সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 রাজধানীরাজধানী

ভূমিকম্পে ঢাকার ঝুঁকি: বিল্ডিং ধসের চেয়েও ভয়ংকর মাটি দেবে যাওয়া

বুয়েটের গবেষণায় ঢাকার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত। লিকুইফ্যাকশন বা মাটি দেবে যাওয়ার আশঙ্কায় লাল ও গোলাপি জোনে থাকা এলাকাগুলোতে বাড়ছে উদ্বেগ।

ভূমিকম্পে ঢাকার ঝুঁকি: বিল্ডিং ধসের চেয়েও ভয়ংকর মাটি দেবে যাওয়া
ছবি -সংগৃহীত


ভূমিকম্পের কথা শুনলেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে বহুতল ভবন ধসে পড়ার চিত্র। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার জন্য এর চেয়েও বড় হুমকি হতে পারে মাটির নিচের অবস্থা। শক্তিশালী ভূমিকম্পে শুধু ভবন নয়, ঢাকার মাটির গুণাগুণের কারণে অনেক জায়গা আক্ষরিক অর্থেই দেবে যেতে পারে—যাকে ভূ-তাত্ত্বিক ভাষায় বলা হয় ‘লিকুইফ্যাকশন পোটেনশিয়ালিটি’ বা মাটি তরল হয়ে যাওয়ার প্রবণতা। বুয়েটের এক বিশদ গবেষণায় ঢাকার মাটির গঠন ও লিকুইফ্যাকশন ঝুঁকির ওপর ভিত্তি করে শহরটিকে তিনটি ভিন্ন জোনে ভাগ করা হয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, ভূমিকম্পের সময় মাটির নিচের বালু ও পানির স্তর এমনভাবে আচরণ করে যে মাটি তার ভারবহন ক্ষমতা হারিয়ে তরল হয়ে যায়। এই প্রক্রিয়ায় ভবনের অবকাঠামো অক্ষত থাকলেও মাটি দেবে যাওয়ায় পুরো ভবন হেলে বা দেবে যেতে পারে। বুয়েটের মানচিত্রে ‘লাল’ চিহ্ন দিয়ে চিহ্নিত এলাকাগুলো লিকুইফ্যাকশনের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

লাল জোনের তালিকায় রয়েছে—হজরতপুর, সাভার, কেরানীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, তেঘরিয়া, কোন্ডা, এনায়েতনগর, কাশীপুর, কালাগাছিয়া ও নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা। এছাড়া বন্দর, মোগরাপাড়া, নারায়ণগঞ্জ সদর, বক্তাবলী, মোহাম্মদপুর ও ধানমন্ডির কিছু অংশ, নিউমার্কেট, লালবাগ, মদনপুর, দুমনি, বাড্ডা, পাথালিয়ার কিছু অংশ, আশুলিয়া, কাটাবল্লী এবং দারুস সালাম এলাকা এই উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ তালিকার অন্তর্ভুক্ত।

অন্যদিকে, ‘গোলাপি’ রঙের চিহ্ন দিয়ে চিহ্নিত এলাকাগুলোকে মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই এলাকার তালিকায় রয়েছে—কোনাবাড়ি, ইয়ারপুর, হরিরামপুরের কিছু অংশ, বিরুলিয়া, পৌরসভা এলাকা, ক্যান্টনমেন্ট, পল্লবী, গুলশান, রূপগঞ্জ, ভুলতা, খিলগাঁও, কাফরুল ও দক্ষিণখানের কিছু অংশ। এছাড়াও আদাবর, তেজগাঁও, রামপুরা, মতিঝিল, ডেমরা, সবুজবাগ, যাত্রাবাড়ী, কদমতলী, কদম রসুল পৌরসভা, মুসাপুর, ফতুল্লা ও হাজারীবাগের কিছু অংশ, সাদিপুর, কাঁচপুর এবং পল্টন এলাকাও এই মাঝারি ঝুঁকির অন্তর্ভুক্ত।

বুয়েটের এই গবেষণা ও মানচিত্র নগর পরিকল্পনাবিদদের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করছে। বিশেষ করে লাল ও গোলাপি চিহ্ণিত এলাকাগুলোতে নতুন কোনো অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে মাটির সক্ষমতা যাচাই এবং ভূমিকম্প-সহনশীল নির্মাণশৈলী অনুসরণের ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, ঢাকা শহরের প্রতিটি এলাকার মাটির গঠন এক নয়, তাই ভূমিকম্পের ঝুঁকি মোকাবিলায় এলাকাভিত্তিক আলাদা ও সুনির্দিষ্ট প্রস্তুতি গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি।

বিষয় : ঢাকা, ভূমিকম্প

ভূমিকম্পে ঢাকার ঝুঁকি: বিল্ডিং ধসের চেয়েও ভয়ংকর মাটি দেবে যাওয়া
0:00 0:00
1.0x
কাল মহাকাল

বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬


ভূমিকম্পে ঢাকার ঝুঁকি: বিল্ডিং ধসের চেয়েও ভয়ংকর মাটি দেবে যাওয়া

প্রকাশের তারিখ : ০১ জুলাই ২০২৬

featured Image


ভূমিকম্পের কথা শুনলেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে বহুতল ভবন ধসে পড়ার চিত্র। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার জন্য এর চেয়েও বড় হুমকি হতে পারে মাটির নিচের অবস্থা। শক্তিশালী ভূমিকম্পে শুধু ভবন নয়, ঢাকার মাটির গুণাগুণের কারণে অনেক জায়গা আক্ষরিক অর্থেই দেবে যেতে পারে—যাকে ভূ-তাত্ত্বিক ভাষায় বলা হয় ‘লিকুইফ্যাকশন পোটেনশিয়ালিটি’ বা মাটি তরল হয়ে যাওয়ার প্রবণতা। বুয়েটের এক বিশদ গবেষণায় ঢাকার মাটির গঠন ও লিকুইফ্যাকশন ঝুঁকির ওপর ভিত্তি করে শহরটিকে তিনটি ভিন্ন জোনে ভাগ করা হয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, ভূমিকম্পের সময় মাটির নিচের বালু ও পানির স্তর এমনভাবে আচরণ করে যে মাটি তার ভারবহন ক্ষমতা হারিয়ে তরল হয়ে যায়। এই প্রক্রিয়ায় ভবনের অবকাঠামো অক্ষত থাকলেও মাটি দেবে যাওয়ায় পুরো ভবন হেলে বা দেবে যেতে পারে। বুয়েটের মানচিত্রে ‘লাল’ চিহ্ন দিয়ে চিহ্নিত এলাকাগুলো লিকুইফ্যাকশনের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

লাল জোনের তালিকায় রয়েছে—হজরতপুর, সাভার, কেরানীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, তেঘরিয়া, কোন্ডা, এনায়েতনগর, কাশীপুর, কালাগাছিয়া ও নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা। এছাড়া বন্দর, মোগরাপাড়া, নারায়ণগঞ্জ সদর, বক্তাবলী, মোহাম্মদপুর ও ধানমন্ডির কিছু অংশ, নিউমার্কেট, লালবাগ, মদনপুর, দুমনি, বাড্ডা, পাথালিয়ার কিছু অংশ, আশুলিয়া, কাটাবল্লী এবং দারুস সালাম এলাকা এই উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ তালিকার অন্তর্ভুক্ত।

অন্যদিকে, ‘গোলাপি’ রঙের চিহ্ন দিয়ে চিহ্নিত এলাকাগুলোকে মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই এলাকার তালিকায় রয়েছে—কোনাবাড়ি, ইয়ারপুর, হরিরামপুরের কিছু অংশ, বিরুলিয়া, পৌরসভা এলাকা, ক্যান্টনমেন্ট, পল্লবী, গুলশান, রূপগঞ্জ, ভুলতা, খিলগাঁও, কাফরুল ও দক্ষিণখানের কিছু অংশ। এছাড়াও আদাবর, তেজগাঁও, রামপুরা, মতিঝিল, ডেমরা, সবুজবাগ, যাত্রাবাড়ী, কদমতলী, কদম রসুল পৌরসভা, মুসাপুর, ফতুল্লা ও হাজারীবাগের কিছু অংশ, সাদিপুর, কাঁচপুর এবং পল্টন এলাকাও এই মাঝারি ঝুঁকির অন্তর্ভুক্ত।

বুয়েটের এই গবেষণা ও মানচিত্র নগর পরিকল্পনাবিদদের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করছে। বিশেষ করে লাল ও গোলাপি চিহ্ণিত এলাকাগুলোতে নতুন কোনো অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে মাটির সক্ষমতা যাচাই এবং ভূমিকম্প-সহনশীল নির্মাণশৈলী অনুসরণের ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, ঢাকা শহরের প্রতিটি এলাকার মাটির গঠন এক নয়, তাই ভূমিকম্পের ঝুঁকি মোকাবিলায় এলাকাভিত্তিক আলাদা ও সুনির্দিষ্ট প্রস্তুতি গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি।



কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত