জাতীয়
‘বিচারের নামে কারও প্রতি যেন অবিচার না হয়।’ জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের পরিবারের সদস্যদের সামনে দাঁড়িয়ে শনিবার এমনটাই উচ্চারণ করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি আহ্বান জানালেন প্রতিহিংসার ঊর্ধ্বে উঠে শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে দেশের প্রতিটি গণতন্ত্রকামী মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার।
রাজধানীতে ‘জুলাই ২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটি’ ও ‘আমরা জুলাই যোদ্ধা’র যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই জাতীয় সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতায় বারবার উঠে এসেছে দেশপ্রেম ও ত্যাগের কথা। স্বজন হারানো পরিবারের কান্না আর দীর্ঘশ্বাসে ভারী হয়ে ওঠা মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই অনুষ্ঠান চলাকালে আমি বারবার ভাবছিলাম, আমার মা ও ভাইকে যদি এই মুহূর্তে জিজ্ঞেস করতে পারতাম—তারা কি চান আমি প্রতিশোধ নিই? আমার বিশ্বাস, তারা বলতেন, তোমার কাজ হলো সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।’
জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী এই আন্দোলনে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ শহীদ হয়েছেন। আর সরকারি গেজেট অনুযায়ী এ সংখ্যা ৮৩৪। তবে শুধু জুলাই আন্দোলনই নয়, গত ১৭ বছরে যারা ত্যাগের বিনিময়ে গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছেন, তাদের প্রতিটি রক্তবিন্দু আমাদের দায়বদ্ধতাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘স্বৈরাচারের সেই অবিচারের বিপরীতে আমরা যেন আবার কোনো অবিচারের জন্ম না দিই, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তৃতায় জুলাই আন্দোলনের শহীদ হওয়া ৬৫ জন শিশুর প্রসঙ্গ টেনে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, ‘তাদের কোনো অপরাধ ছিল না। দেশকে স্বৈরাচারমুক্ত করতে গিয়ে এই শিশুরা জীবন দিয়েছে।’ সরকারপ্রধান নিজেও স্বৈরাচারী শাসনামলে নেতাকর্মীদের ওপর হওয়া নির্যাতনের স্মৃতিচারণ করে বলেন, আপনারা যে শারীরিক ও মানসিক কষ্ট ভোগ করেছেন, সেই একই কষ্ট আমিও অনুভব করতে পারি। এই কষ্ট থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ হলো শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা।
তারেক রহমান বলেন, ৫ আগস্টের অর্জন কোনো একক দল বা ব্যক্তির নয়; এটি দেশের প্রতিটি গণতন্ত্রকামী মানুষের অর্জন। তিনি বলেন, ‘জাতিকে বিভক্ত করে দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। আসুন, আমরা শপথ নিই, কোনো শক্তি যেন আমাদের লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত করতে না পারে।’
অনুষ্ঠানে জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের স্মৃতি স্মারক তুলে দেওয়া হয়। সন্তানহারা মা-বাবা ও ভাইবোনদের আর্তনাদে পুরো গ্যালারি তখন শোকাতুর। শহীদ আবু সাঈদের ভাই আবু হোসেইন, শহীদ শাহরিয়ার হোসেন আলভীর বাবা আবুল হোসেন, শহীদ আবদুল্লাহ বিন জাহিদের মা ফাতেমাতুজ্জোহরাসহ ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা তাদের যন্ত্রণার কথা তুলে ধরেন। একইভাবে আহত যোদ্ধারাও বর্ণনা করেন সেই উত্তাল দিনগুলোর কথা।
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, গৃহায়ন মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খানসহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, সামরিক-বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতারা।
সবার হৃদয়ে একটাই প্রতিজ্ঞা ছিল—‘সবার আগে বাংলাদেশ’। শহীদদের স্মরণে দোয়া ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে সমাপ্ত হওয়া এই সম্মেলন যেন নতুন করে স্মরণ করিয়ে দিল, জুলাইয়ের আত্মত্যাগই আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ার মূল অনুপ্রেরণা।
2.png)
শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ জুলাই ২০২৬
‘বিচারের নামে কারও প্রতি যেন অবিচার না হয়।’ জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের পরিবারের সদস্যদের সামনে দাঁড়িয়ে শনিবার এমনটাই উচ্চারণ করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি আহ্বান জানালেন প্রতিহিংসার ঊর্ধ্বে উঠে শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে দেশের প্রতিটি গণতন্ত্রকামী মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার।
রাজধানীতে ‘জুলাই ২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটি’ ও ‘আমরা জুলাই যোদ্ধা’র যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই জাতীয় সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতায় বারবার উঠে এসেছে দেশপ্রেম ও ত্যাগের কথা। স্বজন হারানো পরিবারের কান্না আর দীর্ঘশ্বাসে ভারী হয়ে ওঠা মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই অনুষ্ঠান চলাকালে আমি বারবার ভাবছিলাম, আমার মা ও ভাইকে যদি এই মুহূর্তে জিজ্ঞেস করতে পারতাম—তারা কি চান আমি প্রতিশোধ নিই? আমার বিশ্বাস, তারা বলতেন, তোমার কাজ হলো সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।’
জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী এই আন্দোলনে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ শহীদ হয়েছেন। আর সরকারি গেজেট অনুযায়ী এ সংখ্যা ৮৩৪। তবে শুধু জুলাই আন্দোলনই নয়, গত ১৭ বছরে যারা ত্যাগের বিনিময়ে গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছেন, তাদের প্রতিটি রক্তবিন্দু আমাদের দায়বদ্ধতাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘স্বৈরাচারের সেই অবিচারের বিপরীতে আমরা যেন আবার কোনো অবিচারের জন্ম না দিই, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তৃতায় জুলাই আন্দোলনের শহীদ হওয়া ৬৫ জন শিশুর প্রসঙ্গ টেনে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, ‘তাদের কোনো অপরাধ ছিল না। দেশকে স্বৈরাচারমুক্ত করতে গিয়ে এই শিশুরা জীবন দিয়েছে।’ সরকারপ্রধান নিজেও স্বৈরাচারী শাসনামলে নেতাকর্মীদের ওপর হওয়া নির্যাতনের স্মৃতিচারণ করে বলেন, আপনারা যে শারীরিক ও মানসিক কষ্ট ভোগ করেছেন, সেই একই কষ্ট আমিও অনুভব করতে পারি। এই কষ্ট থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ হলো শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা।
তারেক রহমান বলেন, ৫ আগস্টের অর্জন কোনো একক দল বা ব্যক্তির নয়; এটি দেশের প্রতিটি গণতন্ত্রকামী মানুষের অর্জন। তিনি বলেন, ‘জাতিকে বিভক্ত করে দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। আসুন, আমরা শপথ নিই, কোনো শক্তি যেন আমাদের লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত করতে না পারে।’
অনুষ্ঠানে জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের স্মৃতি স্মারক তুলে দেওয়া হয়। সন্তানহারা মা-বাবা ও ভাইবোনদের আর্তনাদে পুরো গ্যালারি তখন শোকাতুর। শহীদ আবু সাঈদের ভাই আবু হোসেইন, শহীদ শাহরিয়ার হোসেন আলভীর বাবা আবুল হোসেন, শহীদ আবদুল্লাহ বিন জাহিদের মা ফাতেমাতুজ্জোহরাসহ ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা তাদের যন্ত্রণার কথা তুলে ধরেন। একইভাবে আহত যোদ্ধারাও বর্ণনা করেন সেই উত্তাল দিনগুলোর কথা।
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, গৃহায়ন মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খানসহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, সামরিক-বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতারা।
সবার হৃদয়ে একটাই প্রতিজ্ঞা ছিল—‘সবার আগে বাংলাদেশ’। শহীদদের স্মরণে দোয়া ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে সমাপ্ত হওয়া এই সম্মেলন যেন নতুন করে স্মরণ করিয়ে দিল, জুলাইয়ের আত্মত্যাগই আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ার মূল অনুপ্রেরণা।
2.png)