খেলা
ডারউইন টেস্টের প্রথম দিনটা নিজেদের করে নিয়েছে বাংলাদেশ। হাসান মাহমুদের ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পর দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৯৬ রান, ১ উইকেটে। টাইগারদের পেস আক্রমণের এমন দাপুটে পারফরম্যান্সে মুগ্ধ হয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক তারকা ক্রিকেটার ডেভিড ওয়ার্নার, অ্যালিসা হিলি ও মার্ক ওয়াহ।
টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা অস্ট্রেলিয়াকে শুরু থেকেই চাপে রাখেন বাংলাদেশের তিন পেসার হাসান মাহমুদ, তাসকিন আহমেদ ও এবাদত হোসেন। ৫৩ ওভার টিকতে পেরেছে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৭১ রান করেন স্মিথ। এ ছাড়া ওয়েদারাল্ড ২৩, ট্রাভিস হেড ২২ ও অ্যালেক্স ক্যারি করেন ১৯ রান।
বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে ভয়ংকর ছিলেন হাসান। গতির সঙ্গে নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেন্থে একের পর এক অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটারকে বিপদে ফেলেন তিনি। ৫৫ রানে ৬ উইকেট নিয়ে ক্যারিয়ারের সেরা বোলিংয়ের কীর্তি গড়েন এই পেসার। এবাদত ও তাসকিন নেন দুটি করে উইকেট।
হাসানের বোলিংয়ের প্রশংসা করতে গিয়ে ডেভিড ওয়ার্নারও ছিলেন অকপট। কায়ো স্পোর্টসে সাবেক এই অস্ট্রেলিয়ান ওপেনার বলেন, ‘আমি সত্যিই মুগ্ধ হয়েছি। সে বারবার সঠিক জায়গায় বল ফেলেছে। একজন বোলারের কাছ থেকে এর চেয়ে বেশি আর কী চাইতে পারেন?’
হাসান মাঠ ছাড়ার সময় ডারউইনের দর্শকেরা করতালি দিয়ে তাকে অভিনন্দন জানান। সেই করতালিতে যোগ দেন ওয়ার্নারও। ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ের পর হাসানের জন্য সেটিই হয়ে ওঠে বিশেষ এক মুহূর্ত।
অ্যালিসা হিলির চোখেও হাসানের বোলিং ছিল পরিণত। অস্ট্রেলিয়ার সাবেক এই নারী ক্রিকেটার বলেন, ‘একজন তরুণ খেলোয়াড়, যার ক্যারিয়ারও এখনো শুরুর দিকে, সে যেভাবে এসে বোলিং করেছে, সেটি অসাধারণ। সে সত্যিকারের অস্ট্রেলিয়ান চ্যানেলে বল করেছে, কারণ এটিই এখানে বল করার সবচেয়ে ভালো উপায়। অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে সে। আমার মনে হয়, এটি তার খুবই পরিণত একটি পারফরম্যান্স। তাই এমন পারফরম্যান্স তার প্রাপ্য।’
শুধু হাসানের পারফরম্যান্স নয়, বাংলাদেশের পুরো পেস ইউনিটের ধারাবাহিকতাও নজর কেড়েছে মার্ক ওয়াহর। সাবেক এই অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটারের মতে, চাপ তৈরি করার পর সেটি ধরে রাখাই বাংলাদেশের বোলিংয়ের সবচেয়ে বড় সাফল্য।
মার্ক ওয়াহ বলেন, ‘সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো, তারা চাপ ধরে রেখেছে। অনেক সময় দেখা যায়, কোনো দল কয়েকটি ভালো ওভার করে, এরপর খারাপ কয়েকটি ওভার করে এবং প্রতিপক্ষ ম্যাচে ফিরে আসে। কিন্তু তারা খুবই শৃঙ্খলিত ছিল।’
অস্ট্রেলিয়ার ১৯৮ রানের জবাবে বাংলাদেশের শুরুটাও হয়েছে স্বস্তিতে। ২৪ ওভারে ৯৬ রান তুলেছে সফরকারীরা। সাদমান ইসলাম ২০ রান করে আউট হলেও মুমিনুল হক ৩৫ ও তানজিদ হাসান ৩২ রানে অপরাজিত থেকে দিন শেষ করেছেন। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে একমাত্র উইকেটটি নিয়েছেন মিচেল স্টার্ক। বাংলাদেশের ব্যাটারদের আটকে রাখতে পারেননি জশ হ্যাজলউড, প্যাট কামিন্স, ক্যামেরন গ্রিন ও নাথান লায়ন।
প্রথম দিনের হিসাব বলছে, ডারউইনে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ এখন বাংলাদেশের হাতেই। অস্ট্রেলিয়াকে দ্রুত অলআউট করার পর ব্যাটিংয়েও বড় কোনো ধাক্কা খায়নি সফরকারীরা। দ্বিতীয় দিনে সেই সুবিধা কতটা কাজে লাগাতে পারে বাংলাদেশ, সেটিই এখন দেখার।
বিষয় : ডারউইন টেস্ট ডেভিড ওয়ার্নার মার্ক ওয়াহ
2.png)
বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ আগস্ট ২০২৬
ডারউইন টেস্টের প্রথম দিনটা নিজেদের করে নিয়েছে বাংলাদেশ। হাসান মাহমুদের ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পর দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৯৬ রান, ১ উইকেটে। টাইগারদের পেস আক্রমণের এমন দাপুটে পারফরম্যান্সে মুগ্ধ হয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক তারকা ক্রিকেটার ডেভিড ওয়ার্নার, অ্যালিসা হিলি ও মার্ক ওয়াহ।
টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা অস্ট্রেলিয়াকে শুরু থেকেই চাপে রাখেন বাংলাদেশের তিন পেসার হাসান মাহমুদ, তাসকিন আহমেদ ও এবাদত হোসেন। ৫৩ ওভার টিকতে পেরেছে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৭১ রান করেন স্মিথ। এ ছাড়া ওয়েদারাল্ড ২৩, ট্রাভিস হেড ২২ ও অ্যালেক্স ক্যারি করেন ১৯ রান।
বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে ভয়ংকর ছিলেন হাসান। গতির সঙ্গে নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেন্থে একের পর এক অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটারকে বিপদে ফেলেন তিনি। ৫৫ রানে ৬ উইকেট নিয়ে ক্যারিয়ারের সেরা বোলিংয়ের কীর্তি গড়েন এই পেসার। এবাদত ও তাসকিন নেন দুটি করে উইকেট।
হাসানের বোলিংয়ের প্রশংসা করতে গিয়ে ডেভিড ওয়ার্নারও ছিলেন অকপট। কায়ো স্পোর্টসে সাবেক এই অস্ট্রেলিয়ান ওপেনার বলেন, ‘আমি সত্যিই মুগ্ধ হয়েছি। সে বারবার সঠিক জায়গায় বল ফেলেছে। একজন বোলারের কাছ থেকে এর চেয়ে বেশি আর কী চাইতে পারেন?’
হাসান মাঠ ছাড়ার সময় ডারউইনের দর্শকেরা করতালি দিয়ে তাকে অভিনন্দন জানান। সেই করতালিতে যোগ দেন ওয়ার্নারও। ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ের পর হাসানের জন্য সেটিই হয়ে ওঠে বিশেষ এক মুহূর্ত।
অ্যালিসা হিলির চোখেও হাসানের বোলিং ছিল পরিণত। অস্ট্রেলিয়ার সাবেক এই নারী ক্রিকেটার বলেন, ‘একজন তরুণ খেলোয়াড়, যার ক্যারিয়ারও এখনো শুরুর দিকে, সে যেভাবে এসে বোলিং করেছে, সেটি অসাধারণ। সে সত্যিকারের অস্ট্রেলিয়ান চ্যানেলে বল করেছে, কারণ এটিই এখানে বল করার সবচেয়ে ভালো উপায়। অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে সে। আমার মনে হয়, এটি তার খুবই পরিণত একটি পারফরম্যান্স। তাই এমন পারফরম্যান্স তার প্রাপ্য।’
শুধু হাসানের পারফরম্যান্স নয়, বাংলাদেশের পুরো পেস ইউনিটের ধারাবাহিকতাও নজর কেড়েছে মার্ক ওয়াহর। সাবেক এই অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটারের মতে, চাপ তৈরি করার পর সেটি ধরে রাখাই বাংলাদেশের বোলিংয়ের সবচেয়ে বড় সাফল্য।
মার্ক ওয়াহ বলেন, ‘সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো, তারা চাপ ধরে রেখেছে। অনেক সময় দেখা যায়, কোনো দল কয়েকটি ভালো ওভার করে, এরপর খারাপ কয়েকটি ওভার করে এবং প্রতিপক্ষ ম্যাচে ফিরে আসে। কিন্তু তারা খুবই শৃঙ্খলিত ছিল।’
অস্ট্রেলিয়ার ১৯৮ রানের জবাবে বাংলাদেশের শুরুটাও হয়েছে স্বস্তিতে। ২৪ ওভারে ৯৬ রান তুলেছে সফরকারীরা। সাদমান ইসলাম ২০ রান করে আউট হলেও মুমিনুল হক ৩৫ ও তানজিদ হাসান ৩২ রানে অপরাজিত থেকে দিন শেষ করেছেন। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে একমাত্র উইকেটটি নিয়েছেন মিচেল স্টার্ক। বাংলাদেশের ব্যাটারদের আটকে রাখতে পারেননি জশ হ্যাজলউড, প্যাট কামিন্স, ক্যামেরন গ্রিন ও নাথান লায়ন।
প্রথম দিনের হিসাব বলছে, ডারউইনে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ এখন বাংলাদেশের হাতেই। অস্ট্রেলিয়াকে দ্রুত অলআউট করার পর ব্যাটিংয়েও বড় কোনো ধাক্কা খায়নি সফরকারীরা। দ্বিতীয় দিনে সেই সুবিধা কতটা কাজে লাগাতে পারে বাংলাদেশ, সেটিই এখন দেখার।
2.png)