বাংলাদেশবাংলাদেশ

মঙ্গলবার থেকে মহাসড়কে অটো মামলা, নজর রাখবে ১,৪২৭ এআই ক্যামেরা

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে বসানো ১ হাজার ৪২৭ এআই ক্যামেরায় শনাক্ত হবে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন। নিবন্ধিত মালিকের মোবাইলে এসএমএসে যাবে মামলার তথ্য, জরিমানাও দেওয়া যাবে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসে

মঙ্গলবার থেকে মহাসড়কে অটো মামলা, নজর রাখবে ১,৪২৭ এআই ক্যামেরা
ছবি-সংগৃহিত

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ট্রাফিক আইন ভাঙলেই এবার প্রযুক্তির মাধ্যমে শনাক্ত হবে যানবাহন। মঙ্গলবার থেকে মহাসড়কজুড়ে চালু হচ্ছে ‘অটো ফাইন সিস্টেম’। ১ হাজার ৪২৭টি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ক্যামেরায় নজরদারি করা হবে মহাসড়কের যান চলাচল। আইন লঙ্ঘন শনাক্ত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট গাড়ির নিবন্ধিত মালিকের মোবাইল ফোনে এসএমএসে পাঠানো হবে মামলার তথ্য।

মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও এলাকায় এ ব্যবস্থার উদ্বোধন করবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ।

হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, নির্ধারিত গতিসীমার বেশি গতিতে গাড়ি চালানো, অবৈধ পার্কিং, উল্টোপথে চলাচলসহ বিভিন্ন ধরনের ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন এআই ক্যামেরার মাধ্যমে শনাক্ত করা হবে। পরে প্রচলিত আইন অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

মামলার এসএমএস পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট গাড়ির মালিক নির্ধারিত পদ্ধতিতে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ব্যবহার করে জরিমানার অর্থ পরিশোধ করতে পারবেন।

হাইওয়ে পুলিশ বলছে, নতুন ব্যবস্থায় আইন লঙ্ঘনের ঘটনা দ্রুত শনাক্ত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষণ এবং বিধি অনুযায়ী জরিমানা আদায় সহজ হবে। এতে মামলা ও জরিমানা আদায়ের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতা বাড়বে বলে আশা করছে পুলিশ। পাশাপাশি চালকদের ট্রাফিক আইন মেনে চলার প্রবণতা বাড়ানো এবং সড়ক দুর্ঘটনা কমাতেও এই প্রযুক্তি ভূমিকা রাখবে।

হাইওয়ে পুলিশের প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি ফারুক আহমেদ বলেন, মহাসড়কে এআই প্রযুক্তিনির্ভর অটো ফাইন সিস্টেম চালুর মাধ্যমে নতুন একটি অধ্যায়ে প্রবেশ করছে বাংলাদেশ। তাঁর ভাষ্য, আগে আইন অমান্য করার ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা দেওয়ার অভিযোগ উঠত। প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা চালু হলে এ ধরনের অভিযোগের সুযোগ কমবে।

ফারুক আহমেদ বলেন, অটো ফাইন সিস্টেম চালু হলে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো এবং উল্টোপথে চলাচল কমবে। এর ফলে দুর্ঘটনা কমার পাশাপাশি মহাসড়কে যান চলাচলে শৃঙ্খলা বাড়বে।

এর আগে গত ১ আগস্ট কুমিল্লা সার্কিট হাউসে পরিবহন মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় মহাসড়কে এআই ক্যামেরা স্থাপনের বিষয়টি জানান ফারুক আহমেদ। তিনি জানিয়েছিলেন, চলতি মাসেই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সড়ক নিরাপত্তা জোরদার এবং ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন ঠেকাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ক্যামেরা চালু করা হবে।

ওই দিন কুমিল্লার নিমসার বাজার এলাকায় যানজট পরিস্থিতিও পরিদর্শন করেন হাইওয়ে পুলিশের প্রধান। পরে জেলা প্রশাসন, পুলিশ, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে যানজট নিরসনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।

রাজধানীতেও এর আগে এআই ক্যামেরার মাধ্যমে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন শনাক্তের ব্যবস্থা চালু হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ৭ মে ঢাকার বিভিন্ন মোড়ে পরীক্ষামূলকভাবে এআই ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। ৩০ জুন পর্যন্ত এসব ক্যামেরার মাধ্যমে ১ হাজার ৫০০টি মামলা করা হয়েছে। শুরুতে রাজধানীর ১৫টি ইন্টারসেকশনে এআই ক্যামেরা থাকলেও বর্তমানে ১৯টি ইন্টারসেকশনে এ প্রযুক্তি চালু রয়েছে। পর্যায়ক্রমে আরও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ক্যামেরা বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

ঢাকায় চালু থাকা এআই ক্যামেরাগুলো নির্ধারিত গতিসীমা অতিক্রম, ঝুঁকিপূর্ণভাবে লেন পরিবর্তন, চালক ও আরোহীর হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালানো, অবৈধ পার্কিং এবং যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির মতো অপরাধ শনাক্ত করতে পারে। এসব শনাক্ত হওয়ার পর ডিজিটাল পদ্ধতিতে মামলা করা হচ্ছে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নতুন ব্যবস্থা চালুর ফলে মহাসড়কের দীর্ঘ পথজুড়ে ট্রাফিক আইন প্রয়োগে প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বাড়বে।

বিষয় : ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এআই ক্যামেরা

কাল মহাকাল

রোববার, ১৬ আগস্ট ২০২৬


মঙ্গলবার থেকে মহাসড়কে অটো মামলা, নজর রাখবে ১,৪২৭ এআই ক্যামেরা

প্রকাশের তারিখ : ১৫ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ট্রাফিক আইন ভাঙলেই এবার প্রযুক্তির মাধ্যমে শনাক্ত হবে যানবাহন। মঙ্গলবার থেকে মহাসড়কজুড়ে চালু হচ্ছে ‘অটো ফাইন সিস্টেম’। ১ হাজার ৪২৭টি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ক্যামেরায় নজরদারি করা হবে মহাসড়কের যান চলাচল। আইন লঙ্ঘন শনাক্ত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট গাড়ির নিবন্ধিত মালিকের মোবাইল ফোনে এসএমএসে পাঠানো হবে মামলার তথ্য।

মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও এলাকায় এ ব্যবস্থার উদ্বোধন করবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ।

হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, নির্ধারিত গতিসীমার বেশি গতিতে গাড়ি চালানো, অবৈধ পার্কিং, উল্টোপথে চলাচলসহ বিভিন্ন ধরনের ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন এআই ক্যামেরার মাধ্যমে শনাক্ত করা হবে। পরে প্রচলিত আইন অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

মামলার এসএমএস পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট গাড়ির মালিক নির্ধারিত পদ্ধতিতে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ব্যবহার করে জরিমানার অর্থ পরিশোধ করতে পারবেন।

হাইওয়ে পুলিশ বলছে, নতুন ব্যবস্থায় আইন লঙ্ঘনের ঘটনা দ্রুত শনাক্ত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষণ এবং বিধি অনুযায়ী জরিমানা আদায় সহজ হবে। এতে মামলা ও জরিমানা আদায়ের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতা বাড়বে বলে আশা করছে পুলিশ। পাশাপাশি চালকদের ট্রাফিক আইন মেনে চলার প্রবণতা বাড়ানো এবং সড়ক দুর্ঘটনা কমাতেও এই প্রযুক্তি ভূমিকা রাখবে।

হাইওয়ে পুলিশের প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি ফারুক আহমেদ বলেন, মহাসড়কে এআই প্রযুক্তিনির্ভর অটো ফাইন সিস্টেম চালুর মাধ্যমে নতুন একটি অধ্যায়ে প্রবেশ করছে বাংলাদেশ। তাঁর ভাষ্য, আগে আইন অমান্য করার ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা দেওয়ার অভিযোগ উঠত। প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা চালু হলে এ ধরনের অভিযোগের সুযোগ কমবে।

ফারুক আহমেদ বলেন, অটো ফাইন সিস্টেম চালু হলে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো এবং উল্টোপথে চলাচল কমবে। এর ফলে দুর্ঘটনা কমার পাশাপাশি মহাসড়কে যান চলাচলে শৃঙ্খলা বাড়বে।

এর আগে গত ১ আগস্ট কুমিল্লা সার্কিট হাউসে পরিবহন মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় মহাসড়কে এআই ক্যামেরা স্থাপনের বিষয়টি জানান ফারুক আহমেদ। তিনি জানিয়েছিলেন, চলতি মাসেই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সড়ক নিরাপত্তা জোরদার এবং ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন ঠেকাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ক্যামেরা চালু করা হবে।

ওই দিন কুমিল্লার নিমসার বাজার এলাকায় যানজট পরিস্থিতিও পরিদর্শন করেন হাইওয়ে পুলিশের প্রধান। পরে জেলা প্রশাসন, পুলিশ, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে যানজট নিরসনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।

রাজধানীতেও এর আগে এআই ক্যামেরার মাধ্যমে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন শনাক্তের ব্যবস্থা চালু হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ৭ মে ঢাকার বিভিন্ন মোড়ে পরীক্ষামূলকভাবে এআই ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। ৩০ জুন পর্যন্ত এসব ক্যামেরার মাধ্যমে ১ হাজার ৫০০টি মামলা করা হয়েছে। শুরুতে রাজধানীর ১৫টি ইন্টারসেকশনে এআই ক্যামেরা থাকলেও বর্তমানে ১৯টি ইন্টারসেকশনে এ প্রযুক্তি চালু রয়েছে। পর্যায়ক্রমে আরও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ক্যামেরা বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

ঢাকায় চালু থাকা এআই ক্যামেরাগুলো নির্ধারিত গতিসীমা অতিক্রম, ঝুঁকিপূর্ণভাবে লেন পরিবর্তন, চালক ও আরোহীর হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালানো, অবৈধ পার্কিং এবং যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির মতো অপরাধ শনাক্ত করতে পারে। এসব শনাক্ত হওয়ার পর ডিজিটাল পদ্ধতিতে মামলা করা হচ্ছে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নতুন ব্যবস্থা চালুর ফলে মহাসড়কের দীর্ঘ পথজুড়ে ট্রাফিক আইন প্রয়োগে প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বাড়বে।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  মোঃ ফখরুল ইসলাম রাজীব 

কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত