সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 রাজধানীরাজধানী

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে নামছে ১৮ হাজার পুলিশ, চেকপোস্ট ২০০

২৩ জুনকে কেন্দ্র করে রাজধানীজুড়ে নজিরবিহীন নিরাপত্তা বলয় ডিএমপির; মাঠঘাট ও প্রবেশপথে বিশেষায়িত ইউনিটের কঠোর নজরদারি, জুনের প্রথম ২০ দিনে গ্রেপ্তার ৫শ’র বেশি।

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে নামছে ১৮ হাজার পুলিশ, চেকপোস্ট ২০০
ছবি -সংগৃহীত

কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে নজিরবিহীন ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। আগামী ২৩ জুনের কর্মসূচিকে ঘিরে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ঢাকাজুড়ে ১৮ হাজারেরও বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মহানগরের কৌশলগত ও গুরুত্বপূর্ণ ২০০টিরও বেশি পয়েন্টে বিশেষ পিকেট, তল্লাশি চৌকি (চেকপোস্ট) এবং গোয়েন্দা নজরদারির নিশ্ছিদ্র বলয় তৈরি করা হয়েছে।

রবিবার (২১ জুন) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী স্বাক্ষরিত এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই নিটোল নিরাপত্তা পরিকল্পনার কথা জানানো হয়।

ডিএমপি জানায়, নিষিদ্ধ ঘোষিত দলটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নানা কর্মসূচির আড়ালে যাতে কেউ কোনো ধরনের অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করতে না পারে, সেজন্যই এই বহুমাত্রিক আগাম ব্যবস্থা। রাজধানীর ২০০টিরও বেশি পয়েন্টে সার্বক্ষণিক চেকপোস্ট ও পিকেট ডিউটি কাজ করবে। বিশেষ করে ঢাকার সবকটি প্রবেশপথে জোরদার করা হচ্ছে কড়া তল্লাশি ব্যবস্থা, যাতে বাইরে থেকে এসে কেউ মহানগরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সুযোগ না পায়।

মাঠপর্যায়ের এই নিরাপত্তা নিশ্চিতে সাধারণ পুলিশের পাশাপাশি মাঠে নামানো হচ্ছে ডিএমপির সবকটি বিশেষায়িত উইং। এর মধ্যে ডিবি (গোয়েন্দা শাখা), সিটিটিসি (কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম), এসবি (স্পেশাল ব্রাঞ্চ) এবং আইএডি (ইন্টারনাল অ্যাফেয়ার্স ডিভিশন) সমন্বিতভাবে পুরো ঢাকার ওপর কঠোর গোয়েন্দা নজরদারি চালাবে।

যেকোনো আকস্মিক বা জরুরি পরিস্থিতি মুহূর্তের মধ্যে মোকাবিলা করার জন্য রাজধানীর স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে ১৫টি কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি) সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হচ্ছে। এছাড়া ডিএমপির প্রধান চারটি কন্ট্রোল রুমে পর্যাপ্ত পরিমাণে ‘রিজার্ভ ফোর্স’ স্ট্যান্ডবাই বা প্রস্তুত রাখা থাকবে, যাতে প্রয়োজন হওয়ামাত্রই দ্রুত অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করা যায়। ডিএমপি কমিশনারসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিজেরা মাঠে থেকে এই বিশাল নিরাপত্তা কর্মযজ্ঞ তদারকি করবেন।

এদিকে, এই নিরাপত্তা বিজ্ঞপ্তির পাশাপাশি চলতি জুন মাসে রাজধানীতে পরিচালিত বিশেষ অভিযানের একটি খতিয়ানও তুলে ধরেছে ডিএমপি। সরকারি তথ্যমতে, ১ থেকে ২০ জুনের মধ্যে মহানগরের বিভিন্ন থানা ও গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে রাজনৈতিক মামলায় ৮২ জন এবং ঝটিকা মিছিলের প্রস্তুতির সময় হাতেনাতে ২৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রাজনৈতিক মামলার পাশাপাশি সাধারণ অপরাধ দমনেও পুলিশের তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। এই ২০ দিনে চুরির ঘটনায় ১২১ জন, দস্যুতার অভিযোগে ১১৩ জন এবং ডাকাতি মামলায় ১২০ জনকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। এছাড়া ডিএমপির থানা ও সিটিটিসির চিরুনি অভিযানে এই মাসে এ পর্যন্ত ৫৫ জন চাঁদাবাজকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে চারজন পুলিশের তালিকাভুক্ত দুর্ধর্ষ চাঁদাবাজ।

ডিএমপির পক্ষ থেকে নগরবাসীকে আশ্বস্ত করে বলা হয়েছে, রাজধানীর শান্তি, স্থায়িত্ব ও জননিরাপত্তা অক্ষুণ্ণ রাখতে পুলিশ প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। যেকোনো মূল্যে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার চেষ্টা কঠোর হস্তে দমন করা হবে।

বিষয় : আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ২৩ জুন

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে নামছে ১৮ হাজার পুলিশ, চেকপোস্ট ২০০
0:00 0:00
1.0x
কাল মহাকাল

সোমবার, ২২ জুন ২০২৬


কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে নামছে ১৮ হাজার পুলিশ, চেকপোস্ট ২০০

প্রকাশের তারিখ : ২২ জুন ২০২৬

featured Image

কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে নজিরবিহীন ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। আগামী ২৩ জুনের কর্মসূচিকে ঘিরে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ঢাকাজুড়ে ১৮ হাজারেরও বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মহানগরের কৌশলগত ও গুরুত্বপূর্ণ ২০০টিরও বেশি পয়েন্টে বিশেষ পিকেট, তল্লাশি চৌকি (চেকপোস্ট) এবং গোয়েন্দা নজরদারির নিশ্ছিদ্র বলয় তৈরি করা হয়েছে।

রবিবার (২১ জুন) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী স্বাক্ষরিত এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই নিটোল নিরাপত্তা পরিকল্পনার কথা জানানো হয়।

ডিএমপি জানায়, নিষিদ্ধ ঘোষিত দলটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নানা কর্মসূচির আড়ালে যাতে কেউ কোনো ধরনের অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করতে না পারে, সেজন্যই এই বহুমাত্রিক আগাম ব্যবস্থা। রাজধানীর ২০০টিরও বেশি পয়েন্টে সার্বক্ষণিক চেকপোস্ট ও পিকেট ডিউটি কাজ করবে। বিশেষ করে ঢাকার সবকটি প্রবেশপথে জোরদার করা হচ্ছে কড়া তল্লাশি ব্যবস্থা, যাতে বাইরে থেকে এসে কেউ মহানগরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সুযোগ না পায়।

মাঠপর্যায়ের এই নিরাপত্তা নিশ্চিতে সাধারণ পুলিশের পাশাপাশি মাঠে নামানো হচ্ছে ডিএমপির সবকটি বিশেষায়িত উইং। এর মধ্যে ডিবি (গোয়েন্দা শাখা), সিটিটিসি (কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম), এসবি (স্পেশাল ব্রাঞ্চ) এবং আইএডি (ইন্টারনাল অ্যাফেয়ার্স ডিভিশন) সমন্বিতভাবে পুরো ঢাকার ওপর কঠোর গোয়েন্দা নজরদারি চালাবে।

যেকোনো আকস্মিক বা জরুরি পরিস্থিতি মুহূর্তের মধ্যে মোকাবিলা করার জন্য রাজধানীর স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে ১৫টি কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি) সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হচ্ছে। এছাড়া ডিএমপির প্রধান চারটি কন্ট্রোল রুমে পর্যাপ্ত পরিমাণে ‘রিজার্ভ ফোর্স’ স্ট্যান্ডবাই বা প্রস্তুত রাখা থাকবে, যাতে প্রয়োজন হওয়ামাত্রই দ্রুত অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করা যায়। ডিএমপি কমিশনারসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিজেরা মাঠে থেকে এই বিশাল নিরাপত্তা কর্মযজ্ঞ তদারকি করবেন।

এদিকে, এই নিরাপত্তা বিজ্ঞপ্তির পাশাপাশি চলতি জুন মাসে রাজধানীতে পরিচালিত বিশেষ অভিযানের একটি খতিয়ানও তুলে ধরেছে ডিএমপি। সরকারি তথ্যমতে, ১ থেকে ২০ জুনের মধ্যে মহানগরের বিভিন্ন থানা ও গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে রাজনৈতিক মামলায় ৮২ জন এবং ঝটিকা মিছিলের প্রস্তুতির সময় হাতেনাতে ২৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রাজনৈতিক মামলার পাশাপাশি সাধারণ অপরাধ দমনেও পুলিশের তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। এই ২০ দিনে চুরির ঘটনায় ১২১ জন, দস্যুতার অভিযোগে ১১৩ জন এবং ডাকাতি মামলায় ১২০ জনকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। এছাড়া ডিএমপির থানা ও সিটিটিসির চিরুনি অভিযানে এই মাসে এ পর্যন্ত ৫৫ জন চাঁদাবাজকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে চারজন পুলিশের তালিকাভুক্ত দুর্ধর্ষ চাঁদাবাজ।

ডিএমপির পক্ষ থেকে নগরবাসীকে আশ্বস্ত করে বলা হয়েছে, রাজধানীর শান্তি, স্থায়িত্ব ও জননিরাপত্তা অক্ষুণ্ণ রাখতে পুলিশ প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। যেকোনো মূল্যে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার চেষ্টা কঠোর হস্তে দমন করা হবে।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত