রাজনীতিরাজনীতি

কুষ্টিয়ায় জামায়াত-গণ অধিকার সংঘর্ষ, এমপি আমির হামজার গাড়ি ভাঙচুর

কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য আমির হামজার গাড়িতে ইটপাটকেল ছুড়ে কাচ ভাঙার ঘটনা ঘটেছে। এ নিয়ে জামায়াত ও গণ অধিকার পরিষদ পরস্পরকে হামলার জন্য দায়ী করেছে।

মিনহাজ খায়ের
মিনহাজ খায়ের
কুষ্টিয়ায় জামায়াত-গণ অধিকার সংঘর্ষ, এমপি আমির হামজার গাড়ি ভাঙচুর
ছবি-সংগৃহিত

কুষ্টিয়া শহরের ছয় রাস্তার মোড়ে কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর আমির হামজার গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। আজ শনিবার সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে থানাপাড়া জামে মসজিদের সামনে এ ঘটনা ঘটে। ইটপাটকেলের আঘাতে গাড়ির পেছনের কাচ ভেঙে যায়। পরে দুই পক্ষের নেতা-কর্মীদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের আমির খন্দকার এ কে এম আলী মহসীন অভিযোগ করেন, গণ অধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীরা আমির হামজার গাড়িতে হামলা করেছেন এবং তাঁদের সঙ্গে বিএনপির ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরাও ছিলেন। তিনি বলেন, আমির হামজা বাইরে থেকে গাড়িতে করে বাড়িতে ফেরার সময় ইটপাটকেল ছোড়া হয়। এতে গাড়ির পেছনের কাচ ভেঙে যায়। জামায়াতের নেতা-কর্মীরা বাধা দিতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়। এ ঘটনায় মামলা করা হবে বলেও জানান তিনি।

আমির হামজা হামলায় আহত হয়েছেন কি না জানতে চাইলে আলী মহসীন বলেন, তিনি আহত হননি। ঘটনার পর তিনি বাসায় অবস্থান করছেন এবং দলীয় নেতা-কর্মীরা তাঁর নিরাপত্তায় রয়েছেন।

পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি গণ অধিকার পরিষদকে নিয়ে আমির হামজার একটি বক্তব্যের প্রতিবাদে আজ বিকেলে ছয় রাস্তার মোড়ে প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়। সন্ধ্যার দিকে আমির হামজা গাড়িতে করে ওই মোড় পার হয়ে পাশের বাসায় যাচ্ছিলেন। তাঁর গাড়ির সামনে ও পেছনে পুলিশের একাধিক গাড়ি ছিল।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, আমির হামজার গাড়ি ছয় রাস্তার মোড়ে পৌঁছালে গণ অধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীরা স্লোগান দিতে থাকেন। সেখানে গণ অধিকার পরিষদ ও আমির হামজার সঙ্গে থাকা জামায়াতের নেতা-কর্মীদের মধ্যে প্রথমে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি স্লোগান ও উত্তেজনা বাড়ে।

পরে জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা আমির হামজাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে হেঁটে তাঁর বাড়ির দিকে নিয়ে যান। গাড়িটিও তাঁদের পেছনে এগোতে থাকে। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল ছোড়াছুড়ি শুরু হলে আমির হামজার গাড়িতে ইটের আঘাত লাগে। গাড়ির কাচ ভেঙে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে ইটের আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়।

ঘটনার সময় ছয় রাস্তার মোড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। লোকজন ছোটাছুটি শুরু করেন। প্রায় পাঁচ মিনিট ধরে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া চলে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও র‍্যাবের সদস্যরা কাজ করেন।

কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কবির হোসেন মাতুব্বর বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলেই ছিল। এর মধ্যেই হঠাৎ গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। আমির হামজা বর্তমানে তাঁর বাড়িতে আছেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে আমির হামজার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তাঁর ক্ষতিগ্রস্ত গাড়িটি গ্যারেজে রাখা হয়েছে। তিনি বাড়ির ভেতরে ছিলেন। সেখানে দলীয় নেতা-কর্মীদের ভিড় দেখা যায়। এ সময় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন নেতা-কর্মীর হাতে লাঠিসোঁটা দেখা যায়।

আমির হামজার মিডিয়া সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত তানভীর হোসাইন অভিযোগ করেন, একটি অনুষ্ঠান শেষে তাঁরা বাসায় ফিরছিলেন। গাড়ির সামনে-পেছনে পুলিশ ও র‍্যাবের গাড়ি থাকা সত্ত্বেও গণ অধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীরা গাড়িতে হামলা করেন। তাঁর দাবি, সদর থানার ওসির উপস্থিতিতে হত্যার উদ্দেশ্যে এ হামলা চালানো হয়েছে। ইটের আঘাতে তাঁর পা থেকে রক্তপাত হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তবে গণ অধিকার পরিষদের নেতারা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সদস্যসচিব জাকির হোসেন সরকার বলেন, ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা গিয়ে দুই পক্ষকে সরিয়ে দিয়েছেন। তাঁদের ভাষ্য, আমির হামজা সম্প্রতি গণ অধিকার পরিষদ ও বিএনপিকে নিয়ে আপত্তিকর বক্তব্য দেওয়ায় গণ অধিকার পরিষদ সেখানে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করছিল। জামায়াতের পক্ষ থেকে বিএনপির বিরুদ্ধে হামলার যে অভিযোগ করা হচ্ছে, সেটি ভিত্তিহীন বলেও দাবি করেন তিনি।

গণ অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুন তাঁর ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন, আমির হামজার বক্তব্যের প্রতিবাদে গণ অধিকার পরিষদ মানববন্ধন ও পরে বিক্ষোভ মিছিল করছিল। সেখানে জামায়াতের নেতা-কর্মীরা হামলা চালান। তাঁর দাবি, এতে ৪০ থেকে ৫০ জন নেতা-কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন।

এদিকে, সন্ধ্যা সাতটার দিকে আমির হামজার সমর্থকেরা লাঠিসোঁটা নিয়ে শহরের হাইস্কুল মার্কেটে গণ অধিকার পরিষদের জেলা কার্যালয়ে হামলা চালান বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। পরে তাঁরা মিছিল নিয়ে ছয় রাস্তার মোড়সংলগ্ন হরিপুর সংযোগ সেতুর নিচে যান। সেখানে গণ অধিকার পরিষদের জেলা সাধারণ সম্পাদক আবদুল খালেকের ব্যক্তিগত কার্যালয়ে ভাঙচুর করা হয়।

ঘটনার সময় সাংবাদিকেরা পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গেলে তাঁদের ওপরও হামলাকারীরা চড়াও হন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। এতে এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়।

গণ অধিকার পরিষদের কুষ্টিয়া জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক তৌকির আহমেদ বলেন, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ শেষে নেতা-কর্মীরা ফিরে যাওয়ার সময় আমির হামজার সমর্থকেরা তাঁদের ওপর হামলা করেন। এতে কয়েকজন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন।

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন জানান, রক্তাক্ত অবস্থায় তিনজন হাসপাতালে এসেছিলেন। প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাঁরা চলে যান। তাঁদের শরীরে সামান্য কাটাছেঁড়া ছিল। ইটের আঘাতে এসব ক্ষত হয়ে থাকতে পারে বলে জানান তিনি।

গণ অধিকার পরিষদের কুষ্টিয়া জেলা সাধারণ সম্পাদক আবদুল খালেকের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

বিষয় : কুষ্টিয়া জামায়াত-গণ অধিকার আমির হামজা গাড়ি ভাঙচুর

কাল মহাকাল

রোববার, ১৬ আগস্ট ২০২৬


কুষ্টিয়ায় জামায়াত-গণ অধিকার সংঘর্ষ, এমপি আমির হামজার গাড়ি ভাঙচুর

প্রকাশের তারিখ : ১৫ আগস্ট ২০২৬

featured Image

কুষ্টিয়া শহরের ছয় রাস্তার মোড়ে কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর আমির হামজার গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। আজ শনিবার সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে থানাপাড়া জামে মসজিদের সামনে এ ঘটনা ঘটে। ইটপাটকেলের আঘাতে গাড়ির পেছনের কাচ ভেঙে যায়। পরে দুই পক্ষের নেতা-কর্মীদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের আমির খন্দকার এ কে এম আলী মহসীন অভিযোগ করেন, গণ অধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীরা আমির হামজার গাড়িতে হামলা করেছেন এবং তাঁদের সঙ্গে বিএনপির ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরাও ছিলেন। তিনি বলেন, আমির হামজা বাইরে থেকে গাড়িতে করে বাড়িতে ফেরার সময় ইটপাটকেল ছোড়া হয়। এতে গাড়ির পেছনের কাচ ভেঙে যায়। জামায়াতের নেতা-কর্মীরা বাধা দিতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়। এ ঘটনায় মামলা করা হবে বলেও জানান তিনি।

আমির হামজা হামলায় আহত হয়েছেন কি না জানতে চাইলে আলী মহসীন বলেন, তিনি আহত হননি। ঘটনার পর তিনি বাসায় অবস্থান করছেন এবং দলীয় নেতা-কর্মীরা তাঁর নিরাপত্তায় রয়েছেন।

পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি গণ অধিকার পরিষদকে নিয়ে আমির হামজার একটি বক্তব্যের প্রতিবাদে আজ বিকেলে ছয় রাস্তার মোড়ে প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়। সন্ধ্যার দিকে আমির হামজা গাড়িতে করে ওই মোড় পার হয়ে পাশের বাসায় যাচ্ছিলেন। তাঁর গাড়ির সামনে ও পেছনে পুলিশের একাধিক গাড়ি ছিল।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, আমির হামজার গাড়ি ছয় রাস্তার মোড়ে পৌঁছালে গণ অধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীরা স্লোগান দিতে থাকেন। সেখানে গণ অধিকার পরিষদ ও আমির হামজার সঙ্গে থাকা জামায়াতের নেতা-কর্মীদের মধ্যে প্রথমে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি স্লোগান ও উত্তেজনা বাড়ে।

পরে জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা আমির হামজাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে হেঁটে তাঁর বাড়ির দিকে নিয়ে যান। গাড়িটিও তাঁদের পেছনে এগোতে থাকে। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল ছোড়াছুড়ি শুরু হলে আমির হামজার গাড়িতে ইটের আঘাত লাগে। গাড়ির কাচ ভেঙে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে ইটের আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়।

ঘটনার সময় ছয় রাস্তার মোড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। লোকজন ছোটাছুটি শুরু করেন। প্রায় পাঁচ মিনিট ধরে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া চলে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও র‍্যাবের সদস্যরা কাজ করেন।

কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কবির হোসেন মাতুব্বর বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলেই ছিল। এর মধ্যেই হঠাৎ গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। আমির হামজা বর্তমানে তাঁর বাড়িতে আছেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে আমির হামজার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তাঁর ক্ষতিগ্রস্ত গাড়িটি গ্যারেজে রাখা হয়েছে। তিনি বাড়ির ভেতরে ছিলেন। সেখানে দলীয় নেতা-কর্মীদের ভিড় দেখা যায়। এ সময় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন নেতা-কর্মীর হাতে লাঠিসোঁটা দেখা যায়।

আমির হামজার মিডিয়া সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত তানভীর হোসাইন অভিযোগ করেন, একটি অনুষ্ঠান শেষে তাঁরা বাসায় ফিরছিলেন। গাড়ির সামনে-পেছনে পুলিশ ও র‍্যাবের গাড়ি থাকা সত্ত্বেও গণ অধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীরা গাড়িতে হামলা করেন। তাঁর দাবি, সদর থানার ওসির উপস্থিতিতে হত্যার উদ্দেশ্যে এ হামলা চালানো হয়েছে। ইটের আঘাতে তাঁর পা থেকে রক্তপাত হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তবে গণ অধিকার পরিষদের নেতারা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সদস্যসচিব জাকির হোসেন সরকার বলেন, ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা গিয়ে দুই পক্ষকে সরিয়ে দিয়েছেন। তাঁদের ভাষ্য, আমির হামজা সম্প্রতি গণ অধিকার পরিষদ ও বিএনপিকে নিয়ে আপত্তিকর বক্তব্য দেওয়ায় গণ অধিকার পরিষদ সেখানে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করছিল। জামায়াতের পক্ষ থেকে বিএনপির বিরুদ্ধে হামলার যে অভিযোগ করা হচ্ছে, সেটি ভিত্তিহীন বলেও দাবি করেন তিনি।

গণ অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুন তাঁর ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন, আমির হামজার বক্তব্যের প্রতিবাদে গণ অধিকার পরিষদ মানববন্ধন ও পরে বিক্ষোভ মিছিল করছিল। সেখানে জামায়াতের নেতা-কর্মীরা হামলা চালান। তাঁর দাবি, এতে ৪০ থেকে ৫০ জন নেতা-কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন।

এদিকে, সন্ধ্যা সাতটার দিকে আমির হামজার সমর্থকেরা লাঠিসোঁটা নিয়ে শহরের হাইস্কুল মার্কেটে গণ অধিকার পরিষদের জেলা কার্যালয়ে হামলা চালান বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। পরে তাঁরা মিছিল নিয়ে ছয় রাস্তার মোড়সংলগ্ন হরিপুর সংযোগ সেতুর নিচে যান। সেখানে গণ অধিকার পরিষদের জেলা সাধারণ সম্পাদক আবদুল খালেকের ব্যক্তিগত কার্যালয়ে ভাঙচুর করা হয়।

ঘটনার সময় সাংবাদিকেরা পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গেলে তাঁদের ওপরও হামলাকারীরা চড়াও হন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। এতে এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়।

গণ অধিকার পরিষদের কুষ্টিয়া জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক তৌকির আহমেদ বলেন, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ শেষে নেতা-কর্মীরা ফিরে যাওয়ার সময় আমির হামজার সমর্থকেরা তাঁদের ওপর হামলা করেন। এতে কয়েকজন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন।

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন জানান, রক্তাক্ত অবস্থায় তিনজন হাসপাতালে এসেছিলেন। প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাঁরা চলে যান। তাঁদের শরীরে সামান্য কাটাছেঁড়া ছিল। ইটের আঘাতে এসব ক্ষত হয়ে থাকতে পারে বলে জানান তিনি।

গণ অধিকার পরিষদের কুষ্টিয়া জেলা সাধারণ সম্পাদক আবদুল খালেকের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  মোঃ ফখরুল ইসলাম রাজীব 

কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত