বাংলাদেশবাংলাদেশ

পদায়ন-পদোন্নতি বিতর্কে পুলিশে বাড়ছে অস্বস্তি

পদায়ন ও পদোন্নতিতে অনিয়ম, তদবির ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ ঘিরে বাহিনীর ভেতরে অসন্তোষ বাড়ছে। তবে পুলিশ সদর দপ্তর এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে, একটি স্বার্থান্বেষী মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে।

সুমন শাহরিয়ার
সুমন শাহরিয়ার
পদায়ন-পদোন্নতি বিতর্কে পুলিশে বাড়ছে অস্বস্তি
ছবি -সংগৃহীত

পুলিশ প্রশাসনের ভেতরে বদলি ও পদোন্নতি নিয়ে দীর্ঘদিনের অসন্তোষ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের একটি অংশের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ ও পদায়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও যোগ্যতার পরিবর্তে তদবির এবং আর্থিক প্রভাব গুরুত্ব পাচ্ছে। এতে সদস্যদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে এবং এর প্রভাব মাঠপর্যায়ের দায়িত্ব পালনের ওপরও পড়তে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।

কয়েকজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পুলিশে পেশাদার পরিবেশ ফিরে আসার প্রত্যাশা থাকলেও বাস্তবে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। তাদের ভাষ্য, অতীতের মতোই বদলি নিয়ে একটি প্রভাবশালী চক্র সক্রিয় রয়েছে। ফলে যোগ্য কর্মকর্তারা বঞ্চিত হচ্ছেন, আর এ কারণে বাহিনীর অভ্যন্তরে ক্ষোভ জমছে।

তাদের মতে, জেলার পুলিশ সুপার, রেঞ্জ ডিআইজি এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে নির্ধারিত মূল্যায়ন পদ্ধতি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না। এতে মেধা ও অভিজ্ঞতার পরিবর্তে তদবিরনির্ভর সিদ্ধান্তের অভিযোগ বাড়ছে।

কর্মকর্তাদের কেউ কেউ দাবি করেন, অর্থের বিনিময়ে পদায়ন হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার প্রথম লক্ষ্য হয়ে যায় সেই অর্থ তুলে আনা। এর ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন বা জনসেবা গৌণ হয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

পুলিশের অভ্যন্তরীণ কাঠামো নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে সাব-ইন্সপেক্টর পদে নিয়োগ ও পদোন্নতির নিয়ম পরিবর্তনের কারণে দীর্ঘদিন ধরে বিভাগীয় পদোন্নতির অপেক্ষায় থাকা কর্মকর্তাদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুলিশ মহাপরিদর্শকের নিরাপত্তায় নিয়োজিত এক সদস্যের কথোপকথনের একটি অডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বদলি ও পদায়ন ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। ওই অডিওতে বিভিন্ন পদে বদলি নিয়ে অর্থ লেনদেনের ইঙ্গিত রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এর আগে নেত্রকোনার কলমাকান্দা থানার তৎকালীন ওসির একটি অডিওও ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল, যেখানে থানাকেন্দ্রিক আর্থিক লেনদেন নিয়ে তার বক্তব্য সমালোচনার মুখে পড়ে। পরে তাকে প্রত্যাহার করা হয়।

তবে এসব অভিযোগ পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। অতিরিক্ত আইজিপি (অ্যাডমিন) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ প্রচার করা হচ্ছে, সেগুলোর বাস্তব ভিত্তি নেই। তার দাবি, বর্তমান আইজিপিকে ঘিরে বাহিনীর ভেতরে একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী অপতথ্য ছড়াচ্ছে।

ভাইরাল অডিও প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একজন কর্মকর্তা ব্যক্তিগত তদবিরের জন্য আইজিপির বডিগার্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। বডিগার্ড তাতে সহযোগিতা করতে অস্বীকৃতি জানালে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সেই কথোপকথন রেকর্ড করে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। তার ভাষ্য, কোনো বডিগার্ডের পক্ষে বদলি বা পদায়নের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই।

বিষয় : বাংলাদেশ পুলিশ পদোন্নতি ও পদায়ন জটিলতা

কাল মহাকাল

বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬


পদায়ন-পদোন্নতি বিতর্কে পুলিশে বাড়ছে অস্বস্তি

প্রকাশের তারিখ : ০৬ আগস্ট ২০২৬

featured Image

পুলিশ প্রশাসনের ভেতরে বদলি ও পদোন্নতি নিয়ে দীর্ঘদিনের অসন্তোষ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের একটি অংশের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ ও পদায়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও যোগ্যতার পরিবর্তে তদবির এবং আর্থিক প্রভাব গুরুত্ব পাচ্ছে। এতে সদস্যদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে এবং এর প্রভাব মাঠপর্যায়ের দায়িত্ব পালনের ওপরও পড়তে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।

কয়েকজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পুলিশে পেশাদার পরিবেশ ফিরে আসার প্রত্যাশা থাকলেও বাস্তবে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। তাদের ভাষ্য, অতীতের মতোই বদলি নিয়ে একটি প্রভাবশালী চক্র সক্রিয় রয়েছে। ফলে যোগ্য কর্মকর্তারা বঞ্চিত হচ্ছেন, আর এ কারণে বাহিনীর অভ্যন্তরে ক্ষোভ জমছে।

তাদের মতে, জেলার পুলিশ সুপার, রেঞ্জ ডিআইজি এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে নির্ধারিত মূল্যায়ন পদ্ধতি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না। এতে মেধা ও অভিজ্ঞতার পরিবর্তে তদবিরনির্ভর সিদ্ধান্তের অভিযোগ বাড়ছে।

কর্মকর্তাদের কেউ কেউ দাবি করেন, অর্থের বিনিময়ে পদায়ন হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার প্রথম লক্ষ্য হয়ে যায় সেই অর্থ তুলে আনা। এর ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন বা জনসেবা গৌণ হয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

পুলিশের অভ্যন্তরীণ কাঠামো নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে সাব-ইন্সপেক্টর পদে নিয়োগ ও পদোন্নতির নিয়ম পরিবর্তনের কারণে দীর্ঘদিন ধরে বিভাগীয় পদোন্নতির অপেক্ষায় থাকা কর্মকর্তাদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুলিশ মহাপরিদর্শকের নিরাপত্তায় নিয়োজিত এক সদস্যের কথোপকথনের একটি অডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বদলি ও পদায়ন ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। ওই অডিওতে বিভিন্ন পদে বদলি নিয়ে অর্থ লেনদেনের ইঙ্গিত রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এর আগে নেত্রকোনার কলমাকান্দা থানার তৎকালীন ওসির একটি অডিওও ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল, যেখানে থানাকেন্দ্রিক আর্থিক লেনদেন নিয়ে তার বক্তব্য সমালোচনার মুখে পড়ে। পরে তাকে প্রত্যাহার করা হয়।

তবে এসব অভিযোগ পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। অতিরিক্ত আইজিপি (অ্যাডমিন) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ প্রচার করা হচ্ছে, সেগুলোর বাস্তব ভিত্তি নেই। তার দাবি, বর্তমান আইজিপিকে ঘিরে বাহিনীর ভেতরে একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী অপতথ্য ছড়াচ্ছে।

ভাইরাল অডিও প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একজন কর্মকর্তা ব্যক্তিগত তদবিরের জন্য আইজিপির বডিগার্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। বডিগার্ড তাতে সহযোগিতা করতে অস্বীকৃতি জানালে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সেই কথোপকথন রেকর্ড করে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। তার ভাষ্য, কোনো বডিগার্ডের পক্ষে বদলি বা পদায়নের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 

কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত