বাংলাদেশ
মৌসুমি বায়ুর সক্রিয় প্রভাবে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে বৃহস্পতিবারও বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বর্তমান বৃষ্টিপাতের ধারার মধ্যে ১০ আগস্ট মধ্য বঙ্গোপসাগরে একটি নতুন লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এটি নিম্নচাপে পরিণত হলে ১৪ আগস্টের পর সারা দেশে আবারও ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
আজও সারা দেশে বৃষ্টির প্রভাব
গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় ৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ ১৯৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে নোয়াখালীর হাতিয়ায়। এছাড়া চট্টগ্রামের আমবাগান, সন্দ্বীপ, নেত্রকোনা, কক্সবাজার, গোপালগঞ্জ ও কুড়িগ্রামের বিভিন্ন এলাকাতেও উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দেশের সব বিভাগেই বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও ভারি থেকে অতিভারি বর্ষণও হতে পারে। তবে তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে।
কয়েক দিনের বিরতির পর আবারও সক্রিয় হবে বর্ষা
আবহাওয়াবিদদের মতে, শুক্রবার থেকে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমে ৯ আগস্ট পর্যন্ত তুলনামূলক বিরতি থাকতে পারে। তবে ১০-১১ আগস্টের পর নতুন লঘুচাপের প্রভাবে আবারও বৃষ্টির প্রবণতা বাড়বে। পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে এটি নিম্নচাপে পরিণত হয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা ভারি বর্ষণ ঘটাতে পারে।
বন্যার ঝুঁকিতে কয়েকটি নদী
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত তিস্তার তারাপুর ও কুশিয়ারার ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পর্যবেক্ষণাধীন ১২৭টি স্টেশনের মধ্যে ৮৮টিতে পানি বেড়েছে। তিস্তা, দুধকুমার, সোমেশ্বরী, কুশিয়ারা ও সুরমার কয়েকটি পয়েন্ট সতর্কসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। নতুন করে ভারি বৃষ্টি হলে উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কিছু এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে।
অস্বাভাবিক বর্ষার ধারাবাহিকতা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চলতি বছরের বর্ষা স্বাভাবিক ধারা থেকে অনেকটাই ভিন্ন। দীর্ঘ সময় শুষ্ক থাকার পর অল্প সময়ের মধ্যে অতিভারি বৃষ্টিপাতের প্রবণতা স্পষ্ট হয়েছে। জুলাই মাসে দেশজুড়ে গড় বৃষ্টিপাত ছিল স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৩৬ শতাংশ বেশি। একই সময়ে চট্টগ্রামে মাত্র আট দিনে ১ হাজার ৪৫৪ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড হয়, যা সাম্প্রতিক দশকগুলোর অন্যতম সর্বোচ্চ।
জলবায়ু পরিবর্তনের নতুন বাস্তবতা
আবহাওয়াবিদদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে মৌসুমি বৃষ্টির ধরন দ্রুত বদলে যাচ্ছে। বর্ষা দেরিতে শুরু হলেও অল্প সময়ের মধ্যে অতিভারি বৃষ্টিপাতের ঘটনা বাড়ছে। তাই শুধু আবহাওয়ার পূর্বাভাস নয়, নগর ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, খাল-জলাশয় পুনরুদ্ধার এবং এলাকাভিত্তিক আগাম সতর্কতা জোরদার করাই এখন সময়ের দাবি। না হলে আগামী দিনগুলোতে জলাবদ্ধতা ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।
2.png)
বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ আগস্ট ২০২৬
মৌসুমি বায়ুর সক্রিয় প্রভাবে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে বৃহস্পতিবারও বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বর্তমান বৃষ্টিপাতের ধারার মধ্যে ১০ আগস্ট মধ্য বঙ্গোপসাগরে একটি নতুন লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এটি নিম্নচাপে পরিণত হলে ১৪ আগস্টের পর সারা দেশে আবারও ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
আজও সারা দেশে বৃষ্টির প্রভাব
গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় ৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ ১৯৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে নোয়াখালীর হাতিয়ায়। এছাড়া চট্টগ্রামের আমবাগান, সন্দ্বীপ, নেত্রকোনা, কক্সবাজার, গোপালগঞ্জ ও কুড়িগ্রামের বিভিন্ন এলাকাতেও উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দেশের সব বিভাগেই বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও ভারি থেকে অতিভারি বর্ষণও হতে পারে। তবে তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে।
কয়েক দিনের বিরতির পর আবারও সক্রিয় হবে বর্ষা
আবহাওয়াবিদদের মতে, শুক্রবার থেকে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমে ৯ আগস্ট পর্যন্ত তুলনামূলক বিরতি থাকতে পারে। তবে ১০-১১ আগস্টের পর নতুন লঘুচাপের প্রভাবে আবারও বৃষ্টির প্রবণতা বাড়বে। পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে এটি নিম্নচাপে পরিণত হয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা ভারি বর্ষণ ঘটাতে পারে।
বন্যার ঝুঁকিতে কয়েকটি নদী
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত তিস্তার তারাপুর ও কুশিয়ারার ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পর্যবেক্ষণাধীন ১২৭টি স্টেশনের মধ্যে ৮৮টিতে পানি বেড়েছে। তিস্তা, দুধকুমার, সোমেশ্বরী, কুশিয়ারা ও সুরমার কয়েকটি পয়েন্ট সতর্কসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। নতুন করে ভারি বৃষ্টি হলে উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কিছু এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে।
অস্বাভাবিক বর্ষার ধারাবাহিকতা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চলতি বছরের বর্ষা স্বাভাবিক ধারা থেকে অনেকটাই ভিন্ন। দীর্ঘ সময় শুষ্ক থাকার পর অল্প সময়ের মধ্যে অতিভারি বৃষ্টিপাতের প্রবণতা স্পষ্ট হয়েছে। জুলাই মাসে দেশজুড়ে গড় বৃষ্টিপাত ছিল স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৩৬ শতাংশ বেশি। একই সময়ে চট্টগ্রামে মাত্র আট দিনে ১ হাজার ৪৫৪ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড হয়, যা সাম্প্রতিক দশকগুলোর অন্যতম সর্বোচ্চ।
জলবায়ু পরিবর্তনের নতুন বাস্তবতা
আবহাওয়াবিদদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে মৌসুমি বৃষ্টির ধরন দ্রুত বদলে যাচ্ছে। বর্ষা দেরিতে শুরু হলেও অল্প সময়ের মধ্যে অতিভারি বৃষ্টিপাতের ঘটনা বাড়ছে। তাই শুধু আবহাওয়ার পূর্বাভাস নয়, নগর ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, খাল-জলাশয় পুনরুদ্ধার এবং এলাকাভিত্তিক আগাম সতর্কতা জোরদার করাই এখন সময়ের দাবি। না হলে আগামী দিনগুলোতে জলাবদ্ধতা ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।
2.png)