রাজনীতি
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী হওয়ায় দল ও সরকার—দুই জায়গাতেই বড় ধরনের রদবদলের প্রয়োজন তৈরি হয়েছে। তাঁর পদত্যাগের পর বিএনপির মহাসচিব পদ, দলের স্থায়ী কমিটিতে তাঁর অবস্থান, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব এবং সংসদে তাঁর ভূমিকা—সবকিছুতেই নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে।
বিএনপির ভেতরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু এখন একটি প্রশ্ন—ফখরুলের জায়গায় কে আসছেন?
দলীয় সূত্রের বরাতে আলোচনায় সবচেয়ে বেশি যে নামগুলো রয়েছে, সেগুলোর মধ্যে আছেন স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হওয়ার আলোচনায় থাকা হাবিব-উন-নবী খান সোহেল এবং যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি।
তবে সব পদে একসঙ্গে পরিবর্তন আসবে কি না, সেটি এখনো নিশ্চিত নয়। দলের ভেতরের আলোচনা অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন শেষ হওয়ার পরপরই নতুন দায়িত্ব বণ্টনের বিষয়টি স্পষ্ট হতে পারে। ২০ আগস্টের পর মহাসচিব ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব পদে পরিবর্তনের চিত্র আরও পরিষ্কার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মহাসচিব পদে সালাহউদ্দিন না রিজভী?
ফখরুলের উত্তরসূরি হিসেবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লড়াইটি মহাসচিব পদ ঘিরে। স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের নাম যেমন আলোচনায় আছে, তেমনি দলের সাংগঠনিক কাঠামোর দিক থেকে রুহুল কবীর রিজভীর নামও জোরালোভাবে সামনে এসেছে।
রিজভী দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। দলের সংকটের সময় সংবাদ সম্মেলন, রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং দলীয় অবস্থান তুলে ধরার ক্ষেত্রে তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি রয়েছে। ফলে তাঁকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব করা হবে, নাকি সরাসরি পূর্ণাঙ্গ মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হবে—এ নিয়েও আলোচনা চলছে।
অন্যদিকে সালাহউদ্দিন আহমদের পক্ষে সবচেয়ে বড় যুক্তি তাঁর স্থায়ী কমিটির সদস্যপদ এবং দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা। সংসদেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন বলে বিএনপির ভেতরে আলোচনা রয়েছে।
মির্জা ফখরুল ২০১১ সালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পেয়েছিলেন। ২০১৬ সালের জাতীয় কাউন্সিলে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে মহাসচিব নির্বাচিত হন। দীর্ঘ সময় ধরে দলটির এই গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকার কারণে তাঁর উত্তরসূরি বাছাই বিএনপির জন্য নিছক সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নয়। নতুন মহাসচিবকে দল পরিচালনার পাশাপাশি সরকার ও সংসদেও রাজনৈতিক সমন্বয়ের দায়িত্ব সামলাতে হবে।
সংসদে সালাহউদ্দিনের সম্ভাবনা
মির্জা ফখরুল এতদিন সংসদে প্রধানমন্ত্রীর পাশে বসতেন। তাঁর রাষ্ট্রপতি পদে যাওয়ার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হলে সংসদে বিএনপির অভিজ্ঞ নেতৃত্বের দৃশ্যমান ভূমিকাতেও পরিবর্তন আসবে।
এ ক্ষেত্রে সালাহউদ্দিন আহমদের নাম সংসদ উপনেতা হিসেবে আলোচনায় এসেছে। তাঁর সংসদীয় অভিজ্ঞতা এবং দলীয় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে অবস্থান এ আলোচনাকে গুরুত্ব দিচ্ছে।
তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় মহাসচিব পদে নতুন দায়িত্ব সম্পর্কে জানতে চাইলে বিষয়টি নিয়ে অপেক্ষা করতে বলেছেন।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়েও পরিবর্তন
রাষ্ট্রপতি পদে যাওয়ার কারণে মির্জা ফখরুলকে স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর পদও ছাড়তে হবে। এখানেও বিএনপিকে নতুন সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
দলের ভেতরের আলোচনায় অবশ্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে নতুন করে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। এর পরিবর্তে নতুন মহাসচিবকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্ব দেওয়ার একটি সম্ভাবনা আলোচনায় এসেছে।
এই সমীকরণ বাস্তবায়িত হলে দল ও সরকারের মধ্যে সমন্বয়ের দায়িত্ব একই ব্যক্তির হাতে কিছুটা কেন্দ্রীভূত হতে পারে। রিজভী ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হলে তাঁকে প্রধানমন্ত্রীর শিল্প উপদেষ্টার পাশাপাশি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনার কথাও আলোচনায় এসেছে।
তবে এটি এখনো দলীয় সিদ্ধান্ত নয়। সরকারের একজন প্রভাবশালী সদস্য বিষয়টি নিয়ে আলোচনা থাকার কথা জানিয়েছেন।
রিজভী মহাসচিব হলে পরের প্রশ্ন
রিজভী যদি মহাসচিবের দায়িত্ব পান, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই পরবর্তী প্রশ্ন হবে—সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের পদে কে আসবেন?
এখানেই হাবিব-উন-নবী খান সোহেল ও শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির মতো নেতাদের নাম সামনে আসছে। তাঁদের মধ্যে কে দলের দ্বিতীয় সারির নেতৃত্বে আরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাবেন, তা নির্ভর করবে মহাসচিব পদে শেষ পর্যন্ত কার সিদ্ধান্ত হয় তার ওপর।
অর্থাৎ ফখরুলের একটি পদ শূন্য হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিএনপিতে একাধিক পদে ধারাবাহিক পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। একজনকে মহাসচিব করলে আরেকজনের পদ পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে। আবার সরকারে একজনকে নতুন দায়িত্ব দিলে দলের সাংগঠনিক কাঠামোতেও তার প্রভাব পড়তে পারে।
ফখরুলের বিদায় কেন গুরুত্বপূর্ণ
মির্জা ফখরুল বিএনপির এমন এক সময়ের মহাসচিব, যখন দলটি দীর্ঘ রাজনৈতিক চাপ, নির্বাচনকেন্দ্রিক আন্দোলন এবং সরকার পরিচালনার অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে নতুন পর্যায়ে এসেছে। মহাসচিব হিসেবে তাঁর দীর্ঘ সময়ের ভূমিকা দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও রাজনৈতিক বার্তা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
রাষ্ট্রপতি পদে তাঁর মনোনয়ন তাই বিএনপির নেতৃত্বে প্রজন্মগত বা সাংগঠনিক পরিবর্তনের একটি সুযোগও তৈরি করছে। নতুন মহাসচিবকে শুধু দলীয় কার্যালয় পরিচালনা করলেই হবে না; সংসদ, সরকার, দলের মাঠপর্যায়ের সংগঠন এবং রাজনৈতিক কৌশল—সবকিছুর মধ্যে সমন্বয় করতে হবে।
এ কারণে উত্তরসূরি বাছাইয়ে ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার পাশাপাশি সাংগঠনিক দক্ষতা, সংসদীয় ভূমিকা, সরকারের সঙ্গে সমন্বয় এবং দলীয় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতাও বিবেচনায় আসবে।
এখন পর্যন্ত আলোচনায় সালাহউদ্দিন আহমদ ও রুহুল কবীর রিজভী সবচেয়ে এগিয়ে থাকলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের ওপরই নির্ভর করছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন এবং ফখরুলের পদত্যাগের পর আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই সেই সিদ্ধান্তের রাজনৈতিক রূপরেখা স্পষ্ট হওয়ার কথা।
বিষয় : মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিএনপি
2.png)
শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ আগস্ট ২০২৬
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী হওয়ায় দল ও সরকার—দুই জায়গাতেই বড় ধরনের রদবদলের প্রয়োজন তৈরি হয়েছে। তাঁর পদত্যাগের পর বিএনপির মহাসচিব পদ, দলের স্থায়ী কমিটিতে তাঁর অবস্থান, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব এবং সংসদে তাঁর ভূমিকা—সবকিছুতেই নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে।
বিএনপির ভেতরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু এখন একটি প্রশ্ন—ফখরুলের জায়গায় কে আসছেন?
দলীয় সূত্রের বরাতে আলোচনায় সবচেয়ে বেশি যে নামগুলো রয়েছে, সেগুলোর মধ্যে আছেন স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হওয়ার আলোচনায় থাকা হাবিব-উন-নবী খান সোহেল এবং যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি।
তবে সব পদে একসঙ্গে পরিবর্তন আসবে কি না, সেটি এখনো নিশ্চিত নয়। দলের ভেতরের আলোচনা অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন শেষ হওয়ার পরপরই নতুন দায়িত্ব বণ্টনের বিষয়টি স্পষ্ট হতে পারে। ২০ আগস্টের পর মহাসচিব ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব পদে পরিবর্তনের চিত্র আরও পরিষ্কার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মহাসচিব পদে সালাহউদ্দিন না রিজভী?
ফখরুলের উত্তরসূরি হিসেবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লড়াইটি মহাসচিব পদ ঘিরে। স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের নাম যেমন আলোচনায় আছে, তেমনি দলের সাংগঠনিক কাঠামোর দিক থেকে রুহুল কবীর রিজভীর নামও জোরালোভাবে সামনে এসেছে।
রিজভী দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। দলের সংকটের সময় সংবাদ সম্মেলন, রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং দলীয় অবস্থান তুলে ধরার ক্ষেত্রে তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি রয়েছে। ফলে তাঁকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব করা হবে, নাকি সরাসরি পূর্ণাঙ্গ মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হবে—এ নিয়েও আলোচনা চলছে।
অন্যদিকে সালাহউদ্দিন আহমদের পক্ষে সবচেয়ে বড় যুক্তি তাঁর স্থায়ী কমিটির সদস্যপদ এবং দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা। সংসদেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন বলে বিএনপির ভেতরে আলোচনা রয়েছে।
মির্জা ফখরুল ২০১১ সালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পেয়েছিলেন। ২০১৬ সালের জাতীয় কাউন্সিলে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে মহাসচিব নির্বাচিত হন। দীর্ঘ সময় ধরে দলটির এই গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকার কারণে তাঁর উত্তরসূরি বাছাই বিএনপির জন্য নিছক সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নয়। নতুন মহাসচিবকে দল পরিচালনার পাশাপাশি সরকার ও সংসদেও রাজনৈতিক সমন্বয়ের দায়িত্ব সামলাতে হবে।
সংসদে সালাহউদ্দিনের সম্ভাবনা
মির্জা ফখরুল এতদিন সংসদে প্রধানমন্ত্রীর পাশে বসতেন। তাঁর রাষ্ট্রপতি পদে যাওয়ার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হলে সংসদে বিএনপির অভিজ্ঞ নেতৃত্বের দৃশ্যমান ভূমিকাতেও পরিবর্তন আসবে।
এ ক্ষেত্রে সালাহউদ্দিন আহমদের নাম সংসদ উপনেতা হিসেবে আলোচনায় এসেছে। তাঁর সংসদীয় অভিজ্ঞতা এবং দলীয় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে অবস্থান এ আলোচনাকে গুরুত্ব দিচ্ছে।
তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় মহাসচিব পদে নতুন দায়িত্ব সম্পর্কে জানতে চাইলে বিষয়টি নিয়ে অপেক্ষা করতে বলেছেন।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়েও পরিবর্তন
রাষ্ট্রপতি পদে যাওয়ার কারণে মির্জা ফখরুলকে স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর পদও ছাড়তে হবে। এখানেও বিএনপিকে নতুন সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
দলের ভেতরের আলোচনায় অবশ্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে নতুন করে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। এর পরিবর্তে নতুন মহাসচিবকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্ব দেওয়ার একটি সম্ভাবনা আলোচনায় এসেছে।
এই সমীকরণ বাস্তবায়িত হলে দল ও সরকারের মধ্যে সমন্বয়ের দায়িত্ব একই ব্যক্তির হাতে কিছুটা কেন্দ্রীভূত হতে পারে। রিজভী ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হলে তাঁকে প্রধানমন্ত্রীর শিল্প উপদেষ্টার পাশাপাশি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনার কথাও আলোচনায় এসেছে।
তবে এটি এখনো দলীয় সিদ্ধান্ত নয়। সরকারের একজন প্রভাবশালী সদস্য বিষয়টি নিয়ে আলোচনা থাকার কথা জানিয়েছেন।
রিজভী মহাসচিব হলে পরের প্রশ্ন
রিজভী যদি মহাসচিবের দায়িত্ব পান, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই পরবর্তী প্রশ্ন হবে—সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের পদে কে আসবেন?
এখানেই হাবিব-উন-নবী খান সোহেল ও শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির মতো নেতাদের নাম সামনে আসছে। তাঁদের মধ্যে কে দলের দ্বিতীয় সারির নেতৃত্বে আরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাবেন, তা নির্ভর করবে মহাসচিব পদে শেষ পর্যন্ত কার সিদ্ধান্ত হয় তার ওপর।
অর্থাৎ ফখরুলের একটি পদ শূন্য হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিএনপিতে একাধিক পদে ধারাবাহিক পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। একজনকে মহাসচিব করলে আরেকজনের পদ পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে। আবার সরকারে একজনকে নতুন দায়িত্ব দিলে দলের সাংগঠনিক কাঠামোতেও তার প্রভাব পড়তে পারে।
ফখরুলের বিদায় কেন গুরুত্বপূর্ণ
মির্জা ফখরুল বিএনপির এমন এক সময়ের মহাসচিব, যখন দলটি দীর্ঘ রাজনৈতিক চাপ, নির্বাচনকেন্দ্রিক আন্দোলন এবং সরকার পরিচালনার অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে নতুন পর্যায়ে এসেছে। মহাসচিব হিসেবে তাঁর দীর্ঘ সময়ের ভূমিকা দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও রাজনৈতিক বার্তা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
রাষ্ট্রপতি পদে তাঁর মনোনয়ন তাই বিএনপির নেতৃত্বে প্রজন্মগত বা সাংগঠনিক পরিবর্তনের একটি সুযোগও তৈরি করছে। নতুন মহাসচিবকে শুধু দলীয় কার্যালয় পরিচালনা করলেই হবে না; সংসদ, সরকার, দলের মাঠপর্যায়ের সংগঠন এবং রাজনৈতিক কৌশল—সবকিছুর মধ্যে সমন্বয় করতে হবে।
এ কারণে উত্তরসূরি বাছাইয়ে ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার পাশাপাশি সাংগঠনিক দক্ষতা, সংসদীয় ভূমিকা, সরকারের সঙ্গে সমন্বয় এবং দলীয় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতাও বিবেচনায় আসবে।
এখন পর্যন্ত আলোচনায় সালাহউদ্দিন আহমদ ও রুহুল কবীর রিজভী সবচেয়ে এগিয়ে থাকলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের ওপরই নির্ভর করছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন এবং ফখরুলের পদত্যাগের পর আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই সেই সিদ্ধান্তের রাজনৈতিক রূপরেখা স্পষ্ট হওয়ার কথা।
2.png)