সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 খেলাখেলা

জার্মান ফুটবলের রূপকার ওজিল: বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক থেকে বর্ণবাদের করুণ শিকার

বিশ্বকাপের মঞ্চ কাঁপানো এক জাদুকর, অথচ মাত্র ২৯ বছর বয়সেই আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের বিয়োগান্তক সমাপ্তি; বর্ণবাদের শিকার হয়ে কীভাবে এক ‘গোল্ডেন বয়’ খলনায়ক বনে গেলেন?

স্পোর্টস ডেস্ক
স্পোর্টস ডেস্ক
জার্মান ফুটবলের রূপকার ওজিল: বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক থেকে বর্ণবাদের  করুণ শিকার
ছবি -সংগৃহীত

জার্মান ফুটবলের সোনালী প্রজন্মের অন্যতম কারিগর মেসুত ওজিল। মাঠের মাঝখানে দাঁড়িয়ে বলের গতিপথ নিয়ন্ত্রণ করা, সতীর্থদের জন্য সুযোগ তৈরি করা—এসব ক্ষেত্রে ওজিল ছিলেন এক শিল্পীর নাম। ২০১০ এবং ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে জার্মানির আকাশছোঁয়া সাফল্যের পেছনে এই প্লেমেকারের অবদান ছিল অবিসংবাদিত। কিন্তু সেই ওজিলের ক্যারিয়ারের শেষটা হয়েছে এক চরম তিক্ত অভিজ্ঞতায়, যা আধুনিক ফুটবলের বর্ণবাদ ও রাজনীতির এক কালো অধ্যায় হয়ে রয়েছে।


ওজিলের ক্যারিয়ারে ধস নামে ২০১৮ সালের বিশ্বকাপের প্রাক্কালে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে তোলা একটি ছবিকে কেন্দ্র করে জার্মান ফুটবল ফেডারেশন ও গণমাধ্যমে শুরু হয় তীব্র বিতর্ক। বিশ্বকাপে জার্মানির ভরাডুবির পর সমস্ত ব্যর্থতার দায় চাপানো হয় ওজিলের ওপর। একজন বিশ্বকাপজয়ী খেলোয়াড়কে নিমেষেই বানিয়ে ফেলা হয় ‘বলির পাঁঠা’। বর্ণবাদী আক্রমণের মুখে পড়ে মাত্র ২৯ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানাতে বাধ্য হন তিনি।

ওজিলের সেই বিদায়লগ্নের ক্ষোভ ফুটে উঠেছিল তার দেওয়া বিবৃতিতে। তিনি অত্যন্ত আক্ষেপের সঙ্গে বলেছিলেন, "জিতলে আমি জার্মান, কিন্তু হারলে আমি কেবল একজন অভিবাসী।" তার এই উক্তিটি জার্মান সমাজের গভীরে থাকা বর্ণবাদের স্বরূপকে উন্মোচন করে দেয়। জার্মানির হয়ে গোল করা, ট্যাক্স দেওয়া এবং মাঠের লড়াইয়ে প্রাণপণ চেষ্টা করেও শেষপর্যন্ত তিনি ‘আপন’ হতে পারেননি।

ওজিলের সেই বিদায়ের পর জার্মান ফুটবলের দৈন্যদশা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ওজিলের মতো সৃষ্টিশীল প্লেমেকারের অভাব হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে জার্মান দল। ২০২২ এবং ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে জার্মানির পারফরম্যান্সের নিম্নমুখী প্রবণতা থেকে এটি পরিষ্কার যে, মাঠের সেই জাদুকরকে হারিয়ে দলটি তাদের ছন্দ হারিয়েছে।

তবে ওজিলের পরিচয় কেবল ফুটবলেই সীমাবদ্ধ ছিল না। মাঠের বাইরে তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই একজন মানবিক মানুষ। ২০১৪ সালে জার্মানিকে বিশ্বকাপ জেতানোর পর তার প্রাপ্য বোনাসের পুরো অর্থ তিনি ব্যয় করেছিলেন অসুস্থ শিশুদের চিকিৎসায়। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের শরণার্থী শিবিরের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি বারবার।

জার্মান ফুটবল হয়তো তৎকালীন রাজনীতি ও বর্ণবাদের প্রভাবে ওজিলকে ‘খলনায়ক’ বানাতে চেয়েছিল, কিন্তু ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়ে তিনি রয়ে গেছেন একজন অকুতোভয় নায়ক হিসেবে। একটি বর্ণিল ক্যারিয়ারের করুণ বিচ্ছেদ হয়তো ফুটবল বিশ্বকে মনে করিয়ে দেয় যে, প্রতিভা ও দেশপ্রেমের চেয়েও মাঝে মাঝে সংকীর্ণতা জয়ী হয়ে ওঠে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

বিষয় : জার্মানি মেসুত ওজিল

জার্মান ফুটবলের রূপকার ওজিল: বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক থেকে বর্ণবাদের করুণ শিকার
0:00 0:00
1.0x
কাল মহাকাল

রোববার, ০৫ জুলাই ২০২৬


জার্মান ফুটবলের রূপকার ওজিল: বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক থেকে বর্ণবাদের করুণ শিকার

প্রকাশের তারিখ : ০৫ জুলাই ২০২৬

featured Image

জার্মান ফুটবলের সোনালী প্রজন্মের অন্যতম কারিগর মেসুত ওজিল। মাঠের মাঝখানে দাঁড়িয়ে বলের গতিপথ নিয়ন্ত্রণ করা, সতীর্থদের জন্য সুযোগ তৈরি করা—এসব ক্ষেত্রে ওজিল ছিলেন এক শিল্পীর নাম। ২০১০ এবং ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে জার্মানির আকাশছোঁয়া সাফল্যের পেছনে এই প্লেমেকারের অবদান ছিল অবিসংবাদিত। কিন্তু সেই ওজিলের ক্যারিয়ারের শেষটা হয়েছে এক চরম তিক্ত অভিজ্ঞতায়, যা আধুনিক ফুটবলের বর্ণবাদ ও রাজনীতির এক কালো অধ্যায় হয়ে রয়েছে।



ওজিলের ক্যারিয়ারে ধস নামে ২০১৮ সালের বিশ্বকাপের প্রাক্কালে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে তোলা একটি ছবিকে কেন্দ্র করে জার্মান ফুটবল ফেডারেশন ও গণমাধ্যমে শুরু হয় তীব্র বিতর্ক। বিশ্বকাপে জার্মানির ভরাডুবির পর সমস্ত ব্যর্থতার দায় চাপানো হয় ওজিলের ওপর। একজন বিশ্বকাপজয়ী খেলোয়াড়কে নিমেষেই বানিয়ে ফেলা হয় ‘বলির পাঁঠা’। বর্ণবাদী আক্রমণের মুখে পড়ে মাত্র ২৯ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানাতে বাধ্য হন তিনি।

ওজিলের সেই বিদায়লগ্নের ক্ষোভ ফুটে উঠেছিল তার দেওয়া বিবৃতিতে। তিনি অত্যন্ত আক্ষেপের সঙ্গে বলেছিলেন, "জিতলে আমি জার্মান, কিন্তু হারলে আমি কেবল একজন অভিবাসী।" তার এই উক্তিটি জার্মান সমাজের গভীরে থাকা বর্ণবাদের স্বরূপকে উন্মোচন করে দেয়। জার্মানির হয়ে গোল করা, ট্যাক্স দেওয়া এবং মাঠের লড়াইয়ে প্রাণপণ চেষ্টা করেও শেষপর্যন্ত তিনি ‘আপন’ হতে পারেননি।

ওজিলের সেই বিদায়ের পর জার্মান ফুটবলের দৈন্যদশা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ওজিলের মতো সৃষ্টিশীল প্লেমেকারের অভাব হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে জার্মান দল। ২০২২ এবং ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে জার্মানির পারফরম্যান্সের নিম্নমুখী প্রবণতা থেকে এটি পরিষ্কার যে, মাঠের সেই জাদুকরকে হারিয়ে দলটি তাদের ছন্দ হারিয়েছে।

তবে ওজিলের পরিচয় কেবল ফুটবলেই সীমাবদ্ধ ছিল না। মাঠের বাইরে তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই একজন মানবিক মানুষ। ২০১৪ সালে জার্মানিকে বিশ্বকাপ জেতানোর পর তার প্রাপ্য বোনাসের পুরো অর্থ তিনি ব্যয় করেছিলেন অসুস্থ শিশুদের চিকিৎসায়। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের শরণার্থী শিবিরের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি বারবার।

জার্মান ফুটবল হয়তো তৎকালীন রাজনীতি ও বর্ণবাদের প্রভাবে ওজিলকে ‘খলনায়ক’ বানাতে চেয়েছিল, কিন্তু ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়ে তিনি রয়ে গেছেন একজন অকুতোভয় নায়ক হিসেবে। একটি বর্ণিল ক্যারিয়ারের করুণ বিচ্ছেদ হয়তো ফুটবল বিশ্বকে মনে করিয়ে দেয় যে, প্রতিভা ও দেশপ্রেমের চেয়েও মাঝে মাঝে সংকীর্ণতা জয়ী হয়ে ওঠে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।



কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত