জাতীয়
পোশাক খাতে বিদেশি ক্রয়াদেশ হারানোর ঝুঁকিও বাড়ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। ব্যবসায়ীরা উচ্চ হারে বিল পরিশোধ করেও সময়মতো জ্বালানি না পাওয়ায় ব্যাংকঋণ খেলাপি হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন।
শিল্প ও কর্মসংস্থান রক্ষায় গ্যাস সরবরাহে শিল্প খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি জরুরি ‘রেসকিউ প্যাকেজ’ দেওয়ার দাবি জানান বিসিআই সভাপতি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন। তিনি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের জন্য স্বল্পমেয়াদি সমাধানের পাশাপাশি ১০ বছর মেয়াদি সমন্বিত নীতি প্রণয়ন এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।
ফাহমিদা খাতুন বলেন, বাজারভিত্তিক জ্বালানির মূল্যনীতি ও লক্ষ্যভিত্তিক ভর্তুকির ঘাটতির কারণে সংকট আরও জটিল হয়েছে। শিল্প, কৃষি ও সাধারণ মানুষের ওপর চাপ কমাতে সরকারকে দ্রুত দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে।
বাংলাদেশ ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার অ্যাসোসিয়েশনের (বিপ্পা) সভাপতি ডেভিড হাসনাত জানান, গ্যাসের ঘাটতির কারণে দেশের অনেক গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র টানা বন্ধ রাখতে হচ্ছে। দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন কমতে থাকায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হচ্ছে।
দ্রুত সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁর মতে, নতুন ভাসমান টার্মিনাল স্থাপনে সময় লাগে।
বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউএবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে প্রশাসনিক ও কাস্টমস জটিলতা কমানোর দাবি জানান। তিনি বন্দর থেকে যন্ত্রপাতি খালাসের প্রক্রিয়া সহজ করা, স্টোরেজ প্রযুক্তিতে শুল্কছাড় এবং ১৩ লাখ ডিজেলচালিত সেচপাম্প সৌরবিদ্যুতে রূপান্তরের পরামর্শ দেন।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ইজাজ হোসেনের মতে, অতিরিক্ত সামাজিক প্রতিশ্রুতি, বাস্তবসম্মত মূল্যনীতির অভাব এবং সিস্টেম লসের কারণে বর্তমান সংকট গভীর হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সমস্যাগুলো জমতে থাকায় এখন অল্প সময়ে ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, শুধু উৎপাদন বাড়ানোর দিকে তাকিয়ে থাকলে হবে না, বিদ্যুতের চাহিদা নিয়ন্ত্রণেও গুরুত্ব দিতে হবে। সাশ্রয়ী মূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং আবাসিক খাতে ভর্তুকি দিয়ে গ্যাস দেওয়ার বর্তমান ব্যবস্থার কারণে সরকারের ওপর বড় অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছে। তাই বাস্তবভিত্তিক মূল্য নির্ধারণ এবং চুরি বন্ধের পাশাপাশি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকেও ভবিষ্যৎ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত হতে হবে।
সিপিডির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর শিল্প খাতে জ্বালানি সরবরাহকে অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানান। তিনি বলেন, জ্বালানি সংকটে শিল্প উৎপাদন ও রপ্তানি সক্ষমতা বড় ঝুঁকিতে পড়েছে। নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি লোডশেডিংয়ের নির্দিষ্ট সময়সূচি প্রকাশ এবং সিস্টেম লস কমাতে হবে। শিল্পে জ্বালানি সরবরাহে অগ্রাধিকার এবং সোলার স্টোরেজে করছাড় দেওয়ারও দাবি জানান তিনি।
সংলাপে আরও বক্তব্য দেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক সাকিব বিন আমিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোশাহিদা সুলতানাসহ অন্যরা।
বিষয় : বিদ্যুৎ জ্বালানী সংকট
2.png)
বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ আগস্ট ২০২৬
পোশাক খাতে বিদেশি ক্রয়াদেশ হারানোর ঝুঁকিও বাড়ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। ব্যবসায়ীরা উচ্চ হারে বিল পরিশোধ করেও সময়মতো জ্বালানি না পাওয়ায় ব্যাংকঋণ খেলাপি হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন।
শিল্প ও কর্মসংস্থান রক্ষায় গ্যাস সরবরাহে শিল্প খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি জরুরি ‘রেসকিউ প্যাকেজ’ দেওয়ার দাবি জানান বিসিআই সভাপতি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন। তিনি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের জন্য স্বল্পমেয়াদি সমাধানের পাশাপাশি ১০ বছর মেয়াদি সমন্বিত নীতি প্রণয়ন এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।
ফাহমিদা খাতুন বলেন, বাজারভিত্তিক জ্বালানির মূল্যনীতি ও লক্ষ্যভিত্তিক ভর্তুকির ঘাটতির কারণে সংকট আরও জটিল হয়েছে। শিল্প, কৃষি ও সাধারণ মানুষের ওপর চাপ কমাতে সরকারকে দ্রুত দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে।
বাংলাদেশ ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার অ্যাসোসিয়েশনের (বিপ্পা) সভাপতি ডেভিড হাসনাত জানান, গ্যাসের ঘাটতির কারণে দেশের অনেক গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র টানা বন্ধ রাখতে হচ্ছে। দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন কমতে থাকায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হচ্ছে।
দ্রুত সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁর মতে, নতুন ভাসমান টার্মিনাল স্থাপনে সময় লাগে।
বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউএবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে প্রশাসনিক ও কাস্টমস জটিলতা কমানোর দাবি জানান। তিনি বন্দর থেকে যন্ত্রপাতি খালাসের প্রক্রিয়া সহজ করা, স্টোরেজ প্রযুক্তিতে শুল্কছাড় এবং ১৩ লাখ ডিজেলচালিত সেচপাম্প সৌরবিদ্যুতে রূপান্তরের পরামর্শ দেন।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ইজাজ হোসেনের মতে, অতিরিক্ত সামাজিক প্রতিশ্রুতি, বাস্তবসম্মত মূল্যনীতির অভাব এবং সিস্টেম লসের কারণে বর্তমান সংকট গভীর হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সমস্যাগুলো জমতে থাকায় এখন অল্প সময়ে ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, শুধু উৎপাদন বাড়ানোর দিকে তাকিয়ে থাকলে হবে না, বিদ্যুতের চাহিদা নিয়ন্ত্রণেও গুরুত্ব দিতে হবে। সাশ্রয়ী মূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং আবাসিক খাতে ভর্তুকি দিয়ে গ্যাস দেওয়ার বর্তমান ব্যবস্থার কারণে সরকারের ওপর বড় অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছে। তাই বাস্তবভিত্তিক মূল্য নির্ধারণ এবং চুরি বন্ধের পাশাপাশি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকেও ভবিষ্যৎ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত হতে হবে।
সিপিডির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর শিল্প খাতে জ্বালানি সরবরাহকে অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানান। তিনি বলেন, জ্বালানি সংকটে শিল্প উৎপাদন ও রপ্তানি সক্ষমতা বড় ঝুঁকিতে পড়েছে। নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি লোডশেডিংয়ের নির্দিষ্ট সময়সূচি প্রকাশ এবং সিস্টেম লস কমাতে হবে। শিল্পে জ্বালানি সরবরাহে অগ্রাধিকার এবং সোলার স্টোরেজে করছাড় দেওয়ারও দাবি জানান তিনি।
সংলাপে আরও বক্তব্য দেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক সাকিব বিন আমিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোশাহিদা সুলতানাসহ অন্যরা।
2.png)