বাংলাদেশবাংলাদেশ

ভোরের স্নিগ্ধতায় ভাঁটা, সুর হারাচ্ছে গাঁয়ের পথ, হারিয়ে যাচ্ছে ভালোবাসার দোয়েল

নগরায়ণ, বৃক্ষনিধন ও কীটনাশকের আগ্রাসনে কমছে দোয়েলের নিরাপদ আবাস। হারিয়ে যেতে বসা জাতীয় পাখির মিষ্টি শিষে তাই এখন শোনা যাচ্ছে প্রকৃতির নীরবতার সুর।

ভোরের স্নিগ্ধতায় ভাঁটা, সুর হারাচ্ছে গাঁয়ের পথ, হারিয়ে যাচ্ছে ভালোবাসার দোয়েল
জাতীয় পাখি দোয়েল

যে পাখির মিষ্টি শিষ সকালের ঘুম ভাঙাত, রূপসী বাংলার মেঠো পথ আর সবুজ পাতাদের আড়ালে যার চঞ্চল উপস্থিতি ছিল এক অদ্ভুত ভালোলাগার নাম-সেই জাতীয় পাখি দোয়েল আজ বড্ড নিঃসঙ্গ, বড্ড বিরল। কংক্রিটের ইট-কাঠের ভিড়ে আর ইট-পাথরের যান্ত্রিক খাঁচায় রূপসী বাংলার সেই প্রেমময় সুরটি যেন ধীরে ধীরে মিলিয়ে যাচ্ছে।

একদিন যার কালো-সাদা পালকের নাচ আর প্রেমাতুর ডাক গ্রামের উঠোন, বাঁশবাগান আর আমগাছের ডালে ভালোবাসা ছড়িয়ে দিত, সেই রূপময়ী দোয়েল আজ সুর হারাতে বসেছে। নগরায়ণ আর আধুনিকতার দাপটে হারিয়ে যাচ্ছে দোয়েলের নিরাপদ নীড়। নির্বিচারে বৃক্ষনিধন, ফসলের মাঠে ক্ষতিকর কীটনাশকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার এবং প্রকৃতির স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হওয়ার কারণে মনের গোপনে জমে থাকা সেই প্রিয় শিষ আজ নীরব হয়ে যাচ্ছে।

প্রকৃতিপ্রেমীদের মতে, দোয়েল কেবল একটি পাখি নয়, এ যেন আমাদের শৈশব, প্রথম প্রেম আর মাটির গন্ধ মাখা সোনালী স্মৃতির এক চিরন্তন প্রতীক। ভোরে জানালার শিকে বসে যে দোয়েল তার মিষ্টি সুরে মনের মধ্যে অনুভূতির আলোড়ন তুলত, তার সুর আজ যেন কোনো দূর অজানায় হারিয়ে যাচ্ছে।

বাংলার আকাশ-বাতাস থেকে এই ভালোবাসার গান যদি চিরতরে হারিয়ে যায়, তবে আমাদের রূপসী প্রকৃতি তার রূপ-রস-গন্ধের এক বড়ো অংশই হারাবে। কবির কবিতার সেই ছন্দ আর পাখির সুরকে বাঁচিয়ে রাখতে এখনই প্রয়োজন প্রকৃতির প্রতি যত্নবান হওয়া এবং দোয়েলের ভালোবাসাময় নীড়টুকু ফিরিয়ে দেয়া।

বিষয় : প্রকৃতি দোয়েল

কাল মহাকাল

শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬


ভোরের স্নিগ্ধতায় ভাঁটা, সুর হারাচ্ছে গাঁয়ের পথ, হারিয়ে যাচ্ছে ভালোবাসার দোয়েল

প্রকাশের তারিখ : ১৪ আগস্ট ২০২৬

featured Image

যে পাখির মিষ্টি শিষ সকালের ঘুম ভাঙাত, রূপসী বাংলার মেঠো পথ আর সবুজ পাতাদের আড়ালে যার চঞ্চল উপস্থিতি ছিল এক অদ্ভুত ভালোলাগার নাম-সেই জাতীয় পাখি দোয়েল আজ বড্ড নিঃসঙ্গ, বড্ড বিরল। কংক্রিটের ইট-কাঠের ভিড়ে আর ইট-পাথরের যান্ত্রিক খাঁচায় রূপসী বাংলার সেই প্রেমময় সুরটি যেন ধীরে ধীরে মিলিয়ে যাচ্ছে।

একদিন যার কালো-সাদা পালকের নাচ আর প্রেমাতুর ডাক গ্রামের উঠোন, বাঁশবাগান আর আমগাছের ডালে ভালোবাসা ছড়িয়ে দিত, সেই রূপময়ী দোয়েল আজ সুর হারাতে বসেছে। নগরায়ণ আর আধুনিকতার দাপটে হারিয়ে যাচ্ছে দোয়েলের নিরাপদ নীড়। নির্বিচারে বৃক্ষনিধন, ফসলের মাঠে ক্ষতিকর কীটনাশকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার এবং প্রকৃতির স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হওয়ার কারণে মনের গোপনে জমে থাকা সেই প্রিয় শিষ আজ নীরব হয়ে যাচ্ছে।

প্রকৃতিপ্রেমীদের মতে, দোয়েল কেবল একটি পাখি নয়, এ যেন আমাদের শৈশব, প্রথম প্রেম আর মাটির গন্ধ মাখা সোনালী স্মৃতির এক চিরন্তন প্রতীক। ভোরে জানালার শিকে বসে যে দোয়েল তার মিষ্টি সুরে মনের মধ্যে অনুভূতির আলোড়ন তুলত, তার সুর আজ যেন কোনো দূর অজানায় হারিয়ে যাচ্ছে।

বাংলার আকাশ-বাতাস থেকে এই ভালোবাসার গান যদি চিরতরে হারিয়ে যায়, তবে আমাদের রূপসী প্রকৃতি তার রূপ-রস-গন্ধের এক বড়ো অংশই হারাবে। কবির কবিতার সেই ছন্দ আর পাখির সুরকে বাঁচিয়ে রাখতে এখনই প্রয়োজন প্রকৃতির প্রতি যত্নবান হওয়া এবং দোয়েলের ভালোবাসাময় নীড়টুকু ফিরিয়ে দেয়া।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 

কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত