খেলা
ডারউইন টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দারুণ নিয়ন্ত্রণে এগোচ্ছে বাংলাদেশ। তানজিদ হাসানের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরির পর মুশফিকুর রহিমকে সঙ্গে নিয়ে লিড আরও বাড়ানোর পথে নাজমুল হোসেন শান্ত। ৭৪ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ২৬৮ রান। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসের চেয়ে এখন ৭০ রানে এগিয়ে বাংলাদেশ।
নতুন জুটিতে নাজমুল ৭৫ রানে অপরাজিত। মুশফিকের সংগ্রহ ১২। চতুর্থ উইকেটে দুজন মিলে যোগ করেছেন ৩৭ রান। অস্ট্রেলিয়ার তিন পেসার ও নাথান লায়নের মতো বিশ্বমানের বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে বাংলাদেশের ব্যাটিং এখন বেশ স্বস্তিদায়ক অবস্থায়।
এর আগে ৬৬ ওভারে ২৩৩ রানে তানজিদের ইনিংস থামে। নাথান লায়নের বল লং অফের ওপর দিয়ে তুলে মারতে গিয়ে মিচেল স্টার্কের হাতে ক্যাচ দেন তিনি। ১০১ রানের ইনিংসে তানজিদ খেলেছেন আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিং। তাঁর বিদায়ের পর ক্রিজে আসেন মুশফিক।
তানজিদের সেঞ্চুরি আসে ৬৪তম ওভারে। অফ স্টাম্পের বাইরে ফুল লেংথের বল বোলারের পাশ দিয়ে ড্রাইভ করে লং অফে পাঠিয়েই তিন অঙ্ক ছোঁয়েন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্টে বাংলাদেশের প্রথম সেঞ্চুরিয়ানও হলেন তিনি।
মাত্র দ্বিতীয় টেস্টেই তানজিদের এই সেঞ্চুরি। গত মে মাসে পাকিস্তানের বিপক্ষে তাঁর টেস্ট অভিষেক হয়েছিল। অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে প্রথম ফিফটির পর সেটিকে সেঞ্চুরিতে রূপ দিতে সময় নিয়েছেন তিনি ১৩০ বল। ইনিংসে ছিল একাধিক দৃষ্টিনন্দন ড্রাইভ, ব্যাকফুট পাঞ্চ ও ডাউন দ্য উইকেটে উঠে মারা ছক্কা।
তানজিদের সঙ্গে দ্বিতীয় উইকেটে ১০২ রানের জুটি গড়েছিলেন মুমিনুল হক। ৪৯ রানে মুমিনুল আউট হলে সেই জুটির সমাপ্তি ঘটে। ৯৫ বলে ৪৯ রান করে জশ হ্যাজলউডের অফ স্টাম্পের বাইরের বল ড্রাইভ করতে গিয়ে অ্যালেক্স ক্যারির হাতে ক্যাচ দেন তিনি।
মুমিনুল-তানজিদের জুটি ভাঙার আগে অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের বেশ ভালোভাবেই সামলেছে বাংলাদেশ। কামিন্স ও স্টার্কের গতি, বাউন্স ও সুইংয়ের বিপরীতে দুজনের ব্যাটিং ছিল নিয়ন্ত্রিত। একপর্যায়ে স্টিভেন স্মিথ তানজিদের ক্যাচও ছেড়ে দেন। লায়নের বলে স্লিপে ৬২ রানে থাকা তানজিদের সেই সুযোগটি পরে ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হয়ে ওঠে।
মুমিনুল ফেরার পর অধিনায়ক নাজমুল এসে তানজিদের সঙ্গে জুটি বাঁধেন। প্রথম সেশন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ১৮২/২। তখন অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসের চেয়ে বাংলাদেশ পিছিয়ে ছিল মাত্র ১৭ রানে। ২৭ ওভারে ৮৫ রান তুলে লাঞ্চে যায় বাংলাদেশ।
লাঞ্চের পর দ্রুতই অস্ট্রেলিয়াকে ছাড়িয়ে যায় বাংলাদেশ। নাজমুল ও তানজিদের ব্যাটে আসে আরও রান। ২০০ পেরোনোর সময় বাংলাদেশের লিডও শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত তানজিদের সেঞ্চুরি এবং তাঁর বিদায়ের পর নাজমুলের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত হয়েছে বাংলাদেশের হাতে।
দ্বিতীয় দিনের শুরুতে অস্ট্রেলিয়া বিশেষজ্ঞ তিন পেসার থাকা সত্ত্বেও বোলিং শুরু করেছিল পেস বোলিং অলরাউন্ডার বো ওয়েবস্টারকে দিয়ে। আগের দিন বোলিং না করা ওয়েবস্টারকে এনে মুমিনুল-তানজিদকে নতুন চ্যালেঞ্জে ফেলতে চেয়েছিল স্বাগতিকরা। কিন্তু সেই কৌশলও দীর্ঘ সময় বাংলাদেশের ব্যাটিং থামাতে পারেনি।
এখন ক্রিজে নাজমুল ও মুশফিক। বাংলাদেশের হাতে আছে ৭ উইকেট। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসের ১৯৮ রানের জবাবে বাংলাদেশের স্কোর ইতিমধ্যে ২৬৮। বড় লিডের সম্ভাবনাই এখন সামনে।
বিষয় : সেঞ্চুরি ডারউইন টেস্ট তানজিদ হাসান
2.png)
শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ আগস্ট ২০২৬
ডারউইন টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দারুণ নিয়ন্ত্রণে এগোচ্ছে বাংলাদেশ। তানজিদ হাসানের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরির পর মুশফিকুর রহিমকে সঙ্গে নিয়ে লিড আরও বাড়ানোর পথে নাজমুল হোসেন শান্ত। ৭৪ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ২৬৮ রান। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসের চেয়ে এখন ৭০ রানে এগিয়ে বাংলাদেশ।
নতুন জুটিতে নাজমুল ৭৫ রানে অপরাজিত। মুশফিকের সংগ্রহ ১২। চতুর্থ উইকেটে দুজন মিলে যোগ করেছেন ৩৭ রান। অস্ট্রেলিয়ার তিন পেসার ও নাথান লায়নের মতো বিশ্বমানের বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে বাংলাদেশের ব্যাটিং এখন বেশ স্বস্তিদায়ক অবস্থায়।
এর আগে ৬৬ ওভারে ২৩৩ রানে তানজিদের ইনিংস থামে। নাথান লায়নের বল লং অফের ওপর দিয়ে তুলে মারতে গিয়ে মিচেল স্টার্কের হাতে ক্যাচ দেন তিনি। ১০১ রানের ইনিংসে তানজিদ খেলেছেন আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিং। তাঁর বিদায়ের পর ক্রিজে আসেন মুশফিক।
তানজিদের সেঞ্চুরি আসে ৬৪তম ওভারে। অফ স্টাম্পের বাইরে ফুল লেংথের বল বোলারের পাশ দিয়ে ড্রাইভ করে লং অফে পাঠিয়েই তিন অঙ্ক ছোঁয়েন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্টে বাংলাদেশের প্রথম সেঞ্চুরিয়ানও হলেন তিনি।
মাত্র দ্বিতীয় টেস্টেই তানজিদের এই সেঞ্চুরি। গত মে মাসে পাকিস্তানের বিপক্ষে তাঁর টেস্ট অভিষেক হয়েছিল। অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে প্রথম ফিফটির পর সেটিকে সেঞ্চুরিতে রূপ দিতে সময় নিয়েছেন তিনি ১৩০ বল। ইনিংসে ছিল একাধিক দৃষ্টিনন্দন ড্রাইভ, ব্যাকফুট পাঞ্চ ও ডাউন দ্য উইকেটে উঠে মারা ছক্কা।
তানজিদের সঙ্গে দ্বিতীয় উইকেটে ১০২ রানের জুটি গড়েছিলেন মুমিনুল হক। ৪৯ রানে মুমিনুল আউট হলে সেই জুটির সমাপ্তি ঘটে। ৯৫ বলে ৪৯ রান করে জশ হ্যাজলউডের অফ স্টাম্পের বাইরের বল ড্রাইভ করতে গিয়ে অ্যালেক্স ক্যারির হাতে ক্যাচ দেন তিনি।
মুমিনুল-তানজিদের জুটি ভাঙার আগে অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের বেশ ভালোভাবেই সামলেছে বাংলাদেশ। কামিন্স ও স্টার্কের গতি, বাউন্স ও সুইংয়ের বিপরীতে দুজনের ব্যাটিং ছিল নিয়ন্ত্রিত। একপর্যায়ে স্টিভেন স্মিথ তানজিদের ক্যাচও ছেড়ে দেন। লায়নের বলে স্লিপে ৬২ রানে থাকা তানজিদের সেই সুযোগটি পরে ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হয়ে ওঠে।
মুমিনুল ফেরার পর অধিনায়ক নাজমুল এসে তানজিদের সঙ্গে জুটি বাঁধেন। প্রথম সেশন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ১৮২/২। তখন অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসের চেয়ে বাংলাদেশ পিছিয়ে ছিল মাত্র ১৭ রানে। ২৭ ওভারে ৮৫ রান তুলে লাঞ্চে যায় বাংলাদেশ।
লাঞ্চের পর দ্রুতই অস্ট্রেলিয়াকে ছাড়িয়ে যায় বাংলাদেশ। নাজমুল ও তানজিদের ব্যাটে আসে আরও রান। ২০০ পেরোনোর সময় বাংলাদেশের লিডও শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত তানজিদের সেঞ্চুরি এবং তাঁর বিদায়ের পর নাজমুলের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত হয়েছে বাংলাদেশের হাতে।
দ্বিতীয় দিনের শুরুতে অস্ট্রেলিয়া বিশেষজ্ঞ তিন পেসার থাকা সত্ত্বেও বোলিং শুরু করেছিল পেস বোলিং অলরাউন্ডার বো ওয়েবস্টারকে দিয়ে। আগের দিন বোলিং না করা ওয়েবস্টারকে এনে মুমিনুল-তানজিদকে নতুন চ্যালেঞ্জে ফেলতে চেয়েছিল স্বাগতিকরা। কিন্তু সেই কৌশলও দীর্ঘ সময় বাংলাদেশের ব্যাটিং থামাতে পারেনি।
এখন ক্রিজে নাজমুল ও মুশফিক। বাংলাদেশের হাতে আছে ৭ উইকেট। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসের ১৯৮ রানের জবাবে বাংলাদেশের স্কোর ইতিমধ্যে ২৬৮। বড় লিডের সম্ভাবনাই এখন সামনে।
2.png)