও জনগণের অন্যতম দাবি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
জুলাই আন্দোলনে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে তারেক রহমান বলেন, ওই আন্দোলনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, অরাজনৈতিক ব্যক্তি এবং সাধারণ মানুষ নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সরকারের সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে সরকার ভবিষ্যতেও থাকবে।
এ সময় স্বাধীনতা যুদ্ধসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আত্মত্যাগকারী শহীদদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান তিনি।
জুলাই আন্দোলনকে জনগণের আন্দোলন হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই আন্দোলনের সফলতার কৃতিত্ব কোনো একক ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের নয়; বরং দেশের সর্বস্তরের মানুষের। জনগণ পরিবর্তন চেয়েছিল বলেই আন্দোলন সফল হয়েছে। তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, স্বাধীনতার মতোই জুলাই আন্দোলনের সাফল্যের পেছনেও জনগণের ইচ্ছাশক্তিই ছিল সবচেয়ে বড় শক্তি।
বিএনপির রাজনৈতিক দর্শনের প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার আদর্শ অনুসরণ করেই বিএনপি দেশের উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণে কাজ করতে চায়। তিনি দাবি করেন, ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সালের মধ্যে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দেশে প্রায় ৮০ হাজার শিল্পকারখানা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কে কী বলছে, সেদিকে অতিরিক্ত গুরুত্ব না দিয়ে জনগণের দেওয়া দায়িত্ব সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতে হবে। ব্যক্তিগত প্রাপ্তির চেয়ে দেশ ও জনগণের জন্য কী দেওয়া যায়, সেটিই রাজনীতির মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফা কর্মপরিকল্পনার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি মূলত জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার রূপরেখা। তার ভাষায়, এই কর্মপরিকল্পনার লক্ষ্য হলো মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্রকে একটি জবাবদিহিমূলক ও কল্যাণমুখী পথে এগিয়ে নেওয়া।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে এবং দলের প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাহ উদ্দিন টুকুর সঞ্চালনায় আয়োজিত আলোচনা সভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, কেন্দ্রীয় নেতা এবং জ্যেষ্ঠ নেতারাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
2.png)
মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ আগস্ট ২০২৬
আন্দোলন, সংগ্রাম ও রাজনৈতিক বিতর্কের পর এখন দেশের পুনর্গঠনই সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে দেশবিরোধী যেকোনো ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সতর্ক থাকার এবং জনগণকে সচেতন করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন ও সংগ্রামের পর এখন সময় এসেছে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার। শান্ত ও ধৈর্যশীলভাবে পুনর্গঠনের কাজ চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি যারা অস্থিতিশীলতা বা ষড়যন্ত্রের চেষ্টা করবে, তাদের বিষয়ে জনগণকে সচেতন রাখতে হবে। একই সঙ্গে জনগণের সামনে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
জনগণের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষ এখন রাজনৈতিক বক্তব্যের চেয়ে বাস্তব কাজ দেখতে চায়। তারা নিরাপদ সড়ক, উন্নত শিক্ষা ও চিকিৎসা, কর্মসংস্থান এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে ব্যবসা-বাণিজ্য ও চাকরির সুযোগ প্রত্যাশা করে। পাশাপাশি সময়মতো নিজের রাজনৈতিক অধিকার প্রয়োগের নিশ্চয়তাও জনগণের অন্যতম দাবি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
জুলাই আন্দোলনে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে তারেক রহমান বলেন, ওই আন্দোলনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, অরাজনৈতিক ব্যক্তি এবং সাধারণ মানুষ নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সরকারের সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে সরকার ভবিষ্যতেও থাকবে।
এ সময় স্বাধীনতা যুদ্ধসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আত্মত্যাগকারী শহীদদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান তিনি।
জুলাই আন্দোলনকে জনগণের আন্দোলন হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই আন্দোলনের সফলতার কৃতিত্ব কোনো একক ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের নয়; বরং দেশের সর্বস্তরের মানুষের। জনগণ পরিবর্তন চেয়েছিল বলেই আন্দোলন সফল হয়েছে। তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, স্বাধীনতার মতোই জুলাই আন্দোলনের সাফল্যের পেছনেও জনগণের ইচ্ছাশক্তিই ছিল সবচেয়ে বড় শক্তি।
বিএনপির রাজনৈতিক দর্শনের প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার আদর্শ অনুসরণ করেই বিএনপি দেশের উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণে কাজ করতে চায়। তিনি দাবি করেন, ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সালের মধ্যে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দেশে প্রায় ৮০ হাজার শিল্পকারখানা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কে কী বলছে, সেদিকে অতিরিক্ত গুরুত্ব না দিয়ে জনগণের দেওয়া দায়িত্ব সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতে হবে। ব্যক্তিগত প্রাপ্তির চেয়ে দেশ ও জনগণের জন্য কী দেওয়া যায়, সেটিই রাজনীতির মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফা কর্মপরিকল্পনার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি মূলত জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার রূপরেখা। তার ভাষায়, এই কর্মপরিকল্পনার লক্ষ্য হলো মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্রকে একটি জবাবদিহিমূলক ও কল্যাণমুখী পথে এগিয়ে নেওয়া।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে এবং দলের প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাহ উদ্দিন টুকুর সঞ্চালনায় আয়োজিত আলোচনা সভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, কেন্দ্রীয় নেতা এবং জ্যেষ্ঠ নেতারাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
2.png)