বিনোদন
গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডকে ঘিরে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় ব্যান্ড বিটিএস। ৬৯তম গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসে বিবেচনার তালিকা থেকে নিজেদের নাম সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। আর সেই সিদ্ধান্তের পেছনে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে গ্র্যামিতে এশীয় শিল্পীদের প্রতিনিধিত্ব ও স্বীকৃতি নিয়ে।
বিতর্কের সূত্রপাত সদ্য চালু হওয়া ‘বেস্ট এশিয়ান পপ মিউজিক পারফরম্যান্স’ বিভাগকে ঘিরে। সমালোচকদের একাংশের মতে, এশীয় শিল্পীদের জন্য আলাদা বিভাগ তৈরি করা হলে তাদের মূলধারার প্রতিযোগিতা থেকে কার্যত আলাদা করে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বিটিএসের সিদ্ধান্ত সেই বিতর্ককেই আরও জোরালো করেছে।
দলের এমন অবস্থানে হতাশা প্রকাশ করেছেন রেকর্ডিং একাডেমির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হার্ভে ম্যাসন জুনিয়র। তবে তিনি বিটিএসের সিদ্ধান্তকে সম্মান করার কথাও জানিয়েছেন। তাঁর ব্যাখ্যা, নতুন বিভাগটি এশীয় শিল্পীদের আলাদা করে রাখার উদ্দেশ্যে তৈরি হয়নি। বরং এশিয়ার পপসংগীতের বৈচিত্র্য, বিকাশ ও সৃজনশীলতাকে আরও বড় পরিসরে স্বীকৃতি দেওয়াই এর লক্ষ্য।
ম্যাসনের বক্তব্য অনুযায়ী, ঘরানাভিত্তিক কোনো বিভাগে অংশ নেওয়া মানেই প্রধান বিভাগগুলোর দরজা বন্ধ হয়ে যাওয়া নয়। একজন শিল্পী একই সঙ্গে ‘বেস্ট এশিয়ান পপ মিউজিক পারফরম্যান্স’-এর মতো বিভাগ এবং ‘রেকর্ড অব দ্য ইয়ার’, ‘অ্যালবাম অব দ্য ইয়ার’ কিংবা ‘সং অব দ্য ইয়ার’-এর মতো বড় বিভাগেও মনোনয়ন পেতে পারেন।
তবে একাডেমির এই ব্যাখ্যা বিটিএসের বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ভক্তগোষ্ঠী আর্মির ক্ষোভ কমাতে পারেনি। ভক্তদের বড় একটি অংশ মনে করছে, আলাদা এশিয়ান পপ বিভাগ চালুর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সফল শিল্পীদের মূল প্রতিযোগিতা থেকে সরিয়ে রাখার পথ তৈরি হচ্ছে।
এর মধ্যেই আরও একটি বিষয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে। ভক্তদের দাবি, বিটিএসের জনপ্রিয় ‘বাটার’ ও ‘ডিনামাইট’ গানের গ্র্যামি পারফরম্যান্স-সংক্রান্ত কিছু ভিডিও ও লিংক একাডেমির ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে অনলাইনে নানা প্রশ্ন উঠলেও এ নিয়ে একাডেমির পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যার কথা সামনে আসেনি।
বিটিএসের সিদ্ধান্তের পর গ্র্যামিকে ঘিরে পুরোনো বিতর্কও আবার সামনে এসেছে। অনেক ভক্তের অভিযোগ, অতীতে গ্র্যামিতে বিটিএসকে মনোনয়ন দেওয়ার পেছনে পুরস্কারের চেয়ে অনুষ্ঠানের বৈশ্বিক দর্শক বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছিল। যদিও এমন দাবির পক্ষে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে, তবু এ অভিযোগ নতুন করে পুরস্কারটির স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
বিশ্বসংগীতের বাজারে এশীয় শিল্পীদের প্রভাব এখন আর উপেক্ষা করার মতো নয়। কে-পপের উত্থানের পাশাপাশি এশিয়ার বিভিন্ন দেশের শিল্পীরাও আন্তর্জাতিক শ্রোতাদের কাছে দ্রুত পৌঁছে যাচ্ছেন। এমন সময়ে এশীয় শিল্পীদের জন্য আলাদা স্বীকৃতি কি তাদের প্রাপ্য মর্যাদা বাড়াবে, নাকি মূলধারার প্রতিযোগিতায় অদৃশ্য একটি দেয়াল তৈরি করবে—বিটিএসের সিদ্ধান্ত সেই প্রশ্নই আরও জোরালো করে তুলেছে।
2.png)
শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ আগস্ট ২০২৬
গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডকে ঘিরে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় ব্যান্ড বিটিএস। ৬৯তম গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসে বিবেচনার তালিকা থেকে নিজেদের নাম সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। আর সেই সিদ্ধান্তের পেছনে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে গ্র্যামিতে এশীয় শিল্পীদের প্রতিনিধিত্ব ও স্বীকৃতি নিয়ে।
বিতর্কের সূত্রপাত সদ্য চালু হওয়া ‘বেস্ট এশিয়ান পপ মিউজিক পারফরম্যান্স’ বিভাগকে ঘিরে। সমালোচকদের একাংশের মতে, এশীয় শিল্পীদের জন্য আলাদা বিভাগ তৈরি করা হলে তাদের মূলধারার প্রতিযোগিতা থেকে কার্যত আলাদা করে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বিটিএসের সিদ্ধান্ত সেই বিতর্ককেই আরও জোরালো করেছে।
দলের এমন অবস্থানে হতাশা প্রকাশ করেছেন রেকর্ডিং একাডেমির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হার্ভে ম্যাসন জুনিয়র। তবে তিনি বিটিএসের সিদ্ধান্তকে সম্মান করার কথাও জানিয়েছেন। তাঁর ব্যাখ্যা, নতুন বিভাগটি এশীয় শিল্পীদের আলাদা করে রাখার উদ্দেশ্যে তৈরি হয়নি। বরং এশিয়ার পপসংগীতের বৈচিত্র্য, বিকাশ ও সৃজনশীলতাকে আরও বড় পরিসরে স্বীকৃতি দেওয়াই এর লক্ষ্য।
ম্যাসনের বক্তব্য অনুযায়ী, ঘরানাভিত্তিক কোনো বিভাগে অংশ নেওয়া মানেই প্রধান বিভাগগুলোর দরজা বন্ধ হয়ে যাওয়া নয়। একজন শিল্পী একই সঙ্গে ‘বেস্ট এশিয়ান পপ মিউজিক পারফরম্যান্স’-এর মতো বিভাগ এবং ‘রেকর্ড অব দ্য ইয়ার’, ‘অ্যালবাম অব দ্য ইয়ার’ কিংবা ‘সং অব দ্য ইয়ার’-এর মতো বড় বিভাগেও মনোনয়ন পেতে পারেন।
তবে একাডেমির এই ব্যাখ্যা বিটিএসের বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ভক্তগোষ্ঠী আর্মির ক্ষোভ কমাতে পারেনি। ভক্তদের বড় একটি অংশ মনে করছে, আলাদা এশিয়ান পপ বিভাগ চালুর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সফল শিল্পীদের মূল প্রতিযোগিতা থেকে সরিয়ে রাখার পথ তৈরি হচ্ছে।
এর মধ্যেই আরও একটি বিষয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে। ভক্তদের দাবি, বিটিএসের জনপ্রিয় ‘বাটার’ ও ‘ডিনামাইট’ গানের গ্র্যামি পারফরম্যান্স-সংক্রান্ত কিছু ভিডিও ও লিংক একাডেমির ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে অনলাইনে নানা প্রশ্ন উঠলেও এ নিয়ে একাডেমির পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যার কথা সামনে আসেনি।
বিটিএসের সিদ্ধান্তের পর গ্র্যামিকে ঘিরে পুরোনো বিতর্কও আবার সামনে এসেছে। অনেক ভক্তের অভিযোগ, অতীতে গ্র্যামিতে বিটিএসকে মনোনয়ন দেওয়ার পেছনে পুরস্কারের চেয়ে অনুষ্ঠানের বৈশ্বিক দর্শক বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছিল। যদিও এমন দাবির পক্ষে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে, তবু এ অভিযোগ নতুন করে পুরস্কারটির স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
বিশ্বসংগীতের বাজারে এশীয় শিল্পীদের প্রভাব এখন আর উপেক্ষা করার মতো নয়। কে-পপের উত্থানের পাশাপাশি এশিয়ার বিভিন্ন দেশের শিল্পীরাও আন্তর্জাতিক শ্রোতাদের কাছে দ্রুত পৌঁছে যাচ্ছেন। এমন সময়ে এশীয় শিল্পীদের জন্য আলাদা স্বীকৃতি কি তাদের প্রাপ্য মর্যাদা বাড়াবে, নাকি মূলধারার প্রতিযোগিতায় অদৃশ্য একটি দেয়াল তৈরি করবে—বিটিএসের সিদ্ধান্ত সেই প্রশ্নই আরও জোরালো করে তুলেছে।
2.png)