রাজধানী
রাজধানী ঢাকার অসহনীয় যানজট নিরসন ও আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে চলমান মেগা প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি নিয়ে পর্যালোচনা বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভা কক্ষে আয়োজিত এই বৈঠকে ইনার সার্কুলার রিং রোড নির্মাণ ও ঢাকাকে ঘিরে থাকা নদীপথ ব্যবহারের পরিকল্পনার বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরা হয়।
সচিবালয়ে আয়োজিত সভায় জানানো হয়, রাজধানীর যানজট কমাতে গাবতলী থেকে বাবুবাজার এবং পোস্তগোলা থেকে ডেমরা পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘ইনার সার্কুলার রিং রোড’ প্রকল্পের কাজ গুরুত্বের সাথে এগিয়ে চলছে। বর্তমানে রায়েরবাজার, হাজারীবাগ ও কামরাঙ্গীরচর অংশের নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে, যার প্রায় ৪৫ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্পটি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-মাওয়া ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের যানবাহনগুলোকে আর রাজধানীর অভ্যন্তরীণ সড়ক ব্যবহার করতে হবে না। ফলে শহরের প্রধান সড়কগুলোতে যানবাহনের চাপ উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে।
যানজট নিরসনে সড়কপথের পাশাপাশি ঢাকার চারপাশের প্রায় ১১০ কিলোমিটার নৌপথ ব্যবহারের নতুন পরিকল্পনাও উপস্থাপন করা হয়েছে বৈঠকে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই নৌপথ কার্যকর করা গেলে সড়কপথের ওপর থেকে চাপ কমবে। পরিবেশ দূষণ রোধ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে এই নৌপথে বিদ্যুৎচালিত নৌযান চলাচলের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এটি বাস্তবায়ন সম্ভব হলে নগরীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে দ্রুত ও সহজ যাতায়াত নিশ্চিত হবে।
এদিকে যানজট নিরসনের অংশ হিসেবে ঢাকার চারটি আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল শহরের বাইরে স্থানান্তরের উদ্যোগে গতি এসেছে। গত ১৫ জুন অনুষ্ঠিত সভার সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল সম্ভাব্য স্থানগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন শুরু করেছে। প্রতিনিধিদলে পরিবহন বিশেষজ্ঞ, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা যুক্ত রয়েছেন।
বাস টার্মিনাল ও অস্থায়ী বাস ডিপোর জন্য প্রস্তাবিত স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে পূর্বাচল ১৯ নম্বর সেক্টর, দিয়াবাড়ি, গাবতলী টার্মিনাল-সংলগ্ন চুনকুটিয়া, বাঘাইর-তেঘরিয়া আন্ডারপাস এলাকা, হাসনাবাদ (ইকুরিয়া)-কাঁচপুর এবং ফুলবাড়িয়া এলাকা। সরেজমিন পরিদর্শনের পর উপযুক্ত ও সুবিধাজনক স্থান নির্বাচন করে ধাপে ধাপে টার্মিনাল স্থানান্তরের কার্যক্রম শুরু করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
সচিবালয়ে আয়োজিত এই পর্যালোচনা সভায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিববৃন্দ, বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এবং পুলিশ ও পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সরকারের এই সমন্বিত উদ্যোগে রাজধানীর যানজট পরিস্থিতির টেকসই উন্নতির প্রত্যাশা করছে নগরবাসী।
2.png)
শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ জুলাই ২০২৬
রাজধানী ঢাকার অসহনীয় যানজট নিরসন ও আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে চলমান মেগা প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি নিয়ে পর্যালোচনা বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভা কক্ষে আয়োজিত এই বৈঠকে ইনার সার্কুলার রিং রোড নির্মাণ ও ঢাকাকে ঘিরে থাকা নদীপথ ব্যবহারের পরিকল্পনার বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরা হয়।
সচিবালয়ে আয়োজিত সভায় জানানো হয়, রাজধানীর যানজট কমাতে গাবতলী থেকে বাবুবাজার এবং পোস্তগোলা থেকে ডেমরা পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘ইনার সার্কুলার রিং রোড’ প্রকল্পের কাজ গুরুত্বের সাথে এগিয়ে চলছে। বর্তমানে রায়েরবাজার, হাজারীবাগ ও কামরাঙ্গীরচর অংশের নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে, যার প্রায় ৪৫ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্পটি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-মাওয়া ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের যানবাহনগুলোকে আর রাজধানীর অভ্যন্তরীণ সড়ক ব্যবহার করতে হবে না। ফলে শহরের প্রধান সড়কগুলোতে যানবাহনের চাপ উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে।
যানজট নিরসনে সড়কপথের পাশাপাশি ঢাকার চারপাশের প্রায় ১১০ কিলোমিটার নৌপথ ব্যবহারের নতুন পরিকল্পনাও উপস্থাপন করা হয়েছে বৈঠকে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই নৌপথ কার্যকর করা গেলে সড়কপথের ওপর থেকে চাপ কমবে। পরিবেশ দূষণ রোধ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে এই নৌপথে বিদ্যুৎচালিত নৌযান চলাচলের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এটি বাস্তবায়ন সম্ভব হলে নগরীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে দ্রুত ও সহজ যাতায়াত নিশ্চিত হবে।
এদিকে যানজট নিরসনের অংশ হিসেবে ঢাকার চারটি আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল শহরের বাইরে স্থানান্তরের উদ্যোগে গতি এসেছে। গত ১৫ জুন অনুষ্ঠিত সভার সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল সম্ভাব্য স্থানগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন শুরু করেছে। প্রতিনিধিদলে পরিবহন বিশেষজ্ঞ, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা যুক্ত রয়েছেন।
বাস টার্মিনাল ও অস্থায়ী বাস ডিপোর জন্য প্রস্তাবিত স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে পূর্বাচল ১৯ নম্বর সেক্টর, দিয়াবাড়ি, গাবতলী টার্মিনাল-সংলগ্ন চুনকুটিয়া, বাঘাইর-তেঘরিয়া আন্ডারপাস এলাকা, হাসনাবাদ (ইকুরিয়া)-কাঁচপুর এবং ফুলবাড়িয়া এলাকা। সরেজমিন পরিদর্শনের পর উপযুক্ত ও সুবিধাজনক স্থান নির্বাচন করে ধাপে ধাপে টার্মিনাল স্থানান্তরের কার্যক্রম শুরু করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
সচিবালয়ে আয়োজিত এই পর্যালোচনা সভায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিববৃন্দ, বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এবং পুলিশ ও পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সরকারের এই সমন্বিত উদ্যোগে রাজধানীর যানজট পরিস্থিতির টেকসই উন্নতির প্রত্যাশা করছে নগরবাসী।
2.png)