সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 ইরান যুদ্ধইরান যুদ্ধ

শেষ বিদায় খামেনির: শোকাতুর ইরান, অংশ নিচ্ছেন বিশ্বনেতারা

গ্র্যান্ড মোসাল্লায় সর্বস্তরের মানুষের ঢল। ইরানের সাবেক সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষ শ্রদ্ধায় অংশ নিয়েছেন বিশ্বের শতাধিক দেশের প্রতিনিধি।

শেষ বিদায় খামেনির: শোকাতুর ইরান, অংশ নিচ্ছেন বিশ্বনেতারা
ছবি -সংগৃহীত

শোকের চাদরে ঢাকা তেহরান। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এক ভয়াবহ হামলায় নিহত ইরানের সাবেক সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষ বিদায় উপলক্ষে রাজধানী সেজেছে শোকের আবহে। শুক্রবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার দীর্ঘ আনুষ্ঠানিকতা। তেহরানের ইমাম খোমেনি মসজিদ কমপ্লেক্স, যা ‘গ্র্যান্ড মোসাল্লা’ নামে পরিচিত, সেখানে আজ বিদেশি প্রতিনিধি ও বিশিষ্ট অতিথিরা তার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন।

গ্র্যান্ড মোসাল্লায় খামেনির মূল কফিনের পাশেই রাখা হয়েছে আরও চারটি কফিন। শোকের এই দৃশ্যে স্তব্ধ বিশ্ব। নিহতদের তালিকায় রয়েছেন তার মেয়ের জামাই মেসবাহ উল হুদা বাঘেরি, বড় মেয়ে সৈয়দা বুশরা হোসেইনি খামেনি, পুত্রবধূ ও বর্তমান সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনির স্ত্রী জাহরা হাদ্দাদ আদেল এবং তার ১৪ মাস বয়সী নাতনি জাহরা মোহাম্মাদী গোলপায়গানি। সবচেয়ে ছোট কফিনটি ওই শিশু নাতনির, যা উপস্থিত সবার হৃদয়কে ভারাক্রান্ত করে তুলেছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, আজ শুধুমাত্র বিদেশি কূটনৈতিক প্রতিনিধি এবং আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য শ্রদ্ধা নিবেদনের সুযোগ রাখা হয়েছে। আগামীকাল শনিবার থেকে রাজধানী তেহরানে সাধারণ মানুষের জন্য তার কফিন উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।

খামেনির এই শেষ যাত্রায় বিশ্বের শতাধিক দেশের প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন। শোকাবহ এই আয়োজনে উপস্থিত রয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ, তাজিকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইমোমালি রাহমোন, আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাসিনইয়ান এবং জর্জিয়ার প্রেসিডেন্ট মিখাইল কাভেলাশভিলি। ভারত থেকে প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত আছেন উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী পবিত্র মার্গেরিতা এবং বিহারের গভর্নর সৈয়দ আতা হাসনাইন। এছাড়া তুরস্কের ভাইস-প্রেসিডেন্ট কেডভেট ইলমাজ, রাশিয়ার সিকিউরিটি কাউন্সিলের ডেপুটি চেয়ারম্যান দিমিত্রি মেদভেদেভ এবং আফগানিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকিসহ বিশ্বের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা অংশ নিয়েছেন। বাংলাদেশ থেকে সরকারি প্রতিনিধি হিসেবে স্পিকার হাফিজুদ্দিন আহমেদসহ বিরোধী দলের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন।

শুরুতে কূটনৈতিক মহলে গুঞ্জন ছিল যে, সৌদি আরবসহ গালফ অঞ্চলের দেশগুলো এই আয়োজনে প্রতিনিধি পাঠাবে না। তবে শেষ মুহূর্তে অপ্রত্যাশিত কূটনৈতিক পদক্ষেপে সৌদি আরব তাদের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে পাঠিয়ে শোকের এই মিছিলে সামিল হয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় খামেনি ও তার পরিবারের সদস্যরা নিহত হন। দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পর এখন দেশজুড়ে শুরু হওয়া এই আনুষ্ঠানিকতা ইরানের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। শনিবার থেকে শুরু হতে যাওয়া জনস্রোত এই শোকাবহ অধ্যায়কে স্মরণকালের বৃহত্তম আয়োজনে রূপ দেবে বলে ধারণা করছে তেহরান।

বিষয় : আয়াতুল্লাহ খামেনির জানাজা

কাল মহাকাল

শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬


শেষ বিদায় খামেনির: শোকাতুর ইরান, অংশ নিচ্ছেন বিশ্বনেতারা

প্রকাশের তারিখ : ০৪ জুলাই ২০২৬

featured Image

শোকের চাদরে ঢাকা তেহরান। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এক ভয়াবহ হামলায় নিহত ইরানের সাবেক সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষ বিদায় উপলক্ষে রাজধানী সেজেছে শোকের আবহে। শুক্রবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার দীর্ঘ আনুষ্ঠানিকতা। তেহরানের ইমাম খোমেনি মসজিদ কমপ্লেক্স, যা ‘গ্র্যান্ড মোসাল্লা’ নামে পরিচিত, সেখানে আজ বিদেশি প্রতিনিধি ও বিশিষ্ট অতিথিরা তার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন।

গ্র্যান্ড মোসাল্লায় খামেনির মূল কফিনের পাশেই রাখা হয়েছে আরও চারটি কফিন। শোকের এই দৃশ্যে স্তব্ধ বিশ্ব। নিহতদের তালিকায় রয়েছেন তার মেয়ের জামাই মেসবাহ উল হুদা বাঘেরি, বড় মেয়ে সৈয়দা বুশরা হোসেইনি খামেনি, পুত্রবধূ ও বর্তমান সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনির স্ত্রী জাহরা হাদ্দাদ আদেল এবং তার ১৪ মাস বয়সী নাতনি জাহরা মোহাম্মাদী গোলপায়গানি। সবচেয়ে ছোট কফিনটি ওই শিশু নাতনির, যা উপস্থিত সবার হৃদয়কে ভারাক্রান্ত করে তুলেছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, আজ শুধুমাত্র বিদেশি কূটনৈতিক প্রতিনিধি এবং আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য শ্রদ্ধা নিবেদনের সুযোগ রাখা হয়েছে। আগামীকাল শনিবার থেকে রাজধানী তেহরানে সাধারণ মানুষের জন্য তার কফিন উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।

খামেনির এই শেষ যাত্রায় বিশ্বের শতাধিক দেশের প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন। শোকাবহ এই আয়োজনে উপস্থিত রয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ, তাজিকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইমোমালি রাহমোন, আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাসিনইয়ান এবং জর্জিয়ার প্রেসিডেন্ট মিখাইল কাভেলাশভিলি। ভারত থেকে প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত আছেন উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী পবিত্র মার্গেরিতা এবং বিহারের গভর্নর সৈয়দ আতা হাসনাইন। এছাড়া তুরস্কের ভাইস-প্রেসিডেন্ট কেডভেট ইলমাজ, রাশিয়ার সিকিউরিটি কাউন্সিলের ডেপুটি চেয়ারম্যান দিমিত্রি মেদভেদেভ এবং আফগানিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকিসহ বিশ্বের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা অংশ নিয়েছেন। বাংলাদেশ থেকে সরকারি প্রতিনিধি হিসেবে স্পিকার হাফিজুদ্দিন আহমেদসহ বিরোধী দলের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন।

শুরুতে কূটনৈতিক মহলে গুঞ্জন ছিল যে, সৌদি আরবসহ গালফ অঞ্চলের দেশগুলো এই আয়োজনে প্রতিনিধি পাঠাবে না। তবে শেষ মুহূর্তে অপ্রত্যাশিত কূটনৈতিক পদক্ষেপে সৌদি আরব তাদের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে পাঠিয়ে শোকের এই মিছিলে সামিল হয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় খামেনি ও তার পরিবারের সদস্যরা নিহত হন। দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পর এখন দেশজুড়ে শুরু হওয়া এই আনুষ্ঠানিকতা ইরানের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। শনিবার থেকে শুরু হতে যাওয়া জনস্রোত এই শোকাবহ অধ্যায়কে স্মরণকালের বৃহত্তম আয়োজনে রূপ দেবে বলে ধারণা করছে তেহরান।



কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত