আন্তর্জাতিক
আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের অবস্থান আবারও দৃশ্যমান ও কার্যকর হয়ে উঠছে বলে মন্তব্য করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। তার এই পর্যবেক্ষণের কথা জানিয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের কূটনৈতিক অবস্থান নিয়ে বিদেশি অংশীদারদের মধ্যেও ইতিবাচক মূল্যায়ন তৈরি হয়েছে।
বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন।
ড. খলিলুর রহমান বলেন, সম্প্রতি তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে তার আলোচনার সময় তিনি মন্তব্য করেন যে, একসময় বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছিল। তবে এখন দেশটি আবারও নিজের অবস্থান ফিরে পাচ্ছে, যা তুরস্কের জন্যও আনন্দের বিষয়।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এমন মন্তব্য শুধু একটি বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের মূল্যায়ন নয়; এটি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিবর্তন সম্পর্কে আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টিভঙ্গিরও প্রতিফলন। তার ভাষ্য, জুলাই আন্দোলনের অন্যতম লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশকে এমন একটি রাষ্ট্রে পরিণত করা, যা কোনোভাবেই পরনির্ভরশীল অবস্থায় ফিরে যাবে না।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীও জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে একই ধরনের বার্তা দিয়েছেন। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য সেই অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সরকারের পররাষ্ট্রনীতির প্রসঙ্গ তুলে ড. খলিলুর রহমান বলেন, বর্তমান প্রশাসনের কূটনৈতিক দর্শনের মূল ভিত্তি হলো ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’। জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে স্বাধীন ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করাই সরকারের লক্ষ্য। তিনি বলেন, দেশের সার্বভৌম সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা অক্ষুণ্ণ রাখা এবং ভবিষ্যতে কোনো ধরনের নির্ভরশীলতার ফাঁদে না পড়াই এই নীতির প্রধান উদ্দেশ্য।
গত বছরের রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আগস্টের শুরুতে দেশের পরিস্থিতি নিয়ে তিনি গভীর উদ্বেগ অনুভব করেছিলেন। সে সময় জাতিসংঘ মহাসচিবের কার্যালয়ে কর্মরত তার সাবেক কয়েকজন সহকর্মীর সঙ্গে যোগাযোগ করে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি সম্পর্কে আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন।
তার দাবি, বিষয়টি উত্থাপনের পর আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং পরবর্তী সময়ে অন্তত কিছু ক্ষেত্রে সহিংসতা ও গুলিবর্ষণ কমে আসে। তার মতে, দেশের পরিস্থিতির পরিবর্তনের প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক মহলের ভূমিকা সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করার সুযোগ নেই।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব নজরুল ইসলাম এবং ফরেন সার্ভিস একাডেমির রেক্টর মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত।
বিষয় : বাংলাদেশ হাকান ফিদান তুরষ্ক বাংলাদেশ
2.png)
বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ আগস্ট ২০২৬
আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের অবস্থান আবারও দৃশ্যমান ও কার্যকর হয়ে উঠছে বলে মন্তব্য করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। তার এই পর্যবেক্ষণের কথা জানিয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের কূটনৈতিক অবস্থান নিয়ে বিদেশি অংশীদারদের মধ্যেও ইতিবাচক মূল্যায়ন তৈরি হয়েছে।
বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন।
ড. খলিলুর রহমান বলেন, সম্প্রতি তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে তার আলোচনার সময় তিনি মন্তব্য করেন যে, একসময় বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছিল। তবে এখন দেশটি আবারও নিজের অবস্থান ফিরে পাচ্ছে, যা তুরস্কের জন্যও আনন্দের বিষয়।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এমন মন্তব্য শুধু একটি বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের মূল্যায়ন নয়; এটি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিবর্তন সম্পর্কে আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টিভঙ্গিরও প্রতিফলন। তার ভাষ্য, জুলাই আন্দোলনের অন্যতম লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশকে এমন একটি রাষ্ট্রে পরিণত করা, যা কোনোভাবেই পরনির্ভরশীল অবস্থায় ফিরে যাবে না।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীও জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে একই ধরনের বার্তা দিয়েছেন। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য সেই অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সরকারের পররাষ্ট্রনীতির প্রসঙ্গ তুলে ড. খলিলুর রহমান বলেন, বর্তমান প্রশাসনের কূটনৈতিক দর্শনের মূল ভিত্তি হলো ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’। জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে স্বাধীন ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করাই সরকারের লক্ষ্য। তিনি বলেন, দেশের সার্বভৌম সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা অক্ষুণ্ণ রাখা এবং ভবিষ্যতে কোনো ধরনের নির্ভরশীলতার ফাঁদে না পড়াই এই নীতির প্রধান উদ্দেশ্য।
গত বছরের রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আগস্টের শুরুতে দেশের পরিস্থিতি নিয়ে তিনি গভীর উদ্বেগ অনুভব করেছিলেন। সে সময় জাতিসংঘ মহাসচিবের কার্যালয়ে কর্মরত তার সাবেক কয়েকজন সহকর্মীর সঙ্গে যোগাযোগ করে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি সম্পর্কে আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন।
তার দাবি, বিষয়টি উত্থাপনের পর আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং পরবর্তী সময়ে অন্তত কিছু ক্ষেত্রে সহিংসতা ও গুলিবর্ষণ কমে আসে। তার মতে, দেশের পরিস্থিতির পরিবর্তনের প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক মহলের ভূমিকা সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করার সুযোগ নেই।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব নজরুল ইসলাম এবং ফরেন সার্ভিস একাডেমির রেক্টর মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত।
2.png)