ঢাকাঢাকা

বুড়িগঙ্গা দূষণকারী কারখানায় অভিযান, বর্জ্যের নমুনা সংগ্রহ

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ ও ফতুল্লায় নদীদূষণের অভিযোগে একাধিক শিল্পপ্রতিষ্ঠানে দ্বিতীয় দিনের মতো অভিযান চালিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। তরল বর্জ্যের নমুনা পরীক্ষায় দূষণের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সুবাস সোম
সুবাস সোম
বুড়িগঙ্গা দূষণকারী কারখানায় অভিযান, বর্জ্যের নমুনা সংগ্রহ
ছবি -সংগৃহীত

বুড়িগঙ্গা নদীর দূষণ নিয়ন্ত্রণে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ ও ফতুল্লা এলাকার কয়েকটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। অভিযানের সময় বিভিন্ন কারখানা থেকে নির্গত তরল বর্জ্যের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে, যা পরীক্ষার জন্য গবেষণাগারে পাঠানো হয়েছে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের ঢাকা অঞ্চল কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে নারায়ণগঞ্জ জেলা কার্যালয় এ অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় নীট কনসার্ন লিমিটেড, ইব্রাহীম টেক্সটাইল, আমজাদ ডাইং, রাইডার থ্রেড অ্যান্ড অ্যাক্সেসরিজ লিমিটেড এবং ফ্রেন্ডস ডাইং অ্যান্ড ফিনিশিং ইন্ডাস্ট্রিজ পরিদর্শন করেন কর্মকর্তারা।

ফতুল্লার ওয়াপদারপুল এলাকায় অবস্থিত ফ্রেন্ডস ডাইং অ্যান্ড ফিনিশিং ইন্ডাস্ট্রিজে উৎপাদন কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করা হয়। কারখানা কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে বাইপাস ড্রেন থেকে নির্গত তরল বর্জ্যের নমুনা সংগ্রহ করেন পরিদর্শন দল। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে প্রতিষ্ঠানটির পরিবেশগত ছাড়পত্র না থাকা এবং বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) ছাড়াই উৎপাদন চালানোর তথ্য পাওয়া গেছে।

সংগৃহীত নমুনা পরিবেশ অধিদপ্তরের ঢাকা গবেষণাগারে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার ফলাফলে পরিবেশ দূষণের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পরিবেশ সংক্রান্ত প্রচলিত আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর।

একই দিনে পরিবেশ অধিদপ্তরের মনিটরিং অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট শাখা, ঢাকা জেলা কার্যালয়, ঢাকা মহানগর কার্যালয় এবং ঢাকা গবেষণাগারের সমন্বয়ে বুড়িগঙ্গা নদীর বিভিন্ন বর্জ্য নির্গমনস্থলও পরিদর্শন করা হয়। সেখান থেকেও তরল বর্জ্যের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত বুড়িগঙ্গা নদী ও এর সংযোগ খালসংলগ্ন ১০৩টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও প্রকল্পের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত তরল বর্জ্য নির্গমনের অভিযোগে মোট ২ কোটি ৯২ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা আদায় করা হয়েছে। একই সময়ে পরিবেশগত শর্ত না মানায় বর্জ্য শোধনাগারবিহীন ৯টি প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।

পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঢাকার চারপাশের নদী ও নৌপথ দূষণমুক্ত রাখতে এবং পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিয়মিত নজরদারি, পরিদর্শন ও আইন প্রয়োগ কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

বিষয় : বুড়িগঙ্গা দূষণ অভিযান

কাল মহাকাল

বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬


বুড়িগঙ্গা দূষণকারী কারখানায় অভিযান, বর্জ্যের নমুনা সংগ্রহ

প্রকাশের তারিখ : ০৬ আগস্ট ২০২৬

featured Image

বুড়িগঙ্গা নদীর দূষণ নিয়ন্ত্রণে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ ও ফতুল্লা এলাকার কয়েকটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। অভিযানের সময় বিভিন্ন কারখানা থেকে নির্গত তরল বর্জ্যের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে, যা পরীক্ষার জন্য গবেষণাগারে পাঠানো হয়েছে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের ঢাকা অঞ্চল কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে নারায়ণগঞ্জ জেলা কার্যালয় এ অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় নীট কনসার্ন লিমিটেড, ইব্রাহীম টেক্সটাইল, আমজাদ ডাইং, রাইডার থ্রেড অ্যান্ড অ্যাক্সেসরিজ লিমিটেড এবং ফ্রেন্ডস ডাইং অ্যান্ড ফিনিশিং ইন্ডাস্ট্রিজ পরিদর্শন করেন কর্মকর্তারা।

ফতুল্লার ওয়াপদারপুল এলাকায় অবস্থিত ফ্রেন্ডস ডাইং অ্যান্ড ফিনিশিং ইন্ডাস্ট্রিজে উৎপাদন কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করা হয়। কারখানা কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে বাইপাস ড্রেন থেকে নির্গত তরল বর্জ্যের নমুনা সংগ্রহ করেন পরিদর্শন দল। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে প্রতিষ্ঠানটির পরিবেশগত ছাড়পত্র না থাকা এবং বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) ছাড়াই উৎপাদন চালানোর তথ্য পাওয়া গেছে।

সংগৃহীত নমুনা পরিবেশ অধিদপ্তরের ঢাকা গবেষণাগারে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার ফলাফলে পরিবেশ দূষণের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পরিবেশ সংক্রান্ত প্রচলিত আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর।

একই দিনে পরিবেশ অধিদপ্তরের মনিটরিং অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট শাখা, ঢাকা জেলা কার্যালয়, ঢাকা মহানগর কার্যালয় এবং ঢাকা গবেষণাগারের সমন্বয়ে বুড়িগঙ্গা নদীর বিভিন্ন বর্জ্য নির্গমনস্থলও পরিদর্শন করা হয়। সেখান থেকেও তরল বর্জ্যের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত বুড়িগঙ্গা নদী ও এর সংযোগ খালসংলগ্ন ১০৩টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও প্রকল্পের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত তরল বর্জ্য নির্গমনের অভিযোগে মোট ২ কোটি ৯২ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা আদায় করা হয়েছে। একই সময়ে পরিবেশগত শর্ত না মানায় বর্জ্য শোধনাগারবিহীন ৯টি প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।

পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঢাকার চারপাশের নদী ও নৌপথ দূষণমুক্ত রাখতে এবং পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিয়মিত নজরদারি, পরিদর্শন ও আইন প্রয়োগ কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 

কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত